ধর্মীয় উৎসবকে নিজেদের রাজনৈতিক লাভের জন্য ব্যবহার করতে বিজেপির চেষ্টার বিরাম নেই। সেই চেষ্টার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল, সংখ্যালঘু ও দলিতদের প্রতি বিদ্বেষ। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে লঙ্ঘন করে প্রশাসনিক ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে তারা দ্বিধা করে না। কাঁওয়ার যাত্রাকে কেন্দ্র করে তেমনই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। প্রত্যেক বছর শ্রাবণ মাসে হরিদ্বারে গঙ্গা থেকে জল নিয়ে কোটি কোটি মানুষ নিজেদের এলাকায় ফিরে শিব বা মহাদেবের পুজো করেন। উত্তর ভারতে বাঁকে করে গঙ্গাজল আনার এই যাত্রা কাঁওয়ার যাত্রা বলে পরিচিত। তীর্থযাত্রীদের বলা হয় কাঁওয়ারিয়া। যাত্রাপথে খাওয়ার জন্য তাঁদের হোটেল, স্টল, ফলের দোকান ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ যাত্রাপথের দুধারে খাবারের দোকানগুলোতে এই সময়ে কাঁওয়ারিয়াদের ভিড় দেখা যায়। বেশ কয়েকবছর ধরে, এই হোটেল, ফলের দোকান ইত্যাদিকে স্বার্থসিদ্ধির লক্ষ্য করে তুলেছে বিজেপি। এবারের আদেশনামায় সেই অপচেষ্টা অনেকখানি স্পষ্ট হল।
উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড সরকার যাত্রাপথের দুধারে থাকা হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের স্টল, চায়ের দোকান, ফলের দোকানের মালিক ও কর্মচারীদের নামধামসহ পরিচয় টাঙিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, এতে আপত্তির বিশেষ কোনো কারণ নেই। কিন্তু বিজেপির আসল লক্ষ্য মুসলমান ও দলিত ব্যবসায়ীদের ব্যবসার ক্ষতি করা বা তাদের ব্যবসা তুলে দেওয়া। দোকান বা স্টলের মালিক বা কর্মচারী সংখ্যালঘু হলে তীর্থযাত্রীরা সেই দোকানে খাবেন না বা সেখান থেকে কিছু কিনবেন না। দলিত হলেও উচ্চবর্ণের তীর্থযাত্রীরা সেই দোকান পরিত্যাগ করতে পারেন। ধর্ম বা জাতি পরিচয়ের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকারদের মধ্যে বিভাজন ঘটানোই বিজেপির আসল ফন্দি। ভবিষ্যতে সেই দোকানগুলো আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও আজকের ভারতে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অথচ এই কাঁওয়ার যাত্রা বহুবছর ধরে চলছে। খাবারের দোকানের মালিক ও কর্মচারীদের পরিচয় নিয়ে অতীতে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। তীর্থযাত্রীরাও আপত্তি করেননি। বিজেপির আমলেই ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে বিদ্বেষকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগর পুলিশ প্রশাসন প্রথম এই নির্দেশিকা জারি করেছিল। এই সেই মুজফফরনগর, যেখানকার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উপর ভর করে বিজেপি ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে ৮০ আসনের মধ্যে ৭১টা জিতেছিল। নরেন্দ্র মোদীকে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী করতে এই রাজ্যের বিশেষ ভূমিকা ছিল। তার আগের ২০০৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি এই রাজ্য থেকে পেয়েছিল মাত্র দশটা আসন। এবারের লোকসভা ভোটে অবশ্য উত্তরপ্রদেশে বিজেপি বড় ধাক্কা খেয়েছে। মুজফফরনগর আসনটাও সমাজবাদী পার্টির কাছে হেরেছে। যদিও কাঁওয়ার যাত্রা নিয়ে সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি শুরু হয়েছিল ২০১৮ সাল থেকেই। পরে মুজফফরনগরে কোনো কোনো পক্ষ থেকে শ্রাবণ মাসে যাত্রাপথে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের খাবারের দোকানগুলো বন্ধ করার দাবি তোলা হয়। ২০২২ সালে ধাবাগুলোর মালিক ও কর্মচারীদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়। লক্ষ্য – তাঁদের মধ্যে মুসলমান ও দলিতদের চিহ্নিত করা। গতবছর এই সময়ে লিখিত নির্দেশ ছাড়াই মুসলমানদের দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এবছর একেবারে পুলিশ প্রশাসন থেকে দোকানের মালিক ও কর্মচারীদের নামধাম উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হল।
অভিযোগ উঠেছে, এবারে মুসলমানদের মালিকানাধীন খাবারের দোকানগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি হিন্দু মালিকদেরও মুসলমান কর্মচারীদের ছুটি দিয়ে দিতে কার্যত বাধ্য করা হচ্ছে। মুজফফরনগর প্রশাসনের সেই কাজ নিয়ে বিতর্কের মাঝেই উত্তরপ্রদেশের আদিত্যনাথ সরকার রাজ্যজুড়ে এই নির্দেশিকা জারি করে। কার্যত কেবল ইসলাম ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ীদেরই ভাতে মারা হচ্ছে না। মুসলমান মালিকের দোকানে কোনো হিন্দু কর্মচারী থাকলে তাঁর রুজিতেও টান পড়ছে। দলিতদের পেটেও লাথি পড়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারের প্রশাসনও একই লক্ষ্যে নানা বিধিনিষেধ ও নিয়ম জারি করে। উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকার তাকে স্বীকৃতি দেয়। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি পরিচালিত উজ্জয়িনী পৌর কর্পোরেশনও একই নির্দেশিকা জারি করেছিল। যদিও বিতর্ক শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রদেশ সরকার নাকি পিছু হটেছে। নির্দেশিকার বিরুদ্ধে বেশকিছু সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতার পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়। মামলাগুলোকে একত্রিত করে গত ২২ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। শুনানিতে বিচারপতি হৃষিকেশ রায় ও বিচারপতি এসভিএন ভাট্টির বেঞ্চ সরকারি নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ – এই ধরনের নির্দেশিকা ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী। দোকানের সামনে মালিক ও কর্মচারীদের নামধাম লিখে রাখতে বাধ্য করা যাবে না। কী কী খাবার পাওয়া যায় তা লিখতে বলা যেতে পারে। অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও মধ্যপ্রদেশ সরকারকে হলফনামার আকারে এ বিষয়ে বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের বিরোধী দলগুলো প্রথম থেকেই এই নির্দেশিকার বিরোধিতায় সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে মুসলমান বিক্রেতাদের ব্যবসা বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কেবল বিরোধী নয়, এনডিএ শিবিরেও এই নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। তৃতীয় মোদী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শরিক জেডিইউ এই নির্দেশিকার প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছে। তাদের বক্তব্য, বিহারে শ্রাবণ মাসের উৎসবে এর চেয়ে বড় জনসমাগম হলেও এই ধরনের নির্দেশিকা জারি করা হয়নি। এটা প্রধানমন্ত্রীর ‘সব কা সাথ সব কা বিকাশ’ স্লোগানের বিরোধী। এনডিএ শরিক বিহারের লোক জনশক্তি পার্টি এবং উত্তরপ্রদেশের রাষ্ট্রীয় লোকদলও এর বিরোধিতা করেছে।
মুজফফরনগরে কাঁওয়ার যাত্রাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বহু প্রাচীন। বহু মুসলিম ব্যক্তি ও সংগঠন তীর্থযাত্রীদের সাহায্যার্থে শিবির খোলেন, স্বাস্থ্য শিবিরও পরিচালিত হয়। বিজেপি সেই সম্প্রীতির পরিবেশই নষ্ট করতে চায়।
এমনিতেই কৃষক আন্দোলন মুজফফরনগরে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কাটাতে অনেকখানি সফল হয়েছে। সেখানে কৃষকদের বিশাল সমাবেশও হয়েছিল। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বরের সেই পাঁচ লক্ষাধিক কৃষকের সমাবেশের উল্লেখ করে বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড সরকারের নির্দেশিকা সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী রায়কেও তারা স্বাগত জানিয়েছে। কৃষক আন্দোলন সারা দেশেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির তৈরি করেছিল। যে রাজস্থান ও হরিয়ানায় গরুর মাংসকে কেন্দ্র করে একাধিক গণপিটুনি ও হত্যার ঘটনা ঘটেছিল, সেখানকার কৃষকরা ভেদাভেদ ভুলে আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। রাজস্থানের কৃষকরা গরু নিয়ে যাত্রা করেছিলেন দিল্লির উদ্দেশে। সেই ঐক্য ভাঙতে বিজেপি বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ লাগানোর চেষ্টা করে চলেছে। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ানো হচ্ছে। কেন্দ্র এবং বিজেপি পরিচালিত বিভিন্ন রাজ্য সরকার প্রশাসনকে এই কাজে লাগাচ্ছে।
খাবারের দোকানগুলোতে নিরামিষ খাবার তৈরির নির্দেশিকা বহু ধর্মীয় উৎসবেই দেওয়া হচ্ছে। বহু জায়গায় নানা ধর্মীয় তিথিতে মাছ, মাংস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। কে নিরামিষ খাবেন, কে আমিষ খাবেন তার স্বাধীনতা মানুষের রয়েছে। ধর্মীয় ভাবাবেগ রক্ষার্থে খাবারের দোকানগুলোতে কী খাবার আছে তা স্পষ্টভাবে জানাতে বলা যেতে পারে। খাবারের বিশুদ্ধতা রক্ষার দায় অবশ্যই বিক্রেতার। কিন্তু সেই বিশুদ্ধতার মাপকাঠি হওয়া উচিত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন করা এবং তা নিয়ে মিথ্যাচার না করা। কিন্তু অস্পৃশ্যতা তার মাপকাঠি হবে কোন যুক্তিতে? আর সেই অস্পৃশ্যতাকে কেন সরকার স্বীকৃতি দেবে? তীর্থযাত্রী ছাড়া অন্য কেউ যদি আমিষ খাবার খেতে চান, নিষেধাজ্ঞা জারি করে তাঁকে বঞ্চিত করা হবে কেন? আমিষ খাবার তো এদেশে নিষিদ্ধ নয়। যদিও বিজেপি কৌশলে সেটাই দেশ জুড়ে করতে চাইছে। এক দেশ – এক খাদ্যাভাস। এমনকি খাবার বিক্রেতা, কর্মচারীও হতে হবে তাদের ফরমাশ অনুযায়ী।
ভারতে শ্রাবণ মাসে ধর্মীয় উৎসব বহুকাল ধরে চলে আসছে। বহু জায়গাতেই তীর্থযাত্রীরা নদীর জল বাঁকে করে নিয়ে হেঁটে যান। আমাদের রাজ্যেও তারকেশ্বরসহ বিভিন্ন জায়গায় তীর্থযাত্রীরা এভাবে যান। কিন্তু আগে তাকে কেন্দ্র করে এমনভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়নি। রামনবমীর মতই শ্রাবণ মাসকে কেন্দ্র করেও ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরিতে বিজেপি-আরএসএস বেশ কয়েকবছর ধরেই সচেষ্ট। এবারের নির্বাচনী প্রচারে জম্মুর উধমপুরে প্রধানমন্ত্রী নবরাত্রি এবং শ্রাবণ মাসে আমিষ খাওয়াকে মোগল মানসিকতার পরিচয় বলে মন্তব্য করেছিলেন। এই সময়ে আমিষ খাওয়াকে সনাতন ধর্মবিরোধী বলে নির্বাচনী প্রচারেই ধর্মীয় উস্কানি দেন। বাস্তবে অন্য ধর্মাবলম্বীরা তো বটেই, অধিকাংশ হিন্দুও আমিষাশী।
আরো পড়ুন আমিষ খান বলে গাঙ্গুলি জেঠিমা, ঘোষ কাকুও দেশের মানুষ নন?
গত বছর শ্রাবণ মাসেই হরিয়ানায় দাঙ্গা লাগানো হয়েছিল। ৩১ জুলাই হরিয়ানার নুহতে ব্রিজমণ্ডল জলাভিষেক যাত্রার আয়োজন করেছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তার আগে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়া হয়। কুখ্যাত দুষ্কৃতি মনু মানেসর বিদ্বেষপূর্ণ, উত্তেজক ভাষণ দিয়ে সেই শোভাযাত্রায় মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়। রাজস্থানে গোরক্ষার নামে দুজনকে হত্যায় অভিযুক্ত এই মনু। উত্তেজনা সৃষ্টি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা দিয়ে শোভাযাত্রা নিয়ে যাওয়া – সবটাই হয়েছিল ছক কষে। নুহতে শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের রেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল হরিয়ানার বিভিন্ন অংশে। দিল্লি সংলগ্ন হাইটেক সিটি গুরুগ্রামেও (গুরগাঁও) উত্তেজনা ছড়িয়েছিল।
হরিয়ানার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী দোষীদের আড়াল করার পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে অক্ষমতার কথা জানিয়েছিলেন। তারপর উত্তেজনা রোধের নামে বুলডোজার দিয়ে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দোকান, বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়েছিল। হরিয়ানার দাঙ্গাকে রাজস্থান ও দিল্লিতে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। করোনা অতিমারির আগে দিল্লির গণহত্যা এবং নানা সময়ে খোদ দিল্লিতে বুলডোজার রাজে মুসলমান নাগরিকদের বাড়ি, দোকান ভাঙা হয়। সিএএ-বিরোধী আন্দোলন দমনে উত্তরপ্রদেশ সরকার একই পথ নিয়েছিল। মুসলমান ফল বিক্রেতা, খাদ্যদ্রব্য বিক্রেতাদের আক্রমণের অভিযোগ আদিত্যনাথের শাসনে উত্তরপ্রদেশে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দলিতরাও অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। তাই খাবারের দোকান, ফলের দোকানের মালিক, কর্মচারীদের চিহ্নিত করা কেবল শ্রাবণ মাসের ব্যাপার নয়। এদের পুরোপুরি ভাতে মারার অভিসন্ধি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
লোকসভা নির্বাচন প্রমাণ করে দিয়েছে যে দেশের মানুষ বিজেপি-আরএসএসের এই উগ্রতাকে সমর্থন করছেন না। সংখ্যালঘুরা তো বটেই, এমনকি বহু ধর্মপ্রাণ হিন্দুও আরএসএসের হিন্দুত্ববাদের বিরোধী। হিন্দু তীর্থক্ষেত্রগুলোতে বিজেপির ভোটের ফল খারাপ হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদে হেরে যাওয়া বা বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রীর জয়ের ব্যবধান বিপুল পরিমাণে কমে যাওয়া তার প্রমাণ। আদিত্যনাথ সরকার এলাহাবাদের নাম বদলে করেছে প্রয়াগরাজ। সেই এলাহাবাদ লোকসভা আসনেও বিজেপি এবার হেরেছে। চল্লিশ বছর পর ওই আসনে কংগ্রেস জিতল।
উত্তরাখণ্ডের চার তীর্থস্থান – বদ্রীনাথ, কেদারনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রীর মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা ‘উন্নত’ করার নামে ২০১৬ সালে নেওয়া হয়েছিল চারধাম প্রকল্প। পরিবেশবিজ্ঞানী, স্থানীয় অধিবাসীদের আপত্তিকে অগ্রাহ্য করে এগিয়ে চলেছে সেই কাজ। লোকসভা ভোটের পর জুলাই মাসেই অনুষ্ঠিত বিধানসভা উপনির্বাচনে বদ্রীনাথ কেন্দ্রে বিজেপি হেরেছে। যেভাবে তীর্থস্থানের উন্নয়নের নামে স্থানীয় মানুষের রুটি রুজি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, মানুষকে উচ্ছেদ করে, পরিবেশ ধ্বংস করে বিকাশ চলছে, তা মানুষ মেনে নিতে পারছেন না। কোথাও সরাসরি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দোকান, বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। আবার কোনো তীর্থস্থানে ধর্ম নির্বিশেষে গরিব মানুষকে ভাতে মারা হচ্ছে। রক্ষা পাচ্ছেন না তীর্থস্থানের বাসিন্দারাও। মানুষ কিন্তু সুযোগ পেলেই ভোটে বিজেপিকে জবাব দিচ্ছেন। তবুও বিজেপি যে বদলাবে না তা উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড সরকারের নির্দেশিকাতেই প্রমাণিত হল।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








