ব্যারাকপুরের বিদায়ী সাংসদ অর্জুন সিং ব্রিগেডে জনগর্জন সভার মঞ্চে বসেছিলেন, নির্ঘাত জানতেন টিকিট পাচ্ছেনই। কিন্তু বিধি বাম। কে যে করিৎকর্মা বিশ্বকর্মা কে জানে! তালিকা থেকে নাম কেটে গেল। অগত্যা লক্ষ্যভ্রষ্ট অর্জুন শ্রীরামের শরণাপন্ন হলেন। রামচন্দ্রও যেন অপেক্ষাতেই ছিলেন ‘কব আয়েগা মেরে লাল?’ মহাকাব্যের পাতায় রাম ও অর্জুনের মিলন সম্ভব না হলেও বাংলার ভোট ময়দানে কিন্তু অর্জুন ও শ্রীরামের আগে বিচ্ছেদ হয়ে থাকলেও বেশিদিন ‘মিলন হবে কতদিনে’ বলে বিলাপ করতে হয়নি। ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিট প্রার্থী ছিলেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির কথায়, অর্জুন তো বিজেপি সাংসদ। ওকে কীভাবে টিকিট দেওয়া যায়? অর্জুন জবাবে প্রশ্ন করেছেন, মমতা তাহলে বিজেপি সাংসদকে নিয়ে ব্রিগেড সমাবেশ করেছেন? শেষ পর্যন্ত তৃণমূল-বিজেপি নেতা অর্জুন বিজেপির হয়েই নির্বাচনে লড়ছেন।
এই হল বাংলার বর্তমান রাজনীতি। দুই ফুলের রাজনীতিকে রাজনীতি না বলে সার্কাস বলাই ভাল। বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ, অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী করেছে তাঁর প্রাক্তন সুজাতা মন্ডলকে। সৌমিত্র প্রচারে বেরিয়ে পাড়ার মোড়ে তাস খেলে জনসংযোগ করছেন, আর সুজাতা ত্রিশূল হাতে প্রচার করছেন।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
রানাঘাট কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী করেছে বিজেপি থেকে আসা মুকুটমণি অধিকারীকে। তৃণমূলের প্রার্থী হওয়ার পরেও দিন কয়েক মুকুটমণি সোশাল মিডিয়ায় নিজেকে মোদীভক্ত হিসাবেই পরিচয় দিচ্ছিলেন। কোন রসায়নে এমন বিক্রিয়া হয় বলা মুশকিল।
কেমন যেন গোলমেলে ব্যাপার। অবসরের ছমাস আগে পদত্যাগ করে বিজেপির টিকিটে ভোটে লড়ছেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলি। নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে উনি নিজেকে চন্দ্রবোড়া বলেন। যদিও বাংলার রাজনীতিতে সাপের আগমন হয়েছে বিজেপি নেতা, অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর মাধ্যমে। মিঠুন নিজেকে গোখরোর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। দিদি নাম্বার ওয়ান রচনা ব্যানার্জি এই প্রথম ভোটে লড়ছেন। প্রথম দিন প্রচারে গিয়েই তিনি চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া দেখেছেন। সেই থেকে তাঁর প্রচার ধোঁয়াময়। সেই ধোঁয়ায় হারিয়ে গেছে রাজনৈতিক আলোচনা। বিকল্প রাজনীতি করতে চেয়ে কেশত্যাগী কৌস্তুভ বাগচী কংগ্রেস ছেড়ে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। কেবল নাটক আর অতিনাটক।
আরো পড়ুন শাহেনশাহ ও ফ্যাসিবিরোধী ইশতেহার
কুণাল ঘোষ তৃণমূলের সদ্যপ্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক এবং মুখপাত্র। তিনি বলেই যাচ্ছেন, উত্তর কলকাতা কেন্দ্রে বিজেপির দুজন প্রার্থী। তার মধ্যে একজন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কুণালের ভাষ্য অনুযায়ী, তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সাংসদ সুদীপ আসলে বিজেপির লোক। আবার এই কেন্দ্রেই দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা, সংগঠক, বিধায়ক তাপস রায় হঠাৎ যোগ দিলেন বিজেপিতে। শুধু তাই নয়, এবার তিনি উত্তর কলকাতা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী। দিন কয়েক আগে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার তৃণমূল সাংসদ অভিনেতা দেবকে বললেন – ভাল ছেলে। দেব সুকান্তকে আখ্যা দিয়েছেন – ভাল বন্ধু। মিঠুনকে বলেছেন – পিতৃসম। এসব দেখে কুণাল বলেছেন, দেব যেন শ্রীচৈতন্য হয়ে সৌজন্য বিলি করছেন। এসবেই বোধহয় অনুপ্রাণিত হয়ে কুণাল এক রক্তদান শিবিরে বিজেপি প্রার্থী তাপসকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিলেন। এতটাই প্রশংসা করলেন যে তৃণমূলের সহ্য হওয়ার কথা নয়, হয়ওনি। তৃণমূল একে একে রাজ্য সম্পাদক, মুখপাত্র এবং তারকা প্রচারকের তালিকা থেকে কুণালকে অপসারিত করেছে। তিনি এখন সাধারণ তৃণমূল সদস্য হয়ে চোখের জল ফেলছেন।
বাংলার এবারের ভোটে একমাত্র বাম-কংগ্রেস জোটই রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরি করার চেষ্টা করছে, রাজনৈতিক ইস্যু প্রচারে তুলে আনছে। সেখানে বিজেপি আর তৃণমূল নিজেদের বাইনারি টিকিয়ে রাখতে গিয়ে কেমন যেন বেসামাল। এতটাই বেসামাল যে কে তৃণমূল আর কে বিজেপি বোঝা দায়। অতীতে এমন কিছু দেখেই হয়ত মধুকবি লিখেছিলেন
অলীক কুনাট্য রঙ্গে,
মজে লোক রাঢ়ে বঙ্গে,
নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








