রেজিমন কুট্টাপ্পান

শুধু একটা রাজ্য সরকারের ভাগ্যই নয়, আগামী ৯ এপ্রিল কেরালার প্রায় ২.৭ কোটি ভোটার শাসক শক্তি হিসাবে ভারতীয় কমিউনিস্টদের অস্তিত্বও নির্ধারণ করবেন। যদি সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) হেরে যায়, তাহলে ১৯৭৭ সালের পর এই প্রথমবার সিপিএম ভারতের কোনো রাজ্য সরকারে ক্ষমতায় থাকবে না। কেরালাই তাদের শেষ স্তম্ভ। যে কোনো হিসাবে — সে প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষা, স্থানীয় পঞ্চায়েত-পৌরসভার ফলাফল, সরকারবিরোধী প্রবণতা, এনডিএ-র ক্রমবর্ধমান শক্তি — একটা ব্যাপার পরিষ্কার যে, শাসক কমিউনিস্টদের শেষ স্তম্ভটা নড়বড়ে হয়ে গেছে। কথাটা অতিরঞ্জন নয়, পতনের স্বাভাবিক পাটিগণিত।

বাংলা ও ত্রিপুরার দৃষ্টান্ত

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

ইতিহাসের দিকে তাকালেও সিপিএমের কোনো স্বস্তির জায়গা নেই। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট একটানা ৩৪ বছর শাসন করেছিল, ২০১১ সালে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস তাদের বিরোধী পক্ষে নির্বাসিত করে। এই পতন ধীরে ধীরে হয়নি, এ ছিল দুম করে সম্পূর্ণ পতন। পার্টির দলিলেই লেখা আছে, ক্ষমতা হারানোর পর সিপিএমের সদস্য সংখ্যা এবং গণসংগঠনের ভিত্তি ভয়ানক সংকুচিত হয়ে যায়। পৃষ্ঠপোষক আর লাভবান লোকেদের যে চক্র দশকের পর দশক বাম শাসন টিকিয়ে রেখেছিল, তা রাতারাতি ভেঙে পড়ে। সেখান থেকে কমতে কমতে ২০২১ সালের নির্বাচনে বাংলায় বামেরা এককভাবে একটাও আসন জিততে পারেনি।

ত্রিপুরার চিত্র আরও নির্মম। ১৯৯৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিপিএম শাসন করেছিল। তারপর বিজেপি তাদের বিরোধী পক্ষে নির্বাসিত করে। বাম কর্মীদের এক উল্লেখযোগ্য অংশ সরাসরি গেরুয়া দলে চলে যায়। সিপিএম আদর্শের প্রতি যে আনুগত্যকে তাদের ভিত্তি বলে মনে করত, তা শেষমেশ লেনদেনমূলক বলে প্রমাণিত হয়। যেমনটা দ্য প্রিন্ট-এর ডি কে সিং সম্প্রতি লিখেছেন ‘বামেরা একবার হারলে পিছু হটতে শুরু করে… বামেরা আদর্শগত সংহতি বজায় রাখতে পারে না; পরাজয়ের সময়ে আদর্শ আনুগত্যে রূপান্তরিত হয় না।’

কেরালা হল শেষ রাজ্য যেখানে সিপিএম শাসন করছে। দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কারাত ২০২৪ সালের লোকসভা বিপর্যয়ের পর কেরালা ইউনিটকে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলে সতর্ক করেছিলেন। ৯ এপ্রিল বোঝা যাবে— তা ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, নাকি অপ্রয়োজনীয় বাণী।

সরকারবিরোধী মনোভাবের ভার

পিনারাই বিজয়ন ২০১৬ সাল থেকে মুখ্যমন্ত্রী। ২০২১ সালে তিনি এক অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন— ১৪০ আসনের মধ্যে ৯৯ আসনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসেন। পালা করে পাঁচ বছর বাম আর পাঁচ বছর কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার যে ধারা চার দশক ধরে কেরালায় চলে আসছিল, বিজয়ন তা ভেঙে দেন। কিন্তু সেই সাফল্যই ২০২৬ সালে এসে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলডিএফ পুরো এক দশক কেরালা শাসন করেছে। অনেক পঞ্চায়েত ও পৌরসভা প্রায় ১৫ বছর ধরে বামেদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে ভোটারদের মধ্যে ক্লান্তির লক্ষণগুলো সুস্পষ্ট। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) কেরালার ২০ আসনের মধ্যে ১৮ আসনে জয়লাভ করে; এলডিএফ কমে একটা আসনে এসে দাঁড়ায়।

এরপর আসে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের স্থানীয় পঞ্চায়েত-পৌরসভার নির্বাচন, যা অনেকের মতেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফলাফলের গতিপ্রকৃতির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক। ফলাফল এলডিএফের জন্য রীতিমত বিপর্যয়। ইউডিএফ ৯৪১ গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৫০৪ আসনে জয়লাভ করে। যে এলডিএফের আসন সংখ্যা ২০২০ সালে ছিল ৫১৪, পাঁচ বছর পরে কমে দাঁড়ায় ৩৪১। ইউডিএফ ছটা কর্পোরেশনের মধ্যে চারটে, ৮৬ পৌরসভার মধ্যে ৫৪ এবং ১৫২ ব্লক পঞ্চায়েতের মধ্যে ৮১ খানায় জয়ী হয়। ২০২০ সালে এলডিএফের ১০৮-৩৮ আধিপত্যের তুলনায় এ এক নাটকীয় উলটপুরাণ।

কেরালার নির্বাচনী ইতিহাস আমাদের শেখায় যে স্থানীয় সরকারের ফলাফল ঠিক গন্তব্য নয়, বরং গতিপথ নির্দেশ করে। ২০২০ সালে এলডিএফের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যাপক জয়ের ফলে প্রায় ১২০ বিধানসভা আসনে এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ২০২১ সালে তারা ৯৯ আসন জিতেছিল। ২০১০ সালের স্থানীয় নির্বাচনে ইউডিএফের বিজয়রথ দেখে ১০৩ আসনে এগিয়ে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ২০১১ সালে তারা জিতেছিল মাত্র ৭২ আসনে। তবুও স্থানীয় নির্বাচনের ফলাফল বিধানসভা নির্বাচনের ফলের অভিমুখ স্পষ্ট করে দেয়।

কংগ্রেসের পুনরুত্থান

বিরোধী দলনেতা ভি ডি সতীশন এই ফলাফলের উপর তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাজি ধরেছেন এবং ইউডিএফ ১০০ আসন পার করতে ব্যর্থ হলে তিনি রাজনৈতিক নির্বাসনে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। তাঁর জনপ্রিয়তার হার বিজয়নের প্রায় সমান— ২৭.৭৭% বনাম ২৭.৮৫%। ইউডিএফের নির্বাচনী প্রচার তিনটে স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে— সরকারবিরোধী মনোভাব, সিপিএম-বিজেপি আঁতাতের অভিযোগ এবং পুথুযুগম (নতুন যুগ) নামক নির্বাচনী ইশতেহার, যেখানে প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বীমা, কলেজের ছাত্রীদের জন্য মাসিক ১,০০০ টাকা ভাতা, পেনশন বাড়িয়ে ৩,০০০ টাকা করা এবং তরুণ উদ্যোগীদের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুদবিহীন ঋণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সিপিআইএম-বিজেপি সমঝোতা

নির্বাচনী প্রচারে কংগ্রেসের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হল সিপিআইএম ও বিজেপির মধ্যে অলিখিত বোঝাপড়ার অভিযোগ। রাহুল গান্ধী এই আখ্যান বোঝাতে ‘সিজেপি’ শব্দটা তৈরি করেছেন। এই অভিযোগের কারণগুলো সুনির্দিষ্ট। পালাক্কাড়ে বিজেপির শোভা সুরেন্দ্রনের বিরুদ্ধে দলীয় প্রার্থী না দিয়ে সিপিএম নির্দল প্রার্থী এন এম রাজাককে সমর্থন করছে। রানি, কোন্নি, ত্রিপুনিথুরা এবং কোডুঙ্গাল্লুরে ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়া সত্ত্বেও বিজেপি তার শরিক দল বিডিজেএস এবং টোয়েন্টি২০-কে আসন ছেড়ে দিয়েছে। কংগ্রেস এই পদক্ষেপকে বিজেপি-সিপিএমের সমন্বয় হিসাবে দেখছে।

প্রাক্তন এডিজিপি এম আর অজিত কুমার ও আরএসএস নেতাদের মধ্যে বিতর্কিত বৈঠক এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ত্রিচুর পুরমে বিজেপির সুরেশ গোপীর বিতর্কিত জয়ের ব্যাপারটা এখনো অমীমাংসিত। কংগ্রেস নেতা রমেশ চেন্নিথালা যেমন বলেছেন ‘প্রধানমন্ত্রী মোদী চেয়েছিলেন কংগ্রেসমুক্ত ভারত, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন কংগ্রেস যেন ক্ষমতায় ফিরে না আসে। দুটো দৃষ্টিভঙ্গি একই।’

সুশাসনের প্রচারের পরিবর্তে এই অভিযোগগুলো খণ্ডন করতেই সিপিএম তাদের প্রচার তহবিলের অনেকটা সরিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে। কেরালার বিরোধী দলনেতা সতীশনের সঙ্গে আরএসএস নেতাদের ঐতিহাসিক যোগসূত্রের অভিযোগ তুলে পালটা আক্রমণ করছেন বিজয়ন ও অন্যান্য বাম নেতারা। কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে। এক ধাক্কায় কংগ্রেস নিজেদের আসন ভাগাভাগির সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে সিপিএমকে পাকাপাকিভাবে রক্ষণাত্মক প্রচারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এনডিএ কি নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠবে?

২০২৬ সালে বিজেপি তাদের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী কেরালা অভিযান শুরু করেছে। ধরে নেওয়া হচ্ছে ,রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর নেমম আসনটা জিতে যাবেন। টোয়েন্টি২০ পার্টিকে এনডিএ-র ঘরে নিয়ে এসে এর্নাকুলামের খ্রিস্টান ভোটব্যাংকে ভাগ বসানোর পরিকল্পনা করছে বিজেপি। এতদিন এই ভোট বিজেপির ঝুলিতে আসেনি। ২০২৫ সালে পুরসভা নির্বাচনে আইকারানাডুর ১৬ খানা ওয়ার্ডের সবকটায় এবং কিঝাক্কাম্বালামের ২১ খানার মধ্যে ১৪ খানায় জয়ী হওয়া এই টোয়েন্টি২০ দলকে এনডিএ-তে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্য একটাই— খ্রিস্টান ভোট পাওয়া।

আরো পড়ুন কেরালার শ্রমজীবী মানুষের চোখে সাত তাড়াতাড়ি ছানি পড়ছে

এনডিএ-র নির্বাচনী ইশতেহারে বিনামূল্যে দুটো এলপিজি সিলিন্ডার, মাসিক ৩,০০০ টাকা পেনশন, একটা এইমস মানের হাসপাতাল তৈরি এবং মহিলাদের জন্য মাসিক ২,৫০০ টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এটা নয় যে এনডিএ সরকার গঠন করবে কিনা। কারণ তা হবার নয়। বরং প্রশ্ন হল, তাদের প্রত্যাশিত ১৫%-২০% ভোট (যা ২০২১ সালের প্রায় ১৩% থেকে বেশি) কার ভোটে ভাগ বসাবে? কাসারগোড়, ত্রিচুর, ইরিঞ্জালাক্কুড়া এবং আত্তিঙ্গালের মত আসনে এনডিএ দ্বিতীয় স্থানে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। মঞ্জেশ্বরমে, যেখানে কে সুরেন্দ্রন ২০২১ সালে ৭৪৫ ভোটে এবং ২০১৬ সালে ৮৯ ভোটে হেরেছিলেন, সেখানে প্রত্যেকটা ভোটই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এসআইআরের প্রভাব

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ভোটার তালিকাকে নতুন চেহারা দিয়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় ২,৬৯,৫৩,৬৪৪ জন ভোটার রয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের তালিকা থেকে ৮,৯৭,২১১ জনের নাম বাদ পড়েছে। যদিও শুনানির জন্য চিহ্নিত ৩৬.৮৯ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৯৮ শতাংশকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা গেছে। কেরালা বিধানসভা এসআইআরের বিরোধিতা করে একটা সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস করেছিল এবং সতর্ক করেছিল যে এটা পিছন দরজা দিয়ে করা এনআরসি হয়ে উঠতে পারে। শেষপর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় নয় লক্ষ ভোটারের বাদ পড়া কিন্তু অনেক আসনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। কারণ এই রাজ্যে এমন কয়েক ডজন আসন রয়েছে, যেগুলোর ফলাফল খুব কম ব্যবধানে নির্ধারিত হয়।

অনুপস্থিত অনাবাসী কেরালাবাসীর ভোট

এই নির্বাচনে সম্ভবত সবচেয়ে কম আলোচিত বিষয় হল অনাবাসী ভোটারদের অনুপস্থিতি। কেরালায় ২,৩৪,০৪৯ জন নথিভুক্ত প্রবাসী ভোটার রয়েছেন, যাঁদের অধিকাংশই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকেন। বিগত নির্বাচনগুলোতে চার্টার্ড ‘ভোট ফ্লাইট’ হাজার হাজার ভোটারকে দেশে নিয়ে এসেছিল। এবার মার্কিন-ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের কারণে সেই ব্যবস্থা করা যায়নি। বিমান ভাড়া ১৫,০০০-২০,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০,০০০-৭০,০০০ টাকায় পৌঁছেছে।

এর প্রভাব মালাবারের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী এলাকাগুলোতে পড়তে চলেছে। কুটিয়াডিতে ১৬,২০৬ জনেরও বেশি প্রবাসী ভোটার রয়েছেন। সেখানে ইউডিএফ প্রার্থী আগের নির্বাচনে মাত্র ৩৩৩ ভোটে হেরেছিলেন। নাদাপুরমে এই সংখ্যা ১২,৫০০-র বেশি। সেখানে ইউডিএফ ৪,০৩৫ ভোটে হেরেছিল। প্রথাগতভাবে প্রবাসী কেরালাবাসী (এনআরকে) ভোট ইউডিএফের দিকেই ঝুঁকে থাকে, বিশেষ করে মুসলিম লীগ অধ্যুষিত মালাবারে। এই ভোটের অনুপস্থিতি কিন্তু এলডিএফের চেয়ে ইউডিএফেরই বেশি ক্ষতি করবে, যা ইউডিএফ-পন্থী স্রোতের বিপরীতমুখী স্রোত তৈরি করবে।

ইশতেহারের লড়াই

এলডিএফ-এর ইশতেহার নবযুগম-এর ভিত্তি হল সামাজিক সুরক্ষার উপর তৈরি রাষ্ট্র পরিচালিত জনকল্যাণ ও কে-ফন, কোচি মেট্রো সম্প্রসারণের মত পরিকাঠামোগত বিনিয়োগ। এর বিপরীতে ইউডিএফের পুথুযুগম পদ্ধতিগত পুনর্গঠন, দক্ষ শাসন, আর্থিক সতর্কতা এবং বাজার-সচেতন নীতির কথা বলে। ভোটাররা দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে নয়, বরং একই গন্তব্যে পৌঁছনোর দুটো পথের মধ্যে একটাকে বেছে নেবেন। এদিকে এনডিএ তাদের ভাষায় ৭০ বছরের ‘এলডিএফ-ইউডিএফ ম্যাচ ফিক্সিং’ থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব দিচ্ছে।

করো অথবা মরো

ক্ষমতা ধরে রাখতে এলডিএফ-এর ৭১ খানা আসন প্রয়োজন। বেশিরভাগ সমীক্ষা অনুযায়ী, তারা এই সীমার নিচে থাকলেও জয়ের কাছাকাছিই আছে। ২০২১ সালে দশ হাজারের কম ভোটে জেতা প্রায় ৩৫ আসনে এবার ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এনডিএ-র ক্রমবর্ধমান ভোট শতাংশ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র বড় করে ফেলেছে। অনাবাসী ভোটারদের অনুপস্থিতি অস্থিরতা বাড়িয়েছে। তার উপর এসআইআর ভোটার তালিকা অনেকটা বদলে দিয়েছে। সিপিএমের জন্য এটা অস্তিত্বের প্রশ্ন। কেরালা হারালে ভারতে তাদের শেষ সরকারটাও হারাবে দল। তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আর্থিক ও সাংগঠনিকভাবে টিঁকে থাকার জন্য ইতিমধ্যেই কেরালার উপর নির্ভরশীল। কেরালা হাত থেকে বেরিয়ে গেলে সেই নেতৃত্ব কর্তৃত্ব হারাবে। বাংলায় বামেরা ক্ষমতা হারানোর পর বহু কর্মী দলত্যাগ করেছেন। ত্রিপুরায় দলের সমর্থকগোষ্ঠী বিজেপির দিকে চলে গিয়েছিল। সিপিএমের কেরালা শাখা ঐতিহাসিকভাবেই বেশি ঝড়ঝাপটা সামলাতে দক্ষ। ২০১১-২০১৬ সালে বিরোধী দলে থাকার সময়েও দলের সদস্য সংখ্যায় ধস নামেনি। কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একটানা শাসনের পর এই পরাজয়, তার উপর বিজেপির উত্থান এবং কংগ্রেসের পুনরুত্থান— সব মিলিয়ে এমন এক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যা দলটা তার সবচেয়ে শক্তিশালী রাজ্যে আগে হয়ত কখনো দেখেনি।

৯ এপ্রিল সিপিএমের জন্য শুধু ভোটগ্রহণের দিন নয়। এটা একটা গণভোট, যা নির্ধারণ করবে ভারতীয় সাম্যবাদের আদৌ কোনো শাসনতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ আছে কিনা। শেষ স্তম্ভ টিকে আছে, কিন্তু তার ভিতে চিড় দেখা যাচ্ছে।

প্রতিবেদক একজন স্বাধীন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং চারটি বইয়ের লেখক

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.