পারভেজ খান
ছোটবেলায় জীবনীগ্রন্থ পড়তে ভালো লাগত। সেটাই আমাকে ধীরে ধীরে বিজ্ঞানের কাজের দিকে ঠেলে দেয়। তবে তা সত্ত্বেও কখনো কাউকে নায়ক ভাবতে ইচ্ছে করেনি। আজও জীবনের গল্প শুনতে ভালো লাগে – মেহনতি মানুষের ওঠাপড়ার গল্প। বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের প্রিয় বিজ্ঞানীর নাম জিজ্ঞেস করলে তারা বলে যায় – অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, আইজ্যাক নিউটন, রবার্ট ওপেনহাইমার, রিচার্ড ফাইনম্যান, স্টিফেন হকিংয়ের নাম। আমার মত কয়েকজনের পছন্দের বিজ্ঞানী লাইনাস পাউলিং। শুধুমাত্র দু-দুবার নোবেল জিতেছিলেন বলে নয়, শুধুমাত্র অসাধারণ কাজ (প্রত্যেক রসায়ন, পদার্থবিদ্যার ছাত্রছাত্রী জানে তাঁর কাজের গুরুত্ব) করেছিলেন বলে নয়, ভিটামিন সি দিয়ে সব রোগ সারিয়ে দেওয়ার পাগলামি করেছিলেন বলেও নয়। বরং তিনি ভীষণরকম রাজনৈতিক ছিলেন বলে। তিনি জানতেন পৃথিবীর প্রতি তাঁর দায়িত্ব কী, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও বিশ্বশান্তির জন্য বিজ্ঞানীকুলকে ঐক্যবদ্ধ করে সারা বিশ্বের রাষ্ট্রনেতাদের উপর চাপ দেওয়ার কাজ করেছিলেন বলে। এই কাজের জন্য ১৯৬০ সালে তাঁকে শান্তিতে নোবেল দেওয়া হয়।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
শান্তি তো সবাই চায়। ধর্ম নির্বিশেষে সবাই প্রার্থনায় যে কতবার এই শব্দটি ব্যবহার করেন তার ইয়ত্তা নেই। আবার এই শান্তি চেয়েই নাকি রাষ্ট্রনেতারা যুদ্ধ করেন। কবীর সুমন মনে পড়ে যায় ‘গণহত্যার ছবিগুলো মনে রেখে,/এসেছে শান্তি ঘুমের ওভারডোজ।’ যুদ্ধের, গণহত্যার ছবি তো নতুন নয়। যেদিন থেকে জমির, খনির দখল নেওয়া শুরু, সেদিন থেকেই প্রায়। তারপর থেকে ঠিক কোন গতিতে বা কোন কাজের ফলে অশান্তি বেড়েছে তা বলা মুশকিল। তবে সবাই শুধু অশান্তি করে গেছে এমন নয়। বহু মানুষ, বহু সংস্থা সেই অশান্তির বা অশান্তির কারণের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন, কথা বলেছেন, কাজ করেছেন। সভ্যতার ইতিহাসে এমন উদাহরণও অনেক।
প্রত্যেক বছর অক্টোবর মাস এলেই নোবেল কমিটির ঘোষণার দিকে চোখ থাকে সারা বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের, সংবাদমাধ্যমের, সোশাল মিডিয়ার। বিভিন্ন নোবেল পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক চিরকালই ছিল, আছে। তবে বিজ্ঞান, সাহিত্য, অর্থনীতির পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক আর শান্তিতে নোবেল নিয়ে বিতর্কের মধ্যে একটা তফাত আছে। অন্য বিষয়গুলির ক্ষেত্রে কখনো এই সন্দেহ থাকে না যে, যিনি পেয়েছেন তিনি পাওয়ার যোগ্য নন। তাঁর বা তাঁদের কাজের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকে না। নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে কিন্তু সে প্রশ্ন বারবার ওঠে।
বারাক ওবামার নোবেল প্রাপ্তি দিয়ে শুরু করা যাক। মার্কিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার ন মাসের মধ্যে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। অথচ পুরস্কার হল কাজের স্বীকৃতি। সেটা কাজ করার আগেই কী করে পাওয়া যায়? তার উপর ইরাক আর আফগানিস্তানে যুদ্ধ তখনো শেষ হয়নি, মার্কিন সেনা বহাল তবিয়তে সেখানে উপস্থিত। শুধুমাত্র প্রত্যাশা আর জর্জ ডব্লিউ বুশকে ভোটে হারিয়ে প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান মার্কিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্যই শান্তি পুরস্কার! সেইসময় নোবেল কমিটির এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, গেইর লুনডেস্টাড, পরে নিজের আত্মজীবনীতে ওবামাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার জন্যে অনুশোচনা প্রকাশ করেন। করবেন না-ই বা কেন? ইরাক বা আফগানিস্তানে তখন যুদ্ধ শেষ তো হয়নি বটেই; ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়ায় আইসিসের উত্থান তো হয় ওই সময়কালেই। আজ চারপাশে বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মিম তৈরি হলেও রিপাবলিকানদের জনপ্রিয়তা কিন্তু কমছে না। এই পরিবেশের বীজ তো ওবামার আমলেই তৈরি।
খুব সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার কিছু দেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে বা হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। সেদেশের বর্তমান অস্থায়ী সরকারের মুখ্য উপদেষ্টা যিনি, সেই মহম্মদ ইউনুসও নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। তবে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করার জন্যে অর্থনীতিতে নোবেল না পেয়ে পেয়েছিলেন শান্তি পুরস্কার। তাঁর বিরুদ্ধে গরীব মানুষকে শোষণ করে নিজের সংস্থার প্রতিপত্তি বাড়ানোর প্রচুর অভিযোগ আছে, যদিও তিনি সবই অস্বীকার করেন। কিন্তু শান্তির জন্য নোবেল জয়ী ইউনুস দেশের অস্থির অবস্থায় দায়িত্ব নিয়ে কতটা শান্তি ফেরাতে পেরেছেন তা নিয়ে সন্দেহ আছে। জামাতের মত মৌলবাদী শক্তির বৃদ্ধি, তৌহিদি জনতার নামে অরাজকতা এবং বিভিন্ন অধিকার কাঠামোয় আঘাত আজ তিনি হয় চুপ করে দেখেন অথবা ভারতবর্ষের সংবাদমাধ্যমকে দোষারোপ করেই কাজ সারেন।
অর্থাৎ ওবামা এবং ইউনুস, দুজনেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পরে তাঁদের কাজকর্মের ফলে অস্থির অবস্থা তৈরি হয়েছে এবং তারপর ধর্মীয় মৌলবাদের উত্থান দেখা গেছে। ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়ায় আইসিসের সন্ত্রাসবাদ, শরিয়তি আইন চাপিয়ে দেওয়া, ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব করার মত ঘটনা সারা বিশ্বে মুসলমানবিদ্বেষকে আরও মজবুত করেছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীও ভারতে মুসলমানবিদ্বেষ বাড়াচ্ছে।
কুড়ি বছরের ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী যে নারকীয় হত্যালীলা চালিয়েছিল, রাসায়নিক গ্যাস প্রয়োগ করেছিল, লক্ষ লক্ষ মানুষ মেরেছিল, তা ইতিহাস থেকে কোনোদিন মুছে যাবে না। কলকাতাসহ সারা বিশ্বে তখন মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ হয়েছিল। সেই যুদ্ধ বন্ধ করার অন্যতম কারিগর হিসাবে আমেরিকার বিদেশ সচিব হেনরি কিসিঞ্জারকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। অথচ বাস্তব হল, ভিয়েতনামে মার্কিন সেনাবাহিনির করুণ দশা, দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে মার্কিন অর্থনীতির হাল আমেরিকায় প্রবল ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল এবং যুদ্ধ শেষ না করে মার্কিন সরকারের কোনো উপায় ছিল না। পরবর্তীকালে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, নোবেল কমিটি জানত যে প্যারিস চুক্তি করে ভিয়েতনামে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে কথা বলা হচ্ছিল, তাতে ভিয়েতনামে শান্তি আসবে না। আসলে ওই যুদ্ধ থেকে আমেরিকাকে বের করে আনার জন্যই কিসিঞ্জারকে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। একদিকে শান্তি চুক্তি করছিলেন, অন্যদিকে নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া কম্বোডিয়ায় গোপনে ব্যাপক বোমা হামলার মূল পরিকল্পনা করেছিলেন কিসিঞ্জার। এর পাশাপাশি চিলিতে বামপন্থী সরকার ফেলে দিতে সেনা অভ্যুত্থানে মদত দেওয়া, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করার কীর্তিও আছে কিসিঞ্জারের। শান্তিতে নোবেল পাওয়া এই লোকটি প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধাপরাধী। তিনি নোবেল পাওয়ায় খোদ আমেরিকাই হতবাক হয়ে যায়। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় শিরোনাম ছিল ‘নোবেল যুদ্ধ পুরস্কার’। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা সমালোচনা করে নরওয়েতে চিঠি দেন। নরওয়ের নোবেল কমিটির দুজন পদত্যাগও করেন। কিসিঙ্গারের সঙ্গেই ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষ করার জন্য শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল ভিয়েতনামি বিপ্লবী লে দুক থো-র নামে। তিনি পুরস্কার গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।
আজকের পশ্চিমবাংলার প্রধান বিরোধী দলের রাজনীতি যে কয়েকটা শব্দকে কেন্দ্র করে ঘোরে তার মধ্যে একটা হল রোহিঙ্গা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মাঝে মাঝেই বলে থাকেন, বাংলাদেশ থেকে নাকি এক কোটি রোহিঙ্গা এসে গোটা বাংলায় বসতি স্থাপন করেছে। যে কোনো সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ বুঝবেন যে কথাটা ডাহা মিথ্যে। কিন্তু অন্য একটা প্রশ্ন আছে – রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে কেন আসবেন? তাঁদের মূল নিবাস তো মায়ানমার। মায়ানমারের সঙ্গে তো পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত নেই। ঠিক এখান থেকেই আসে আং সান সু কি-র নাম। মায়ানমারে গণতন্ত্র ফেরানো, একনায়কতন্ত্র ও সামরিক শাসনের অবসান ঘটাতে সু কি-র লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। অথচ গণতন্ত্র কেবল অধরাই থেকে যায়নি, মায়ানমারে ফের সেনা অভ্যুত্থান ঘটে, রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা চালানো শুরু হয়, তাঁরা উদ্বাস্তু হন। সু কি-র নোবেল ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি উঠতে থাকে বিশ্বজুড়ে। প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখে আরাকান প্রদেশের রোহিঙ্গা মুসলমানরা সু কি-কে সমর্থন করেছিল, রক্ত দিয়েছিল। সু কি-র গণতন্ত্র সেই রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নতি ঘটানো দূরের কথা, বর্ণবিদ্বেষী, কণ্ঠরোধকারী হয়ে ওঠে। রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন, তাদের নাগরিকত্ব হরণ, মহিলাদের ধর্ষণ, গণহত্যা – কোনোকিছুই আটকাননি বা আটকাতে পারেননি সু কি। বাংলাদেশ সীমান্তে বসবাসে অযোগ্য এক দ্বীপে বাংলাদেশের আওয়ামি লীগ সরকার তাদের বসতি স্থাপন করার অনুমতি দেন, সু কি এই মুহূর্তে ফের গৃহবন্দি।
ইলিও রুট (১৯১২), উড্রো উইলসন (১৯১৯), জিমি কার্টারদের (২০০২) কথা বলে লেখা দীর্ঘায়িত করার মানে হয় না। এবার এবছরের কথায় আসা যাক। ভেনিজুয়েলায় ‘গণতন্ত্র ফেরানোয় ভূমিকার জন্য’ মারিয়া মাচাদোকে এবছর শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি, তবে আগামী বছর যে ছিঁড়তে পারে তার নিশ্চিত আভাস মাচাদোর পুরস্কার। অবশ্য ট্রাম্প পুরস্কার পাননি কেন বলছি? সাদা বাড়ির বাসিন্দা উষ্মা প্রকাশ করার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মারিয়া নিজের পুরস্কার ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছেন।
আমাদের দেশের সংবাদমাধ্যম আর আইটি সেলের যে ভক্তি ছাপ্পান্ন ইঞ্চির প্রতি, তার চেয়ে মারিয়া মাচাদোর ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রতি ভক্তি কিছু কম নয়। প্যালেস্তাইনে ইজরায়েলচালিত গণহত্যা সমর্থনকারী কোনো ব্যক্তি কী করে শান্তির পক্ষে থাকতে পারেন, তা কোনো সুস্থ মানুষের মাথায় ঢুকবে না। মারিয়া কিন্তু এই গণহত্যার সোচ্চার সমর্থক। অতীতে যখন সু কি-র নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি উঠেছিল, নোবেল কমিটি বলেছিল – পুরস্কার তার আগের কাজের ভিত্তিতে দেওয়া হয়। একদম ঠিক। কিন্তু মারিয়া তো নোবেল প্রাপ্তির আগেই বহুবার প্রকাশ্যে বলেছেন যে তিনি প্যালেস্তাইনে ইজরায়েল যা করে তার সমর্থক।
আরো পড়ুন কর্পোরেট লোভের ভূমিকা ফাঁস করেছেন বলেই ফ্রাঞ্চেসকা চক্ষুশূল
তাহলে তিনি কী করে শান্তি পুরস্কার পেতে পারেন? তিনি নিজের দেশের সরকারকে উৎখাত করার জন্য বিদেশি (আর্জেন্টিনা ও ইজরায়েল) শক্তির হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে এখন একমাত্র আর্জেন্টিনার সরকারই ডানপন্থী। বাকি দেশগুলো মধ্যপন্থী বা বামপন্থী। তাই নোবেল কমিটি ঠিক কী কারণে মারিয়াকে পুরস্কৃত করেছে তা বোঝা খুব কঠিন নয়। ট্রাম্পের অপেক্ষা বাড়ল – এই আর কি। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা দেখলেই নোবেল কমিটির উপর মার্কিনী প্রভাব স্পষ্ট হয় এবং মার্কিন সরকার যাকে গণতন্ত্র বলে চালায়, দেশে দেশে তা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টাও বোঝা যায়।
খালি গায়ে ধুতি পরে লাঠি হাতে দাঙ্গাবিধ্বস্ত নোয়াখালীর হিন্দু এলাকা, বিহার আর কলকাতার মুসলমান মহল্লা চষে বেড়ানো মহাত্মা গান্ধীর এ পুরস্কার জোটেনি। গান্ধীর কথাই বারবার উচ্চারণ করেছেন সু কি ‘হিংসা করে গণতন্ত্র আনতে চাইলে তা প্রকৃত গণতন্ত্র হবে না।’ কিন্তু সেই মহিলাই পরবর্তীকালে মানুষের কণ্ঠরোধ করেছেন, গণহত্যা চলতে দিয়েছেন। নোবেল ফেরাতে হয়নি, মানুষ মনে মনে তাঁর নোবেল কেড়ে নিয়েছেন। আজ পৃথিবী জুড়ে এত হত্যা, ধ্বংসলীলার মাঝে শান্তিকামী মানুষ প্যালেস্তাইনের পক্ষে, গণহত্যার বিরুদ্ধে। গোটা ইউরোপ রাস্তায়। সাধারণ মানুষ তো বয়েই, সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ যাকে যুদ্ধাপরাধী ঘোষণা করেছে, সেই নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে সমর্থন করা মারিয়াকে নোবেল কমিটি পুরস্কৃত করলেও বিশ্বজুড়ে তাঁর গণহত্যার সমর্থক ভাবমূর্তি বদলাবে না। অবশ্য এরকম অতীতেও ঘটেছে, ভবিষ্যতেও ঘটবে।
নিবন্ধকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক। মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








