১৭ ও ১৮ মে দেশের সেনাবাহিনীকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে রাজ্যজুড়ে কর্মসূচি পালন করল তৃণমূল কংগ্রেস। সাম্প্রতিক ভারত-পাক সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে এই প্রথম তারা রাজ্যজুড়ে ঘোষিত কিছু করল। দুই দেশের সংঘর্ষের সময়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে তেমন কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি। সংঘর্ষ বিরতির পরে দেশের বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে যখন কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নানা প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তখন তৃণমূল অনেকখানি নিষ্প্রভ।
পহলগামের নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে ২২ এপ্রিল। রাজ্যের শাসক দল কিন্তু তারপরেও মেতে ছিল দিঘার জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন নিয়ে। ৩০ এপ্রিল সেই উদ্বোধন উপলক্ষে ধুমধাম করে রাজ্যজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। তার কোনটা সরকারি খরচে আর কোনটা দলের টাকায় তা বোঝা দায়। মন্দির উদ্বোধন, নিমকাঠ, কার বাড়িতে কটা নিমগাছ আছে – পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম এসবেই ছয়লাপ হয়েছে সেইসময়। তার সঙ্গে জুড়ে যায় ধর্মীয় ও প্রাদেশিকতার রাজনীতি। বিজেপি প্রত্যাশিতভাবেই সেই মেরুকরণের রাজনীতিতে সামিল হয়। পহলগামের জঙ্গি হানায় দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তৃণমূলকে খুব একটা প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়নি। এমনকি সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে তাদের সমালোচনার সুরও ছিল অনেক নরম।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
পহলগামের ঘটনার পর বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাঙালি প্রবাসী শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনাতেও রুটিনমাফিক প্রতিবাদ ছাড়া রাজ্য সরকার এবং শাসক দল বিশেষ কিছু করেনি। দিঘায় মন্দির উদ্বোধনের কয়েকদিন পরেই মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ সফরে যান। ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক অশান্তির পর তিনি সেখানে যান। তার আগে বিজেপি গিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ানোর কাজটি করে দিয়ে আসে। যদিও তার আগে বাম নেতৃবৃন্দ সেখানে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন।
মুর্শিদাবাদের অশান্তিতে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকায় রাজ্যবাসী ক্ষুব্ধ। মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদে তা নিয়ে কিছু বলেননি। বরং ঘুরিয়ে সেখানে বার্তা দিয়েছেন – ওয়াকফ আইনবিরোধী আন্দোলন রাজ্যের শাসক দল ছাড়া কেউ করতে পারবে না। অর্থাৎ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্বার্থ নিয়ে কোনো কর্মসূচির মৌরসি পাট্টা তৃণমূলের, অন্য কেউ যেন ওসব নিয়ে আন্দোলন না করে। সব মিলিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির ধর্ম নিয়ে রাজনীতির নব উদ্দীপনায় শিক্ষক নিয়োগ সহ নানা দুর্নীতির ইস্যু সংবাদমাধ্যমে গৌণ হয়ে গিয়েছিল। দুই দলের কাছে সেটাই কাম্য। পহলগামের ঘটনার পর ধর্মীয় বিদ্বেষের রাজনীতি আরও বেগবান হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর মুর্শিদাবাদ সফরের পরেই অপারেশন সিঁদুর। ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ শুরু হয়। রাজ্যেও বিজেপি একে কেন্দ্র করে বিভাজন ও বিদ্বেষের রাজনীতিকে পুষ্ট করতে আসরে নামে। পহলগামের ঘটনার পরেই সারা দেশের মত এ রাজ্যেও ধর্মনিরপেক্ষ, উদারমনা, বামপন্থীদের নিশানা করা শুরু হয়। বিজেপির ট্রোল বাহিনি থেকে গোদি মিডিয়া – সবাই এ রাজ্যে সক্রিয় ছিল। অপারেশন সিঁদুরের পর সেই আক্রমণ আরও বাড়ে। অথচ তৃণমূল এই পর্বে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেনি। রাজ্যে বিজেপিকে রোখার স্বঘোষিত অভিভাবকরা বিদ্বেষের এই রাজনীতির বিরুদ্ধে চুপ থেকেছেন। আমরা দেখতে পেয়েছি, তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলোও সেইসময় বিদ্বেষের, ভিন্ন মতকে রাষ্ট্রদ্রোহ বলে দেগে দেওয়ার রাজনীতিতে গোদি মিডিয়ার পথেই ছিল। তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ কিছু সাংবাদিকও যুদ্ধোন্মাদনাবিরোধী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন।
দুই দেশের সংঘর্ষ বিরতির পর বিজেপি বিদ্বেষের রাজনীতিতে আরও মরিয়া হয়ে উঠেছে। এছাড়া তাদের কোনো উপায়ও নেই। যুদ্ধোন্মাদনা জাগিয়ে রাখতে দেশজুড়ে বিজেপি যা শুরু করেছে, সেটিই আসলে চরম দেশদ্রোহ। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি ও তাঁর কন্যাকে কুৎসিতভাবে ট্রোল করা, মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকারের আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বিজয় শাহের লেফটেন্যান্ট কর্নেল সোফিয়া কুরেশীকে সন্ত্রাসবাদীদের বোন বলে মন্তব্য করা – এসবের পরেও কেন্দ্রীয় সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আদালত হস্তক্ষেপ করার পরে শাহ ক্ষমা চেয়েছেন এবং বিচারপতিরা সঠিকভাবেই তাঁর ক্ষমাপ্রার্থনাকে অগ্রাহ্য করেছেন। এরপরেও মধ্যপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী জগদীশ দেওড়ার এক মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি এক সভায় বলছেন, দেশের জওয়ানরা প্রধানমন্ত্রীর পায়ে নতজানু।
সেনাবাহিনিকে এভাবে অপমান করার পরেও তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে বলেই বিজেপি দায় সেরেছে। অথচ শান্তি, সম্প্রীতির কথা বললে, যুদ্ধোন্মাদনার বিরোধিতা করলেই ধেয়ে আসছে আক্রমণ। এমন এক ফেসবুক পোস্টের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদকে, যেখানে তিনি সেনাবাহিনির ব্রিফিংয়ে দুই ধর্মের দুই মহিলার উপস্থিতিকে যে ভারত পাকিস্তানের দ্বিজাতিতত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করে তার দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছিলেন। অভিযোগকারী হরিয়ানা মহিলার কমিশনের প্রধান রেণু ভাটিয়া কিন্তু নিজের অভিযোগের একটি লাইনের সপক্ষেও যুক্তি দিতে সমর্থ হননি। লাইভ টিভি ক্যামেরার সামনে প্রশ্নের মুখে তিনি উত্তর হাতড়ে গেছেন এবং খুঁজে পাননি।
যে প্রধানমন্ত্রীকে নায়ক বানিয়ে দেশজুড়ে বিদ্বেষের রাজনীতি করা হচ্ছে, তিনি কিন্তু সর্বদলীয় বৈঠকের চেয়েও বিহারের রাজনৈতিক সভাকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
সংঘর্ষ বিরতির পর গত ১২ মে প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। কিন্তু ভুয়ো খবর এবং ট্রোলিং করে যেভাবে দেশকে বিপদে ফেলা হচ্ছে তা নিয়ে কোনো কথা বললেন না। বলা সম্ভবও নয়। আসলে এগুলো বিজেপির রাজনীতির অঙ্গ। যুদ্ধোন্মাদনার যুক্তিহীন আবেগে সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গলদ ঢেকে দেওয়া যাবে আর বিদ্বেষের রাজনীতির ভিত আরও পাকাপোক্ত করা যাবে। তাই কৌশলে সরকার সরাসরি যুদ্ধোন্মাদনামূলক কথা বলছে না। অথচ পহলগাম কাণ্ডের রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে গোদি মিডিয়া এবং ট্রোলবাহিনিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। পুলওয়ামা ও পহলগামের ঘটনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য জবাবদিহির দায় নরেন্দ্র মোদীর সরকার এড়াতে পারে না।
দুই দেশের সংঘর্ষ বিরতি নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক যেসব মন্তব্য করে যাচ্ছেন, সেসবের কোনো বলিষ্ঠ জবাব মোদী সরকার দেয়নি। কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ যে কাম্য নয়, অতীতের সব ভারত সরকার দৃঢ়ভাবে বারবার সেকথা জানিয়েছে। কিন্তু বিগত কয়েক দিনের ঘটনায় আশঙ্কা জাগছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই খবরদারি করছে। বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজেপির সখ্য সকলের জানা। বিজেপির সেই রাজনৈতিক অবস্থানের প্রভাব মোদী সরকারের বিদেশনীতিতেও পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।
মোদী সরকারের বিদেশনীতির ভ্রান্তি এই সময়ে আবার নতুন করে প্রমাণিত হল। জঙ্গি দমনে মোদী সরকারের দক্ষতা ও আন্তরিকতা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। কাশ্মীর সমস্যা, সংঘর্ষ বিরতি নিয়ে ট্রাম্পের একের পর এক মন্তব্যের সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ না করায় সেই সন্দেহ আরও বেড়েছে। উঠে আসা নানা প্রশ্নকে ধামাচাপা দিতে বিদ্বেষের রাজনীতিকে ঢাল করে আরও সক্রিয় হচ্ছে বিজেপি। এখন তাদের বিরোধিতা করা মানেই রাষ্ট্রদ্রোহ, অথচ বিজেপি নেতারা সেনাবাহিনিকে অপমান করলেও সেটা দেশপ্রেম।
দেশের বিরোধী দলগুলি মোদী সরকারের বিরুদ্ধে এসব প্রশ্নে সরব হয়েছে। কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে তৃতীয় পক্ষের নাক গলানোর বিরুদ্ধে সরকারকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে। বিদেশমন্ত্রীর এক মন্তব্য নিয়েও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, এস জয়শঙ্কর নাকি বলেছেন যে অপারেশন সিঁদুর করার আগে পাকিস্তান সরকারকে ভারত জানিয়েছিল। যদিও সরকারের দাবি, বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে। যা-ই হোক, এতকিছু নিয়ে তৃণমূলের কিন্তু কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নেই, কর্মসূচি নেই।
পশ্চিমবঙ্গেও কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন সম্প্রীতি, শান্তির কথা বললেই তাদের বিজেপি নিশানা করছে। যুদ্ধের বিরোধিতা করলে মিছিল থেকে প্রতিবাদীদের বাসস্থান পর্যন্ত ধেয়ে যাওয়া হচ্ছে। চরম দক্ষিণপন্থার সঙ্গে বাম, ধর্মনিরপেক্ষ, উদারপন্থীদের মতাদর্শের লড়াই আজ রাজপথে নেমে এসেছে। এই অবস্থায় তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। কলকাতায় বিভিন্ন নাগরিক ও গণসংগঠনের যুদ্ধবিরোধী মিছিলে বিজেপি নেতার নেতৃত্বে আক্রমণ এবং তাতে তৃণমূলের সরকারের অধীন পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আক্রমণকারীদের প্রতিহত করার বদলে মিছিল বন্ধ করতেই পুলিস বেশি তৎপর ছিল। দশটি বাম দলের সংযুক্ত মিছিলেরও বিজেপি বিরোধিতা করেছিল। রাজ্যে বিজেপি যেভাবে একের পর এক উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলছে, আচার আচরণ করছে তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে না। তৃণমূল রাজনৈতিকভাবেও এসবের মোকাবিলা করছে না। বরং বলা যেতে পারে তাদের নীরবতা, নিষ্ক্রিয়তা সম্মতির লক্ষণ। চরম দক্ষিণপন্থীদের তারা যেন অনেকখানি জমি ছেড়ে দিচ্ছে।
আরো পড়ুন মহুয়া কাণ্ড: কর্পোরেট প্রেমে বিজেপি, তৃণমূল সবার কলঙ্কভাগী
একদিকে সেনাবাহিনিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মিছিল করে, আরেক দিকে বিজেপির কার্যকলাপ নিয়ে, ট্রাম্প-মোদীর সখ্য নিয়ে সোচ্চার না হয়ে তারা কোন বার্তা দিতে চাইছে? যুদ্ধ জিগির, বিদ্বেষের বিরোধিতা না করে বিজেপির আগ্রাসী রাজনীতি নিয়ে নীরবতার কারণ কী? এই তো রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার সময়। সেনারা যুদ্ধ বা সংঘর্ষে প্রাণ হারাবেন আর সংকীর্ণ দলীয় রাজনীতির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে নায়ক বানাতে গিয়ে বিজেপি সেনাবাহিনিকে ছোট করবে। যুদ্ধের হাওয়া তুলে আর সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে দেশবাসীকেই আতঙ্কিত করবে, বিভেদ বাড়াবে। ‘এটা রাজনীতির সময় নয়’ বলে কোনো বিরোধী দল যদি নীরব থাকে বা দৃঢ়ভাবে প্রতিবাদ না করে, তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।
আম আদমি পার্টির অবস্থান নিয়েও এমন নানা প্রশ্ন ছিল বা এখনো রয়েছে। এনআরসি-সিএএবিরোধী আন্দোলন বা তিনটি কৃষি আইনবিরোধী আন্দোলনে সেই দলকে খুব সক্রিয় দেখা যায়নি। অথচ এইসব আন্দোলনে দিল্লি যখন উত্তাল হয়েছিল, তখন দিল্লির শাসনক্ষমতায় তারাই ছিল। এনআরসি-সিএএবিরোধী আন্দোলনকে ভাঙতে দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময়েও আম আদমি পার্টির ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। বিজেপির উগ্র হিন্দুত্ববাদের মোকাবিলায় হনুমান চালিশাকে ব্যবহার করলে ধর্মের সঙ্গে রাজনীতির মেলবন্ধনে কাদের হাত শক্ত হবে – সে প্রশ্নও উঠেছিল। দিল্লির সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচন প্রমাণ করল, এসবের পরিণাম দীর্ঘ মেয়াদে আম আদমি পার্টির বিপক্ষেই গেছে। ধর্ম নিয়ে রাজনীতির প্রতিযোগিতায় নামলে বা বিদ্বেষ, বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান না নিলে বিজেপিই লাভবান হয়। মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথও নরম হিন্দুত্বের পথ নিয়ে মসনদ রক্ষা করতে পারেননি। বরং বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে ভারত জোড়ো যাত্রার মত নানা কর্মসূচি নিয়ে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস অনেক আসন বাড়াতে পেরেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস যত ধর্ম নিয়ে রাজনীতিতে মেতেছে, তত রাজ্যে বিজেপির জমি শক্ত হয়েছে। বামপন্থাকে দুর্বল করতে দুই দলের ধর্ম নিয়ে রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে বিজেপিরই লাভ। বিজেপির উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের নরম অবস্থানও কিন্তু বিজেপিকেই লাভবান করবে। তৃণমূলের সেকথা অজানা নয়। কিন্তু একদা এনডিএ শরিক এই দলের রাজনৈতিক অবস্থান দক্ষিণপন্থার পক্ষে। আর জি কর কাণ্ড, নিয়োগ দুর্নীতি সহ নানা দুর্নীতির মামলায় তারা জর্জরিত। কেন্দ্রের সঙ্গে তাদের বোঝাপড়া যে সিবিআই তদন্তকে প্রভাবিত করে তাও আজ স্পষ্ট। তাই বিজেপির যুদ্ধবাজ, উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ অবস্থান না নিয়ে তৃণমূল এভাবেই বিজেপিকে জমি ছেড়ে চলবে। মতপ্রকাশের অধিকার, বিদ্বেষের রাজনীতির বিরোধিতা করার অধিকারটুকু বজায় রাখতে তাই বামপন্থীদেরই রাজপথে থাকতে হবে। বিজেপি আর দেশপ্রেম যে সমার্থক নয়, সরকারবিরোধিতা আর দেশবিরোধিতা যে এক নয়, সর্বোপরি যুদ্ধেরও উপরে মানবতার স্থান – এখনই সেকথা আরও সোচ্চারে বলার সময়।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








