নাগরিক ডট নেটের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী জোটের ভরাডুবি হয়েছে। বামপন্থীদের ফলাফলও শোচনীয়। এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে কি কেবলই ভোট চুরি, নাকি আরও কিছু ব্যাপার কাজ করেছে? কথা বললেন সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক।
একদম সরাসরি প্রশ্ন করি। ২০২০ সালে লিবারেশন বিহারে বারোটা আসন জিতেছিল, দুর্দান্ত স্ট্রাইক রেট ছিল আপনাদের। পাঁচ বছর পরে এমন ভরাডুবি। আপনি কতটা হতাশ?
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
আমি হতাশ একেবারেই নই। কারণ আমাদের ভোটের অঙ্কে বিরাট কোনো অবনমন হয়েছে বলে আমি মনে করছি না। কিন্তু অবশ্যই এই নির্বাচনে জেতার জন্য যতখানি ভোট দরকার ছিল, তা আসেনি। আমরা গতবারে পেয়েছিলাম ১৩ লক্ষের কিছু বেশি ভোট, উনিশটা আসনে লড়ে। এবারে আমরা কুড়িটা আসনে লড়ে ১৪ লক্ষের কিছু বেশি ভোট পেয়েছি। ফলে আসন পিছু গড় ভোট ৭১,০০০-এর কিছু বেশি। গতবার তাই ছিল, এবারও তাই। ফলে ভোটের অঙ্কে আমরা বিরাট কিছু নিচে নেমে যাইনি। কিন্তু এবারে যেটা হয়েছে, ভোটিং হয়েছে বেশি। ফলে শতাংশের বিচারে অবশ্যই আমাদের ভোট কমেছে। আমরা জোটবদ্ধভাবে ভোটে লড়েছি, জোটের ফল অপ্রত্যাশিতভাবে খারাপ হয়েছে। আমাদের ফলও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে যেটা আমি বলতে চাই, সামগ্রিকভাবে যা ফলাফল হয়েছে, তা কিন্তু জনগণের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত। মানুষের যা মেজাজ ছিল, তারও সম্পূর্ণ বিপরীত। বিহার নিশ্চিতভাবেই পরিবর্তন চাইছিল। পরিবর্তনের পক্ষেই অধিকাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। ফলে আমি বলব, স্রোতের বিপরীতে, হাওয়ার বিপরীতে এই ফল।
আপনি বলছেন এই ফলাফল বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, অস্বাভাবিক ফল। আরও অনেকেই একই কথা বলছেন। তাহলে কি আমরা সম্পূর্ণ কারচুপি করে চালানো একটা নির্বাচন ব্যবস্থার মধ্যে আছি?
দেখুন, আমি তিন-চারটে জিনিস বলব, যেগুলো খুব চোখে পড়ছে। এগজ্যাক্টলি কোন কারণ ছিল, কী হয়েছে, কতটা হয়েছে সেটা আরও খতিয়ে দেখতে হবে। প্রথমত এসআইআর। এই ধরনের এসআইআর করে নির্বাচন তো এর আগে কোথাও হয়নি। বিহারকেই বেছে নেওয়া হল বড় পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য। এর ফলে যেটা হল, কলমের এক খোঁচায় ৭০ লক্ষ মানুষের নাম কেটে দেওয়া হল। এর মধ্যে যদি আমি ধরেও নিই যে ৩০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার মতই ছিল, তারপরেও ৪০ লক্ষ যোগ্য ভোটারের নাম বাদ গেছে। শুধু ৭০ লক্ষ বাদ যায়নি, ২৫ লক্ষ নাম যুক্তও হয়েছে। এটাও রীতিমত সন্দেহজনক ব্যাপার। এসআইআর ঘেষিতভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও, ঠিক নির্বাচনের প্রাক্কালে, দশদিনের মধ্যে সাড়ে তিন লক্ষ নাম ঢুকেছে। এই যোগবিয়োগের অঙ্কটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। এসআইআরের পরে যে ভোটার লিস্ট তৈরি হল, সেটা দেখা যাচ্ছে আগের লিস্টের চেয়েও বেশি ভুলে ভরা। সেই এক ঠিকানায় অনেক নাম, মৃত ভোটারের নাম, বিহারের ভোটারের নাম তামিলে লেখা – সবরকমের ভুল রইল। আর যে বাজারি প্রচার ছিল, অনেক নাকি বাংলাদেশি আছে, তেমন একজনকেও পাওয়া গেল না। ফলে এসআইআরের বিষয়টা অবশ্যই প্রভাব ফেলেছে, সংখ্যার দিক থেকে।
আমার আরেকটা কথা মনে হয়, এসআইআর একটা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও ফেলেছে। ঠিক যেমন এনআরসি, নোটবাতিল বা লকডাউন। এগুলো মানুষকে আতঙ্কিত করেছে। আমার ভোট চলে যাবে, নাগরিকত্ব চলে যাবে – এই প্যানিক ভোট বাড়াতে সাহায্য করেছে। অনেকে আগের দুবার হয়ত ভোট দেননি, এবারে দিয়েছেন। মুসলিম জনগণ বিরাট সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। প্রচুর গরিব মানুষের মধ্যেও ভোট দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। মহিলারা বেশি করে ভোট দিয়েছেন। মহিলা ভোটের আরেকটা দিক আছে, পরে বলছি। মহিলাদের নাম বেশি কাটা গেছে। কিন্তু তাঁরা এবারে পুরুষদের থেকে বেশি ভোট দিয়েছেন। এই আতঙ্কিত, বিপন্ন মানুষের ভোটের চরিত্রটা কী হবে? এটা কি আদৌ বিদ্রোহী ভোট হবে? নাকি একটা তীব্র ভয়ের বাতাবরণের মধ্যে যখন তিনি ভোট দিচ্ছেন, তাঁকে আরও বেশি ভয় পাইয়ে, আতঙ্কগ্রস্ত করে বার্তা দেওয়া হবে ‘ফল ইন লাইন’। সরকারের সঙ্গে থাকো। তাতেই নিরাপত্তা। এটাও ভাববার কথা।
আপনারা তো সব জেনেই ভোটে গিয়েছিলেন। তাহলে এখন এগুলো বলা কি পরাজিতের যুক্তি নয়?
একদম নয়। ভুল কথা। কেউ বলতেই পারে, ভোটে লড়ে লাভটা কী হল? ভোটে লড়ার লাভটা হচ্ছে, লড়াইটা চলমান থাকে। ভারতবর্ষে গণতন্ত্র বলতে যা আছে, তা হল নির্বাচন। নির্বাচনের বাইরে ৩৬৫ দিনের যে গণতন্ত্র – মানুষের অধিকার, অংশগ্রহণ – সেই গণতন্ত্র ভারতে চিরকালই খুব দুর্বল, খুব সীমিত। গণতন্ত্র বলতে এতদিন মানুষ যা জেনে এসেছে, গণতান্ত্রিক অধিকারের যে প্রয়োগ ঘটিয়ে এসেছে, সেই ফলিত গণতন্ত্র তো নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই। সেই নির্বাচন থেকে যদি আমরা বেরিয়ে চলে যাই, তাহলে তো ময়দানটা খালি করে চলে যাওয়া হবে। সেটা জেনেই তো আমরা নির্বাচনে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েছি। আমাদের পরাজয়ের কারণ আমাদেরই ব্যাখ্যা করতে হবে। আমাদের তো বুঝতেই হবে। কিন্তু গোটা ভারতবর্ষকেই বোধহয় ভাবতে হবে যে ২০১০ সালের নির্বাচনে – নীতীশ কুমারের উত্থানের সময় সেটা – তাঁর দলের সরকার যে ফল পেয়েছিল, আজ ১৫ বছর পরে, যখন সবাই এক মুখে এই সরকারকে প্রায় পতনের মুখোমুখি বলে স্বীকার করে নিচ্ছে, যে সরকারের কাছে মানুষের আর কিছু প্রত্যাশা নেই, তখনো একই ফলাফল সে পায় কী করে? এই ফলাফলটাই তো অস্বাভাবিক। এর মধ্যে দুটো বা পাঁচটা সিট পাওয়ায় খুব ফারাক আছে কি? বিষয়টা যদি এরকম দাঁড়ায় যে ভারতবর্ষে ধীরে ধীরে বিরোধী পক্ষ বলে আর কিছু থাকবে না, তাহলে গণতন্ত্র জিনিসটাই তো সোনার পাথরবাটি হয়ে যাবে। বিরোধীপক্ষবিহীন গণতন্ত্র তো গণতন্ত্রই নয়।
এসআইআর, ভোটচুরির অভিযোগ ইত্যাদি তো রয়েছেই। ধরে নিলাম যে আরজেডি বা মালে তৃণমূল স্তরে সেগুলো প্রতিরোধ করতে পারেনি। কিন্তু তার বাইরে ইভিএম কতটা ভরসাযোগ্য? আপনি কি ইভিএমের উপর ভরসা রাখতে পারছেন?
আলাদা করে এই নির্বাচন প্রসঙ্গে আমি এই নিয়ে কিছু বলতে চাই না। কিন্তু ইভিএম কোনোদিনই ভরসাযোগ্য ছিল না। যে কারণে পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশই ইভিএম ব্যবহার করে না। নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং মানুষের এই বিশ্বাসটুকু, যে ভোটটা আমি যাকে দিয়েছি সে-ই পেয়েছে, সেটা আমি দেখতে পাচ্ছি – এটুকু অন্তত থাকা তো জরুরি। এই বিশ্বাসযোগ্যতা তো ইভিএমের নেই। আর এখানে যন্ত্রের থেকেও বড় কথা হচ্ছে, যন্ত্রটা কোন তন্ত্রের হাতে আছে। যন্ত্রকে ঘিরে থাকা তন্ত্রটা যদি বিশ্বাসের অযোগ্য হয়, তাহলে যন্ত্রকে নিয়ে আলাদা করে কী বলব! এই কারণে নির্বাচনের ফলাফল নিরপেক্ষভাবে পেতে হলে, আমি স্পষ্ট মনে করি যে নির্বাচন ইভিএম দিয়ে হওয়া উচিত নয়, ব্যালট দিয়েই হওয়া উচিত।
একটু রাহুল গান্ধীর প্রসঙ্গে আসি। একটা সমালোচনা হচ্ছে যে, মাঝখানে রাহুল হঠাৎ বেশ কিছুদিনের জন্য প্রচার থেকে উধাও হয়ে গেলেন। এটা কি আপনার খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে এই ফলাফলের পরে? রাহুল যদি আরেকটু প্রচার করতেন, ফলাফল কি ভাল হতে পারত?
না, আমি সেটা মনে করি না। প্রত্যেকটা দলকেই খতিয়ে দেখতে হবে যে তারা আর কী করতে পারত, বা ভোটার অধিকার যাত্রার পরে আমাদের যৌথ অভিযানে যে গতিময়তা তৈরি হয়েছিল তা ধরে রাখা গেল না কেন। মুসলিম জনগণের সঙ্গে বিভিন্ন কারণে কিছু দূরত্ব কেন তৈরি হয়ে গেল। ভাবতে হবে। মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বের একটা অভাব ধারাবাহিকভাবেই রয়েছে। দ্বিতীয়ত যেটা হল, উপমুখ্যমন্ত্রী ঘোষণার প্রশ্নে মুকেশ সাহনির নাম নেওয়া হল, কিন্তু কোনো মুসলিম উপমুখ্যমন্ত্রীর নাম নেওয়া তো দূরের কথা, একজন মুসলিম উপমুখ্যমন্ত্রী যে হতে পারেন – এই কথাটাও স্পষ্ট করে ঘোষণা হল না। এটা অবশ্যই মুসলিম জনগণকে কিছুটা আহত করেছে। রাহুল গান্ধীকে আলাদা করে টার্গেট করার বদলে সার্বিকভাবে ভাবা জরুরি।
আরো পড়ুন রাহুল এখন মোদীর শক্ত প্রতিপক্ষ
আপনারা কি চেষ্টা করেছিলেন যাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের কাউকে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হবে – এই জাতীয় কিছু ঘোষণা মহাজোটের পক্ষ থেকে করা হয়?
এইরকম একটা কথা ঘুরিয়ে বলা ছিল যে, সামাজিক সূত্রগুলো মাথায় রেখে আরও কিছু উপমুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা হবে। কিন্তু সেই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতটা যথেষ্ট ছিল না। মুসলিম জনগণের এই যে ক্ষোভ, তার একটা ফসল এমআইএম তুলল। পাঁচটা আসনে তারা জিতল। অথচ যেখান থেকে প্রশ্নটা উঠেছিল, সেই মুসলিম প্রতিনিধিত্ব এবারের নির্বাচনে ছিল সর্বনিম্ন। আমাদের জোটের কথা বলছি না, সার্বিকভাবে বিহারের বিধানসভায়। ছবিটা উদ্বেগজনক। বিজেপির তো একজনও মুসলিম প্রতিনিধি নেই। জনতা দল ইউনাইটেড বা জেডিইউয়েরও এই পরিবর্তন ঘটেছে গত ১৫ বছরে। ২০১০ সালে জেডিইউ এবং বিজেপি ২০৬ খানা আসনে জিতেছিল। তখনকার জেডিইউতে সাতজন মুসলিম জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তখনকার বিজেপিতেও একজন মুসলিম জনপ্রতিনিধি ছিলেন। সেটা প্রাক-মোদী যুগের বিজেপি। এবারে বিজেপিতে তো নেই-ই, জেডিইউতেও সর্বসাকুল্যে আছেন একজন। ফলে সরকার পক্ষে মাত্র একজন মুসলিম বিধায়ক। বাকি একচল্লিশের মধ্যে দশজন, অর্থাৎ এক-চতুর্থাংশ, মুসলিম বিধায়ক আছেন। সুতরাং এই সরকারের পতন না হলে মুসলিম বিধায়কের সংখ্যাও বাড়বে না। অথচ এই সরকার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরে এল।
নির্বাচন কমিশন সরাসরি বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিল যে, ১ লক্ষ ৮০ হাজার
জীবিকা-স্বেচ্ছাসেবককে নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত করা হচ্ছে। এই নির্বাচনী ডিউটি
কী? তারা মহিলাদের শুধু বুথে পৌঁছে দিচ্ছে তা-ই নয়, বুথের ভিতরেও বসে
থাকছে। মহিলারা যাতে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে জেডিইউকে বা সরকারকেই
ভোটটা দেন, সেটা তারা যথাসাধ্য সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
এই ভরাডুবির আর কী বড় কারণ আপনি দেখছেন?
আরও কিছু বিষয় আছে। এসআইআরের পরে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা মাত্র ২-৩ মাসের মধ্যে তিন কোটি বা চার কোটি মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হল। এমনক নির্বাচন চলাকালীন সময়েও এই বিতরণ অব্যাহত থাকল। এটাকে আটকানো যদি না যায়, তাহলে আগামী দিনে কোনো সরকারকেই ক্ষমতা থেকে সরানো প্রায় অসম্ভব হবে। যে কোনো সরকারই পাঁচ বছর ধরে কাজ না করেও, নির্বাচনের প্রাক্কালে টাকার খেলা খেলে ফলাফল নিজের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। আবার, বিহারে মহিলাদের বিরাট আন্দোলন হচ্ছিল চারমাস আগে পর্যন্তও। নীতীশ রীতিমত ঘাবড়ে গিয়েছিলেন যে, এবারে মহিলাদের ভোটটাও হয়ত আসবে না। তখনই একের পর এক এই ঘোষণাগুলো শুরু হল। শুধু ঘোষণা করেই কিন্তু তারা ক্ষান্ত থাকেনি। নির্বাচন কমিশন সরাসরি বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিল যে, ১ লক্ষ ৮০ হাজার জীবিকা-স্বেচ্ছাসেবককে নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত করা হচ্ছে। এই নির্বাচনী ডিউটি কী? তারা মহিলাদের শুধু বুথে পৌঁছে দিচ্ছে তা-ই নয়, বুথের ভিতরেও বসে থাকছে। মহিলারা যাতে দশ হাজার টাকার বিনিময়ে জেডিইউকে বা সরকারকেই ভোটটা দেন, সেটা তারা যথাসাধ্য সুনিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এই মাত্রায় সরকারি ব্যবস্থার অপব্যবহার হয়েছে, এবং নির্বাচনে যেটাকে বলা হয় লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড – তার কিছুই অবশিষ্ট থাকেনি।
তৃতীয় আরেকটা বড় ব্যাপার আছে বলে আমার মনে হয়, যেটা নিয়ে খুব বেশি চর্চা এখনো হয়নি। সেটা হচ্ছে, ঠিক নির্বাচনের মধ্যে গৌতম আদানিকে বিহার ১,০৫০ একর জমি দেওয়া হল। এই জমি কিন্তু এনটিপিসির একটা পাওয়ার প্ল্যান্টের নাম করে দশ বছর আগে অধিগ্রহণ করে রেখেছে সরকার। সে প্ল্যান্ট তৈরি হয়নি। সেই জমি বিনামূল্যে আদানিকে দিয়ে দেওয়া হল এক টাকার লিজে। ভাগলপুরের এই জমি কিন্তু উর্বর জমি। সেখানে গ্রাম আছে, চাষবাস হয় এবং প্রচুর আম, লিচু, সেগুন ইত্যাদি দামি দামি গাছ আছে। কয়েক দশকের পুরনো এই সব গাছ কেটে ফেলা হবে আদানির জন্য। আদানি সস্তায় বিদ্যুৎ দেবে বলে কি বিনামূল্যে এই জমি তাকে দেওয়া হচ্ছে? তাও নয়। বিদ্যুৎটাও সে দেবে সবথেকে বেশি দামে – ইউনিট প্রতি ছ টাকার বেশি। প্রাক্তন বিদ্যুৎমন্ত্রী আর কে সিং বললেন যে এটা ৬২,০০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি। আর এটা বলার কারণে দল থেকে তাঁকে বেরিয়ে যেতে হল। বিহারে কর্পোরেটের প্রত্যক্ষ দখল, আমার ধারণা, এর আগে এভাবে ছিল না। বিহারের যা কিছু জমি, প্রাকৃতিক সম্পদ – সব এবার কর্পোরেটের দখলে যাবে।
ইলেকটোরাল বন্ডকে শীর্ষ আদালত যখন সংবিধানবিরোধী বলে বাতিল করে দিল, তখন শীর্ষ আদালত বলেছিল কুইড প্রো কুও। অর্থাৎ এত মোটা মোটা টাকা কোম্পানিগুলো যে দিয়েছে, কেন দিয়েছে? কিছু পাবে বলেই তো দিয়েছে। এই যে আদানিকে বিনামূল্যে এতকিছু পাইয়ে দেওয়া হল, তার বিনিময় মূল্যটা তাহলে কী? আমার তো মনে হয় সেই বিনিময়ের টাকা বিহারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে। প্রশান্ত কিশোরের যে পুরো প্রকল্পটা ছিল – আমি যেটাকে বলি কর্পোরেট রাজনৈতিক প্রকল্প – টাকাপয়সা দিয়ে, বেতনভুল কর্মচারী রেখে রাজনৈতিক দল তৈরি করার চেষ্টা – সেটার পিছনেই বা কী আছে? প্রশান্ত কিশোর নিজেই বলেছিলেন তাঁর ২৪০ কোটি টাকা আয়ের ১১ কোটি টাকা নাকি নবযুগ কনস্ট্রাকশন কোম্পানি থেকে মাত্র দুঘন্টার কোনো একটা পরামর্শ দেওয়ার বিনিময়ে তিনি পেয়েছিলেন। এই নবযুগ কনস্ট্রাকশন কোম্পানি কিন্তু আদানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এরা আদানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ছিল, এরাই সেই উত্তরাখণ্ডে সিলকিয়ারা টানেল তৈরি করছিল। এই কর্পোরেট দখলদারির দিকটা বিহারে একটু নতুন।
নির্বাচনের প্রচার পর্বেও আপনি একবার বলেছিলেন যে বিহারে সামন্ততান্ত্রিক যে উত্থান ঘটেছিল রণবীর সেনা বা সানলিট সেনার আমলে, যার বিরুদ্ধে আপনারা লড়াইও করেছিলেন, সেটাকে বিজেপি আবার ফিরিয়ে আনছে তাদের রাজনীতি দিয়ে। এই পুরনো সামন্ততান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটছে হালের কর্পোরেট লুণ্ঠনের, এইমাত্র যে কথাটা বললেন। এক্ষেত্রে বামপন্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জটা এই মুহূর্তে কীরকম?
বামপন্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ একটাই। বিহারে তো, আমার মনে হয়, এই যে ফলাফলটা এসেছে এটা অস্বাভাবিক। এই অস্বাভাবিক অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। আমাদের ভারতবর্ষের নির্বাচনী ইতিহাস বলে, যখনই কোনো একটা সরকার এই ধরনের অস্বাভাবিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, দ্রুত তার পতনও হয়েছে। বিহারের যে ইস্যুগুলো ছিল, সেগুলো যথাস্থানেই আছে। সেগুলো নিয়ে আমাদের লড়তে হবে। একটা নির্মম সামন্ততান্ত্রিক কাঠামোর অত্যাচার, যেটা আবার ফিরে আসবে। তার বিরুদ্ধে লড়তে হবে। বিজেপির প্রার্থী তালিকার ১০১ জনের মধ্যে কোনো মুসলিম ছিলেন না। অথচ বিহারের সমাজটা দেখুন। উচ্চবর্ণের সংখ্যা ১২-১৩ শতাংশের বেশি নয়। এই ১২ শতাংশ মানুষের জন্য বিজেপি তার প্রার্থী তালিকায় ১০১-এর মধ্যে ৪৯ খানা আসন সংরক্ষিত রেখেছে। ফলে এবার একদিকে মুসলিম জনপ্রতিনিধি নেই, অন্যদিকে রেকর্ডসংখ্যক রাজপুত, ভূমিহার বিধায়কদের দেখা যাচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে বিহারে গরিব মানুষের উপর অত্যাচার বাড়বে, দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িক হিংসা, কর্পোরেট লুট বাড়বে, ছাত্র-যুব অংশ, যারা জীবিকার নিরাপত্তার জন্য লড়ছিল তাদের লড়াইও জারি থাকবে। নির্বাচনে ওঠানামা হয়েই থাকে। বিজেপির ১৯৮৪ সালে মাত্র দুজন সাংসদ ছিলেন, এবারে আমাদের যেমন দুজন বিধায়ক। ২০১০ সালে আমরা শূন্য হয়ে গেছিলাম। নির্বাচনের ফলাফলে আমাদের মনোবল যেন না ভাঙে – এই আশা করব। আমরা ভেবেছিলাম যে মহারাষ্ট্রের পুনরাবৃত্তি বিহারে আমরা হতে দেব না, সেটা আটকাতে পারিনি। মহারাষ্ট্র হয়ে গেছে, বিহার হয়ে গেছে। এখন লড়াইটা দেশজুড়ে আরও তীব্র, আরও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠছে। সেই লড়াইটা আমাদের ভালো করে লড়তে হবে।
আমরা কমিউনিস্টরা যেটাকে শ্রেণিসংগ্রাম বলি, ভারতবর্ষে যদি সেটাকে আমায় সঠিকভাবে ধরতে হয়, তাহলে এর সঙ্গে লাগবে দুটো ‘সি’ আর দুটো ‘জি’।
দুটো সি হচ্ছে কাস্ট এবং কালচার, দুটো জি হচ্ছে জেন্ডার এবং জেনারেশন।
বিজেপি বা জেডিইয়ের কিছু নেতা, মন্ত্রী বলেছিলেন যে বিরোধীদের ভোট দিতে যেন মানুষ বাড়ি থেকেই বের না হয়, সেটা নিশ্চিত করবেন। এটা কিন্তু হয়েছে। প্রচুর জায়গায় গরিব মানুষকে ভোট দিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা, সংগঠিত ভুয়ো ভোটিং ইত্যাদি হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে যেখানে সামন্ততান্ত্রিক শক্তির আধিপত্য আছে, সেসব জায়গায়। এগুলো বাড়বে। আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে।
আটের দশকে, যখন আপনারা আইপিএফ পর্বের মধ্যে ছিলেন, নকশালবাড়ি আন্দোলনের বিভিন্ন ধারা তখনো ভোট বয়কটের কথা বলছিল, কিন্তু আপনাদের লড়াইটা তখন ছিল যাঁদের ভোটের অধিকার নেই তাঁদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। টানা কয়েক দশক এই সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে আপনারা গেলেন। গতবারের বিধানসভা নির্বাচনে আমরা দেখলাম আপনারা সর্বোচ্চ সাফল্য পেলেন। গত লোকসভা নির্বাচনেও ভালো ফল করলেন। এবারে আবার গ্রাফটা অনেকখানি পড়ে গেল, সংখ্যার বিচারে। বিহারে লিবারেশনের রাজনৈতিক অনুশীলনের ক্ষেত্রে কি তাহলে একটা নতুন পর্যায়ে আপনারা ঢুকছেন বলতে পারি?
না, আমার তা মনে হয় না। কারণ ভোটের অধিকারের যে লড়াইটা আমাদের কিছু মানুষের জন্য লড়তে হচ্ছিল, সেটা আজকে গোটা দেশের লড়াই হয়ে গেছে। এসআইআরের পরে ভোটের অধিকার, নাগরিকত্ব – এই গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াইগুলো সারা দেশের মানুষের সামনেই উপস্থিত। আমরা যে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছি, সেটা সারা দেশের জন্যই এখন প্রযোজ্য হয়ে উঠেছে। এই ফলাফলটা ২০১০ সালের সঙ্গে তুলনীয়। ২০১০ সালে আমরা আলাদা আলাদাভাবে লড়েছিলাম। আরজেডি আলাদা, কংগ্রেস আলাদা, আমরাও আলাদা। সেবারের ফলাফল ছিল – আরজেডি ২২, কংগ্রেস চার, আমরা শূন্য। এবারে একসাথে লড়েছি, সামান্য তফাৎ। আমরা শূন্যের জায়গায় দুই, কংগ্রেস চারের বদলে ছয়, আরজেডি বাইশের বদলে ২৫। ভোটের অঙ্কে সেবার ছিল ১৩ লক্ষের কিছু বেশি, এবার ১৪ লক্ষের কিছু বেশি আছে। কিন্তু শতাংশের বিচারে কমেছে। ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট সিস্টেমে এটাই হওয়ার। হঠাৎ কেউ শূন্য হয়ে যাবে, কেউ আবার অনেকটা বেড়ে যাবে। আসনের বিচারে না দেখে শতাংশের হিসাবে দেখলে আমাদের জায়গাটা বিশাল কিছু বদলেছে এটা বলা যাবে না। কাজেই লড়াইটা একই থাকছে।
একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। আমরা দেখছি জেন জি প্রতিবাদ ঘটছে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায়, ভারতীয় উপমহাদেশসহ। জেন জি বিপুল রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। লিবারেশন একদিকে যেমন দিল্লিতে তরুণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কাজ করছে – ডিইউ (দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়) বা জেএনইউ (জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়)-কে কেন্দ্র করে, বিহারেও এবারে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলন করে উঠে আসা তরুণরা প্রার্থী হলেন। আপনাদের পার্টি দৃশ্যতই চেষ্টা করছে নতুন প্রজন্মের ভাষায় কথা বলতে। সন্দীপ জিতলেন এবারও, ধনঞ্জয় হেরে গেলেন। রাহুল গান্ধীকেও দেখলাম জেন জি-র সঙ্গে কথা বলতে। জেন জি বিক্ষোভ যখন একটা বিশ্বব্যাপী প্রবণতায় পরিণত হচ্ছে, অনেকে এর মধ্যে ছয়ের দশকের ছায়া দেখছেন। ভারতবর্ষে কেন সেভাবে হচ্ছে না? আপনারা এটাকে কীভাবে দেখছেন?
ভারতেও হচ্ছে কিন্তু। নির্বাচনের ক্ষেত্রে হয়ত চোখে পড়ছে না। কিন্তু ভারতেও এটা হচ্ছে, বাকি বিশ্বের মতই। আমার তো বারবারই মনে হয়, আমরা কমিউনিস্টরা যেটাকে শ্রেণিসংগ্রাম বলি, ভারতবর্ষে যদি সেটাকে আমায় সঠিকভাবে ধরতে হয়, তাহলে এর সঙ্গে লাগবে দুটো ‘সি’ আর দুটো ‘জি’। দুটো সি হচ্ছে কাস্ট এবং কালচার, দুটো জি হচ্ছে জেন্ডার এবং জেনারেশন। বর্তমান প্রজন্মের দাবিদাওয়া, প্রশ্ন অভিব্যক্তি, তাদের সংকটগুলোকে বুঝতে হবে। জেন জি যেভাবে জলবায়ু সংকটকে অনুভব করে, অন্যরা করে না। তারা যেভাবে প্যালেস্তাইনের যন্ত্রণা অনুভব করে, অন্যরা সেভাবে করে না। এখানেও মনে হয় তাই। একটা নিরাপদ ভবিষ্যৎ এবং একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পার্থক্যটা জেন জি যেভাবে অনুভব করে, অন্যরা সেটা করে না। তারা তাদের নিজেদের অনুভূতিকে ভাষা দিচ্ছে, স্বর দিচ্ছে। আমাদেরও সঙ্গে থাকতে হবে।
বামপন্থীদের দ্রুত উঠে আসতে হবে আন্দোলনকারী শক্তি হিসাবে। সঙ্গে একটা তৃতীয় শক্তি নির্মাণ করতে হবে। এই তৃতীয় শক্তিটা বড় না হলে ওড়িশার মত পরিণতি হবে পশ্চিমবাংলার। হঠাৎ করে একদিন দেখা যাবে এই জায়গাটাও বিজেপি দখল করে নিল।
আচ্ছা, আমাদের বেড়ে ওঠার সময়ে আমরা দুধরনের নকশালপন্থার উত্থান দেখেছিলাম। একটা মধ্য ভারতের অনুশীলন, আরেকটা বিহার-ঝাড়খণ্ডের ধারা। এর মধ্যে মধ্যভারতের মাওবাদী রাজনীতি বিরাট ধাক্কার মুখে যখন পড়ল, একের পর এক নেতৃত্ব খুন হলেন, সেই সময়েই বিহারে নির্বাচনী নিরিখে আপনাদের শক্তিবৃদ্ধি আমরা দেখছিলাম। এবারে আবার সংখ্যার বিচারে অন্তত একটা ধাক্কা খেল। অনেক প্রশ্ন তুলছেন যে সংসদীয় রাজনীতিটাই কারচুপিতে পরিণত হয়েছে ভারতে। সেখানে আপনার কি মনে হয়, সংসদ-বহির্ভূত কমিউনিস্ট রাজনীতির কোনো সম্ভাবনা রয়েছে?
মানুষের যে আন্দোলনগুলো আছে, সেগুলোর ছাপ আরও বেশি করে কী করে নির্বাচনে ফেলা যায় – এটাই আমার কাছে মূল বিবেচ্য। আমি যদি ১৯৭৭ সালের নির্বাচন দেখি, সেটা একটা অভূতপূর্ব গণজাগরণ ছিল। মানুষের ক্ষোভ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভাষা পেয়েছিল। নির্বাচন যদি সম্পূর্ণ কৃত্রিম হয়ে ওঠে, যদি সম্পূর্ণ একটা প্রহসনে পরিণত হয়, তাহলে হয়ত ভারতবর্ষের গণতন্ত্র অন্য কোনো ভাষা খুঁজে নেবে। কিন্তু যেহেতু ভারতবর্ষের গত ৭৫ বছরের ফলিত গণতন্ত্রে নির্বাচনটাই ছিল কেন্দ্রীয় বিষয়, সংবিধানপ্রদত্ত বা স্বীকৃত অন্যতম অধিকারই ছিল ভোটাধিকার, সেটাকে ফেলে দিয়ে অন্য কোনোরকমের গণতন্ত্রের কথা আমি ভাবছি না। বরং এটাকেই পুনরুদ্ধার করতে হবে। নির্বাচনটাকেই একটা বড় আন্দোলনের রূপ দিতে হবে। সংসদীয় এবং সংসদ-বহির্ভূত রাজনীতিকে মুখোমুখি দাঁড় না করিয়ে দুটোর মধ্যে মেলবন্ধনটাকে কীভাবে আরও মজবুত করা যায় – এটাই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ।
শেষ প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষিতে। আপনাদের রাজ্য সম্মেলনে আপনারা বলছেন, বাংলা চায় বামপন্থার পুনরুত্থান। এই পুনরুত্থানের সংজ্ঞাটা আপনার কাছে কী? এটা কি বামফ্রন্ট মডেলের পুনরুত্থান?
না, বামফ্রন্ট একটা পর্যায় ছিল এবং মানুষ মূলত বামফ্রন্টকে দেখত বামফ্রন্ট সরকার হিসাবেই। সরকার বাদ দিয়ে আন্দোলনের বামফ্রন্ট সেভাবে মানুষের স্মৃতিতে নেই। গত দশ বছর ধরে নানা আন্দোলনের মধ্যে বিভিন্ন বামপন্থী দল আছে, আমরাও রয়েছি। আমরা মনে করি এটা একটা নতুন পর্যায়, যেখানে বামপন্থীদের দ্রুত উঠে আসতে হবে আন্দোলনকারী শক্তি হিসাবে। সঙ্গে একটা তৃতীয় শক্তি নির্মাণ করতে হবে। এই তৃতীয় শক্তিটা বড় না হলে ওড়িশার মত পরিণতি হবে পশ্চিমবাংলার। হঠাৎ করে একদিন দেখা যাবে এই জায়গাটাও বিজেপি দখল করে নিল। ওরা অনেকদিনই অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ বলতে শুরু করেছে। অঙ্গ আর কলিঙ্গের পরে পালা তো বঙ্গেরই। বিশেষত বিহার নির্বাচনের ফলাফল ওদের মনোবল আরও বাড়িয়েছে। সেজন্য আমার মনে হয় তৃণমূল বিজেপির বাইরের শক্তি হিসাবে বামেদের দ্রুত উঠে আসতে হবে। রাজ্য সরকারের অপশাসন, তার সমস্তরকম ভুলত্রুটির বিরুদ্ধে অবশ্যই লড়তে হবে। কিন্তু সেটাকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা যাবে না। এটা আগে লড়ে নিই, ওটা পরে লড়ব – এভাবেও ভাবা চলবে না।
এখানে প্রধান শত্রু বিজেপি না তৃণমূল – কোনটাকে মনে করেন?
যেটা গোটা দেশের জন্য প্রধান, সেটা পশ্চিমবাংলাতেও প্রধান। এখানে কেবল বামপন্থীরা উঠে আসতে পারলেই মানুষ দুটোর বিরুদ্ধে লড়ার একটা জায়গা পাবেন।
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








