ভক্তবাবুরো কদিন রা কাড়তে পারেননি। অক্সিজেন, ভ্যাক্সিন, পেট্রোল, ডিজেলাদি অ্যান্টিন্যাশনালে নাহক হুজ্জত করেচে। প্রধান সেবকের প্রতি অটল বিশ্বাসেও কিঞ্চিৎ চিড় খেয়ে গ্যাচে। এক নিন্দুক জার্নালিস্ট টুইট কল্লেন একটি ভক্ত চ্যানেলের সার্ভেতে প্রধান সেবকের আসনটি টলোমলো দেখিয়েচে, তাই তারা সার্ভেটি হজম করে ফেলেচে। সে কতা বিশ্বেস করা ভক্তজনোচিত হয় না, কিন্তু আমাদের এক পরিচিত ভক্ত হাতের মোবাইলে একটি ন্যাশনালিস্ট বায়স্কোপ দেকতে গিয়ে ঝিমুচ্চিলেন। ঝিমুনির মদ্যে স্বপ্নে ওই লুটিয়েন্স প্রোপাগান্ডাটি বিশ্বেস করে ফেল্লেন। মহাপাতক হয়ে গিয়েচে জেনেও যদি ঘুমুবেন, তবে আর ভক্ত হয়ে জন্মগ্রহণ করেচেন কেনো? সে রাতে দুই চোকে সরিষার তৈল সেবন করে প্রধান সেবকের মতন মোটে চারটি ঘন্টা শয্যা নিলেন। পরদিন কলকেতার সকল মোরগের ঘুম ভাঙার পূর্বে শয্যা ত্যাগ করে শুদু মুখে মোছলমান ও কমুনিষ্টদের বাপান্ত কল্লেন, তবে পাপের ভার কমেচে বোধ হল।

ভক্তের বেদনায় কোনো ভগবানের দয়া হয়েছিল কিনা হুতোমের জানা নেই, তবে শিগগির ভক্তরা মডার্ন হয়ে যাবার লাইসেন্স পেলে। গান্ধারী সতী সাবিত্রী ছিলেন, কিন্তু তেনার ভাইগুলি সেকালে করেননি হেন দুষ্কর্ম নেই। একেলে জাতভাইগুলির মদ্যে গান্ধারী অপেক্ষা শকুনির লক্ষণ বেশি এম্নি একদল বানরের আবির্ভাব হয়েচে। গান্ধারী কেবল চোখ বেঁধেছিলেন, এদের বুড়ি ছুঁড়ি সকলেরি কেবল চোখ নয়, হাত পা সুদ্ধ বেঁধে রাখতে পাল্লে আমোদ হয়। মডার্ন লেকাপড়া কল্লে এই বানরদের গোঁসা হয়, দাড়ী আর বোরখা বিনা মানুষ হয় এ কতা এরা মানে না। হাতের বন্দুক আর চড়ার গাড়ী ভিন্ন সকলি এরা এনশিয়েন্ট পচন্দ করে। গান্ধারীর এই ভাইদের দেকে ভক্তবাবুরো আহ্লাদে আটখানা হলেন। গান্ধারের বানরগুলি কেমন ফান্ডামেন্টালিস্ট সে কতা দুনিয়াসুদ্ধ লোককে ফলাও করে বলে বেড়ানো হলো। বানরদের আমলে মা জননীদের ফ্রিডম কেমন হরণ হয় তাও পঞ্চমুখে বাবুরো বলে বেড়ালেন। বোরখার বাড়াবাড়ি আর ইস্কুল বন্দের হুড়োহুড়ি নে ইয়াব্বড় ফেসবুক পোস্ট দিলেন। উপনয়নের পরে নিরিমিষ ভক্ষণের কাল শেষ হলে একেলে ব্রাহ্মণ তনয় পয়লা বার মুর্গি মটন দেকে যেমনধারা আদেখলেপনা করে, অ্যাতোকাল ঘাপটি মেরে চুপটি করে থাকার পরে মোছলমানেরা কত মাইল পিছনে আচেন সে কতা বলার ফুরসত পেয়ে ভক্তকুলে মোচ্ছব আরম্ভ হলো।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

তবে প্রধান সেবকের নূতন ভারতে ভক্তের খতরা কিচুতে খতম হয় না। সবে তেনারা লকডাউন, ওয়ার্ক ফ্রম হোম, কোভিড ডেথের ডিপ্রেশন হতে বার হয়ে মুখে স্নো পাউডার মেখে আফগানিস্তান হতে ভারত কত উন্নত তার ফিরিস্তি দিতে লেগেচেন, খানিক পরেই প্রধান সেবক না থাকলে এ দেশেও বানর সেনার শাসন কায়েম হতো বলতে যাবেন, শকুনির বংশধর বানরগুলি প্রেস কনফারেন্স করে বসলে। অম্নি টিভির রবীশ কুমার হতে গলির পঞ্চা অবধি সকল নিন্দুকে দুয়ো দিয়ে বল্লে, ও দেশে বানরেও প্রেস কনফারেন্স করে। এ দেশে? ভক্ত বাবু বিবি রেগে অগ্নিশর্মা হলেন। গো টু আফগানিস্তান নূতন ধুয়ো হয়ে পল্ল। দু চার রসিক নিন্দুকে বল্লে, আমরা কি কারো দোষ দিয়েচি? ভক্তবৃন্দের রাগে কলকেতা হতে কাবুল অবধি কেঁপে উঠল। বল্লেন তেনারা অ্যাতো গণ্ডমূর্খ নন যে ইঙ্গিতটি বুজবেন না। ধরাধামে কটিই বা দেশ আচে যাদের প্রধান সেবক মনোলোগী?

ও দেশের শকুনির বংশধরেরা বলেচে তারা ডেমোক্রেসি খায় না, মাতায়ও লাগায় না। গবর্নমেন্ট চালাবেন তাদের নেতারা। এ দেশে টু মাচ ডেমোক্রেসি থাকায় যে ক্ষতিগুলি হয়েচে তার মদ্যে একটি হলো মা জননীদের মুখে ও মেমরিতে আগল নেই। তেনাদের কতা শুনে ভক্তগণ ভির্মি খেলেন। গান্ধারের বানরদের কতা বলতেই দু এক মা জননী বল্লেন, হাথরাস। কেউ বল্লেন, দীপিকা পাড়ুকোনের নাক। যে মহিলাদের মেমরি জিবির স্থলে টিবি, তেনারা শুধোলেন, কে য্যানো মেয়ের বিয়ের খরচ উদ্ধার কত্তে বাটীতে গাছ পুঁততে বলেছিল? যে বাবুরো দিবারাত্র মা জননীদের অনলাইন অকথা কুকথা বলেন আর রেপের হুমকি দ্যান, তেনাদের কে য্যানো টুইটারে ফলো করেন?

কেবল মহিলারা ঠোনা মারলে তবু সমঝে নেয়া যায়। ব্যাটাছেলেগুলি রামের দোসর সুগ্রীবের মতন। তেনারা বল্লেন, বানর এ দেশেও কম নেই। স্পিশিজ ভিন্ন বই তো নয়। ওদের দাড়ী, এদের টিকি। ওদের শরিয়া ল, এদের মনু ল। ওরা বামিয়ান ভ্যানিশ করে, এরা বাবরি হাপিশ করে। ওদের সকলি কোরানে আচে, এদের সবই ব্যাদে। ওরা কেবল পুষ্পকরথের ফর্মুলাটি জানে না বোধ হচ্চে। জানে না বলে দেশের লোকে বিমানের চাকা ধরে ঝুলে কেটে পড়ার তাল কচ্ছে, বানরগুলি আকাশে চড়ে নাবিয়ে আনতে পারচে না। টপাটপ খসে পল্লে লুফে নিতেও পারচে না। পারলে ন্যাশনাল খাপ পঞ্চায়েত বসিয়ে বিচার করে গদ্দান নেয়া হতো। নিজ গুণে বিদেয় হলে আমোদ হয় না।

মানুষ ভয়ে পালাচ্চে, ছানাপোনাদের একলা ছেড়ে দিচ্চে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ডেমোক্র্যাটিক লিবারেল মুখোশটি খুলে গ্যালো। বল্লেন, ও দেশে সেনা পাঠিয়েচি বলে নেশন বিল্ডিং কত্তে হবে এ বা কি কতা? বিশ বচ্ছর হোক আর ত্রিশ বচ্ছর হোক, কোনো দেশে আমরা ডিভাস্টেশন ভিন্ন অন্য দায় নিইনি। এ বেলাই বা নেব কী উপায়? ঝোলা ভরা হয়ে গ্যাচে, এইবার ভোলার কেটে পড়াই কর্তব্য। তিনি ফুলবাবু হয়ে ফুর্তি কচ্ছেন, এদিকে ভারতে কয়জন ইয়ং বেঙ্গলি (যে বাবু বিবিদের বয়স হলেও ইমোশন পাকে না তেনাদের হুতোম ইয়ংই বলেন) মার্কিনদের মুখে নুড়ো জ্বেলে দেয়া হয়েচে ভেবে নেত্য আরম্ভ কল্লেন। নানাসাহেব, কাস্ত্রো, হো চি মিন মায় মার্কস সায়েবকে অবধি এনাদের আবদারে গান্ধারের বানরদের পাশে দু দণ্ড বসতে হলো। নাজিবুল্লাহর ভূতটি হেসে ফের খুন হলো। হুতোমের কানে এলো কলকেতার গলির সেই বেহায়া পাগলটি প্রলাপ বকচে

কত গান তালিবান

হাতে নিয়ে নেচে যান

সকলেই এক্সপার্ট ভাই রে।

এ দেশেতে থেকে ভাই

পেটে মোর ভাত নাই

কী করিলে দুটি খেতে পাই রে?

গোট নাকি সকলে

গো টু বলে না হলে

এ দেশে কি বাঁচা মরা নাই রে?

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.