আবাস যোজনা নিয়ে আবার গ্রামবাংলা জুড়ে ক্ষোভ। বিক্ষোভ আছড়ে পড়ছে পঞ্চায়েত বা বিডিও অফিসে। কারোর ক্ষোভ আগে তালিকায় নাম উঠলেও এবারে বাদ যাওয়ায়। কারোর বা বারবার আবেদন সত্ত্বেও তালিকায় আদৌ নাম না ওঠায়। যদিও নামের তালিকা পুরোপুরি জনসমক্ষে আসেনি। এ মাসেই প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। তারপর গ্রামসভা সমেত নানা স্তরের কমিটিতে অনুমোদনের পর ডিসেম্বরেই প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। আবাস যোজনার দুর্নীতি নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলার রাজনীতি সরগরম। ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার রাজ্য সরকারের তৈরি তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। প্রকাশ্যে এসেছিল এই প্রকল্প থেকে কাটমানি খাওয়ার অগুনতি অভিযোগ। পঞ্চায়েত তথা শাসক দলের মাতব্বরদের পাকা দোতলা, এমনকি তিনতলা বাড়ি সত্ত্বেও আবাস যোজনায় নাম উঠেছে – এমন অজস্র নজিরে ভরে থাকত সেই সময়ের খবরের কাগজগুলোর পাতা। পাশাপাশি বহু সত্যিকারের গরিব মানুষের নাম তালিকায় ওঠেনি। অযোগ্যদের নাম উঠে যাওয়া, যোগ্যদের নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে জনবিক্ষোভে সেবছর ডিসেম্বরে বিভিন্ন গ্রামসভার বৈঠক ভেস্তে গিয়েছিল।

আবাস যোজনা নিয়ে সেই বিক্ষোভ রূপান্তরিত হয়েছিল কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্বের নির্দিষ্ট ছকের রাজনীতিতে। কেন্দ্র থেকে আসা দল, বিডিও, পুলিস আধিকারিকদের আনাগোনায় সরগরম হয়েছিল গ্রামের পথ। অনেকেই আশা করেছিলেন – যেসব গরিব মানুষের বাড়ি পাওয়ার অধিকার রয়েছে তাঁদের নাম ওই তোলপাড়ের ফলে শেষপর্যন্ত আবাস যোজনার তালিকায় উঠবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির জন্য কেন্দ্র শাস্তি দিয়েছিল রাজ্যবাসীকে। আবাস যোজনার অর্থ রাজ্যকে দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের দুর্নীতির জন্য এমনভাবে রাজ্যের গরিব মানুষকে শাস্তি দেওয়ার নৈতিক বা আইনি বৈধতা কেন্দ্রের আছে কিনা সে প্রশ্ন বারবার উঠেছে। কিন্তু একশো দিনের কাজের মতই আবাস যোজনাতেও অনিয়ম, দুর্নীতিতে জড়িত কাউকে শাস্তি না দিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার রাজ্যবাসীকেই বঞ্চিত করেছে। রাজ্যের বিজেপি নেতারা সেই পদক্ষেপের সমর্থনে প্রচারও করেছেন। তার রাজনৈতিক ফায়দা তুলেছে তৃণমূল।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরে ২০২৩ সালের ২১ জুলাই দলীয় সমাবেশ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে, কেন্দ্র টাকা না দিলে রাজ্য নিজের খরচেই ১১,৩৬,০০০ হাজার জনের বাড়ি তৈরি করে দেবে। অর্থাৎ ২০২২ সালের তৈরি তালিকাকেই বৈধতা দিয়ে রাজ্য নিজের অর্থে বাড়ি বানানোর কথা বলে। সেই কারণেই এখন সমীক্ষার কাজ চলছে। ২০২২ সালের তালিকায় যাদের নাম ছিল, বর্তমানে তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেছে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে। আর সেই সমীক্ষাকে কেন্দ্র করে আগের মতই ফেটে পড়ছে ক্ষোভ। বিভিন্ন জেলায় মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। বিরোধী দল তো বটেই, এমনকি গ্রামের সাধারণ মানুষ নিজেরাই দলীয় পতাকা বাদ দিয়েও বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। কোথাও বিডিওকে ঘেরাও করছেন, কোথাও বা পঞ্চায়েত অফিসে বিক্ষোভে সামিল হচ্ছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী ২ ব্লকের একটি গ্রামে বিডিও গেলে তাঁকে ঘিরে ধরে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখান। গ্রামবাসীদের অভিযোগ – বারবার আবেদন করেও অনেকের নাম তালিকায় স্থান পায়নি। বিডিও সমীক্ষার কাজ ঠিকমত করছেন না বলেও তাঁরা অভিযোগ করেছেন। হুগলী জেলার আরামবাগ ব্লকের একটি বন্যাদুর্গত গ্রামে গেলে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপকুমার মজুমদারের কয়েকজন গ্রামবাসী অভিযোগ করেন যে বারবার আবেদন করলেও তাঁদের নাম তালিকায় তোলা হচ্ছে না। এমন অসংখ্য অভিযোগ এখন গ্রামাঞ্চলের ব্লক অফিসগুলোতে গেলেই শোনা যাচ্ছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন যে আগে তালিকায় নাম উঠে থাকলেও এখন বাদ যাবে। কেউ কেউ এবারেও নাম উঠবে না ভেবে ক্ষুব্ধ।

তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা রাজ্য সরকার ঘনঘন পরিবর্তন করায় জটিলতা আরও বাড়ছে। একই কাজ করতে হচ্ছে একাধিকবার। প্রথমে নির্দেশ ছিল – ইটের দেওয়ালের বাড়ি হলেই নাম বাদ দিতে হবে। সমীক্ষার কাজ চলতে চলতেই আবার নির্দেশ আসে – যাদের বাড়ির ছাদ ঢালাই করা নয়, ইটের দেওয়াল হলেও তাদের নাম তালিকায় রাখা হবে। তারপর নির্দেশ এল – যাঁরা ঋণ নিয়ে এর মধ্যে (অর্থাৎ ২০২২ সালের তালিকা প্রকাশের পর) পাকা বাড়ি করে ফেলেছেন, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। সরকারের বক্তব্য – অনেকে ২০২২ সালে তালিকায় নাম ওঠায় ধার করে বাড়ি করতে বাধ্য হয়েছেন। আশা করেছেন যে একদিন না একদিন আবাস যোজনার টাকা পাবেন। এখন পাকা বাড়ি দেখে তাঁদের নাম বাদ দিলে তাঁরা ঘোর বিপদে পড়বেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনবার করে নাম বাদ যাওয়া মানুষের বাড়ি নিয়ে সমীক্ষা করতে হচ্ছে। ঋণ নিয়ে বাড়ি করার তথ্য সংগ্রহও গোলমেলে ব্যাপার। সাধারণভাবে কোনো বেসরকারি ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা বা সুদের কারবারীদের থেকে উচ্চ সুদের হারে ঋণ নিয়ে গরিব মানুষ বাড়ি বানান। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা থেকে হয়ত বা অন্য কোনো কারণ দেখিয়ে ঋণ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই টাকা খরচ হয়েছে বাড়ি তৈরি করতে। সুদের কারবারীদের থেকে ঋণ নেওয়ার পাকা কাগজ থাকে না। বাড়ি তৈরির জন্য ঋণ নেওয়া হয়েছে এমন প্রামাণ্য নথি না থাকলে তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে, কেন ঘনঘন নির্দেশিকা বদল? বাস্তব অবস্থা কি সরকারের জানা ছিল না? আসলে নতুন সমীক্ষায় বিভিন্ন ব্লকে বহুসংখ্যক মানুষের নাম বাদ যাওয়াতেই সরকার নিয়ম বদলেছে। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, ব্লক প্রশাসনের উপরেও সরকার পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছে না। জেলা প্রশাসনকে তালিকা ভালভাবে যাচাই করতে বলেছে। একে তো ব্লক, পঞ্চায়েত সহ বিভিন্ন দফতরে কর্মী প্রয়োজনের তুলনায় কম। তার উপর এক সমীক্ষার কাজ বারবার করায় জটিলতা আরও বেড়েছে। জট খোলার বদলে আরও পাকছে।

রাজ্য সরকার বলছে সমীক্ষার ক্ষেত্রে আরও মানবিক হতে। তালিকা থেকে নাম যাতে বাদ না যায় তার জন্য সরকার এত উতলা কেন? গরিব মানুষের স্বার্থে? তাহলে বহু গরিব মানুষ বারবার আবেদন সত্ত্বেও নাম না ওঠার অভিযোগ করছেন কেন? আসলে আগে তালিকায় নাম ওঠা লোকেদের মধ্যে থেকে বেশি নাম বাদ গেলে রাজ্য সরকারই পড়বে ঘোর বিপদে। কেন্দ্র তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আবাস যোজনার টাকা দেওয়া বন্ধ করেছে। তালিকায় নাম থাকা মানুষের বড় অংশের নাম বাদ গেলে সেই অনিয়মের অভিযোগই প্রমাণিত হয়ে যাবে। আবার ঘুষ দেওয়ার কারণে বা শাসক দলের প্রতি আনুগত্যের বিনিময়ে যাঁদের নাম উঠেছিল, তাঁদের নাম বাদ গেলে আরেক বিপদ। তাঁরাও ক্ষুব্ধ হবেন। বিশেষত আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের প্রতি ক্ষোভ আরও বাড়বে। এইসব কারণে সরকারের লক্ষ্যই হল বেশি নাম বাদ না দেওয়া।

২০২২ সালের তালিকা তৈরির ব্যাপারে ব্যাপক অনিয়ম, কাটমানির কথা সরকার বা শাসক দলের কারোরই অজানা নয়। যোগ্য ব্যক্তিদের নামই কেবল বাদ যায়নি, অনেকের প্রাপ্য টাকাও স্থানান্তরিত হয়েছে অন্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। এই দুষ্কর্মে জড়িয়ে গেছে বিডিও দফতরগুলোও। জল গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার ক্যানিং ১ ব্লকের ইটখোলা পঞ্চায়েতের পাঁচজন বাসিন্দা ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার জন্য সব নথি জমা দেওয়ার পরেও টাকা না পেয়ে মামলা করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, তাঁদের টাকা অন্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলায় সংশ্লিষ্ট বিডিও এবং পঞ্চায়েত প্রধানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য তলব করেছেন। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ায় একজন মহিলার নাম পাঁচবার তালিকায় উঠেছে। এই জেলাতেই পঞ্চায়েত প্রধান আবাস যোজনায় বাড়ি করার পরেও আবার তাঁর নাম তালিকায় উঠেছে। নিছক ভুল নয়, এসবই আসলে দুর্নীতির অঙ্গ। এখন সেসব ধামাচাপা দিতেই রাজ্য সরকার যোগ্যতার মাপকাঠি শিথিল করছে, জেলা প্রশাসনকে বাড়তি দায়িত্ব দিচ্ছে।

তালিকায় থাকা নামগুলো যাচাই করে অযোগ্যদের নাম যদি সঠিকভাবে বাদ দেওয়াও হয়, তাহলেও সব ঠিক আছে বলা যাবে না। যোগ্য হয়েও যাঁদের নাম ২০২২ সালের তালিকায় জায়গা পায়নি তাঁদের কী হবে? পাকা দোতলা বাড়ির মালিকদের নাম ওঠা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে যত হইচই হয়, গরিব যোগ্য মানুষদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে তত হয় না। আবাস যোজনার আসল লক্ষ্য তো নাম বাদ দেওয়া নয়, যাঁদের কাঁচা বাড়ি আছে তাঁদের পাকা বাড়ি করে দেওয়া। আসলে আবাস যোজনা নিয়ে এখন এত যে সমীক্ষা হচ্ছে, তা কিন্তু নতুন করে কারোর নাম তোলার জন্য নয়। ২০২২ সালে যাঁদের নাম ছিল তাঁরা যোগ্য কিনা তা দেখার জন্য। আর এখানেই রয়েছে ধোঁয়াশা। যে গরিব মানুষদের নাম যোগ্যতা সত্ত্বেও ওঠেনি, তাঁদের নাম তোলা হচ্ছে না। কেন্দ্র যাঁদের টাকা আটকে দিয়েছে, তাঁদের জন্যই এত আয়োজন। গ্রামে পঞ্চায়েতের মাতব্বররা এই বিষয়টা খোলসা করছেন না। নাম তোলার প্রলোভন দেখিয়ে কাটমানির স্বপ্নে বিভোর হয়ে রয়েছেন। সরকারও পরে নাম তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায় এড়াচ্ছে।

সেপ্টেম্বর মাসের বিধ্বংসী বন্যায় যাঁদের বাড়ি ভেঙেছে তাঁদেরও কিন্তু এবারে আবাস যোজনায় নাম উঠবে বলে সরকার কথা দেয়নি। যাঁদের কাঁচা বাড়ি ভেঙেছে, তাঁদের সকলের নাম তো আর ২০২২ সালের তালিকায় ছিল না। আবার অনেকের পাকা বাড়িও ভেঙেছে। সবটাই যদি হয় ২০২২ সালের আবাস যোজনার তালিকার ভিত্তিতে, তাহলে বন্যায় বাড়ি ভেঙে যাওয়া অনেকেই বঞ্চিত থাকবেন। পঞ্চায়েত, শাসক দলের মাতব্বর, সরকারি দফতর – কেউই তাঁদের নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। কেবল আশ্বাস দিচ্ছে। যাঁদের কাঁচা বাড়ি আছে, তাঁদের অধিকাংশেরই সরকারের নিয়ম, তার প্যাঁচ পয়জার জানা সম্ভব হয় না। তাই গ্রামে গ্রামে তাঁদের বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়ার বা তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার ভাঁওতাবাজি চলছে। এর মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে ক্যানিংয়ে। আবাস যোজনার তালিকায় নাম তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে একজন মহিলাকে লজে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠেছে এক কাটমানিখোরের বিরুদ্ধে। সরকার নীরব। ২০২২ সালে সমীক্ষার সময়ে জনরোষে পড়েছিলেন অসহায় আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। মানুষের কাছে অপমানিত হয়ে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছিল।

মৃত্যু মিছিল আর কত দীর্ঘ হলে গরিব মানুষকে বাড়ি দেওয়ার নামে এই দুর্নীতি আর নোংরা রাজনীতি বন্ধ হবে? এর দায় কেন্দ্র বা রাজ্য – কোনো সরকারই এড়াতে পারে না। কেন্দ্রকেও তো জবাবদিহি করতে হবে। টাকা বন্ধ করাই যদি উদ্দেশ্য ছিল, তাহলে এত কেন্দ্রীয় দল পাঠানোর নাটক কেন করা হয়েছিল? রাজ্যের বিজেপি নেতারাও তো কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকেই সমর্থন করেছেন। গরিবদের বঞ্চিত রেখে দুই দল নোংরা তরজায় ব্যস্ত। অথচ কেউ আবাস যোজনা নিয়ে গ্রাম সংসদ, গ্রামসভার ভূমিকা বাড়ানোর কথা বলেনি। পঞ্চায়েত ব্যবস্থা অনুসারে এসব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের বড় ভূমিকা থাকার কথা। তারাই উন্নয়ন কাজের মূল কর্মকর্তা, প্রশাসন সহযোগী মাত্র। আইনি কেতাবে তেমনই বলা আছে। তাহলে এত কেন্দ্রীয় দল, রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের কর্মীদের দিয়ে তথ্য যাচাই, এমনকি পুলিশ প্রশাসনকে মাঠে নামিয়ে হম্বিতম্বি কেন? ১৯৯২ সালের সংবিধানের ৭৩তম সংশোধনী এবং পঞ্চায়েত আইন বিন্দুমাত্র মর্যাদা পেলে উল্টোটাই হওয়ার কথা। তালিকায় নাম না উঠলে যোগ্য মানুষের জবাবদিহি চাওয়ার কথা পঞ্চায়েত প্রধান, সরকারের আধিকারিকদের কাছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে তাঁদের অংশগ্রহণ থাকবে। অথচ বাস্তবে তাঁদের অনুগ্রহপ্রার্থী হয়ে থাকতে হচ্ছে।

আরো পড়ুন পঞ্চায়েত: দুর্নীতি আর তরজায় ব্রাত্য ভোটারের অংশগ্রহণ

পঞ্চায়েত ব্যবস্থা নিয়ে যা-ই বলা হোক না কেন, সরকারি আধিকারিক, প্রশাসন কখনই গ্রামোন্নয়নে মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ চায় না। তৃণমূল বা বিজেপির মত শাসক পক্ষ তো চায় না বটেই। ২০২২ সালে গ্রামসভায় বিক্ষোভ দেখিয়ে মানুষ তাঁদের ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। নভেম্বর মাসেই বুথে বুথে গ্রাম সংসদের ষান্মাসিক সভা হওয়ার কথা। ডিসেম্বরে অঞ্চলে অঞ্চলে হবে গ্রামসভা। গ্রাম সংসদ, গ্রামসভার বৈঠক তাই হিসাব বুঝে নেওয়ার সময়। এই অধিকার মানুষকে সংবিধানই দিয়েছে। বাসস্থানের অধিকার যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। সংবিধান কিছু অধিকার দিয়েছে, সব দেয়নি। অর্জিত অধিকার রক্ষা আর অপূর্ণ অধিকার আদায়ের লড়াই মানুষকেই লড়তে হয়। আর জি কর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে অভূতপূর্ব আন্দোলন নাগরিক আন্দোলনের বড়সড় পরিসর তৈরি করেছে। আবাস যোজনার ক্ষোভ কি পারবে গ্রামবাংলায় দুর্বার নাগরিক আন্দোলন গড়ে তুলতে?

মতামত ব্যক্তিগত

 

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.