অল্প বয়স থেকে কমিউনিস্ট আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার ফলে শীর্ষেন্দু মুখুজ্জের মত বেগুনের কারবারিরা (এই সময়, ২৮ সেপ্টেম্বর৫ অক্টোবর সংস্করণ) আমাদের চোখে কোনোদিনই সম্ভ্রমের আসন পাননি। প্রায়শই এঁদের দেখা মিলত ধাপার মাঠের আশেপাশে। আগে ধাপার মাঠ বলে একটা জায়গা ছিল। এখন আছে কিনা জানি না। ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাস তখন সদ্য তৈরি হয়েছে। দ্রুত কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণে যাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু মাঝে পড়ত ওই ধাপার মাঠ। শহরের যাবতীয় আবর্জনা ডাঁই করে রাখা হত সেখানে। বাসে বসে বসেই অন্নপ্রাশনের ভাত উঠে আসত তার কাছাকাছি গেলে। সমাজজীবনেও এমন ধাপার মাঠ অনেক আছে। শীর্ষেন্দু মুখুজ্জেরা যে ভনভন করেন সেসব জায়গায়, তা জানা ছিল ছোট থেকেই। নোংরা আবর্জনাই যে এঁদের অহঙ্কারকে পুষ্টি জোগায়, এঁদের সাহিত্য সৃষ্টির অনুপ্রেরণা হিসাবে দেখা দেয়, তা জানতাম। পড়েছিও এঁদের লেখা। সত্যি বলতে কি খুব কষ্ট করে এঁদের লেখা পড়তে হয়। এসবে না থাকে কোনো রস, না সাহিত্য, না কিছু। কলেজে পড়তে প্রথম পড়েছিলাম দূরবীন। কেন পড়ছি, কেন লেখা হয়েছে এসব ছাইভস্ম – কিছুই মাথায় ঢোকে না। তবুও পড়েছি, কারণ আশেপাশে এঁদের নিয়ে মাতামাতি হত খুব। কেন হচ্ছে তা বুঝতে চাইতাম, বুঝতে পারতাম না কোনোদিন। আজও বুঝি না।

এসব ছাইভস্মের কারবারিরা যে আদ্যন্ত অসৎ, প্রতারক, চালাক এবং জুয়াচোর – তা অবশ্য জানলাম এই সময় কাগজের রবিবারের ক্রোড়পত্রে শীর্ষেন্দু মুখুজ্জের সাক্ষাৎকার পড়ে। সোশাল মিডিয়ায় অনেককেই ইতিমধ্যে দেখেছি তীব্র প্রতিবাদ করতে, মূলত মুখুজ্জেমশায়ের জাতিবর্ণবাদী মনোভাবের বিরুদ্ধে। সে কথায় পরে আসছি। আগে একটু অন্য কথা পাড়ি, যা নিয়ে খুব একটা কথা হয়নি এখনো।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

সাহিত্য কী? কাকে বলে সাহিত্য? ছোট থেকেই জেনেছি – সাহিত্য হল সমাজের দর্পণ। কথাটা বহু ব্যবহারে জীর্ণ হয়ে গেলেও আজও সত্য। প্রশ্ন এটা নয় যে লেখক কমিউনিস্ট নাকি অকমিউনিস্ট, পার্টিজান নাকি নন। প্রশ্নটা হল, লেখায় এই রক্তমাংসের সমাজটা প্রতিফলিত হয় কি হয় না। লেখকের বক্তব্য যা খুশি হতে পারে। কিন্তু যদি রক্তমাংসের সমাজটা থাকে লেখায়, তাহলে বক্তব্য বা বিষয় কিছুতেই লেখকের ব্যক্তিগত থাকে না। লেখক তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দকে কিছুতেই জোর করে ওই লেখায় চাপিয়ে দিতে পারবেন না। তা করতে গেলে নিজেরই মনে হবে – ব্যাপারটা আরোপিত হয়ে গেল, কৃত্রিম হয়ে গেল। রক্তমাংস থাকলে গল্প নিজেই লেখককে টেনে নিয়ে যাবে এমন এক পরিণতিতে, যা হয়ত তিনিও চাননি। স্রষ্টার থেকে এভাবেই সৃষ্টি বড় হয়ে দেখা দেয়। তখনই তা হয় সাহিত্য।

নিকোলাই অস্ত্রোভস্কির ইস্পাত-এর মত লেখাকে মুখুজ্জেমশায়ের মনে হয়েছে আবর্জনা। কমিউনিস্ট রুশ সাহিত্যকে তিনি মনে করেছেন আবর্জনা। কেন? কারণ ওসব ‘রাজনীতির কনশাসনেস’ থাকা সাহিত্য, অতএব সাহিত্য নয়। নিজের খেয়ালে হাবিজাবি লিখে যাওয়াই নাকি সাহিত্য। এই একজন সাহিত্যিকের সাহিত্যবোধ! ম্যাক্সিম গোর্কির গায়ে হাত দেওয়ার সাহস পাননি, কারণ গোর্কির লেখাকে আবর্জনা বললে পিঠের চামড়া বাঁচবে না এখনো, এই ২০২৫ সালেও। তাই গোর্কিকে ছাড় দিয়ে বাকিদের আক্রমণ করেছেন মুখুজ্জেমশাই। নিজের বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করতে পাকা ধাপ্পাবাজের মত উনি ফিওদর দস্তয়েভস্কির কথা পেড়েছেন। দস্তয়েভস্কিকে সামনে রেখে আসলে নিজের লেখার গুণগান করেছেন। কী আশ্চর্য স্পর্ধা এসব বামনদের! কোথায় শীর্ষেন্দু মুখুজ্জে আর কোথায় দস্তয়েভস্কি!

দস্তয়েভস্কি কমিউনিস্ট ছিলেন না। কমিউনিস্টদের মধ্যে অনেকেই দস্তয়েভস্কির সমালোচনা করেছেন তা সত্য। কিন্তু দস্তয়েভস্কির লেখা কারা পৃথিবীর বহু ভাষায় অনুবাদ করে ভর্তুকির পয়সায় সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে বেকার অবস্থাতেও মুখুজ্জেমশাই এবং আমরা গরিবগুর্বোরাও সেসব পড়তে পেরেছি? উত্তর – সোভিয়েত রাশিয়া। কারণ দস্তয়েভস্কি সাহিত্য সৃষ্টি করেছিলেন। সে ক্ষমতা তাঁর ছিল, কারণ তিনি মুখুজ্জেমশায়ের মত বামুনের চামড়া নিয়ে জন্মাননি। মানসিকভাবে কর্তা ভজা, পলায়নী প্রবণতাসম্পন্ন, আয়াসী, বিলাসী, দুর্বল হৃদয় আর শীর্ণ বক্ষের মানুষ ছিলেন না দস্তয়েভস্কি। মুখুজ্জেমশায়ের হয়ত জানা নেই, জারবিরোধী লেখক গোষ্ঠী পেত্রসেভস্কি চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে জারের আদালতে দস্তয়েভস্কিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে তাঁকে নিয়েও যাওয়া হয়েছিল, চোখ বাঁধার কাজও হয়ে গিয়েছিল। এমন সময়ে মৃত্যুদণ্ড রদের আদেশ আসে। তারপরেও বহুবছর সাইবেরিয়ায় নির্বাসনে কাটাতে হয়েছে তাঁকে। মুখুজ্জেমশাই খুব ভালো করে জানেন – এতদূর যেতে হবে না, জারদের লাল চোখে একবার তাঁর চোখ পড়লেই পরনের কাপড়চোপড় নোংরা হয়ে যেত এক মুহূর্তে। ফলে তাঁর নিরাপদ আশ্রয় হল সমাজসচেতন সাহিত্য রচনা থেকে দূরে থাকা আর সেসবকে সাহিত্য বলে চালানো। এই কাজে তাঁকে উতরে দেবার লোকের অভাব নেই। নাম করছি না, অনেক প্রতিষ্ঠান যে আনন্দের সঙ্গে এই কাজে ব্রতী আছে তা সকলেই জানেন।

যে কমিউনিস্টরা দস্তয়েভস্কির সমালোচনা করেছেন তাঁদের ব্যাপারে প্রথমেই বলি, সবথেকে বেশি সমালোচনা যিনি করেছিলেন তিনি গোর্কি। তিনি তো আবার কমিউনিস্ট হলেও মুখুজ্জেমশায়ের ভালোলাগা লেখক। দস্তয়েভস্কির বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস দ্য ব্রাদার্স কারামাজভ নিয়ে গোর্কি একটা বিশেষ অভিযোগ তোলেন। কারামাজভের বিশ্ববীক্ষা নেতিবাচক, তা পাঠককে উদ্দীপ্ত করে না, হতাশাগ্রস্ত করে – এই ছিল গোর্কির প্রধান অভিযোগ। ‘কারামাজভিজম’ -এর অভিযোগ করে পরপর দুখানা নিবন্ধ লিখেছিলেন গোর্কি। দস্তয়েভস্কি সম্পর্কে গোর্কির এই মূল্যায়নের পক্ষে যেমন সেইসময় অনেক কমিউনিস্ট ছিলেন, তেমনি অনেকে বিপক্ষেও ছিলেন। শোনা যায় লেনিন স্বয়ং এই মূল্যায়ন নিয়ে সম্পূর্ণ একমত ছিলেন না। লেনিন একমত ছিলেন না তলস্তয় সম্পর্কেও কমিউনিস্টদের একাংশ যে ধরণের অভিযোগ করতেন সে সম্পর্কে। লেনিনের ‘তলস্তয়: রুশ বিপ্লবের দর্পণ’ লেখা দ্রষ্টব্য। লেনিনের পক্ষে এবং বিপক্ষে – দুদিকেই অনেকে ছিলেন। সুতরাং ‘দস্তয়ভস্কিকে তো সোভিয়েতরা বলে রিঅ্যাকশনারি! কমিউনিস্টরা দস্তয়ভস্কিকে পছন্দ করে না’ – এই উক্তির কোনো ভিত্তি নেই। শিল্প-সাহিত্য নিয়ে কমিউনিস্টদের ধ্যানধারণা, তর্কবিতর্কের ইতিহাস অত্যন্ত জটিল। মুখুজ্জেমশায়ের মত তরল লোকের পক্ষে তার তল খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

কিন্তু আমাকে সত্যি অবাক করেছেন কণিষ্ক ভট্টাচার্য। আমি গোটা সাক্ষাৎকারে শীর্ষেন্দুবাবুর কথায় মোটেও অবাক হইনি, অবাক হয়েছি প্রশ্নকর্তার অদ্ভুত আচরণে। তিনি আমার পরিচিত। তাঁকে তো একজন বামপন্থী হিসাবেই জানি। কিন্তু তিনি এখানে নিজেই লেনিন এবং মাও সে তুং-কে নিয়ে এলেন সম্পূর্ণ ভুল পথে। লেনিন, মাও, নিকোলাই গোগোল, দস্তয়েভস্কি নিয়ে ঝনঝন করে কথা বলে যারা নিজেদের নোংরামি ঢাকেন যে মুখুজ্জেরা, তাঁদের সুবিধা করে দিতেই যেন এরপর কণিষ্ক প্রশ্ন করেন ‘মাও সে তুং বলেছিলেন, আর্টকে আগে আর্ট হতে হবে, তার পরে দেখব সেটা রি-অ্যাকশনারি না প্রোগ্রেসিভ। আর লেনিনের একটা কথা আছে, “পলিটিক্স ইজ ক্রিস্টালাইজেশন অফ এভরি হিউম্যান এসেন্স”; সেটা তো দলীয় রাজনীতি থেকে অনেক ওপরে?’। মুখুজ্জেমশাই এই লোপ্পা বলটা লুফে নিয়ে আরও কিছুক্ষণ লোফালুফির খেলা চালিয়ে যান।

যখন শিল্প নিয়ে কথা হয়, তখন যা লেনিন অথবা মাও যা শিল্প নয় তা নিয়ে কথা বলবেনই বা কী করে? শিল্পকে আগে শিল্প হয়ে উঠতে হবে – এই কথাটার কোনো মানে আছে? এমন অদ্ভুতুড়ে কথা কোথায় তাঁরা বলেছেন জানি না। কিন্তু তর্কটা হল শিল্প কাকে বলে, সাহিত্য কাকে বলে তা নিয়ে। ইয়ানান ফোরামের আলোচনায় মাও লেনিনের মতামতের থেকেও অনেক বেশি বাঁদিকে ঝুঁকে আছেন। কারামাজভিজমের সমালোচক গোর্কির মতামতের মতই তাঁর মত। অর্থাৎ কোন সাহিত্য সমাজে কী প্রভাব ফেলে – তা দিয়েই ঠিক হবে তা সাহিত্য, নাকি নয়। এই ছিল মাওয়ের মত। ‘অসবর্ণ বিবাহ সচেতন ভাবে অ্যাভয়েড করি’ – এই জাতীয় কথাবার্তা মাও বা গোর্কির কানে গেলে মুখুজ্জেমশায়কে তাঁরা কান ধরে ওঠবোস করাতেন।

আবার ধরুন, স্লোগান কি সাহিত্য? সকলেই বলবেন, না। কিন্তু ইতিহাসে বহুবার স্লোগান সাহিত্য হয়ে উঠেছে মুখুজ্জেমশাই। লক্ষ লক্ষ লোক সেসব স্লোগানে আবেগমথিত হয়েছে, প্রাণ দেওয়া-নেওয়া তুচ্ছ জ্ঞান করে সেইসব স্লোগানের তালে তালে পথ হেঁটে গেছে। অলস দুপুরে জাবর কাটার মত ন্যাকড়া চিবোনো আপনাদের তথাকথিত সাহিত্য মানুষের হৃদয়ে কখনোই সে জায়গা পায়নি আর পাবেও না।

শীর্ষেন্দু মুখুজ্জেরা তবুও আমাদের সমাজে করে খান। কারণ তিনি সত্যিই আমাদের আত্মকেন্দ্রিক, মেরুদণ্ডহীন বাঙালি হিন্দু মধ্যবিত্ত সমাজের প্রতিনিধি। তাই তাঁর লেখা এক শ্রেণির পাঠকের পছন্দ হয়। সাক্ষাৎকারের একেবারে গোড়াতেই তিনি বলেছেন, নিজের ব্যক্তিগত অবস্থা দিয়েই তিনি সমাজকে মাপেন, সেই মত কর্তব্য নিরূপণ করেন। নিজে যখন খারাপ থাকেন তখন বিদ্রোহের কথাবার্তা লেখেন, আবার পেটে জলপানি পড়লেই বিদ্রোহ নেতিয়ে গিয়ে ‘রাজনীতি খুব খারাপ’ মার্কা ভাব জেগে ওঠে। ফলে একবার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার পর মুখুজ্জেমশায়ের পক্ষে আর কখনোই ঘুণপোকা লেখা সম্ভব হয় না। এ কেমন প্রতিষ্ঠা? মুখুজ্জেমশাইরা জানেন না যে তাঁদের ভক্তদের বাইরের পৃথিবী তাঁদের সাহিত্যিক বলে অভিহিত করে না। ভালো বাংলায় তাঁদের বলা হয় সৌভাগ্য-সন্ধানী।

আরো পড়ুন মরদ সিনড্রোমে ভোগা শীর্ষেন্দু ও একটি জুতো

এমনধারা লোক যখন বামুন হয়, তখন যে আরও নানারকম মজা দেখতে পাওয়া যাবে তা মোটেই আশ্চর্যের নয়।

বোঝা গেল তিনি কৃষ্ণভক্ত, তাও আবার গীতার কৃষ্ণ, যিনি অর্জুনকে হত্যায় উৎসাহিত করেছেন। অর্জুনের যুদ্ধবিরোধী, হত্যাবিরোধী যুক্তি খণ্ডন করতে গিয়ে নিয়ে এসেছেন চতুর্বর্ণের কথা। বলেছেন তিনিই নাকি চতুর্বর্ণ সৃষ্টি করেছেন। বলছিলেন তো হত্যা করতে উদ্দীপ্ত করার জন্যে। ক্ষত্রিয়ের যুদ্ধ ছাড়া, হত্যা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। সেই কাজই অর্জুনকে করতে হবে। বিরত থাকলে চলবে না – এইসব। মুখুজ্জেমশাই এসবের খুব ভক্ত। কারণ তিনি জগৎ বোঝেন নিজের চামড়া দিয়ে। ফলে নিয়ে এলেন বুলডগ, নেড়ি কুত্তা – এইসব নোংরামি। ভাবখানা এই যে, ব্রাহ্মণ, শুদ্র ইত্যাদি ভাগগুলো প্রাকৃতিক ব্যাপার। সবাই জানেন, আসলে এসব ভাগাভাগি ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়ের মত উচ্চবর্ণের লোকেদের সৃষ্টি। বামুনরা নিজেদের তৈরি কাঠামোকে যখন কৃষ্ণ আর প্রকৃতির নামে চালিয়ে দেওয়ার চালাকি অর্জন করল, তখন নিজেই ঘোষণা করল যে সে বুলডগ। এমন যোগ্যতা যাঁদের নেই তাঁদের পরিশ্রম করে খাওয়াই উচিত। সবাই তো আর সব কিছু পারে না। কর্মবিভাজন বটে!

বামুনের দৃষ্টিতে মেয়েদের অবস্থান আর তালিবানের দৃষ্টিতে মেয়েদের অবস্থান একই। এর বাইরে যারা, সেই ‘সুসভ্য’ ইউরোপও আলাদা কিছু নয়, উনিশ আর বিশ। কিন্তু একেবারে শাস্ত্র লিখে শুদ্র আর নারীকে অধিকারহীন আর কেউ করেনি, বামুনরা করেছে। মনুস্মৃতি-র মত এমন আইনের বই পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। আর চিৎপাবন বামুনদের নিজের হাতে তৈরি আরএসএসের মত সংগঠনও বিরল, যাদের এই ২০২৫ সালে ওই আইনের বইটিকে দেশের সংবিধান করে তোলার সাধ। মুখুজ্জেমশাইরা বাঙালি বলে দস্তয়েভস্কি, গোগোল আওড়ান। আসলে তো ঐ চিৎপাবন বামুনদেরই জাতভাই। ভুললে চলবে না যে গোলওয়ালকর, সাভারকরদের হিন্দুত্বের ধারণার উৎপত্তিস্থল কিন্তু মহারাষ্ট্র নয়, সেটা এই বাংলা, বিশেষত কলকাতা।

মুখুজ্জেমশাই এমন কিছু কোনোদিনই বলেননি বা লেখেননি যা নিয়ে বিরাট কিছু আলোচনা হতে পারে। একটা মা বা ইস্পাত অথবা পুনরুজ্জীবন কি নোটস ফ্রম আন্ডারগ্রাউন্ড লেখার ক্ষমতা তাঁদের হয়নি, হবেও না। ধাপার মাঠ ছাড়া আর কিছু তৈরি করা এঁদের কম্ম নয়।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.