সবরকম সভ্যতা, মানবতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যেভাবে প্যালেস্তাইনে ধ্বংসলীলা এবং সুনিপুণ পরিকল্পিত গণহত্যা চলছে, তার প্রতিবাদও চলছে বিশ্বজুড়ে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের বিক্ষোভ, জমায়েতের খবর আসছে, দেশবিদেশ থেকে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজা ভূখণ্ডকে জনমানবশূন্য একখণ্ড জমি বানানোর মদত যাদের থেকে পাচ্ছেন, সেই মার্কিন প্রশাসনের নাকের ডগাতেও বারবার জোরালো হচ্ছে প্যালেস্তাইনের সংহতিতে আন্দোলন। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হয়ে উঠছে সেই আন্দোলনের কেন্দ্র। স্বভাবতই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসনের আক্রমণের নিশানাও হয়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর তাদের ছাত্রছাত্রীরা।
২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজা ভূখণ্ডে ইজরায়েলি আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই মার্কিন মুলুকে মুক্ত প্যালেস্তাইনের পক্ষে ছাত্র আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে। ১৮ এপ্রিল, ২০২৪ তা এক অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছয়। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লনে শয়ে শয়ে তাঁবু গড়ে ওঠে। গাজা সলিডারিটি এনক্যাম্পমেন্ট নামে এই অভিনব আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সেদেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও। গোটা বিশ্বে প্রায় ১৮০ বিশ্ববিদ্যালয়ে তারপর এই ধাঁচের আন্দোলন হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও এইরকম তাঁবু খাটিয়ে মুক্ত প্যালেস্তাইনের দাবিতে দিন কয়েকের প্রতীকী অবস্থান হয়েছে। এই আন্দোলনের তেজ এতটাই ছিল যে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্যাম্পাসে বিশাল পুলিসবাহিনি ডেকে এনে বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে সেই তাঁবুগুলো ভেঙে দেয়। ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক সহ শতাধিক আন্দোলনকারী সেইসময় গ্রেফতার হন। এইভাবে ক্যাম্পাসে পুলিস ঢোকানো খুবই বিরল ঘটনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। প্রায় পাঁচ দশক আগে ভিয়েতনামে মার্কিন দখলদারির বিরুদ্ধে আন্দোলন ভাঙতে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষবার পুলিসি অভিযান চালানো হয়েছিল।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
এই গণগ্রেফতারি আগুনে ঘি ঢালে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েই আন্দোলন এত তীব্র হয়ে ওঠে যে ক্যাম্পাসে পুলিস ডেকে আনা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিনোশ শাফিককে পদত্যাগ করতে হয় অগাস্ট মাসে। যদিও এইসব ঘটনা ট্রাম্পের মার্কিন মসনদ দ্বিতীয়বার দখলের মাসখানেক আগের। ২০২৪ সালের মে মাস অবধি এক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, প্যালেস্তাইনের পক্ষে সওয়াল করার ‘অপরাধে’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার হতে হয়েছে প্রায় ৮,৬০০ জনকে। এঁদের বেশিরভাগই ছাত্রছাত্রী।
ক্ষমতায় আসার পর এবছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প জানান যে তিনি গাজার দখল নিতে চান। বলা বাহুল্য, ইজরায়েলি আক্রমণকে তিনি শুধু সমর্থনই করেননি, জো বাইডেন সরকারের সময়কার চেয়েও বেশি উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়ার অক্সিজেন জুগিয়েছেন। তাঁর এই খোলাখুলি সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার পিছনে আসলে রিয়েল এস্টেট, পরিবহন সমেত আরও বেশকিছু ক্ষেত্রের বাণিজ্যের স্বার্থ রয়েছে। একই কারণে ট্রাম্প ঝাঁপিয়ে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে প্যালেস্তাইনের সহমর্মী প্রতিবাদী স্বর দমন করতে। প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বিদেশি ছাত্রদের চিহ্নিত করে তাদের ভিসা বাতিল করার মত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ট্রাম্পের প্রশাসন। এক্ষেত্রে একটা ব্যাপার লক্ষণীয়। ইজরায়েলের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরুর কেন্দ্র কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেছে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ নিশানা। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান প্ল্যানিং বিভাগের ভারতীয় ছাত্র রঞ্জনী শ্রীনিবাসনের ভিসা বাতিল করা হয়েছে ইজরায়েলবিরোধী মিছিলে অংশ নেওয়ার জন্য। তাঁকে তড়িঘড়ি মার্কিন দেশ ত্যাগ করতে হয়েছে। সেই খবরও সংবাদমাধ্যমের সূত্রে আমাদের অজানা নয়। এই নিয়ে স্বভাবতই আমাদের বিশ্বগুরু প্রধানমন্ত্রী নীরব থেকেছেন। বরং তাঁর অনুগত মিডিয়াকুল রঞ্জনীকে দেশদ্রোহী প্রমাণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। একই সময়ে আরেক ভারতীয়, জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট-ডক্টরাল ছাত্র, বদর খান সুরীকে তাঁর বাড়ির বাইরে থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ব্যবহৃত অভিবাসন আইনের কিছু ধারায় ফাঁসানো হয়। সব মিলিয়ে মার্চ মাস থেকে বিভিন্ন দেশের তিন শতাধিক ছাত্রের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ আসলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসগুলোতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রবল প্রভাবকেই চিহ্নিত করে। গ্রেফতারি, ভিসা বাতিলের পাশাপাশি কলম্বিয়া, টাফটস, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভও কিন্তু সমানতালে চলছে।
কলম্বিয়ার ছাত্র, প্যালেস্তিনীয় এবং বর্তমানে মার্কিন নাগরিক মাহমুদ খলিলের গ্রেফতারি যেনতেনপ্রকারেণ ইজরায়েলের গণহত্যাবিরোধী স্বরকে স্বব্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসনের মরিয়া চেষ্টাকেই স্পষ্ট করে। খলিল বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁকেও অভিবাসন আইনের এক স্বল্প ব্যবহৃত ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবাদীদের চিহ্নিত করতে শুধু ট্রাম্প প্রশাসন নয়, কাজ করছে বিভিন্ন দক্ষিণপন্থী জায়নবাদী গোষ্ঠীও। এমনই এক গোষ্ঠী হল বেতার (Betar)। এরা ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরে পরেই নখানা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রছাত্রী, গবেষক, অধ্যাপকদের নামের এক তালিকা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তির হাতে তুলে দিয়েছে। বলা বাহুল্য, সেই তালিকা ধরেই গ্রেফতারি চলছে। এমনকি খলিলের গ্রেপ্তারির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যিনি, মার্কো রুবিও নামের সেই সেক্রেটারি অফ স্টেটের হাতে তার দিনকয়েক আগেই বেতার নামের তালিকা পৌঁছে দিয়েছিল এবং সেই তালিকায় উপরদিকেই ছিল খলিলের নাম। ইজরায়েলি ছাত্রছাত্রীরা আমেরিকার মাটিতে প্রায় মোসাদের মত গুপ্তচর বাহিনি হিসাবে কাজ করছে। প্রতিবাদীদের চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও।
বেতার সংগঠনের সদস্য এক ইঞ্জিনিয়র সম্প্রতি প্যালেস্তাইনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন ছাত্রীর নাম, পরিচয় আর বিভিন্ন সোশাল মিডিয়ার প্রোফাইল ভাইরাল করে দিয়েছেন। সেই ছাত্রীর মুখের ছবি একটা মুখ চিনে নেওয়ার সফটওয়্যার দিয়ে বানানো। সেই ছাত্রী যে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন, সেখানে কিন্তু তাঁর মুখ ঢাকা ছিল। শুধু চোখ দেখা যাচ্ছে এমন একটা ছবি থেকে সেই সফটওয়্যারের সাহায্যে তাঁর সমস্ত প্রোফাইল খুঁজে বের করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু পেশাদার সংস্থা এইভাবে বিক্ষোভকারীদের মুখ খুঁজে বের করার কাজ করে চলেছে বেতারের মত উগ্র জায়নবাদী গোষ্ঠীর হাতে হাত মিলিয়ে। তেমনই এক সংস্থা স্টেলার টেকনোলজি। এদের নির্মিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন উপায় ব্যবহার করে একাধিক ছাত্রকে চিহ্নিত করে তাদের তালিকা তৈরি করছে বেতার।
যে ধাঁচে এইভাবে মানুষকে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তার পরবর্তী ধাপও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ২০২০ সালে মার্কিন বিদেশ দফতর বলেছিল, ক্লিয়ারভিউ কমব্যাট নামে একটা প্রযুক্তি ইজরায়েলে বিক্রি করা উচিত হবে না। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই বিক্রি আটকানো যায়নি। এমনকি ২০২২ সালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনও সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এতে সোশাল মিডিয়ার কোনো প্রোফাইল চিহ্নিত করে দিলে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন সেই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে তাকে খুন করতে পারবে। এই ব্যবস্থার সঙ্গে বেতার ব্যবহৃত মুখ চিনে নেওয়ার প্রযুক্তি একত্রে কাজ করলে কী ভয়াবহ পরিণতি ঘটবে তা ভেবেই শিউরে উঠতে হয়। অর্থাৎ ইজরায়েলের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের সম্পর্ক প্রযুক্তি, অস্ত্র, অর্থ – মূলত এই তিন লেনদেনের এক জটিল বহুমুখী সমীকরণ। আসলে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এই আঁতাতের মৌচাকেই ঢিল মেরেছে। সেই কারণেই তাদের উপর এত রাগ।
কলম্বিয়ার তাঁবু খাটিয়ে আন্দোলনের প্রথম দিন থেকে অন্যতম দাবি হল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইজরায়েলের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। ঠিক কী কী উপায়ে এ কাজ চলে? প্রধানত দুরকম বিনিয়োগ – গবেষণা-প্রযুক্তি আর সরাসরি আর্থিক বিনিয়োগ। ক্লিয়ারভিউ কমব্যাটের মত প্রযুক্তি ইজরায়েলের সর্বক্ষণের চাহিদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে নির্মিত এমন নানাবিধ প্রযুক্তি ইজরায়েলের কাছে বেচে অর্থ উপার্জন করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়। যেমন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইজরায়েলের নজরদারি ব্যবস্থা, বোমারু বিমানের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে প্রায় ৩৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি রয়েছে। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের এপ্রিলে লাগাতার ছাত্র আন্দোলনের পরেও কর্তৃপক্ষ ইজরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করতে অস্বীকার করেছে। সম্প্রতি আরেক নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয়, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, ইজরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রকের সঙ্গে ড্রোন চালনা ও মিসাইল ব্যবস্থার উন্নতি সংক্রান্ত প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে।
আরেকটা পথ হল সরাসরি আর্থিক বিনিয়োগ। সেখানেও উল্লেখযোগ্যভাবে প্রথম সারিতে রয়েছে বিভিন্ন অস্ত্রনির্মাণকারী সংস্থা। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি তাদের সঞ্চিত অর্থের প্রায় ৪৮০,০০০ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে লকহিড মার্টিন নামক এক যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারী সংস্থায়, যারা নিয়মিত ইজরায়েলকে বোমারু বিমান সরবরাহ করে। সম্প্রতি লেবাননে চালানো হামলায় ব্যবহৃত এফ-১৬আই বিমান ইজরায়েল এই সংস্থার থেকেই কিনেছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮৯০,০০০ মার্কিন ডলার অর্থ বিনিয়োগ করা আছে হানিওয়েল এয়ারোস্পেস নামক সংস্থায়, যারা ইজরায়েলকে বিমান, কপ্টার, ড্রোনে প্রযুক্তিগত সহায়তা জোগায়। এছাড়া মাইক্রোসফট বা গুগলের মত সংস্থা, যারা প্রায় প্রত্যেকটা প্রথম সারির মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি বিভিন্ন চুক্তিতে আবদ্ধ, তারাও প্রতিনিয়ত ইজরায়েলকে গাজার গণহত্যায় সাইবার প্রযুক্তিগত সহায়তা করে চলেছে।
আরো পড়ুন গণহত্যার প্রতিবাদে আরও একবার সরব আমেরিকার ছাত্রছাত্রী
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপকরা এই বিনিয়োগের বিরোধিতায় সোচ্চার হয়েছেন। তাঁদের মেধা ও গবেষণালব্ধ ফলাফল দিয়ে গাজায় লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা রুখে দিতে পথে নেমেছেন। তাই এ শুধু ইজরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে আন্দোলনে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এতে যোগ হয়েছে এক নতুন মাত্রা। বিশ্বের একচেটিয়া পুঁজির আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা মার্কিন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বেআব্রু করে দিতে পেরেছে এই আন্দোলন। গবেষকদের জ্ঞানচর্চার ফসলে গাজায় জমছে শিশুর লাশের স্তুপ – এই সহজ সত্যিটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পেরেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে পুঞ্জীভূত আন্দোলন। তাই একে দমন করার জন্য অতি সক্রিয় ট্রাম্প প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ।
ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকারি সাহায্য দেওয়া বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিলেন। হার্ভার্ড, কলম্বিয়ার মত বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়কে বরাদ্দ বন্ধ করে ভাতে মারার প্রচেষ্টা তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সেই হুমকিতে মাথা নোয়ালেও, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গার্বার স্পষ্ট জানিয়েছেন ‘যে পার্টিই ক্ষমতায় থাকুক, কোনো সরকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশ দিতে পারে না তারা কী পড়াবে, কাদের ভর্তি নেবে এবং পড়ানোর জন্যে নিয়োগ করবে আর কোন কোন বিষয় তাঁরা চর্চা করতে পারেন।’ যদিও উল্লেখ্য, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এমন নানা সংস্থায় লগ্নি করা আছে যাদের সঙ্গে সরাসরি গাজা ভূখণ্ডে ইজরায়েলি নিপীড়নের সম্পর্ক আছে বলে সেখানকার ছাত্রছাত্রীরা চিহ্নিত করেছিল। হার্ভার্ডের প্রেসিডেন্ট সেই বিনিয়োগ প্রত্যাহার করার কথা কিন্তু ঘোষণা করেননি। তবুও ট্রাম্পের মুখের উপর যেটুকু জবাব দিয়েছেন তা খানিক ব্যতিক্রমী তো বটেই।
এই প্রযুক্তিনির্ভর যুগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছাত্রছাত্রী, মাস্টারমশাই, দিদিমণিদের মিলিত লড়াই প্রযুক্তিকে গণহত্যার কাজে ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রতিরোধের পালে যদি কিছুটা হাওয়াও লাগাতে পারে, তা ভবিষ্যতে এক নতুন লড়াইয়ের রাস্তা হয়ত খুলে দেবে।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








