ইমাম মৌলানা ইমদাদুল্লাহ রশিদি

আজকের এই প্রজাতন্ত্র আমাদের পূর্বপুরুষদের অনেক সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত। আমাদের পূর্বপুরুষের কুরবানির বিনিময়ে আমরা এই স্বাধীন দেশে জন্মাতে পেরেছি। এই প্রজাতন্ত্র মানে কিন্তু মহব্বত। প্রজাতন্ত্র মানে, দেশের প্রতিটি মানুষ, গোষ্ঠীর প্রতি সরকারের সহমর্মিতা। জোর করা, ভয় দেখানো কিন্তু প্রজাতন্ত্রের লক্ষ্য হতে পারে না। আজকে যে কৃষকরা দিল্লির বর্ডারে বসে আছেন, তাঁরা এই দেশের সাধারণ মানুষ। সরল, মাটির মানুষ। প্রজাতন্ত্রের, সরকারের উচিৎ তাঁদের সম্মান জানানো, ভালোবাসা, সহানুভূতি জানানো। এই প্রজাতন্ত্র, সরকারের কাছে আমার চাহিদা এটুকুই যে, তাঁরা এই কৃষকদের সহানুভূতি দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে গ্রহণ করুন।

যে কোন প্রজাতন্ত্রের ধারণার মূলেই থাকে আসলে ইনসাফ৷ প্রজাতন্ত্রের কাজ দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে ইনসাফ পৌঁছে দেওয়া। ইনসাফ দেয় আদালত। একজন মুসলমান হিসাবে, একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে, এই দেশের আদালত আমার কাছে, আমার কৌমের কাছে ইনসাফ পৌঁছে দিয়েছে অজস্রবার। কিন্তু আজ আদালতের হাত-পা বাঁধা৷ কিছু মানুষ আদালতকে নিজেদের পকেটস্থ করে ফেলেছে। আমরা তো অনেক দূরের ব্যাপার, আপনাদেরও তো প্রশ্ন করলে দেশদ্রোহী উপাধি পেতে হয়। প্রজাতন্ত্রে এ একেবারেই কাম্য নয়।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

এই বাংলা আমার কাছে ধর্মনিরপেক্ষতার পীঠস্থান। এই বাংলায় মন্দির আছে, মসজিদ আছে, গির্জা আছে। আমাদের রাজ্যে এখনো ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবেশ রয়েছে৷ কিন্তু কেউ বা কারা এই ধর্মনিরপেক্ষতায় আঘাত দিতে চায়। দেখুন আমি ‘জয় শ্রীরাম’ বলার বিরোধিতা করি না। রামকে ভালবেসে ভক্তের অন্তর থেকে যে জয় শ্রীরাম স্লোগান, আমি তাকে সম্মান করি। কিন্তু যে জয় শ্রী রাম অন্য মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, তাকে আমার অপছন্দ। আমার দাদা, পরদাদা এ দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন। তাঁদের কাছে এ দেশ মানে ভালোবাসা, একসাথে বাঁচা৷ আমার ধর্মের কাছেও তাই। সেখানে ভয় থাকতে পারে না। অন্যকে জোর করা থাকতে পারে না।

অনুলিখন – আকাশ চ্যাটার্জি

ছবি – নিজস্ব

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.