করোনা ওমিক্রনাবতারে উত্তীর্ণ হয়েচেন। কেউ বলচে এইটিই শেষ, কেউ বা ফের লকডাউনে পত্তে হবে ভাবনায় মুহ্যমান হয়েচেন। মাতালেরা সেবারের মতন আতান্তরে পত্তে রাজি নয়। তাই অ্যাকন হতে স্টক করবেন মনস্থ কচ্ছেন, কিন্তু যতবার অ্যাক ব্যাগ খরিদ করে আনচেন ততবার খেয়ে ফেলচেন। এ সওয়ায় ইস্কুল, কালেজ খুলেচে। কিন্তু দ্যাকা গ্যালো করোনা অ্যাতোকাল ইস্কুলগুলিতে বদ্ধ থেকেও বিস্তর কাজকর্ম করেচেন। রাতের অন্ধকারে ইস্কুলগুলির রেজিস্টার হতে স্টুডেন্ট গায়েব করেচেন। টিচার অম্নি কম ছিল, অ্যাকন স্টুডেন্টেও টান পড়ায় ইস্কুলগুলি গবর্নমেন্টের প্রথম পক্ষের আধবুড়ি গিন্নী হয়ে পল্ল। কুলীন গবর্নমেন্ট ৬৪ গিন্নীকে খেদিয়ে দিলেন। বহুকাল আধপেটা খেয়ে তেনাদের এম্নি রোগা চেহারা হয়েছিল যে কোনো শ্রীতেই আঁটচেন না। অতেব বিশ্রী প্রকল্পে স্থান দিয়ে ধাপার মাঠে ফেলে দেয়া হলো।

এদিকে ফেরাশ্রী প্রকল্পে ছানাপোনাদের ইস্কুলে ফেরত আনার জন্যে থিয়েটার হল ভাড়া করে জোরদার মোচ্ছব হচ্চে। সরকারি বাবুরো হেঁ হেঁ কত্তে কত্তে উত্তরীয়ে ঢাকা পড়চেন, চাদ্দিক বিরিয়ানীর গন্ধে ম ম কচ্ছে। এম্নি চমৎকার অ্যাটমোস্ফিয়ারেও চাট্টি নিন্দুক ঢুকে পড়েচে। তারা সকলের কানে কানে বলে বেড়াচ্চে, ইস্কুল বন্দ হয়ে গ্যাচে। তা কোতায় ফেরাবে? হলে বসে ফেরার ডাক দেয়া হচ্চে, সে ডাক শুনতে পাচ্চে কে? নিন্দুকগুলি নিতান্ত আবর্জনা। জানে না পজিটিভ কতা না বল্লে জীবনে ডেভেলপমেন্ট হয় না।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

ফোটোজেনিক পলিটিক্স

এদানি পলিটিক্স করা ভারী সহজ হয়ে পড়েচে। সেকালে বেজায় হুজ্জত ছিলো। দোরে দোরে ঘুরতে হত, মুচি মুদ্দোফরাশদের সনে কতা বলতে হত। এ সওয়ায় দু এক গালমন্দও যে শুনতে হত না তেমন নয়। উপরি পেয়াদার তাড়া, ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর ঠ্যাঙা, মাস্তানের খিস্তিও হজম কত্তে হত। মাতা ফাটত, হাজতবাস হত। অধিক বাড় বাড়লে কোতল হয়ে যাবার ভয় ছিল। তবে বেবাক লোকে লিডার বলে সুখ্যেত কত্ত। আবার লিডার হয়ে পল্লেই ট্যারা চোকে সকলেই দেকত পোশাকটি দামী কিনা, পায়ের চপ্পলটি কোলাপুরী কি যাদবপুরী, লিডারের বাস কত্তে কয় মহলা প্যালেস লাগে। সকলি মোলায়েম ও পেল্লায় হলে নিন্দে হত।

অ্যাকন ওসব আপদ গিয়েচে। লোকে রুজ, পমেটম, নীল-হলুদ গগলস, নামে ও বেনামে ছয়-সাতটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকলেই লিডার বলে মানচে। রোদে জলে ঘোরাঘুরি কত্তে হচ্চে না। একটি ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ ও টুইটার হ্যান্ডেল থাকলে কেল্লা ফতে। জ্বালাময়ী ভাষণ ক্যামেরায় ধরে দিতে পাল্লেই ভাইরাল, আর ভাইরাল হলেই লিডার হওয়া হল। সেকেলে লিডাররাও জননীকে পেন্নাম ঠুকতে যাচ্চেন ক্যামেরা বগলে নিয়ে। হিমালয়ের গুহায় ধ্যান করা হতে গোড়ালি জলের পাড়ায় ত্রাণ তদারক করা অবধি সকলি ফোটোজেনিক করা হচ্চে। কচি লিডাররা এই পলিটিক্সে তিন কাল গিয়ে অ্যাক কালে ঠেকে যাওয়া লিডারদের প্রায় টেক্কা দিচ্চেন। তাই গোঁসা করে মুখ্যসেবিকা ভাইরাল নেত্রীকে বাজারের মধ্যখানে ধমকাচ্চেন। ফোটোজেনিক পলিটিক্স উপস্থিত এ ধারে কাটচে, হুতোম মজা দেকচেন আর ভাবচেন কবে দু ধারেই কাটবে। মজা দেড় গুণ হবে।

এবার মলে

ফের মড়ক লেগেচে। কোতাও পেয়াদায় দ্যাখ কেমন লাগে বলে অম্নি মানুষ মারচে, কোতাও দিব্য উড়তে উড়তে যন্তর গোঁত্তা খেয়ে গাছে ধাক্কা দিয়ে মানুষ মারচে। যারা অম্নি মল তারা কেন মরেচে তা নিয়ে লম্বা তদন্ত হবে, তবে তাদের বাপ-মা, ছেলেপুলে ভিন্ন কেউ শোক করচে না। যমুনার জল ফেনা হয়ে জলের আকাল পড়েচিল, যন্তরের মন্তরে যাদের প্রাণ গিয়েচে তাদের দুখখে চোকের জল ফেলে বান ডাকানো হয়েচে। দেকে হুতোমের নরকের স্যাঙাতদের মন্ত্রণা দিলেম, ফের জন্মে এবার মলে অম্নি করেই মত্তে হবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.