একটা দিন সরকারবিহীন ছিল ঝাড়খণ্ড। তারপর রাজ্যের মানুষ তাঁদের দ্বাদশ মুখ্যমন্ত্রী পেলেন, যখন বর্ষীয়ান ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা বিধায়ক চম্পাই সোরেন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শুক্রবার। সোমবার চম্পাইয়ের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারকে বিধানসভায় নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। এখন যা পরিস্থিতি তাতে একথা প্রায় নিশ্চিত যে হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারের পরেও ঝাড়খণ্ডের জোট সরকার ক্ষমতায় থাকবে। যাবতীয় ঝড়ঝাপটা সামলে এই সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করবে বলেই আপাতত মনে হচ্ছে।

কিন্তু এখন যে বৃহত্তর প্রশ্ন ঝাড়খণ্ডের হাওয়ায় ঘুরছে তা হল, হেমন্তের বিরুদ্ধে তিনবছর ধরে চলা কার্যকলাপ এবং শেষপর্যন্ত তাঁর গ্রেফতারি কি শিবু সোরেনের ছেলেকে আরও বড় নেতা করে দিল? জেএমএমের এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট হেমন্ত এই রাজনৈতিক সংকটকে যেভাবে সামলালেন তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের সন্তোষের কারণ।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে সংকট তৈরি হয় তিনবছর আগে, যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে হেমন্তের খনি লিজ দেওয়া সম্পর্কে অভিযোগ দায়ের হয়। তখন থেকেই বলা হচ্ছিল যে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ খোয়াবেন। কিন্তু এই যে হেমন্ত পদত্যাগ করলেন, তা কিন্তু ওই মামলার কারণে নয়। এবারে অভিযোগ হল তিনি নাকি বেআইনিভাবে ৮.৫ একর জমি কিনেছেন। অথচ জেএমএমের জোটসঙ্গী লিবারেশনের বিধায়ক বিনোদ সিংয়ের বক্তব্য, যে জমিটার কথা বলা হচ্ছে, তা আদৌ বিক্রয়যোগ্য নয়। গোটা ঘটনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল তদন্তকারী সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যমের প্রবল চাপের মুখে হেমন্তের হার-না-মানা মনোভাব। গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি দুবার নিজের বাসভবনে ইডি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর দিল্লি চলে যান এবং ইডির লোকেরা তাঁকে দিল্লিতে খুঁজেই পায়নি। পরে তাঁকে রাঁচিতে নিজের বাড়িতেই ফের দেখা যায়। সোরেন বিমানে না এসে গাড়িতে রাঁচি পৌঁছন। তারপর শুধু ইডির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাই নয়, নিজে হাতে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্রও জমা দিয়ে আসেন। তারপর জোটের নেতা হিসাবে চম্পাইয়ের নাম প্রস্তাব করে একটা চিঠি লেখেন এবং ঝাড়খণ্ডের মানুষের উদ্দেশে একটা ভিডিও বার্তা দেন। জোটের সভা চলাকালীন এবং ইডির হেফাজতে থাকাকালীন তাঁর হাসিমুখের ছবিও শেয়ার করা হয়।

হেমন্তের গ্রেফতারের পরে অনেকে তাঁকে নিয়ে মশকরা করলেও অন্য একটা ভাষ্যও উঠে এসেছে। তা হল, তিনি দেশের অন্য অনেক নেতার মত বিজেপির সামনে মাথা নোয়াননি। পাশাপাশি গত চার বছরে তাঁর সরকার রাজ্যের মানুষের জন্যে যেসব কাজ করেছে তার খতিয়ান নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। প্রবীণ নেতা চম্পাইকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মনোনীত করাও এক কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসাবে দেখা হচ্ছে। লক্ষণীয় যে বিরোধী দল বিজেপির নেতারা বলছিলেন হেমন্তের স্ত্রী কল্পনা সোরেনকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে।

আরো পড়ুন রাজনৈতিক প্রভুদের উদ্দেশ্য মন্দ, তাই ইডি ভাগ্য শাহজাহানদের হাতে

বিধায়ক বিনোদ ইনিউজরুমকে বললেন “হেমন্তের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। ফলে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। আসলে দুর্নীতি কোনো ব্যাপার নয়। বাস্তবটা হল যে বিজেপির সঙ্গে আছে সে-ই দুর্নীতিমুক্ত আর যে বিজেপির সঙ্গে থাকবে না তাকেই দুর্নীতিগ্রস্ত বলে দেগে দেওয়া হবে।”

লোকসভা নির্বাচন আর মাস দুয়েক দূরে। আগামী কয়েক দিনে ইন্ডিয়া জোটের অন্য মুখ্যমন্ত্রীরাও একইরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন। হেমন্তের সাহস তাঁদের আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে।

মূল প্রতিবেদন: ইনিউজরুম

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.