গদর নেই।

গদর নেই, কিন্তু গদরের শরীরে একটি বুলেট আমৃত্যু ছিল। ১৯৯৭ সালের ৬ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় বন্দুকবাজরা গদরের শরীরে বুলেট গেঁথে দিয়েছিল। বুলেট রাষ্ট্রের স্বর। বুলেট কখনো মিথ্যে বলে না। বুলেটটি গদরের জীবনকৃতির অভিজ্ঞান।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

গদর নেই। ভারতীয় শিল্পের শিরদাঁড়ায় আরেকটা আঘাত। খুব কম শিল্পীই ছিলেন বা আছেন যাঁরা ভারতবর্ষের নাড়ি বুঝতে পেরেছেন। খুব কম শিল্পীই ভারতবর্ষের মেহনতি, নিরক্ষর, প্রান্তিকতমের প্রতিরোধের ভাষা ধারণ করতে পেরেছেন এবং খুব কম শিল্পীই শ্রমজীবীর ভাষা-সুরের রাজনীতি ও শিল্প-সংস্কৃতির সেতুবন্ধন করতে পেরেছেন। গদর সেই খুব কম শিল্পীদের মধ্যে অগ্রগণ্য। গদরকে বলা হয় ‘প্রজা গায়কুড়ু’। মানে প্রজাদের গায়ক। জনতার গায়ক। না, এ কোনও স্বঘোষিত অভিধা বা রাষ্ট্রের এঁটে দেওয়া তকমা নয়। এই ডাকনাম অন্ধ্র, তেলেঙ্গানার জনগণ তাঁকে দিয়েছে। ভারতবর্ষের আপামর নিপীড়িত জনতার শ্রমজ ভাষাকে তিনি শিল্পে রূপান্তরিত করেছেন।

গুম্মাদি ভিত্তল রাও। মেহনতি জনতার প্রিয় – গদর। গদর কবি। গদর গান গাইতেন। সেই গানে মেহনতি জনগণের চেতনার আলোড়ন আরও ছড়িয়ে পড়ে অন্য অন্য নিপীড়িত জনগণের উদ্বেলিত স্বরে। গদরের গানে দ্রোহের স্মৃতি জেগে উঠত। গদরের গানে অপশাসনের বিরুদ্ধে শোষিতের স্মৃতি জাগরূক থাকত। শ্রেণিসংগ্রাম থেকে আসে সাংস্কৃতিক চেতনা – সেই সাংস্কৃতিক চেতনা শ্রেণিসংগ্রামের চেতনাকে আরও চারিয়ে দেয়। এই সহজ অথচ সুগভীর বোধ গানে-নাটকে নিরন্তর চর্চা করে যাওয়া বড্ড কঠিন। শাসকের মতাদর্শে জারিত সংস্কৃতি যখন গ্রাস করে নিচ্ছে শাসিতের জেগে থাকার সংস্কৃতি, তখন এমন অনুশীলন আরও কঠিন। বিশ্বায়ন, উদারীকরণের জমানায় জনপ্রিয় শিল্পের সংজ্ঞা যখন বাজারের চাপে প্রতিক্রিয়াশীল (কিছু ক্ষেত্রে রক্ষণশীল প্রগতিবিরোধীও) হয়ে পড়ছে, তখন গদরের অনুশীলন আশা জোগাত। ১৯৭০ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে তৈরি হল বিরাসম। বিপ্লবী রচয়িথালা সঙ্ঘম। নকশালবাড়ি আন্দোলনের মতাদর্শে বিশ্বাসী লেখক-সাহিত্যিক-শিল্পীদের সঙ্ঘ। পাঁচ দশক পরেও সেই সঙ্ঘ ‘সত্য’ খোঁজার অনুশীলন করছে, তবে সঙ্ঘ ভেঙে যায়নি। ১৯৭২ সালে গদরের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হল জননাট্যমণ্ডলী। তার আগে গণনাট্য সঙ্ঘ, প্রগতিবাদী লেখক সঙ্ঘ, ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক-শিল্পী সঙ্ঘ ইত্যাদি ইতিহাস ভারতের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। ১৯৩০-৪০ দশকের প্রবল রাজনৈতিক অভিঘাতে একজোট লেখক-শিল্পী-গায়ক-নাট্যাভিনেতা বহু তাৎপর্যপূর্ণ শিল্প জনগণকে উপহার দিয়েছেন। বিরাসম আর জননাট্যমণ্ডলী সেই ধারায় উল্লেখযোগ্য সংযোজন। জননাট্য মৌখিক সাহিত্যের সঙ্গে লিখিত সাহিত্যের এক অভূতপূর্ব সেতু বেঁধে নিল। সাহিত্যের মূলবস্তু বা আঙ্গিক মেহনতি জনগণের সাহিত্য থেকে গ্রহণ করে আবার তাকে জনগণের মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে গেল। নিরন্তর প্রবাহ। অশহুরে, নিম্নবর্গীয়, মেহনতি জনতার সাংস্কৃতিক বোধ এবং আঙ্গিকগুলি আত্মস্থ করে বিপ্লবী সাহিত্যে রূপান্তরিত করা – এই ছিল জননাট্যমণ্ডলীর উদ্দেশ্য। লোককথাকে সমকালীন আঙ্গিকে ও বিষয়ে উপস্থাপিত করার কিছু সমকালীন রাজনীতিগত সমস্যা থেকে যায়, তা হুবহু উপস্থাপিত করা যায় না ‘আধুনিক’ পরিসরে। জননাট্য এবং গদরের কৃতিত্ব এই যে, লোকসাহিত্যের জঁর, আঙ্গিক, বিষয়বস্তু এমনকি গ্রামীণ বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারও তাঁরা এমনভাবে করলেন যাতে বিপ্লবী রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিফলিত হয়ে মেহনতি জনগণের দ্রোহভাষা হয়ে উঠল।

১৯৭৯ সালে ওয়ারাঙ্গলে বিরাসমের সাহিত্য পাঠশালায় গদর বলেন কীভাবে তিনি সাপুড়ের খেলা দেখানোর সুর আর ভাষাকে রাজনৈতিক গানে রূপান্তরিত করেছিলেন। তেলেঙ্গানায় বিভিন্নরকম যাত্রায় যাওয়ার আগে লোকেরা বিশেষ এক গান গায়, যার শুরুতে পবিত্র স্থানের নাম জুড়ে দেয়। গদর সেই গানে ‘শ্রীকাকুলাম যাত্রা’ নামে সংগ্রামের বিষয়বস্তু জুড়ে নিলেন। কিষাণদের গাওয়া ‘এরুভাকা’ গানের কথা আর সাপুড়ের শব্দজাদুর ছাঁদ মিশিয়ে নতুন পারফরম্যান্স – শাসকের বিরোধিতা। দরগার পাশে শোনা ফকিরের দোয়া আর তার সঙ্গীদের মস্করা গদর বদলে দিলেন শহীদ স্মরণের গানে। ‘নকশালবাড়ির ছেলেমেয়ে’ নামে একটি ‘ওগ্‌গু কথা’ লিখেছিলেন গদর একজন মূল গায়ক আর দুজন দোহার (তাঁরা নাচতেনও) নিয়ে পারফর্ম করতেন – প্রথাগত ভারি বাদ্যযন্ত্রের বদলে ব্যবহার করতেন ডাপ্পু। গদরের সেই ওগ্‌গু কথা শুনতে হাজার হাজার মানুষ জমা হতেন। লোককথার রাজনীতিকরণ এবং জনতার সাহিত্য শাসকের আধিপত্যমূলক সংস্কৃতির প্রতিস্পর্ধী হয়ে উঠল। জেভি রামন রেড্ডি তাঁর বইতে লিখছেন, বিরাসম লেখক-সাহিত্যিকদের সংগঠন ছিল বলেই নিরক্ষর নিপীড়িতের সঙ্গে সেতুবন্ধনের কিছু সমস্যা ছিল। গদরের নেতৃত্বে জননাট্যমণ্ডলী সেই সমস্যা মিটিয়ে দিল এবং গদর ছাড়া কেউই বোধহয় এই কাজটা পারতেন না। বুরাকথা, জমুকুলাকথার অভিনয় গানের মধ্যে দিয়ে সমকালীন কমিউনিস্ট রাজনীতি মেহনতি জনতার মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার অনুশীলন তাঁদের। প্রাবন্ধিক পি কেশব কুমার জানাচ্ছেন, জননাট্যমণ্ডলী দুহাজারেরও বেশি গান উপস্থাপনা করেছে। তাঁদের গান সম্বলিত বই তিন লাখের বেশি বিক্রি হয়েছে এবং অন্ধ্রের এমন মেহনতি পরিবার নেই যেখানে গদরের গানের ক্যাসেট নেই। গদর কিন্তু শুধু খোলা ময়দানে গাইতেন না, তিনি পারফর্ম করতেন! গদর সুশোভিত মঞ্চ, জাঁকালো অনুষ্ঠান আর অডিটোরিয়ামের শিল্পী ছিলেন না। গদরের পারফরম্যান্স যারা প্রত্যক্ষ করেছে, তারা প্রত্যেকেই স্বীকার করেছে মাঠে-ময়দানে মেহনতি জনতার ভিড়ে গদরের সঙ্গীত কীভাবে শিল্প হয়ে উঠত। শ্রমজারিত সংস্কৃতির নান্দনিক উদযাপন! গদরের পারফরম্যান্স নন্দনতত্ত্বের সংজ্ঞা বদলে দিত। ১৯৭৯ সালের জানুয়ারি মাসে ওয়ারাঙ্গলের বিরাসম সাহিত্য পাঠশালায় গদর যে বক্তব্যটি রাখেন, তা ভারতের বিপ্লবী সাংস্কৃতিক নন্দনতত্ত্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পাঠ।

 

#

১৯৭০ ও ১৯৮০-র দশক বিপ্লবী কমিউনিস্ট রাজনীতির খুব একটা সুখের সময় ছিল না। নকশালবাড়ি আন্দোলনের যে রাজনৈতিক প্রভাব সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে তখন কিছুটা ভাঁটার টান। অন্ধ্রের তেলেঙ্গানা শ্রীকাকুলামের সংগ্রাম শাসকের প্রচণ্ড দমননীতির চাপে কিছুটা থিতিয়ে গেল। কিন্তু একজন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মীর দায়িত্ব এমন বদ্ধ কিচ্ছু-না-হওয়া সময়েই সবথেকে বেশি। শাসিতের মতাদর্শে জারিত সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা এবং ছড়িয়ে দেওয়ার দায়বদ্ধতা অনুভব করেছিলেন গদর। তাঁর গানে ও কবিতায় কমিউনিস্ট শহীদদের ছায়া গাঢ় হল। রায়তু-কুলি বা ক্ষেতমজুরদের শোষিত হওয়া, তাঁদের সংগ্রাম গদরের গানে কবিতায় ছড়িয়ে পড়ল। গদর দলিত নিম্নবর্গের জৈব-বুদ্ধিজীবী (অর্গ্যানিক ইন্টেলেকচুয়াল)। তাঁদের দৈনন্দিন যাপনের রূপ-রস গদরের গানে। গদর মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী-মাওবাদী মতাদর্শের পতাকাবাহক। দ্বিধাহীন। জড়তাহীন। তিনি ‘আর্বান নকশাল’ নন। টিভি চ্যানেলে বক্তব্য পেশ করা বামপন্থী নন। ম্যাগাজিনে, জার্নালে নিবন্ধ লিখে নাম করা বুদ্ধিজীবী নন। রাষ্ট্রপোষিত সভামঞ্চে দ্রোহের গান গেয়ে হাততালি-কুড়োনো গায়ক নন। গদর আধুনিকতার পাশ্চাত্য-নির্ধারিত সংজ্ঞায় অবিশ্বাসী। গদর মেহনতি নিপীড়িত মানুষের প্রকাশ্য জনসভায় গানে-কবিতায় কমিউনিস্ট মতাদর্শের শিল্পরূপ ব্যক্ত করতেন। সর্বভারতীয় লেখক ও বিপ্লবী সাংস্কৃতিক লিগের সম্পাদক হিসাবে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে ঘুরে নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের কথা বলতেন। কেশব কুমার গদরের বহু গানের বিশ্লেষণ করেছেন তাঁর প্রবন্ধে। গানগুলি শুধু উচ্চবর্গীয়দের শোষণ আর নির্বিত্তের মুক্তির কথাই বলত না, ‘উরু মানাদিরা’-র মত গান নির্বিত্ত নিম্নবর্গের আত্মবিশ্বাসের কথা বলত। একদিকে যেমন ‘ইয়েন্ত্রামেতালা তিরুগুতুভুন্দান্তে’ গানটি উৎপাদনের সঙ্গে শ্রম-শোষণের সম্পর্ক মেঠো ভাষায়-সুরে উপস্থাপনা করেছে, তেমনি যানচালকদের নিয়ে গাওয়া গানে যানচালকের রক্তের সঙ্গে জ্বালানির উপমার অনবদ্য প্রকাশ গীত হয়েছে। বিড়ি শ্রমিক, রেলওয়ে কুলি, কয়লাখনির শ্রমিক, রাস্তার সাফাইকর্মী, পরিবহণ কর্মী, দলিত মজুর, ক্ষেতমজুর – কাকে নিয়ে গান বাঁধেননি গদর?

ভারতীয় মার্কসবাদীদের সম্পর্কে একটি সমালোচনা প্রায়ই শোনা যায় যে, লিঙ্গভিত্তিক ও বর্ণাশ্রমভিত্তিক শোষণকে তাঁরা তেমন গুরুত্ব দেন না। শ্রেণিকে প্রধান গুরুত্ব দিতে গিয়ে ভারতীয় সমাজে লিঙ্গ ও বর্ণের মত গুরুতর সমস্যাকে চিহ্নিত করতে বড্ড দেরি করে ফেলেছেন তাঁরা। এহেন অভিযোগের গুরুতর জবাব জননাট্যমণ্ডলীর গান ও পারফরম্যান্স। সাতের দশকের শেষে দলিত আন্দোলন ও নারীমুক্তির আন্দোলন গদর ও তাঁর কমরেডদের প্রভাবিত করে। সিপিআই এম-এল (জনযুদ্ধ) পার্টির আভ্যন্তরীণ পরিসরে তাঁরা এই প্রশ্নগুলি উত্থাপন করেন। জননাট্যের গানে প্রতিফলিত হয় মালা ও মাদিগা দলিতদের যাপনচিত্র ও সংগ্রাম। কেশব কুমার গদরের গানে ‘দলিত পুলুলাম্মা’ (দলিত শার্দূল)-র উল্লেখ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, নকশালপন্থী এবং দলিত আন্দোলনকারীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র হয়ে উঠেছিলেন গদর। দলিত নারী ক্ষেতমজুরের অধিকার নিয়ে গান লিখলেন। নারী বিড়ি শ্রমিকদের দাবিদাওয়া উপস্থাপিত করলেন জননাট্যের গানে। আটের দশকের শেষ থেকে অন্ধ্রপ্রদেশে বার্ধিনেনি রোসাম্মার নেতৃত্বে মদবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠেছিল। গদরের গানে ওই আন্দোলনের সমর্থন তেলুগু সমাজকে ব্যাপক প্রভাবিত করেছিল। গ্রামাঞ্চলে আন্দোলনের বিস্তৃতিতে গুণ্ডাবাহিনী, মদব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে গদরের পারফরম্যান্স জনগণের মধ্যে সাড়া ফেলেছিল। শ্রেণিসংগ্রামের সঙ্গে বর্ণকাঠামো থেকে মুক্তি এবং লিঙ্গভিত্তিক মুক্তি সংগ্রামের বিরোধ নেই, তারা পরস্পরের পরিপূরক – জননাট্যের বহু পারফরম্যান্স এই দ্বান্দ্বিক সত্য তুলে ধরেছিল। গদর কেন ‘প্রজা গায়কুড়ু’ উপাধি পেয়েছিলেন, তা বোঝা যায় এই ঘটনাগুলির মধ্যে দিয়ে।

অন্ধ্রপ্রদেশের তথা ভারতের মেহনতি মানুষ বহু স্তরে বিভক্ত হয়ে আছেন। তাঁদের ভিতরে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিভাজন প্রতীয়মান হয়। শাসক এই বিভাজনগুলিকে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে ব্যবহার করে নেয় – শ্রেণিবোধ তৈরি হতে বাধা দেয়। গদর এই বহুধাবিভক্ত নির্বিত্ত নিম্নবর্গীয় সমাজকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন তাঁর গানে, পারফরম্যান্সে। সিপিআই এম-এল (জনযুদ্ধ) জনসমাবেশের ডাক দিলে গদর এবং জননাট্যমণ্ডলী সেখানে পারফর্ম করত। নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করত। সেই সব জনসমাবেশ রাষ্ট্রের শিরঃপীড়ার কারণ হয়ে উঠত। রাষ্ট্র জননাট্যমণ্ডলীকে নিষিদ্ধ করেছে, গদরকে খুনের আয়োজন করেছে। কেন? তা কয়েকটি জনসমাবেশের ছবি দেখলেই বোঝা যাবে। গদরের সেই আইকনিক ছবি – পার্টির লাল পতাকা বুকের কাছে ধরে হাসছেন আর তাঁর পিছনে সুবিশাল জনসমাবেশ।

দলিত গদরের চেতনার দ্বান্দ্বিক পরিসরে মার্ক্স-লেনিন-মাও এবং আম্বেদকর ক্রিয়াশীল ছিলেন। তাই বাস্তব ভারতের ছবি সহজ মসৃণতায় তাঁর গানে প্রতিফলিত হয়েছে। সেই ভারতে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াই রয়েছে এবং বর্ণবাদবিরোধী লড়াই রয়েছে। শহরের অটোরিকশাওয়ালার সংগ্রাম রয়েছে এবং দলিত নারী বিড়ি শ্রমিকের যাপন রয়েছে। গদরের ভারতে জাতিসত্তার আন্দোলন আর অপারেশন গ্রিন হান্টবিরোধী লড়াই একত্রে উপস্থিত। একদিকে লোককথার চর্চা করা ভারত, অন্যদিকে কর্পোরেট লুঠে ছিন্নভিন্ন হওয়া ভারত। গদর সেই ভারতবর্ষের নাড়ির গতি চিনতেন যে ভারতবর্ষ মেহনতি মানুষের ঘাম-রক্তে গড়া। সেই ভারত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিস্পর্ধী প্রতিরোধ ছিল, যে ভারত উচ্চবর্ণ-উচ্চবিত্তের মুনাফার জন্য মেহনতি মানুষকে বলি দিতে উদগ্রীব।

অপারেশন গ্রিন্ট হান্টবিরোধী সাংস্কৃতিক মঞ্চে গান গাইতে কলকাতায় এসেছিলেন গদর। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে। সেই অবয়ব। খালি গায়ে উড়নি জড়ানো। মেঠো ধুতি। হাতে প্রিয় বাদ্যযন্ত্র। পায়ে ঘুঙুর। গদরের পারফরম্যান্স বিভিন্ন সময়ে যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন তাঁর বিশেষ উচ্চারণ। একই উচ্চারণে কতরকম ভাব প্রকাশ করতেন। নবরসের অভিনয়ে সুদক্ষ ছিলেন। মঞ্চে বিভিন্ন ভূমিকায় অভিনয় করতেন। গদরের সারা শরীর গাইত। গদরের সারা শরীর দলিত মেহনতি নিপীড়িতের মুক্তিকামী শরীর হয়ে উঠত। শাসকের ধুদ্ধুড়ি নড়ে যেত তাঁর উচ্চারিত একেকটা সংলাপে। তাঁর গানের সঙ্গে মুখের অভিব্যক্তিতে, কণ্ঠস্বরের ওঠানামায় রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্রগুলি বড্ড অস্বস্তিতে পড়ত। ইউটিউবে তাঁর পারফরম্যান্সের কিছু ভিডিও আছে, উৎসুক পাঠক দেখতে পারেন।

#

আমি তোমার দাস
প্রভু, আমি তোমার দাস
কতদিন আর এভাবে বাঁচবে মালান্না?
পাল্টা মারবে না মাদিগান্না?

তোমার মা বোনকে বেবুশ্যে অচ্ছুৎ বলে হ্যাটা দিলে
লজ্জায় কুঁকড়ে যাও কেন, মাদিগান্না?
সিংহের মত জাগো, মালান্না

দিনের আলোয় ওরা মেরে গেল তোমাদের, যেন পাখি শিকারের খেলা
পাল্টা মারো, ফেটে পড়ো রাগে। পেড়ে ফেলো ওদের
বসে বসে কাঁদছ মালান্না?
খাপ খোলা তলোয়ার হও মাদিগান্না

তোমাদের কুঁড়ে ঘিরে ফেলে বুলেটে ঝাঁঝরা করল
পিষে দিল বাচ্চাদের, হিঁচড়ে রাস্তায় টেনে এনে ওরা
কেটে ফেলল বুড়োবুড়িদের
এত জোরে কেঁদো না মাদিগান্না
বর্শার মতো ঝলসে ওঠো মালান্না

ওরা ভোটের জন্যে ভুয়ো আশা ছুঁড়ে দিতে আসে
তোমাদের বানানো বেঞ্চিতে বসে ঢং ক’রে ডাকে
“আদরের ভাই, ও আমার প্রিয় বোন”
গেলাসের জল কুলকুচি ক’রে ছুঁড়ে দেয় দূরে
মালান্না, তোমাদের ভোটে জেতে ওরা
মাদিগান্না, তোমাদের শূন্য হাতের দিকে চাও

মালান্না মাদিগান্নারা রেগে ধর্ম পাল্টে নিলে শঙ্করাচার্য আঁতকে উঠেছে
গা রি-রি রাগে কেঁপে শাপমন্যি করেছে
হিন্দুরা একযোগে হাঁক পেড়েছে, “বন্দে মাতরম”

দাসের পিঠে পাথর বেঁধে তাকে ঝুঁকিয়ে দিতে পারো
তাকে মাড়িয়ে পিষে দিতে পারো
তার পিঠ বাঁকালেও তার কলজে কিনতে পারবে না।
শুধু অপেক্ষা করছে কখন পিঠের পাথর নামিয়ে
শিরদাঁড়া টানটান দাঁড়াবে সে, ঋজু।

তোমার দাস, তোমারই গোলাম আমি, ডোরা!
মাদিগান্না, আর কত দিন এভাবে যাবে?
মালান্না, কবে তুমি পাল্টা ক্যালাবে?

[মালা আর মাদিগা অন্ধ্র, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটকে বসবাসকারী তফসিলি জাতি। মালান্না/মাদিগান্না হচ্ছে মালা ও মাদিগা সম্প্রদায়ের সঙ্গে আন্না (দাদা) জুড়ে দিয়ে ডাকা। ডোরা মানে ভূস্বামী, জমির মালিক]

বসন্ত কান্নাবিরান গদরের জীবন ও গানের সঙ্কলন মাই লাইফ ইজ সং: গদর অ্যান্থেমস ফর রেভল্যুশন প্রকাশ করেছিলেন। তাঁরই করা গদরের গানের ইংরাজি অনুবাদ থেকে এই বাংলা অনুবাদটি করেছি।

#

সিপিআই এম-এল (জনযুদ্ধ) এবং তৎপরবর্তী সিপিআই (মাওবাদী) পার্টির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী জড়িত ছিলেন গদর। জনযুদ্ধের সাংস্কৃতিক ফ্রন্ট ছিল জননাট্য। ১৯৯৫ সালের প্লেনামে জনযুদ্ধের নেতৃত্ব ডাক দিলেন গ্রাম রাজ্য কমিটি গঠনের। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ করে ভূমিহীন কৃষকের ক্ষমতায়নসহ আরও কয়েকটি দাবি। জননাট্য সেই দাবি পৌঁছে দিতে লাগল গ্রামসমাজের শিরায়, শহরের কলকারখানার ধমনীতে। ১৯৯৫-২০০৩ জনযুদ্ধের নেতৃত্বে একের পর এক কৃষক অভ্যুত্থান – আদিবাসী, দলিত ও ক্ষেতমজুরদের জনতানা সরকারের প্রতিষ্ঠা – পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির সশস্ত্র প্রতিরোধ – জনযুদ্ধের বিস্তৃতির সঙ্গে অসংখ্য কমিউনিস্ট সহযোদ্ধার শাহাদাত – জননাট্যের পারফরম্যান্সে, গদরের গানে ছড়িয়ে পড়েছিল এই জরুরি খবরগুলি। বিশ্বায়নের জমানায় কমিউনিস্ট পার্টির গণসংগঠনের সাংস্কৃতিক যুদ্ধটাও খুব জরুরি। আগ্রহী পাঠক নিশ্চয়ই সেইসব দলিল খুঁজে দেখবেন। ১৯৮০ সালে সিপিআই এম-এল (জনযুদ্ধ) পার্টি প্রতিষ্ঠার আগে পর্যন্ত বিরাসম, জননাট্যমণ্ডলী এবং রেভলিউশনারি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সদর্থক প্রতিরোধী ভূমিকা ভারতের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। ২০০৪ সালে সিপিআই (মাওবাদী) পার্টি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে জননাট্যমণ্ডলী পার্টির সাংস্কৃতিক ফ্রন্ট হিসাবে পারফর্ম করত। এমনকি রাষ্ট্র পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা (২০০৯) করার পরেও জননাট্যের পারফরম্যান্স থামেনি। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লোকসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় সরকার যে রিপোর্ট দাখিল করে, তাতে জননাট্যমণ্ডলী, বিরাসম এবং তেলেঙ্গানা প্রজা ফ্রন্টকে মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির ‘অ্যাক্টিভ ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

উপর্যুক্ত সবকটি বাক্যেই অতীত ক্রিয়া। করতেন, বলতেন, দেখাতেন… কারণ গদর আর নেই। অবশ্য আরও একটা কারণ আছে। গদর তাঁর উজ্জ্বল লাল সময়ে এই বিরল অনুশীলন করতেন। ভারতবর্ষের প্রথম সারির একজন পারফর্মার, যিনি মেঠো পরিবেশে পথে ঘাটে মেহনতি মানুষের স্বপ্ন বুনতেন কমিউনিস্ট পার্টির লাল পতাকা ধারণ করে। ২০১২ সালের পর থেকে গদর আর এমনটি করতেন না। নয়া গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মতাদর্শ, দেশজোড়া বামপন্থী আন্দোলনের ভিত প্রস্তুতি, মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে মেহনতি মানুষের মুক্তির স্বপ্ন – গদর শাসকের চোখে চোখ রেখে এই বিষয়গুলিকে পারফরম্যান্সের শিরদাঁড়া করে তুলেছিলেন। ১৯৯৭ সালের ৬ এপ্রিল পারফরম্যান্স চলাকালীন রাষ্ট্রের তিনটি বুলেট তাঁর শরীরে ঢুকেছিল। অভিযোগ ছিল তেলুগু দেশম পার্টির দিকে। একটি বুলেট আর বের করা যায়নি। সেই বুলেট পরবর্তী ১৩ বছরে তাঁর প্রতিরোধের গানকে আরও সজীব করে তুলেছে। ২০১০ সালের পর হঠাৎ কমিউনিস্ট পার্টি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন গদর। তবে, কোনোকিছুই ‘হঠাৎ’ হয় না। আমৃত্যু নিঃস্বার্থভাবে ভাল কাজ করে যাওয়া, আমৃত্যু কমিউনিস্ট অনুশীলন করে যাওয়া বহু তাবড় কমিউনিস্টের পক্ষেও সম্ভব হয় না। যে মতাদর্শের জন্য প্রাণপাত করেছেন, একনিষ্ঠ অনুশীলন করেছেন, সেই আদর্শে আমৃত্যু টিকে থাকা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। গদরের পক্ষেও হয়নি। গদরের অনেক কমরেড, যেমন ভারভারা রাও, এখনো সেই অনুশীলন করে চলেছেন, কমিউনিস্ট মতাদর্শ আঁকড়ে আছেন।

আরো পড়ুন মহাশ্বেতা ও ইলিয়াস: প্রমিত সাহিত্যের প্রতিস্পর্ধী স্বর

২০১০ সালের অক্টোবরে গদরের নেতৃত্বে তেলেঙ্গানা প্রজা ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠা হল। স্বাধীন তেলেঙ্গানা রাজ্যের দাবিটিই ছিল মূল। একইসঙ্গে গদর বললেন, বর্ণবাদী শোষণের সমস্যাগুলির উপরে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এই তেলেঙ্গানা প্রজা ফ্রন্টকে রাষ্ট্র মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সম্মুখশিবির বলেই উল্লেখ করেছে বরাবর। ২০১২ সালের শেষদিকে গদর সরে গেলেন এই ফ্রন্ট থেকে। তাঁর মতাদর্শগত দোদুল্যমানতা ওই সময় থেকেই শুরু। মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি গদরের সঙ্গে তখন থেকেই সম্পর্ক ছিন্ন করে। পার্টিসত্তার সঙ্গে ব্যক্তিসত্তার দ্বন্দ্ব? গদর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি একাই আস্ত সাংস্কৃতিক সেনাদল।” আত্মগর্বী গদর তাহলে ভুলে গেলেন সাংস্কৃতিক যুদ্ধ একলা লড়া যায় না? ২০১৬ সালে পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হন। একদা-কমরেডের হাত ছেড়ে দেওয়া কষ্টকর, বিশেষত সেই কমরেডের ভূমিকা যদি পার্টির রক্তধারায় মিশে থাকে। তবু কমিউনিস্ট পার্টিকে সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ব্যক্তির থেকেও পার্টি এবং পার্টির মতাদর্শগত রাজনীতি অনেক বড় বলেই সেখানে কোনো আপস চলে না। জননাট্যমণ্ডলীও গদরের সঙ্গে সব সম্পর্কে ইতি টেনেছিল ওই সময়েই। ২০১৮ সালে জীবনে প্রথমবার সংসদীয় নির্বাচনে ভোট দিলেন গদর। আর তিনি রাষ্ট্রের মাথাব্যথার কারণ, শোষকের আতঙ্ক রইলেন না।

২০১৬-১৭ থেকে গদরের মানসিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তর বিপজ্জনক মোড় নিল। তখন কমিউনিস্ট পার্টি গদরকে বহিষ্কার করেছে। গদর ভঙ্গির জেলার ইয়াদাদরি মন্দিরে গিয়ে লক্ষ্মীনরসিংহ স্বামী দেবতার পূজারীদের থেকে আশীর্বাদ নিলেন। দলিত গদর পালাকুর্থির সোমনাথ মন্দিরে শিবের ‘অভিষেকম’ পারফর্ম করলেন। বেদ পাঠশালায় গিয়ে বেদপাঠের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিলেন। বললেন, “মাওবাদী কমিউনিস্টরা দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। আমি তাই সংসদীয় পথ বেছে নিচ্ছি এখন থেকে। আই অ্যাম টকিং টু আ ক্রস সেকশন অব পিপল টু ওয়ার্ক আউট আ স্ট্র্যাটেজি” (হিন্দুস্তান টাইমস, ৮ এপ্রিল ২০১৭)। ২০২৩ সালের জুন মাসেই গদর ঘোষণা করেছিলেন গদর প্রজা পার্টি নামে তাঁর দল সংসদীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। যেহেতু ভারতে নাগরিকদের স্বাধীনতা বিপন্ন, তাই মানুষের মৌলিক অধিকারের লড়াইটাই তাঁরা লড়বেন বলে জানিয়েছিলেন। ২০২২ সালের অক্টোবরেই প্রজা শান্তি পার্টি নামে আরেকটি সংসদীয় দলে যোগ দিয়েছিলেন গদর। কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগে ওই প্রজা শান্তি পার্টির সভাপতি গদরকে বহিষ্কার করেন।

কংগ্রেসের সঙ্গে গদরের ঘনিষ্ঠতা ২০১৮ সাল থেকে। কংগ্রেসের হয়ে প্রচারও করেছেন কয়েকটি জনসভায়। (দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ২১ জুন ২০২৩) গদর ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিবিদ্যার কৃতী ছাত্র, একদা ভারতের বিপ্লবী সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান যোদ্ধা। কিন্তু শেষপর্যন্ত মতাদর্শে অবিচল থাকতে পারলেন না। বেদনাদায়ক, কিন্তু বাস্তব। গদরের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া থামল ২০২৩ সালের ৬ অগাস্ট।

গদর
ভারত জোড়ো যাত্রায় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে গদর। ছবি রাহুলের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে

তবে গদরের জীবনের শেষ কয়েক বছরের ভূমিকা দিয়ে কে আর গদরের জীবন মাপতে পারে? গদরকে ভারতের নিপীড়িত মানুষ এবং কমিউনিস্ট পার্টি মনে রাখবে তাঁর দ্রোহের গানের জন্যই। ১৯৭০-২০১০ সালের গদর হলেন চল্লিশ বছরের আপসহীন গানের প্রতিস্পর্ধা। দলিত, কৃষক, নারীশ্রমিকদের নিয়ে বাঁধা গদরের গানগুলি এখনও নিপীড়িত মেহনতি মানুষকে ভরসা জোগায়। লোককথার রাজনৈতিক রূপান্তর, মেঠো সুরের সহজভাষ সংগ্রামী নিরক্ষর মানুষের হৃদয় উদ্বেলিত করে। ‘প্রজা গায়কুড়ু’ তাঁর শ্রেণিসংগ্রাম থেকে প্রাপ্ত উপাধি। তাঁর শরীরে গেঁথে থাকা বুলেটটিই তাঁর প্রকৃত পরিচয়। সেই পরিচয়ই অমর থাকবে। হাতির দাঁতে খুঁত থাকলেও, তা হাতির দাঁতই।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.