গার্হস্থ্য হিংসা কথাটি আজ সকলের কাছেই পরিচিত এবং আইনের চোখে গার্হস্থ্য হিংসা গুরুতর অপরাধ বলে বিবেচিত। ১৯৮৩ সালে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারা চালু হয়, বিশেষ করে পণপ্রথা সংশ্লিষ্ট অত্যাচারের শিকার মহিলাদের দ্রুত ন্যায়বিচার দেওয়ার উদ্দেশ্যে। শারীরিক বা মানসিকভাবে নির্যাতিত মহিলা এই ধারায় তার স্বামী ও স্বামীর পরিবারের অন্যদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাতে পারে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানা দ্রুততার সঙ্গে অভিযুক্তদের জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতার করবে ও তদন্ত চালাবে, দোষী সাব্যস্ত হলে তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা — দুটোই হতে পারে।

এই আইন প্রণয়নের কিছুদিন পরে ‘পুরুষদের অধিকার’ নিয়ে কাজ করে এমন অনেক গোষ্ঠী আইনটির অপব্যবহার নিয়ে সরব হয়। তাছাড়া আদালতের একাধিক মামলাতেও দেখা যায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মহিলারা তাদের স্বামী ও স্বামীর পরিবারকে জব্দ করার বা অহেতুক হেনস্থা করার প্রয়াসে এই আইন ব্যবহার করেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ধরনের ঘটনা শহরাঞ্চলে ঘটেছিল। মহিলাদের সুরক্ষার জন্য আনা আইন পুরুষদের প্রতি অবিচারের অস্ত্র হয়ে উঠবে না, তা নিশ্চিত করতে আদালতের নির্দেশে একাধিকবার এই আইনের পরিমার্জন হয়। অপব্যবহার রুখতে পরিবার কল্যাণ কমিটি গঠন করা হয়, যারা প্রাথমিকভাবে ৪৯৮এ ধারার অভিযোগের তদন্ত করবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতেই পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে। ২০২১ সালে আবার সুপ্রিম কোর্ট পরিবার কল্যাণ কমিটি তুলে দেয় এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির অন্যান্য অপরাধের মতই স্থানীয় থানায় ৪৯৮এ ধারায় অভিযোগ দায়ের করা যাবে বলে। তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের বদলে যথোপযুক্ত তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়। গ্রেফতারের ক্ষেত্রে তদন্তকারী অফিসার ছাড়াও, ঊর্ধ্বতন অফিসারের যুক্ত থাকা আবশ্যক করা হয়। যথানিয়মে অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করার কথাও বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। জামিনের বিষয়ে নিম্ন আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

আশা করা যায় এই বিষয়গুলো সংযুক্ত হওয়ায়, আইনটির অপব্যবহার কমবে। তবে ৪৯৮এ আইনের অপব্যবহার কিন্তু তার গুরুত্বকে খর্ব করতে পারে না। দেশে আজও লক্ষ লক্ষ মহিলা পণপ্রথা ও অন্যান্য কারণে নিজের বাড়িতেই নির্যাতনের শিকার। ন্যাশানাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান থেকে তা বেশ বোঝা যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৭০% মহিলা নানারকমের গার্হস্থ্য হিংসার শিকার। ৪৯৮এ আইনের প্রণয়ন ও পরিমার্জন প্রমাণ করে দেশে নারী বৈষম্যের চিত্রটি কত করুণ এবং পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব শুধু পুরুষদের মধ্যে নয়, মহিলাদের অনেকের মধ্যেও কেমন শিকড় গেড়েছে। কাজেই মহিলাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ যখন নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং নতুন আইন প্রণয়নের দাবি ক্রমে দানা বাঁধছে, সেই বিষয়গুলির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন করার কোনো অবকাশ নেই। তবে অবশ্যই দরকার সতর্কতা অবলম্বন করে আইন প্রণয়ন, যাতে অন্যায়ভাবে এইসব আইনের অপপ্রয়োগের ফলে কারোর প্রতি অবিচার না হয়।

এই কথা কটি বলার প্রয়োজন পড়ল মহিলাদের অধিকার নিয়ে আলোচনায় ইদানীং বৈবাহিক ধর্ষণ (marital rape) বিষয়টি নতুন করে উঠে এসেছে বলে। দিল্লি হাইকোর্টে বর্তমানে চলতে থাকা একটি জনস্বার্থ মামলাকে কেন্দ্র করে এই আলোচনা আবার সামাজিক চর্চার কেন্দ্রে ফিরেছে। যদিও এ দেশে এই আলোচনা নতুন নয় এবং বৈবাহিক ধর্ষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে গণ্য করার দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও ২০১৩-১৪ সাল থেকেই বিভিন্ন মামলার শুনানি হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ আদালত পারস্পরিক সম্মতি না থাকলে শারীরিক মিলনকে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন বলেই মনে করেছে, সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত অধিকার লঙ্ঘনের সামিল বলে রায় দিয়েছে। সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ বলে সমতার কথা, যার মধ্যে নিহিত আছে সম্মতি। অন্যদিকে ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ বলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা স্বাতন্ত্র্যের অধিকারের (right to privacy) কথা। আর বৈবাহিক সম্পর্কে, স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যই ক্ষুণ্ণ হয় বলে আদালত মনে করেছে।

এর সাথে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে স্ত্রীর ‘না’ বলার অধিকারের উপর। কিন্তু এসব সত্ত্বেও বৈবাহিক ধর্ষণ কে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ নম্বর ধারার আওতায় আনা হয়নি। এই ধারার Exception 2 অনুসরণ করে বৈবাহিক ধর্ষণকে অন্যান্য ধর্ষণের থেকে আলাদা করে রাখা হয়েছে, ফলে এখনো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হয় না। উল্লেখ্য, একশোটিরও বেশি দেশে বৈবাহিক ধর্ষণ ফৌজদারি অপরাধ বলে বিবেচিত। মাত্র ৩৬টি দেশে এটি অপরাধ নয়, আর আমরা সেই ৩৬টি দেশের অন্যতম। ২০১৩ সালে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের কনভেনশন অন দি এলিমিনেশন অফ ডিসক্রিমিনেশন এগেন্সট উইমেন (CEADW) থেকে ভারতকে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসাবে ঘোষণা করতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশের সরকার তখন থেকে এখন পর্যন্ত বরাবর অনীহা প্রকাশ করে এসেছে।

২০১৬ সালে এ বিষয়ে এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে তদানীন্তন ভারত সরকার এক হলফনামায় বলে “marital rape would destabilise the institution of marriage and become a tool for harassment of husbands.” অর্থাৎ বৈবাহিক ধর্ষণকে ফৌজদারি অপরাধের স্বীকৃতি দিলে বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানটি ভেঙে পড়বে এবং আইনটি স্বামীদের হেনস্থা করার সরঞ্জামে পরিণত হবে।

বর্তমান মামলাতেও ভারত সরকারের বক্তব্য প্রায় একই। তারা বলেছে অত্যাচারিত মহিলারা অন্য অনেক আইনে অভিযোগ জানাতে পারেন। সুতরাং নতুন করে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ বলে ঘোষণা করার কী দরকার? এছাড়াও নানা আইনি জটিলতা উল্লেখ করে এ বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি হাইকোর্টের কাছে অনির্দিষ্টকাল সময় চেয়েছে। আদালত অবশ্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছে।

এ তো গেল আদালত কক্ষের সওয়াল-জবাব। কিন্তু বিষয়টির আর্থসামাজিক দিক বিশেষভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে, কারণ সেখানেই মূল সমস্যা নিহিত। ভারতীয় দণ্ডবিধি যখন প্রণীত হয়, তখন ব্রিটিশ আমল। সে যুগে আইনের চোখে স্ত্রীকে স্বামীর থেকে পৃথক সত্তা হিসাবে দেখাই হত না। কাজেই বিবাহ, যা আসলে (ধর্মের কথায় না গিয়ে) এক সামাজিক চুক্তি, অর্থাৎ যেখানে উভয় পক্ষের সম্মতিই চুক্তির প্রাথমিক শর্ত, তারই বিকৃত ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিয়েকে সে যুগে ধরে নেওয়া হত এবং এ যুগেও নেওয়া হয় শারীরিক মিলনের পরোক্ষ সম্মতি (implied consent) হিসাবে, যা আসলে অযৌক্তিক। কিন্তু এই যুক্তিতে ভর করে আর পুরুষতন্ত্র নির্ধারিত বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচানোর তাগিদে আসে Exception 2, অর্থাৎ বৈবাহিক ধর্ষণকে উপেক্ষা করা অথবা বৈধতা দেওয়া।

আইনগতভাবেও কিন্তু এর অন্তর্নিহিত পরস্পরবিরোধিতা স্পষ্ট। একজন অবিবাহিতা মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলে সে ফৌজদারি মামলা করতে পারে, কিন্তু বিবাহিতা মেয়ে তার স্বামীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনতে পারে না! এর পিছনে যুক্তির চেয়ে বেশি সক্রিয় পুরুষতান্ত্রিক ভাবাবেগ, মহিলাদের নিয়ন্ত্রণ করার আকাঙ্খা ও চিরাচরিত লিঙ্গবৈষম্য। সব ধর্মই কমবেশি লিঙ্গবৈষম্য মেনে নিতে শেখায়। অন্যদিকে রয়েছে জাতপাত, ধর্মের নামে চালু রাজনীতি। তার প্রধান উপজীব্যই হল বৈষম্য, সেখানে মানবাধিকারের স্থান নেই। কাজেই এখনো যখন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতারা মেয়েদের কোন পোশাক পরা উচিত সেটা বলে দেন; মেয়েরা কার সাথে, কখন, কোথায় যেতে পারবে বা কোন কাজ তাদের উপযুক্ত (সন্তান প্রতিপালন এবং স্বামীর সেবাই ধর্মাচরণ) এ বিষয়ে প্রায় ফতোয়া দেন, যখন আজও কন্যাভ্রুণ হত্যা চলে, যখন পরিবারের সম্মান রাখার নামে মেয়েদের উপর নেমে আসে অবর্ণনীয় অত্যাচার, তখন আমরা সমাজের গভীরে প্রোথিত পুরুষতান্ত্রিকতারই প্রতিফলন দেখি। নারী যুগ যুগ ধরে এর শিকার আর পুরুষ তো বটেই, এমনকি বহু নারীও এর ধারক বাহক। এই মৌলবাদ পৃথিবীতে নতুন নয়, অতীতও নয়। মহিলাদের ভোগ্যপণ্য হিসাবে গণ্য করা বরাবরই চলে আসছে। অন্যভাবে বললে, সব মৌলবাদেরই গোড়ার কথা নারীকে দমিয়ে রাখা। আর এই চিন্তাধারা আমাদের মনে, মাথায় এমনভাবে প্রোথিত, যে বৈষম্যকেই আমরা স্বাভাবিক ও সাধারণ নিয়ম বলে জেনেছি, এর ব্যতিক্রম বা বিরুদ্ধ মন্তব্য আমাদের শুধু যে অস্বস্তিতে ফেলে তাই নয়, যেন অস্তিত্বের শিকড়ে টান দেয়, আমরা অতিমাত্রায় স্পর্শকাতর হয়ে উঠি। তাই বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে এখন যে আলোচনা চলছে, তাতে অনেকেই বিস্মিত ও বিরক্ত। আমাদের বহু বছরের সংস্কার বলে, ভোগ্যপণ্যের আবার সম্মতি-অসম্মতি কী?

কিন্তু বাস্তবে বৈবাহিক ধর্ষণ এক গুরুতর অপরাধ, যা মহিলাদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করে থাকে। এ এমন এক অস্ত্র যা লিঙ্গবৈষম্যকে একবিংশ শতাব্দীতেও বৈধতা দেয়। বিবাহ মানে যদি শারীরিক মিলনের পরোক্ষ সম্মতি বলেই ধরে নেওয়া হয়, তাহলে সেটা যে চিরস্থায়ী সম্মতি (irrevocable consent) তা মনে করার যুক্তি কী — এই নিয়ে দিল্লির আদালতে এখন সওয়াল চলছে। আদালত বিশেষভাবে বলেছে, যৌন মিলনের অধিকার (right to have sex) আর যৌন মিলনের যুক্তিযুক্ত প্রত্যাশাকে (reasonable expectations of sex) যেন এক করে ফেলা না হয়। বিবাহিত স্ত্রী হলেই তার সাথে সঙ্গমের অধিকার তৈরি হয় না, অবশ্যই একটা আশা বা আকাঙ্খা তৈরি হতে পারে। তবে সেই আশায় স্ত্রী যদি সাড়া না দেয়, তাহলে তার সম্মতি ছাড়া শারীরিক মিলনই ধর্ষণ। আদালতের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য হল, ‘না’ বলার অধিকারকে মেনে নিতে শিখতে হবে। এই জনস্বার্থ মামলা কোন পথে এগিয়ে চলে সেদিকে আমাদের নজর থাকবে।

তবে একটা কথা অস্বীকার করা মুশকিল, যে বৈবাহিক ধর্ষণ বন্ধ করতে আদালতের আদেশ বা আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়। দেশে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ সংসদ রয়েছে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এবং সরকারও আছে। তাদের সদিচ্ছাও বিশেষভাবে মূল্যবান, কিন্তু সরকারি সদিচ্ছার প্রতিফলন তেমন দেখা যায়নি। অবশ্য বেশকিছু বিরোধী রাজনৈতিক দল বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার দাবি তুলেছে। তবে আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে মানুষই। আইনি আন্দোলনের পাশাপাশি সেইজন্যই দরকার এক সামাজিক বিপ্লবের। ইতিহাস সাক্ষী, কোনো গোঁড়া সামাজিক প্রথা শুধুমাত্র আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করা যায়নি। দরকার সরকারি সদিচ্ছার, আরও সামাজিক সচেতনতার, দরকার লিঙ্গবৈষম্য বিরোধী জনমত গঠনের। আর এই লড়াইয়ে নারী-পুরুষের ভূমিকা প্রতিদ্বন্দ্বীর নয়। এটা উভয়ের লড়াই, মানবাধিকারের লড়াই।

যারা বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ বলে ঘোষণা করলে তার অপব্যবহার হতে পারে বলে শঙ্কিত, তাদের বুঝতে হবে, আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষিতে মহিলাদের হাতে আইনের অপব্যবহার হয় সামান্যই। সেটুকুও যাতে না হয়, তার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। আইন প্রণয়নের সময়ে ৪৯৮এ আইন পরিমার্জনের সময়কার মত সজাগ থাকতে হবে। কিন্তু অপব্যবহারের অছিলায় ৯৯% মহিলার অধিকার খর্ব করার চেষ্টা কি একটি গুরুতর অপচেষ্টা নয়?

শেষে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার। শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক পরিসরেও মহিলাদের অবদানের সঠিক মূল্যায়ন ও স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা। আমাদের দেশে বহু মহিলা চাকরি বা ব্যবসা করেন না; সাংসারিক কাজ করেন, ঘর সামলান। এই সাংসারিক কাজের জন্য ব্যয়িত শ্রমের যদি আর্থিক মূল্যায়ন হয়, তখনই প্রকৃত অর্থে স্পষ্ট হবে, দেশের অর্থনীতিতে কোটি কোটি মহিলার নিঃশব্দ অবদান কতটা। এই বিষয়েও চর্চা চলছে, কিন্তু তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মহিলাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি যখন থেকে আমরা দিতে শিখব, তখনই তাদের সম্মতি-অসম্মতিকে মন থেকে মর্যাদা দিতেও শিখব। কেবলমাত্র আইনের ভয়ে নয়, আন্তরিক উপলব্ধিতে মহিলাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা থেকে আমাদের সমাজ বিরত হবে। আমাদের প্রাথমিক পরিচয় হবে মানুষ আর সবাই সমভাবে মানবাধিকার ভোগ করতে পারব। অবশ্যই সেই সামাজিক ন্যায় ও সমতায় পৌঁছতে নারী-পুরুষকে যৌথভাবে অনেক পথ হাঁটতে হবে। বর্তমানে বৈষম্যের বিরুদ্ধে, বৈবাহিক ধর্ষণের বিরুদ্ধে যে আলোচনা সামাজিক পরিসরে স্থান করে নিয়েছে, তাকে দীর্ঘ যাত্রাপথের এক ছোট ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ মনে করতে দোষ নেই। আলোচনার পরিসর যেখানে তৈরি হয়, সেখানেই একদিন সদর্থক পরিবর্তন হয়।

মতামত ব্যক্তিগত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.