সৃজন ভট্টাচার্য

~রাজ্য সম্পাদক, ভারতের ছাত্র ফেডারেশন

বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যজুড়ে একটা বাইনারি তৈরির চেষ্টা চলছে৷ একদিকে তৃণমূল, অন্যদিকে বিজেপি। আর কেউ যেন নেই। অন্য কোনও স্বর নেই, অন্য কোনও দাবি নেই৷ টিভিতে কেবল দলবদলের খবর৷ সঙ্গে রাজনীতির নামে কুৎসিত অরাজনৈতিক তরজা, খেউড়। বাইনারি তৈরির এই খেলাটা দেখতে দেখতে রাজ্যের তরুণ সমাজ ক্লান্ত। চাকরি নেই। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। এমবিএ পাশ করে ডেলিভারি বয়ের কাজ করতে হচ্ছে। অথচ মিডিয়ায় এই সব প্রসঙ্গ আসে না। রাজ্যের যুবসমাজের বাঁচামরার কথা আসে না। আসে কেবল কোন নেতা ছোট ফুল থেকে বড় ফুলে যাচ্ছেন আর কে কাকে তুইতোকারি করলেন, তার খবর।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

বাইনারি তৈরির এই নোংরা খেলাটা ভাঙতেই আমরা নবান্নে যাচ্ছি। কর্মসংস্থানের প্রশ্নকে রাজ্য রাজনীতির মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতেই আমরা নবান্নে যাচ্ছি। আমরা নবান্নে যাচ্ছি মুখ্যমন্ত্রীকে রিলিজ অর্ডারটা ধরিয়ে দিতে। মাননীয়া, যেভাবে একের পর এক দুর্নীতি সামনে আসছে, নির্বাচনের পর হয়তো আপনাকে জেলে থাকতে হবে। গত এক দশকে আপনি রাজ্যটাকে শেষে করে দিয়েছেন। গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন, চরম দুর্নীতিবাজ একটা সরকারের মাথা হয়ে বসে রয়েছেন। কর্মসংস্থানের যাবতীয় সম্ভাবনা ধ্বংস করে বেকারদের পেটে লাথি মেরেছেন। এগুলো সবই আপনার করা অপরাধ। কিন্তু এই সবকিছুর চেয়েও বড় অপরাধ আপনি করেছেন৷ আপনি এই রাজ্য বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক দলকে ডেকে এনেছেন। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, আপনি এই রাজ্যকে সাম্প্রদায়িক শক্তির মৃগয়াক্ষেত্রে পরিণত করেছেন। এই অপরাধ ইতিহাস ক্ষমা করবে না৷ আপনার দলের বড় বড় নেতারা প্রতিদিন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। প্রতিদিন একটু একটু সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষবাষ্প ছড়িয়ে যাচ্ছে বাংলার বাতাসে। এর দায় আপনার৷ কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় আপনার দলের নেতা ছিলেন, এখন বিজেপিতে। তাঁকে বলতে শুনলাম, ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে আপনি তৃণমূল তৈরি করেছিলেন বিজেপির পরামর্শে। তারপর তো বিজেপির সঙ্গে দফায় দফায় নির্বাচনী জোট করে লড়াই করেছেন আপনি৷ বছরের পর বছর বাংলায় আরএসএস-এর এজেন্ট হয়ে কাজ করেছেন আপনি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আপনার এই অপরাধ ইতিহাস ক্ষমা করবে না৷

বিজেপিকে রুখতে পারে বামপন্থীরাই৷ প্রধান শত্রু নিয়ে আমাদের কোনও বিভ্রান্তি নেই। ভারতের জনগণের প্রধান শত্রু নিঃসন্দেহে বিজেপি। অন্য কোনও দলের সঙ্গে বিজেপির তুলনা হয় না, তৃণমূলের সঙ্গেও না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ীভাবে বিজেপিকে আটকাতে হলে তৃণমূলকে হারাতে হবেই। এর কোনও শর্টকাট নেই। গত ২২-২৩ বছর ধরে মমতা আরএসএস-এর হয়ে কাজ করেছেন। এখন আরএসএস-বিজেপি নিজেই বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। ফ্রাঙ্কেস্টাইনের আর মমতাকে প্রয়োজন নেই।

বামপন্থীরা সরকারে নেই, কিন্তু মানুষের বিপদে আপদে, দরকারে আছে লাল পতাকাই। লকডাউনে গেটা রাজ্যজুড়ে কমিউনিটি কিচেন চালিয়েছি আমরা। নিরন্ন মানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছি। আমাদের ভোট কমেছে, সামর্থ্য কমেছে, কিন্তু সদিচ্ছা থাকলে যে সত্যিই মানুষের পাশে থাকা যায়, তা আমরা প্রমাণ করেছি। কে আমাদের ভোট দেবেন আর কে দেবেন না, সেই হিসেব করে আমরা কমিউনিটি কিচেন চালাইনি৷ দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের ভূমিকা পালন করেছি। আগামীতেও করব। একটা কথা খুব বলা হয়, বামপন্থী রাজনীতিতে নাকি তরুণ প্রজন্ম আসছে না৷ কমিউনিটি কিচেনগুলোই এর জবাব। একদম তরতাজা তরুণ ছেলেমেয়েরাই এগুলো চালিয়েছে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। সেই ছেলেমেয়েগুলোই ১১ তারিখ নবান্নে যাবে। রাজ্য রাজনীতির অভিমুখটা খিস্তিখেউড় আর দলবদলের থেকে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, গণতন্ত্রের দিকে ঘুরিয়ে দিতে নবান্নে যাবে।

একটা কথা বলতে পারি, ১১ তারিখ সন্ধেবেলায় রাজ্য রাজনীতিতে কেবল নবান্ন অভিযান নিয়েই আলোচনা হবে। কথা দিলাম।

চিত্র ঋণ :

  • সৃজন ভট্টাচার্যের ছবি Facebook থেকে (সৃজনের অনুমতি নিয়ে ব্যবহৃত)
  • নবান্ন ভবন (Wikimedia থেকে : Pinakpani, CC BY-SA 4.0 https://creativecommons.org/licenses/by-sa/4.0, via Wikimedia Commons)

আরো পড়ুন : বাম ছাত্র-যুবদের নবান্ন অভিযানে অংশ নেবেন প্রান্তিক যৌন পরিচয়ের অনেকেও