নির্বাচনী গণতন্ত্রে ব্যবস্থাটি ঠিকই রয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সবচেয়ে বেশি আসন যে দল পাবে, সেই দল সরকার গড়বে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে থেকেই মন্ত্রিসভা হবে। সেই মন্ত্রীদের কথা মত সরকারি আমলারা এবং পুলিস দেশ চালাবে। যেহেতু মন্ত্রীরা নির্বাচিত, তাঁরা দেশবাসীর মনের মত করে সরকার চালাবেন। আমলা, পুলিসও দেশবাসীর ভালর জন্যই কাজ করবেন, যেহেতু তাঁরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কথা শুনছেন। এঁদের সবার উপরে রয়েছে দেশের সংবিধান ও আইনকানুন, যা এই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই তৈরি করেছেন এবং করছেন। মন্ত্রী হোক বা আমলা বা পুলিস — সবাই আইন মেনেই কাজ করবেন। আইন যা বলছে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। এদিকওদিক হলে আদালত আছে। এটাকেই বলে আইনের শাসন। গোল বাধে তখনই, যখন আইনের কথা মত কাজ হয় না বা আইনকেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নিজেদের পছন্দ মত এদিকওদিক করে নেওয়া হয় বা আইনে ধোঁয়াশা থাকলে নিজেদের মত করে তার ব্যাখ্যা করে নেওয়া হয়। তা আবার কখনো কখনো আদালতের সবুজ সংকেত পেয়ে যায়।

এই যে এক স্থানীয় নেতার সাঙ্গোপাঙ্গরা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকদের  এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ধরে পিটিয়ে মাথা ভেঙে দিল, গ্রামের বাইরে বের করে দিল, তার দায় কাদের? এই সাহস কোথা থেকে এল? এল কারণ কেউই আইনের শাসন মানছে না। না কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা, না কেন্দ্রের বাহিনী, না রাজ্যের পুলিস, না রাজ্যের মন্ত্রিসভা বা শাসক দল, না কেন্দ্রের মন্ত্রীরা বা শাসক দল।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

ইডি তৈরি হয়েছিল যাতে কেউ টাকা নয়ছয় করতে না পারে, সরকারি হিসাবের বাইরে কেউ টাকা বা সম্পত্তি না রাখতে পারে এবং বিদেশি টাকার লেনদেন যাতে সঠিক পথে হয় – এই সংক্রান্ত অপরাধের উপরে গোয়েন্দাগিরি, তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এই সংস্থাটির প্রথমে নাম ছিল এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। ১৯৫৬ সালে অর্থ সংক্রান্ত দফতরের আওতায় ছিল এই ইউনিট। তারা মূলত বিদেশি মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত অপরাধের তদন্ত করত। বম্বে ও কলকাতায় এদের দুটি শাখা ছিল, দিল্লিতে সদর দফতর। ১৯৫৭ সালে নাম বদলে এটিকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট করা হয় আর অর্থ মন্ত্রকের রাজস্ব দফতরের আওতায় নিয়ে আসা হয়। ২০০২ সাল থেকে তারা দেশের মধ্যে টাকা নয়ছয়ের অভিযোগেরও তদন্ত করা শুরু করে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট, ২০০২ লাগু হওয়ার পরে।

এই আইন পালন করার জন্য প্রতিটি শাসক দলের মত নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকারও ক্ষমতায় এসেই অশ্বমেধের ঘোড়া ছুটিয়ে দিল। সিবিআই এবং ইডি আধিকারিকদের দিকে দিকে পাঠিয়ে দিলেন মোদী-অমিত শাহরা। এই ঘোড়া কোনদিকে গেল? যে সমস্ত রাজ্যে কেন্দ্রের শাসকবিরোধী রাজনৈতিক দল সরকার চালাচ্ছে সেইসব রাজ্যে। যেখানে কেন্দ্রের শাসকদের দলই ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে ঘোড়া গিয়ে থামল বিরোধী দলের নেতাদের দুয়ারে। সত্যিই তো, ইউপিএ-২ সরকারের শেষের দিকে যে দুর্নীতির পাহাড় সারা দেশ দেখেছিল তাতে মনে হতেই পারে সব দুর্নীতি তাঁরাই করেছিলেন যাঁরা ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর কাছে হেরে গিয়েছেন। সুতরাং এখনকার সরকারবিরোধী দলগুলিই দুর্নীতির আখড়া, কাজেই তাঁদের বিরুদ্ধেই অভিযান চালাও।

ভাল কথা। যে যেখানে দুর্নীতি করেছে, সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে সাজা দেওয়াই তবে সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত। সেই মর্মে আইন করা রয়েছে, সেই আইন মোতাবেক কাজ হোক তবে। দুষ্টু লোকেরা শাস্তি পাক। কিন্তু কেন্দ্রের শাসকদের জন্য দুষ্টু লোকের শাস্তির থেকে বড় হয়ে উঠল বিরোধী নেতাদের ভয় দেখানো। তার থেকেও বড় হয়ে উঠল বিরোধী দলগুলির হাতে টাকা আসার পথগুলো বন্ধ করা। যে কোনো রাজনৈতিক দল চালাতে গেলে এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গেলে টাকার প্রয়োজন হয়ই। নির্বাচনী বন্ডের মধ্যে দিয়ে সেই পথ সুগম করেছে বিজেপি সরকার। কে সেই বন্ড কিনছেন এবং কোন রাজনৈতিক দলকে সেই বন্ডের মাধ্যমে অনুদান দিচ্ছেন তা জানার উপায় নেই কারোর। কিন্তু তারও একটা হিসাব রয়েছে। কে মোট কত টাকা পেল, তার হিসাব অন্তত জানা যায়। তার বাইরেও রাজনৈতিক দলগুলির তহবিলে টাকা জোগানের রাস্তা রয়েছে। সেই পথগুলি বন্ধ করতেই মোদী সরকার তৎপর।

আরো পড়ুন বেহাল গণতন্ত্র বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে নির্বাচনী বন্ড

২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর ঠিক উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে নোট বাতিল করে এই ধরনের একটা চেষ্টা করেছিল মোদী সরকার। কিন্তু হিসাব বলেছিল, বেশিরভাগ বাতিল হওয়া নোটই ফিরে এসেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাছে। তারপরেও বিভিন্ন পথে টাকা জোগাড় পথ খোলা রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে। সেই পথগুলিই বন্ধ করার চেষ্টায় ইডিকে কাজে লাগাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এটাও ভাল উদ্যোগ। বেআইনি পথে কেন কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতা সম্পত্তি বাড়াবে!

কিন্তু ইডি বা সিবিআইয়ের তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখলে বোঝা যাবে এই উদ্যোগে কতটা গোলমাল রয়েছে। ২০১৪ থেকে ইডি যত মামলা দায়ের করেছে তার ৯৫% হচ্ছে কেন্দ্রের শাসকবিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে। মামলা করতে ইডির ঘোড়া দৌড়চ্ছে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, কেরালার দিকে। এনডিএ সরকারের আমলে যে ১২৪ জন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে ইডি মামলা করেছে তার মধ্যে ১১৮ জনই বিরোধী দলের।

মামলা হচ্ছে কাদের বিরুদ্ধে? সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অভিষেক ব্যানার্জি, ডিকে শিবকুমার, সঞ্জয় রাউতদের বিরুদ্ধে। গত কয়েক মাসে যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আপের দিল্লির মন্ত্রী রাজ কুমার আনন্দ, বিধায়ক কুলবন্ত সিং, আমানাতুল্লা খান, সঞ্জয় সিং, পঞ্জাবের প্রাক্তন মন্ত্রী ভারত ভূষণ আশু, ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী রামেশ্বর ওরাওঁয়ের ছেলে রোহিত ওরাওঁ, রাজস্থানের কংগ্রেস নেতা গোবিন্দ সিং দোৎসারা, তৃণমূলের জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, সিপিএমের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক সি মইদিন, হরিয়ানার বিধায়ক গোপাল কাণ্ডা।

আর কিছু নেতা রয়েছেন যাঁদের বিরুদ্ধে ইডি তদন্ত থমকে গিয়েছে। যেমন শুভেন্দু অধিকারী, হিমন্ত বিশ্বশর্মা, অজিত পাওয়ার, মুকুল রায়। কারণ একসময় বিরোধী দলে থাকলেও এখন তাঁরা বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন।

যেসব বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল বা চলছে, তাঁদের চাপে রাখাই যেন শাসক দলের উদ্দেশ্য ছিল। যেমন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান বিজেপি বিধায়ক বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার ছেলে দুষ্যন্ত সিংহ। মধ্যপ্রদেশের ভয়ঙ্কর ব্যাপম দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে বিজেপি নেতা ও কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী লক্ষ্মীকান্ত শর্মার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ইডি। তিনি মারাও গিয়েছেন। একই মামলায় সিবিআই লক্ষ্মীকান্তকে নির্দোষ বলে দিয়েছে। ইডি তদন্ত এখনো চলছে। বিজেপির মুম্বাই শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহিত কাম্বোজের উপরেও ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় তদন্ত চলছে, চার্জশিট দেওয়া হয়নি। সুরাতের বিজেপি নেতা পিভিএস শর্মার বিরুদ্ধেও ইডি আয় বহির্ভূত সম্পত্তির তদন্ত করছে। কর্ণাটকের বিজেপি নেতা গালি জনার্দন রেড্ডির বিরুদ্ধেও ইডি তদন্ত চলছে। কিন্তু এই মামলাগুলির নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

ইউপিএ আমলের দশ বছরে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধেই ইডি তদন্তের সংখ্যা বেশি থাকলেও তা এরকম মাত্রা ছাড়িয়ে যায়নি। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা হলফনামায় দাবি করা হয়েছিল ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৫৪% বিরোধী নেতার বিরুদ্ধে ইডি তদন্ত হয়েছিল; ৭২ জন রাজনৈতিক নেতার মধ্যে ৪৩ জন ছিলেন বিরোধী দলের।

ইডির দায়ের করা মামলার সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। ২০১৩-১৪ তে মামলার সংখ্যা ছিল ২০৯টি। ২০২০-২১ এ সেই সংখ্যা হয়ে যায় ৯৮১। ২০২১-২২ এ ইডির দায়ের করা মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৮০। অথচ ২০০২ সালে সেই যে আর্থিক প্রতারণার তদন্ত করার জন্য আইন পাস করে ইডির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল, তখন থেকে আদালতে মাত্র ২৩ জনকে দোষী প্রমাণ করতে পেরেছে ইডি।

পশ্চিমবঙ্গের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে ব্যাপারটা কীরকম। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অভিষেক হয়ে হালের জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক — ইডির তদন্তে গ্রেফতার হলেও তদন্তের গতি ধীর লয়ে চলতে থাকে। কখনো কখনো বন্ধও হয়ে যায়। অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও, তাঁকে বারবার তলব করলেও তদন্ত যে জোরকদমে এগোচ্ছে না তা আদালতেই প্রমাণ হয়ে গেছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মত কারো কারো কাছে (এক্ষেত্রে তাঁর বান্ধবীর বাড়িতে) কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ার ছবি তো মিথ্যে নয়। কিন্তু সেই তদন্তেরই বা কী হাল? টাকার উৎস ও গন্তব্য কিছু কি পাওয়া গেল? সুতরাং বিরোধীদের পক্ষে এটা দাবি করা সুবিধাজনক, যে শুধুই ভয় দেখাতে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করছে কেন্দ্রীয় সরকার। আইনের শাসন থাকলে এই তদন্ত ঠিক পথে চলে দোষীদের শাস্তির রাস্তা দেখাত তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

তার উপর ইডির হাতে আইন করেই এমন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে তাদের কর্তাদের কাছে অভিযুক্তরা যে বয়ান দেবেন, তা আদালতে প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য। অন্য কোনো পুলিসি তদন্তে গ্রহণ করা হয় না। আদালতে দেওয়া বয়ানই প্রমাণ হিসাবে ধরা হয়। ইডির কোনো অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি করা, গ্রেফতার করার ক্ষমতাও বাধাহীন। গতবছর এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য এ নিয়ে বিরোধী দলগুলির করা মামলা খারিজ করে দিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এই ক্ষমতার অপব্যবহার করছে কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে রাজনীতিকরা বাড়তি সুরক্ষা দাবি করতে পারেন না। আইনের আওতায় তাঁরাও আসবেন।

ভালই হত যদি সবার মত আইনের আওতায় রাজনীতিকরাও আসতেন এবং যেভাবে আইনে বলা রয়েছে, সেভাবে রাজনৈতিক রং না দেখে তদন্ত হত, চার্জশিট দেওয়া হত, দোষীরা শাস্তি পেত। কিন্তু আদতে যদি শুধুই বিরোধীদের শায়েস্তা করার জন্য আর তাদের তহবিলে টাকা আসার রাস্তা বন্ধ করার জন্য কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করা হয়, যাঁরা বিজেপি দলে নাম লেখাবেন তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের মনেও সন্দেহ দানা বাঁধে। তাঁরা কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা হারান।

সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহানদের মতো দুষ্কৃতী রাজনৈতিক নেতারা সমর্থকদের উস্কানি দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। সেই উস্কানিতে আইনের রক্ষকরাই আক্রান্ত হন। সেই দুষ্কৃতীকে সুরক্ষা দিয়ে, গ্রেফতার না করে বয়ান দিতে হয় রাজ্যের আইনরক্ষকদের। কারণ আইনরক্ষকরা আইনের দাস না হয়ে রাজনৈতিক প্রভুদের দাস হয়ে যান। কিন্তু নিজেদের চাকরি বাঁচাতে আর উপায় কী?

চলুক, এই ইডি-সিবিআই নাটক চলুক।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.