বদলাপুরের ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হওয়া ‘মেরি রাতেঁ, মেরি সড়কেঁ’ আন্দোলন আর জি কর আন্দোলন থেকে শিখতে চায়, বলছেন অন্যতম নেত্রী
এ এক আশ্চর্য সময়। আর জি করের নৃশংস ঘটনার বিচার চেয়ে পথ ছাড়ছেন না মানুষ। রাতদখলের ডাক দিয়ে যে আন্দোলনের শুরু, ঘটনার পর থেকে প্রায় দুমাস পার হয়ে এসেও সে আন্দোলন শেষ হয়নি। আশ্চর্য এই, যে ভারতের ঠিক পশ্চিম প্রান্তেই অনুরূপ এক গণজাগরণ ঘটছে বদলাপুরের দুই স্কুলছাত্রীর যৌন নিগ্রহের বিরুদ্ধে, এবং সে আন্দোলনের নামের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকছে মেয়েদের রাতের রাস্তা দখলের স্পর্ধা। মহারাষ্ট্রের এই ‘মেরি রাতেঁ, মেরি সড়কেঁ’ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মুম্বইয়ের গুড্ডি এস এল। ডিসেম্বর অবধি মোট বারোটা রাত জুড়ে নানা কর্মসূচির পরিকল্পনা তাঁদের। আন্দোলনের টুকিটাকি নিয়ে গুড্ডি কথা বললেন নাগরিক ডট নেটের সঙ্গে।
এই সময়ে আমাদের রাজ্যে ‘মেয়েরা, রাতদখল করো’ এই নাম নিয়ে যখন একটি দীর্ঘ গণআন্দোলন শুরু হয়েছে, সেই মুহূর্তে আপনাদের রাজ্যেও আপনারা ‘মেরি রাতেঁ, মেরি সড়কেঁ’ নাম দিয়ে একটি আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। তাই প্রথমেই জানতে চাইব, এই আন্দোলন কবে এবং কীভাবে শুরু হল?
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
আর জি করের ঘটনা যখন ঘটল – তারিখটা বোধহয় ৮ আগস্ট – তার ৫-৬ দিন পরেই বদলাপুরের ঘটনাটা মিডিয়ার নজরে আসে। মুম্বইতে আমরা যারা নানা নারীবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, ওই ঘটনার পর আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি শুরু করি, কতগুলো দশক লেগে গেল আমাদের পথে নামতে! তারপরেও এরকম ঘটনা যখন ঘটছে, আমরা দেখলাম কিছু একটা ভাবা দরকার। কারণ মানুষের মনে একটা ভয় কাজ করছিল – ‘আরে, স্কুলও তাহলে আজ নিরাপদ নয়!’
এই ভয়ের জায়গাটা আমাদের ভাবিয়ে তুলেছিল। পুনেতে আমার কয়েকজন বন্ধু রয়েছেন, যাঁরা ‘লোকায়ত’ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। সেখানে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করলাম, এ ব্যাপারে কী করা যায়? এই প্রসঙ্গে বেনারসের ‘দখল’ সংগঠনের কথা উঠল। ওঁরা বেশ কিছুদিন আগে ‘মেরি রাতেঁ, মেরি সড়কেঁ’ নাম দিয়ে একটা আন্দোলন করেছিলেন। এছাড়া ‘দখল’ প্রতি মাসেই বেনারসের রাস্তায় মহিলাদের নিয়ে একটা দু ঘন্টার মিছিল আয়োজন করে, যেখানে মহিলারা গান করেন, কেউ কেউ বাজনাও বাজান। মিছিলটা শেষ হয় কোনো নির্দিষ্ট পাবলিক স্পেসে পৌঁছে – সেটা হতে পারে রেল স্টেশন বা বেনারসের গঙ্গার কোনো ঘাট। আমরা, বলা যেতে পারে, কিছুটা ওঁদের দ্বারা অনুপ্রাণিত।
তবে, আমাদের ভাবনায় ছিল, কীভাবে একটা সম্মিলিত গণআন্দোলন গড়ে তোলা যায়। এদিকে এবছর নির্ভয়া কাণ্ডেরও ১২ বছর পূর্ণ হচ্ছে। সেসব ভেবেই এবছরের ১৬ ডিসেম্বর অবধি মোট বারোটা রাত জুড়ে আমরা এই ‘মেরি রাতেঁ, মেরি সড়কেঁ’ ক্যাম্পেন চালাব বলে ঠিক করেছি।
বেনারসে তো ‘দখল’ সংগঠন এই নাম দিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল আপনি বললেন। মহারাষ্ট্রে এই আন্দোলনের দায়িত্বে কারা রয়েছেন?
মহারাষ্ট্রে এই আন্দোলনের দায়িত্বে রয়েছে মহিলা জাগর সমিতি। অবশ্য আমরা দখলের সংগঠকদেরও আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এই মুহূর্তে মহারাষ্ট্রের মোট ৭৮টি সংগঠন এখানে একজোট হয়ে কাজ করছে। গত শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪) পুনে, ঔরঙ্গাবাদ, ওয়ার্ধা, মুম্বই – এমন নানা জায়গায় মহিলা জাগর সমিতি ‘মেরি রাতেঁ, মেরি সড়কেঁ’ নিয়ে রাতের দিকে দু ঘন্টার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর অবধি বারোটা রাত যে আপনারা বেছেছেন, সেটা কীসের ভিত্তিতে?
নির্ভয়া কাণ্ড আমাদের কারও পক্ষে ভোলা সম্ভব হয়। ওটা রাস্তার উপরেই ঘটেছিল, এবং বেশ রাতের দিকে। ‘মেরি রাতেঁ, মেরি সড়কেঁ’-র মত ওই ঘটনাও আমাদের কাছে একটা রেফারেন্স পয়েন্ট। একেকটি রাত আমরা একেকজন নারীকে উৎসর্গ করছি।
আমাদের মহারাষ্ট্রের যে প্রগতিশীল ইতিহাস, সেখানে যেসব নারীদের কথা আমরা বারবার শুনি – সাবিত্রীবাঈ ফুলে, ফতিমা বেগম তো আছেনই, শিবাজী মহারাজের মা জিজায়ুও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ২১ সেপ্টেম্বর পুনেতে প্রথম রাতের জমায়েত আমরা উৎসর্গ করেছিলাম সাবিত্রী-ফতিমাকে, ২৮ সেপ্টেম্বরের রাত ছিল জিজায়ুর। এঁদের লড়াইয়ের কারণে মেয়েরা একসময় স্বাধীনতা পেয়েছিল। সাবিত্রীবাঈ ফুলে মেয়েদের জন্য প্রথম স্কুল খুলেছিলেন, আর বদলাপুরের একটা স্কুলেই আজ এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘ সংগ্রাম করে যিনি স্কুল প্রতিষ্ঠার স্তরে পৌঁছেছিলেন, তাঁরই রাজ্যের একটি স্কুলে এরকম ঘটনার জন্য যখন ছাত্রীরা স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে, তাদের বাবা-মায়েরাও ভয় পাচ্ছেন, তখন তাঁর সেই লড়াইয়ের কথা তুলে ধরাটা জরুরি। এখানেই আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্ব।
যখন আপনি সংখ্যায় কম, তখন রাষ্ট্র আপনাকে কিছু বলবে না, উলটে সহযোগিতা করবে। কিন্তু যখনই দেখবে আপনি তাকে চ্যালেঞ্জ করছেন, সে আপনাকে শেষ করার চেষ্টা করবে।
বর্তমান সময়ে আবার আমরা পাচ্ছি বিনেশ ফোগতকে – তাঁকে এত লড়তে হল নিজের অধিকার ছিনিয়ে নিতে। ৫ অক্টোবর হরিয়ানায় নির্বাচন, তাই সেদিনের রাতের কর্মসূচি উৎসর্গ করা হয়েছে বিনেশকে। তিনি যেভাবে যন্তর মন্তরে লড়লেন, নিজের কেরিয়ারের কথা না ভেবেই তিনি ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে লড়লেন, তাই বিনেশের এই লড়াইকে আমরা আমাদের আন্দোলনের অঙ্গ করে নিয়েছি।
আমরা ভেবেছি স্মিতা পাতিলের কথাও। কারণ হাতেগোনা কিছু বাণিজ্যিক ছবি বাদ দিয়ে বেশিরভাগ ছবিতেই উনি এমন সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেখানে নারীসমাজের কথা একজন নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উঠে এসেছে। ১৭ অক্টোবরের রাতে আমরা তাঁর জন্মদিন পালন করব, ওদিন তাঁর অভিনীত ছবির অংশ, গান – এসব দেখানো হবে।
যাঁদের কথা বললাম, প্রত্যেকেই একেকটা প্রতিষ্ঠান। তাঁদের যে এই নিজস্ব লড়াই, সেগুলোও আমাদের কাছে রেফারেন্স পয়েন্ট। সেই অনুযায়ী আমরা আমাদের অনুষ্ঠান সূচি সাজিয়েছি। শেষদিনের অনুষ্ঠান (১৬ ডিসেম্বর ২০২৪) অফিশিয়ালি নির্ভয়াকে উৎসর্গ করা হয়েছে, কিন্তু আসলে যেসব মহিলারা জনপরিসরে ক্রমাগত হয়রানি বা শ্লীলতাহানির শিকার হন, তাঁদের সকলের জন্যই ওই দিনটা ভাবা হয়েছে।
এভাবে পুরো পরিকল্পনাটা যে সাজানো হয়েছে, এতে আমাদের নিজেদের বিশাল কিছু কৃতিত্ব আছে বলে আমরা মনে করছি না। এভাবে ভাবতে পেরেছি, কারণ আমাদের প্রত্যেককে এই ধরনের অন্যায়ের শিকার হতে হয়।
কী ধরনের কর্মসূচি থাকছে এই বারো রাতের প্রোগ্রামে?
বিভিন্ন রাতে বিভিন্ন রকমের প্রোগ্রাম। তবে মূলত কোরাস গান, নাচ, কবিতাপাঠ, আলোচনা, সিনেমা দেখা, ফ্ল্যাশ মব – এই ধরনের কর্মসূচিই থাকছে। স্মিতা পাতিলের জন্মদিনে যেমন আমরা সিনেমা দেখব। ৫ অক্টোবরের প্রোগ্রাম যেহেতু বিনেশকে উৎসর্গ করছি, ওদিন নানা খেলার আয়োজন করা হয়েছে।
১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক শিশুকন্যা দিবস হিসাবে পালিত হয়। সেদিনের জন্য কোনো আলাদা পরিকল্পনা আছে?
শুধু বদলাপুরই নয়, গত একমাসে মহারাষ্ট্রে একাধিক শ্লীলতাহানি, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের ঘটনা ক্রমাগত ঘটতে থাকলে দৈনন্দিন জীবনে তা মেয়েদের জন্য খুব সমস্যার হয়ে দাঁড়ায়। যেমন স্কুলে এরকম ঘটনা ঘটছে বলে অভিভাবকরা মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এটা হলে তো মেয়েরা আরও পিছিয়ে পড়বে। সেটা সার্বিকভাবে সমাজের জন্য ক্ষতি। শুধু মেয়েদেরই নয়, বাচ্চা ছেলেদেরও বাবা-মায়েরা স্কুলে পাঠাতে চাইছেন না। কারণ তাদের সঙ্গেও এই ধরনের ঘটনা যে কোনো সময়ে ঘটতে পারে।
সেই কারণে ১১ অক্টোবরের রাত আমরা উৎসর্গ করছি শিশুকন্যাদের। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে যেমন লড়তে হবে, তেমনি ওই ভয়ের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়তে হবে। সর্বভারতীয় স্তরেও আমাদের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিষয়ে আমরা বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। বলিউড, ক্রীড়া জগতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিত্বরা যদি এগিয়ে আসেন, সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছে চটজলদি বার্তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হয়।
যে কোনো সংগ্রাম বা গণআন্দোলনেই শিল্পকলা একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। শাসকের অত্যাচারের বিরুদ্ধেও শিল্প প্রতিরোধের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। ‘মেরি রাতেঁ, মেরি সড়কেঁ’ আন্দোলনের কর্মসূচিও আপনি যেমন বললেন তাতে দেখছি, গান, নাচ, কবিতা, পোস্টার, ফ্ল্যাশ মব – এগুলোর মাধ্যমে আপনারা বার্তা দিতে চাইছেন…
শিল্প ছাড়া তো সংগ্রাম হতেই পারে না। কলকাতার রাস্তায় আর জি কর আন্দোলনে যে ধরনের স্লোগান আন্দোলনকারীরা দিচ্ছেন, যে ধরনের গান গাওয়া হচ্ছে, যে ধরনের ব্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে, তার ভাষাটা বাংলা হওয়ায় হয়ত আমরা বুঝতে পারছি না। কিন্তু এই স্লোগান বা ব্যানারের মাধ্যমে যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা আমরা দিব্যি বুঝতে পারছি। প্রথম রাতে, অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর, পুনেতে আমাদের যে জমায়েত হয়েছে, সেখানে আমাদের একজন সহযোদ্ধা তাঁর একটা স্বরচিত কবিতা পাঠ করলেন। কবিতাটার নাম ‘গলা ঘোঁট দুঁ তো?’ ওটা আর জি কর আন্দোলনকে উৎসর্গ করে লেখা। শিল্প সংস্কৃতির দিক থেকে বা এই ধরনের প্রতিবাদের দিক থেকে বাংলা বরাবরই এগিয়ে। আমাদের ‘প্রোগ্রেসিভ মহারাষ্ট্র’-র ইতিহাস বিশ্লেষণ করলেও যেমন জনাবাঈ, মুক্তাবাঈয়ের মত কবিদের পাওয়া যাবে, তেমনই সাবিত্রীবাঈ-ফতিমার মতো লড়াকু চরিত্রদেরও পাওয়া যাবে।
আমরা ভেবেছি স্মিতা পাতিলের কথাও। কারণ হাতেগোনা কিছু বাণিজ্যিক ছবি বাদ দিয়ে বেশিরভাগ ছবিতেই উনি এমন সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেখানে নারীসমাজের কথা একজন নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উঠে এসেছে। ১৭ অক্টোবরের রাতে আমরা তাঁর জন্মদিন পালন করব, ওদিন তাঁর অভিনীত ছবির অংশ, গান – এসব দেখানো হবে।
তাই ১২ রাতের কর্মসূচি ঠিক করার সময়ে আমরা এই শিল্প সংস্কৃতির দিকটার উপরেই বেশি করে জোর দিলাম। তার উপর সমাজ মেয়েদের জন্য কিছু বিধান ঠিক করে রেখেছে – মাথা নিচু করে থাকতে হবে, রাস্তায় বেশি জোরে কথা বলা যাবে না, রাস্তায় আনন্দে হেসে ওঠা যাবে না, রাস্তায় নাচা যাবে না, গান গাওয়া যাবে না। এই কথাগুলো বাড়িতেও বড়রা সবসময় আমাদের বলে এসেছেন। কথা বলা, গান গাওয়া, নেচে ওঠা – সবই তো শিল্পের অঙ্গ। অতএব শিল্পকে হাতিয়ার করে প্রতিরোধ করতে গেলে এই নিয়মগুলোও ভেঙে আমাদের বেরোতে হবে। আমরা যখন রাস্তায় নামব বলে ঠিক করেছি, তখন আমাদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ইতিহাসকে যেভাবে তুলে ধরতে চাইছি ঠিক সেভাবেই তুলে ধরব।
আপনি একটু আগে বললেন, মোট ৭৮টি সংগঠন এই আন্দোলনে রয়েছে। তা থেকে বোঝা যাচ্ছে, সাংগঠনিক স্তরে এই আন্দোলনের ভিত বেশ মজবুত। কিন্তু, এই বৃত্তের বাইরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কতখানি সাড়া পাচ্ছেন?
সংগঠনগুলোর তো নির্দিষ্ট কাজের ধারা রয়েছে। তাদের যোগদানের গুরুত্বটা অন্য জায়গায়। এবার সাধারণ মানুষের যোগ দেওয়ার বিষয়ে বলি। এই শনিবারই (২৮ সেপ্টেম্বর) পিম্পরি (পিম্পরি-চিঁচওয়াড়, পুনের কাছাকাছি) থেকে একজন মহিলা আমায় ফোন করে জিজ্ঞাসা করছিলেন, আমি কি আসতে পারি? আমি ওঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কী করেন? আপনি আসতে চাইছেন কেন?
আসলে, এই রাত নটা থেকে এগারোটা মেয়েরা রাস্তায় থাকবে – এই ধারণাটাই মহারাষ্ট্রে নেই। বিয়ের অনুষ্ঠানে বা পার্টিতে যোগ দিতে মেয়েরা রাতে বেরোন ঠিকই, তবে তেমন কোনো কারণ ছাড়া রাতে মেয়েরা বেরোবেন – এটা এখানে ভাবাই যায় না। এক্ষেত্রে আমি তরুণ প্রজন্মের কথা বলছি না। তিরিশের ঘরে যাঁদের বয়স, বা চল্লিশের ঘরে যাঁদের বয়স, তাঁদের কথা বলছি। রাতে হয়ত কারোর হাঁটতে ইচ্ছা করল, তিনি তখন বড় রাস্তায় গিয়ে হাঁটেন। আরও একটা ব্যাপার এখানে দেখা যায়। আমি হয়ত কলেজে পড়ি, কিন্তু যদি আমার বাড়ির আশেপাশে আমার কলেজের বন্ধুবান্ধব না থাকে, তাহলে আমি রাতে বেরোব না। বাবা-মায়েরাও তাই চান। বড় দল থাকলে তখন ভাবনা নেই, কিন্তু একা কোনো মেয়ে রাতে রাস্তায় থাকবে, এটা এখানে চিন্তার বাইরে।
সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমরা মেয়েরা যখন দল বেঁধে ঠিক এই সময়টায় রাস্তায় নেমে পড়ছি, সেখানে মানুষের একটা কৌতূহল তৈরি হচ্ছে। মহিলারা ভাবতে শুরু করেছেন, আরে, এমন তো হচ্ছে! তাহলে একবার গিয়ে দেখি তো! ফলে সংগঠনগুলোর দিক থেকে তো বটেই, সাধারণ নাগরিকদের থেকেও আমরা যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি। ওই মহিলার মত অনেকেই আসছেন, কারণ এই আন্দোলন তাঁদের রাতে পথে বেরোবার স্বাধীনতা দিচ্ছে।
এতে রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী?
রাত নটা থেকে এগারোটা অবধি জমায়েতের ব্যাপারে হাইকোর্টের অনুমতি আছে। কিন্তু কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যেমন দশটার পর কোথাও মাইক ব্যবহার করা যাবে না, পাবলিক স্পেসে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। তবে খুবই ইন্টারেস্টিং যে স্থানীয় প্রশাসন আমাদের সঙ্গে বেশ সহযোগিতাই করছে। অন্তত এখন পর্যন্ত তাদের তরফে তেমন অসহযোগিতা আমরা পাইনি। মুম্বইয়ের এক জায়গায় কেবল আমরা জমায়েতের অনুমতি পাইনি। কারণ কিছুদিন আগেই গণেশ চতুর্থী ছিল, তারপর ঈদও ছিল। তা বাদে প্রশাসনিক স্তরে আমরা সমর্থনই পেয়েছি। তারা দেখছে যে আমাদের উদ্দেশ্য মহৎ, তাই কোনো আপত্তি তোলেনি।
তবে কদিন পরেই মহারাষ্ট্রে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হবে, আর আমাদের বেশিরভাগ প্রোগ্রামই অক্টোবর আর নভেম্বর মাস জুড়ে। ফলে এরপর কী হবে, সেটা জানি না।
আমাদের যা অভিজ্ঞতা, তাতে আমরা দেখেছি, যখন আপনি সংখ্যায় কম, তখন রাষ্ট্র আপনাকে কিছু বলবে না, উলটে সহযোগিতা করবে। কিন্তু যখনই দেখবে আপনি তাকে চ্যালেঞ্জ করছেন, সে আপনাকে শেষ করার চেষ্টা করবে। তবে আমরা সে পর্যায়ে পৌঁছনো থেকে এখনো অনেক দূরে। আর আমাদের আন্দোলনটা সেভাবে ঠিক রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার নয়, সমাজ পরিবর্তন করার উদ্দেশ্যই প্রধান।
আরো পড়ুন বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়ছে মীনা মঞ্চ
এই প্রসঙ্গে আরও একটা কথা বলতে চাই, সমাজ পরিবর্তনের কথা যখন উঠলই। বদলাপুরের ঘটনায় মানুষ ভয় পেয়েছেন তো বটেই, কিন্তু একই সঙ্গে দাবি উঠেছিল, দোষীর ফাঁসি চাই। আমরা যেহেতু মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে বিশ্বাসী, সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী, তাই আমরা এই ধরনের শাস্তির বিরুদ্ধে। আমি নিজে মনে করি, হিংসা যেরকমই হোক, সেটা ব্যক্তিগত স্তরেই থাকুক, বা সমষ্টিগত স্তরে – মানে প্যালেস্তাইনে ইজরায়েল যা করে চলেছে – হিংসা শেষপর্যন্ত মানুষে মানুষে বিদ্বেষই বাড়িয়ে তোলে। আর অবশ্যই রাষ্ট্র যখন হিংসার ঘটনা ঘটায়, যা তার পক্ষে খুবই সহজ, যেমন রাষ্ট্র চাইলেই কাউকে কঠোর শাস্তি দিতে পারে, সেটাও ক্ষতিকর। একজন পুরুষ যে একজন মহিলার উপরে অত্যাচার করে, আমি মনে করি তার কারণ – পুরুষ যখন জন্মায়, তখন তাকে সমাজ শেখায় – তুমি ভায়োলেন্ট হও। আর মেয়ে জন্মালে সমাজ তাকে শেখায় কোমল হতে।
বদলাপুরের ঘটনার পর মহিলারা যেভাবে ‘ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই’ বলে চিৎকার করছিলেন, তার সঙ্গে আমি তাই একমত নই। আমার মত আপনার সঙ্গে না-ও মিলতে পারে। ওই মহিলাদের সঙ্গেও হয়ত মিলবে না, কিন্তু আমি মনে করি ফাঁসির মত শাস্তি কোনো সমাধান নয়। আমাদের এই রাত দখলের কর্মসূচিতে এই বিষয়টা নিয়েও আমরা সাধারণ মহিলাদের সঙ্গে কথা বলব, আলোচনা করব। তাঁদের পুরুষ বন্ধুরা বা স্বামীরা এলে তাঁদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলা জরুরি।
আমরা এই আলোচনা যখন করছি, ইতিমধ্যেই বদলাপুর কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে মৃত বলে খবর। ফলে আবার রাষ্ট্রীয় হিংসার প্রসঙ্গ উঠে আসছে…
হ্যাঁ, দিনকয়েক আগেই এই ঘটনা ঘটে গিয়েছে। আমিও পড়েছি। বহু প্রশ্ন, তর্কবিতর্ক উঠে আসছে। আমি সেসবে এখন যাব না। আমার বক্তব্য – হ্যাঁ, অবশ্যই যৌন নিপীড়নে অভিযুক্তকে সমাজে মুক্তভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হোক তা আমি বলছি না। কিন্তু তাকে চরম শাস্তি দেওয়ার আগে রাষ্ট্রকে, সমাজকে একথা ভাবতে হবে যে অভিযুক্ত এমন ঘৃণ্য কাজ কেন করল।
পুলিশ বলছে, নিজেদের সুরক্ষার জন্য গুলি চালাতে হয়েছে। এই নিয়ে কথা উঠবেই। রাষ্ট্রকে এর জবাব দিতেই হবে। আমরা স্পষ্ট বলছি, বদলাপুরের ঘটনা যেমন অন্যায়, যেভাবে মূল অভিযুক্তকে মারা হয়েছে সেটাও অন্যায়। রাষ্ট্র আর সমাজ, দুয়েরই দায়িত্ব, এই ধরনের লোক যাতে সমাজে তৈরি না হয় তা দেখা। এনকাউন্টার বা ফাঁসি – কোনোটাই সমাধান নয়।
একজন পুরুষ যে একজন মহিলার উপরে অত্যাচার করে, আমি মনে করি তার কারণ – পুরুষ যখন জন্মায়, তখন তাকে সমাজ শেখায় – তুমি ভায়োলেন্ট হও। আর মেয়ে জন্মালে সমাজ তাকে শেখায় কোমল হতে।
এই বিষয়ে আরও একটা কথা আমার মাথায় এল। যে মেয়ে বা মহিলা যৌন হেনস্থা বা ধর্ষণের শিকার, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, তাঁর বা তাঁর পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করা হয় না। কারণ সেটা তাঁদের পক্ষে ট্রমাটিক হতে পারে। কিন্তু যে লোক অপরাধটা করছে, তার পরিবারের পরিচয় প্রকাশ করে গোটা সমাজের কাছে তাদের হেয় করা কি উচিত? কারণ পরিবার তো তাকে এই শিক্ষা দেয় না, যে তুমি ধর্ষণ করে এসো। বদলাপুর কাণ্ডের পর অভিযুক্তের পরিবারকে যা সহ্য করতে হল, সেটাও একটা অপরাধ। তার বাবা-মা যখন দেহ সনাক্ত করতে গিয়েছেন, সেই ভিডিও সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে, সকলে দেখছে। এরপর তো ওঁদেরও এই সমাজে বেঁচে থাকা মুস্কিল হবে। সমাজ তো তাঁদের দিকে আঙুল তুলে বলবে – আপনাদের ছেলে ওই কাণ্ড করেছিল।
আর জি কর আন্দোলন যখন শুরু হল মেয়েদের রাত দখল কর্মসূচির মাধ্যমে, শুরু থেকেই একটা চেষ্টা ছিল আন্দোলনটাকে ‘অরাজনৈতিক’ রাখার। আয়োজকরা বলছিলেন, জমায়েতে কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা বা ব্যানার আনা যাবে না। এমনিতেও গত কয়েক দশকে রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে, তাতে মানুষ ‘অরাজনৈতিক’ থাকতেই বেশি পছন্দ করেন। এবারের আন্দোলনে এমন অনেকে যোগ দিয়েছেন, যাঁরা আগে কখনো কোনো দাবিতে রাস্তায় নামেননি, বরং এড়িয়ে গেছেন। তাঁদের জন্যই আরও বেশি করে এই ‘অরাজনীতি’ শব্দের ব্যবহার, যা আসলে অদলীয় রাজনীতি বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে। এটা নিয়ে নানা স্তরে তর্ক বিতর্ক চলেছে। কারণ কোনো আন্দোলনই আসলে অরাজনৈতিক হতে পারে না। ‘মেরি রাতেঁ, মেরি সড়কেঁ’ আন্দোলন নিয়েও এই বিতর্ক কি উঠেছে?
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁদের প্রতিনিধিরা আন্দোলনে আসছেনও বটে। আপনি যেরকম বললেন সে ধরনের নির্দেশিকা আমাদের এখানেও দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এটাও একটা নারীকেন্দ্রিক আন্দোলন, নানা সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন এটার সঙ্গে যুক্ত, সেহেতু রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে হালকা মেজাজেই একটা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে আপনারা যদি আপনাদের দলীয় মঞ্চে এই বিষয়ে কিছু করতে চান, করতেই পারেন। কিন্তু যদি আমাদের জমায়েতে আসেন, সেখানে দলীয় পতাকা বা দলীয় স্লোগান ব্যবহার করা যাবে না।
অবশ্যই ‘মেরি রাতেঁ, মেরি সড়কেঁ’-র মত ধারণা কারোর কপিরাইট করা সম্পত্তি নয়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোরও পূর্ণ স্বাধীনতা আছে পার্টি ব্যানারের নিচে যে কোনো রাতে যে কোনো রকমের প্রতিবাদের আয়োজন করার।
একদম শেষ প্রশ্ন। এই মুহূর্তে ভারতের দুই প্রান্তের দুটি রাজ্যে একইরকম দুটি আন্দোলন চলছে। আর জি কর আন্দোলন নিয়ে আপনারা যথেষ্ট খবর রাখছেন বোঝাই যায়। ভবিষ্যতে এই দুই আন্দোলনকে একত্র করে একটি বৃহত্তর সামগ্রিক পরিকল্পনার কথা কি আপনারা এই মুহূর্তে ভাবছেন?
হ্যাঁ, মহারাষ্ট্রের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে এই আন্দোলনটাকে যদি সর্বভারতীয় স্তরে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি, এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করছি। এর মধ্যে যেসব ঘটনা ঘটে গিয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে আমরা ক্রমাগত কথা বলব, যাতে মানুষ ভুলে না যান। আমাদের যাঁরা রোল মডেল, তাঁদেরও আমরা এই আন্দোলনে সামিল করছি। একটা নেটওয়ার্কিংয়ের কাজ চলছে। আপনাকে আগেই বললাম, মোট ৭৮টি সংগঠন এই আন্দোলনে রয়েছে। মহারাষ্ট্রে এখন অবধি তিরিশের বেশি জেলায় আমরা পৌঁছে গিয়েছি। আমাদের মিটিংয়ে অন্যান্য রাজ্য থেকেও মানুষজন যোগ দিচ্ছেন। এই নেটওয়ার্ক বাড়ানোর কাজটা আমরা করে যাব।
২১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর অবধি আমাদের এই ক্যাম্পেন নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী চলবে। তারপরে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয়েও আমরা ভাবনাচিন্তা করছি। ১৪ ফেব্রুয়ারি বাকিদের কাছে ভ্যালেন্টাইন্স ডে, আমাদের কাছে ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’ – ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্তও আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে। সর্বভারতীয় স্তরে একটা মহিলা সম্মেলন করা যায় কিনা, সেকথা ভাবছি আমরা।
‘মেরি রাতেঁ, মেরি সড়কেঁ’-র মত ধারণা কারোর কপিরাইট করা সম্পত্তি নয়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোরও পূর্ণ স্বাধীনতা আছে পার্টি ব্যানারের নিচে যে কোনো রাতে যে কোনো রকমের প্রতিবাদের আয়োজন করার।
আর জি কর আন্দোলনের সঙ্গেও আমরা একাত্ম হতে চাইছি। আমাদের ইচ্ছা আছে, দুর্গাপুজোর সময়েও যদি এই আন্দোলন চলে, সেইসময় আমরা কয়েকজন কলকাতায় গিয়ে এই আন্দোলনকে আরও কাছ থেকে দেখব, যাতে গভীরভাবে বোঝা যায়। সংগঠকদের সঙ্গে কথা বলব। কারণ আমার মনে হয় ধর্ষণ ঘটে, আমরা প্রতিবাদও করি। কিন্তু আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো সংহতি সেই অর্থে গড়ে ওঠে না। তাই সকলে একসঙ্গে মিলিত হয়ে যদি বড় প্রতিরোধ গড়ে তোলা না যায়, তাহলে ধর্ষণ ঘটতেই থাকবে। আমরা কিছুদিন প্রতিবাদ করব, আবার ভুলেও যাব।
এই মুহূর্তে যে শাসকের সরকার কেন্দ্রে এবং মহারাষ্ট্রে – দুই জায়গাতেই রয়েছে – সেই সরকার, আমরা দেখছি, চূড়ান্ত নারীবিদ্বেষী। মেয়েদের তারা যেরকম ভাবে, সেই ভাবনাটাই সমস্যাজনক। ধর্ষণ তাদের কাছে কেবল একটা ঘটনা মাত্র। এই সংস্কৃতিকে গোড়া থেকে শেষ করার কোনো সদিচ্ছা তাদের নেই। কিন্তু আমরা তো সেভাবে ভাবি না। আমাদের দেশে মেয়েদের লড়াইয়ের বড় ইতিহাস রয়েছে, আমরা সেই ইতিহাসকে মনে রেখে লড়ব। আজ আমাদের এই পরিকল্পনাটা ক্যাম্পেনের স্তরেই আছে, এখনো সেই অর্থে খুব বড় আন্দোলনের রূপ নিতে পারেনি। সেটা হতে সময় লাগবে। কিন্তু সকলে এগিয়ে এলে ঠিকই সম্ভব হবে।
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








