দেবীপক্ষের সূচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিলোত্তমা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে লড়তে থাকা প্রতিবাদীদের একটা অংশ মহালয়ার আগের সন্ধ্যা থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ সংগঠিত করলেন। এমনিতেই ১ অক্টোবর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল। সকলেই যে এই দিনের প্রতিবাদের সঙ্গে দেবীপক্ষের অনুষঙ্গ টেনে এনেছেন এমন নয়। কিন্তু একটা বড় অংশের আন্দোলনকারী এনেছেন এবং তাঁদের অধিকাংশই বামপন্থী। বিষয়টা ভীষণ অস্বস্তির, হতাশারও। বামপন্থীরা এখনো লড়াইয়ের একটা সঠিক আখ্যান তৈরি করতে পারল না। জনপ্রিয়তাবাদে এতখানি নিমজ্জিত হওয়ার কারণ কী, তা বুঝে ওঠা মুশকিল। বিষয়টা নিয়ে একটু বিস্তারে কথা হওয়া দরকার।
ব্যক্তিগত অনুভব দিয়ে শুরু করি। আমার জন্ম পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটা নামের এক আটপৌরে জনপদে। পারিবারিক সংঘাতের কারণে আমার বাবা তাঁর পরিবার নিয়ে নিজের পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে কাছেই এক ভাড়া বাড়িতে বাস করতেন। সেখানেই আমার জন্ম। তালপুকুর রোডের গোলকালী মন্দিরের ঠিক বাম পাশে রাস্তার ধারে দিলীপ স্টোর্সের পাশেই ছিল সেই বাড়ি। বাড়িওয়ালার নাম ছিল ফটিক। বাবা, মামারা পূর্ব পরিচিতির সূত্রে তাঁকে নাম ধরেই ডাকতেন। তাঁদের দেখাদেখি আমি আর আমার যমজ দিদিও তাঁকে নাম ধরে ‘ফটিক, ফটিক’ করতাম। গোলকালী মন্দিরের ঠিক সামনেই প্রতি বছর প্যান্ডেল বেঁধে দুর্গাপুজো হত। সে মহা ধুমধাম। সেসব দিনে সারা বছর আনন্দ ফুর্তির এমন লাগাতার আয়োজন তো ছিল না। ফলে মানুষের যত আনন্দ সব দুর্গাপুজোতেই ফেটে পড়ত। সকাল থেকেই চারদিকে গান, মন্ত্রোচ্চারণ, নতুন জামা – সে এক ব্যাপার। এমনই একদিনে সন্ধেবেলা আমরা সপরিবারে চিরাচরিত রীতিতে ঠাকুর দেখতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছি। সামনেই গোলকালী মন্দিরের সামনে পাড়ার পুজো। দেখি ফটিক একমনে দুর্গার সামনে দাঁড়িয়ে গভীর ভক্তিতে নমস্কার করছেন। আমাদের পারিবারিক বিরাট দলও দাঁড়িয়েছে। বড়দের মধ্যে থেকে কে যেন, এখন আর মনে নেই, ফটিককে দেখে মন্তব্য করলেন, ‘দেখো, অসুর নিজেই দুর্গাকে ভক্তি নিবেদন করছে!’ মুখ চাপা দিয়ে সবাই হেসে অস্থির। সেদিনই প্রথম খেয়াল করি, ফটিককে হুবহু অসুরটার মত দেখতে। পাকানো গোঁফজোড়া আর কাঁধ অবধি নেমে আসা ঘন কালো বাবরি চুলের গোছাটা বিউটি পার্লারের যত্নআত্তিতে ঠিকঠাক নামিয়ে দিতে পারলে ফটিককে তুলে ধরে মণ্ডপে বসিয়ে দেওয়া যেত বিনা দ্বিধায়।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
কালের নিয়মে এসব স্মৃতি মন থেকে মুছে গিয়েছিল। মনে পড়ে গিয়েছিল তার অনেক অনেক বছর পরে, সিনেমার দৃশ্যের মত। এর মাঝখানে কেটে গেছে বহু যুগ। আমিও এর মাঝে অনেককিছু করেছি। সব থেকে প্রাসঙ্গিক হল, নানা ধারার বেশ কয়েকটা কমিউনিস্ট পার্টিও করেছি। কিন্তু লজ্জার বিষয় হলেও সত্যে স্থিত থাকতে চাইলে আমায় স্বীকার করতেই হবে, যে একবারও আমার এটা মনে হয়নি বা আমার একজন কমিউনিস্ট বন্ধু, স্বজন, কমরেড আমার কাছে এই প্রশ্ন উত্থাপন করেননি, যে এই যে আমরা হিন্দু পরিবার থেকে আসা লোকেরা প্রতিবছর দুর্গার অসুরনিধনকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে ওঠার শিক্ষা পেয়ে বড় হয়েছি, আমাদের চিন্তায় চৈতন্যে যা গভীরে প্রোথিত, এতটাই প্রোথিত যে তা আমাদের প্রতিবাদের, লড়াই-সংগ্রামের আখ্যান হয়ে ওঠে অথবা তাকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করে, সেই মা দুর্গা দুর্গতিনাশিনী অশুভমর্দিনী যাঁকে দশহাতে বধ করছেন বলে আমরা মহা পুলকিত, সমস্ত ধর্ষকের শাস্তি, পিতৃতন্ত্রের সকল অবয়বধারণকারী সেই শত্রুর শত্রু মহাশত্রুটিকে দেখতে আমাদের দেশের সংখ্যাগুরু মানুষের মত কেন? কেন দেবতারা সব সাদা সাদা আর অসুরেরা সব কালচে, নীলচে, মাজা, তামাটে? কেন মা দুর্গার মুখমণ্ডল উচ্চবিত্ত এবং উচ্চবর্ণ নারীর সঙ্গে মেলে আর অসুরের মুখমণ্ডল আপনি হুবহু পেয়ে যাবেন পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় সাধারণ মানুষ, ‘চাষাভুষো’, শ্রমিক, ‘মেথর-ধাঙড়’, নমঃশুদ্র, ‘নিচু জাত’ অথবা আদিবাসী, দেশের অন্য রাজ্যের দলিতদের মধ্যে? পশ্চিমবঙ্গ থেকে যত দক্ষিণে যাবেন, ততই দেখবেন এ যেন অসুর সাম্রাজ্য। হিন্দু দেবতাদের মত দেখতে লোক অথবা দুর্গার মত দেখতে মহিলা চট করে দেখতে পাবেন না। অনেক খুঁজে হয়ত এক-আধজন পাবেন। সহজেই বুঝতে পারবেন, এঁরা আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে একেবারেই সংখ্যালঘু। তাহলে এই যে আমরা আন্দোলনের আখ্যান নামাচ্ছি দেবীপক্ষের অনুষঙ্গে, তা কি সংখ্যাগুরুর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুর হত্যাকাণ্ডের উল্লসিত মূর্ছনাসিঞ্চিত ভাষ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে না?
অবশ্য এসব কথা গভীরভাবে ভাবতে শিখেছি অনেক পরে, এই সেদিন। যখন থেকে বুঝতে শুরু করেছি ধর্মতত্ত্বকে খেলাচ্ছলে নেওয়া যাবে না, হালকা চালে তা ব্যবহার করা যাবে না। কারণ তা খেলাচ্ছলেই আমাদের মনের গভীরে চারিয়ে দিয়েছে এক জনবিরোধী অথচ জনপ্রিয়তাবাদী তত্ত্ব-ভিত। আমাদের সকল লড়াইয়ের, তা সে ধনতন্ত্রবিরোধী হোক কিংবা পিতৃতন্ত্র বা পুরুষবাদবিরোধী, তাত্ত্বিক ধরাতল তৈরি করে দিয়েছে এক আদ্যন্ত পুরুষবাদী, সংখ্যালঘু-আশ্রয়ী উৎখাতকারী-সমর্থক জনপ্রিয় ভাষ্যই। তাই শেষ বিচারে আমাদের লড়াই শত্রুকে আঘাত করার বদলে ব্যুমেরাং হয়ে আমাদেরই ধরাশায়ী করে দেয়। যত আমরা জনপ্রিয় হতে চাই, তত জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, ফটিকরা যতই ভক্তিভরে দেবী দুর্গাকে পুজো করুন না কেন, মনে মনে তাঁরাও নিশ্চিত জানেন, অসুরকে দেখতে তাঁদের মত। মনে মনে কখনো না কখনো তাঁরা মা দুর্গাকে বলে থাকতে পারেন, “বঞ্চনা, শোষণ, অবিচার, অপমান, অনাহার সবই তো দিয়েছিলি মা, এবার ত্রিশূলও বিঁধিয়ে দিলি!” সেই ফটিকের মুখের কাছে যত আমরা হেঁকে ডেকে নেচে গেয়ে বলছি ‘এবার অসুর নিধন হবে, এবার অসুর নিধন হবে’, ততই সে সরে যাচ্ছে দূরে। আর এতে যদি সে-ও পুলকিত হয়ে ওঠে, তাহলে বুঝতে হবে সে-ও রয়েছে এমনই এক আখ্যানের মোহে যা আপনার মত তারও নিজস্ব নয়। অন্যের ভাষ্যের আপাতমিষ্টতায় আপনার মত সে-ও বিভ্রান্ত। সময় মত জাল গুটিয়ে বিজয়কেতন নিয়ে সদর্পে হেঁটে যাবে পিতৃতান্ত্রিক, পুরুষবাদী, অল্পসংখ্যকের জবরদখলের ভজনাকারীরা। শহুরে মধ্যবিত্ত স্বতঃস্ফূর্ততা আজ যতই থাকুক, আপনার একেবারে নিজস্ব শক্তিকে আজ বৌবাজার স্ট্রিট বা যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডে যতই পরাক্রান্ত দেখাক না কেন, তা দিয়ে আপনার ব্রিগেড ভরতে পারে, কিন্তু জামানত বাঁচানো যাবে না।
মুক্তিকামী নারীবাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনতার বিরুদ্ধে যাওয়া চলে না। তেমনই পুরুষের তোতা হয়ে ওঠা, পুরুষের দাবার বোড়ে হয়ে ওঠাও চলে না। পুরুষ দেবতারা বহু চেষ্টা করেও যখন মহিষাসুরের সঙ্গে পেরে উঠলেন না, তখন তাঁরা সামনে আনলেন দুর্গাকে। মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গার আখ্যানটা এমনই। অতঃপর একেকজন দেবতা দুর্গাকে একেকটা অস্ত্র সরবরাহ করলেন পিছন থেকে। এভাবেই পুরুষের যুদ্ধ পুরুষের অস্ত্র হাতে নিয়ে এক নারী তাঁর নিজের করে নিলেন। ব্যাপারটা কী পরিমাণ কৌতূহলোদ্দীপক ভেবে দেখুন। দুর্গার হাতে অস্ত্র ছিল না। প্রকৃতপক্ষে দুর্গা চরিত্রটাই ছিল না। কী ছিল সে প্রশ্নে পরে আসছি। কিন্তু দুর্গা চরিত্রটা ছিল না, তাঁকে সৃষ্টি করা হল। কারা করল? পুরুষরা। কী জন্যে? পুরুষদের মধ্যেকার একটা যুদ্ধে লড়ার জন্যে। সুতরাং লড়াইটাও দুর্গার নিজের ছিল না। চরিত্র সৃষ্টির পর তাঁকে অস্ত্র ধরানো হল। তারপর সে যুদ্ধে তিনি লড়লেন।
আরো পড়ুন মোগাদিসু থেকে মণিপুর: নারীর শরীর যখন যুদ্ধক্ষেত্র
এমন একটি চরিত্র নারীমুক্তি আন্দোলনের আইকন হতে পারে? অথচ হচ্ছে, এবং বামপন্থীরাই করছেন। দেবী দুর্গা তাঁর নিজের লড়াই লড়েননি, অন্যের লড়াই লড়েছেন। এদিকে বামপন্থীরা তাঁকে নারীমুক্তি আন্দোলনের আইকন বানিয়ে নিজেদের লড়াই লড়তে যাচ্ছেন, অন্যের ভাষ্যের সাহায্যে। ব্রাহ্মণ্যবাদী ভাষ্যের সাহায্যে। ফলে শেষ বিচারে লড়াইটাও তাঁদের নিজেদের হয়ে উঠছে না, অন্যের হয়ে যাচ্ছে। সে কারণেই বারবার আমাদের লড়াইয়ের ফল অন্য কেউ খেয়ে যায়। ভাষ্য যার লড়াই তার, ফলও তার। যেহেতু আমরা আমাদের লড়াইকে অন্যের ভাষ্যের উপর দাঁড় করাই, সেহেতু লড়াইটা অন্যের হয়ে যায়, ফলও অন্যের হয়ে যায়। আমাদের ত্যাগ, তিতিক্ষা বৃথা যায়। লড়াইয়ের ফল অন্যে নিয়ে গেল বলে আজ পর্যন্ত মড়াকান্না যত হয়েছে, তার এক শতাংশ উদ্যোগও খরচ করা হয়নি ভেবে দেখতে, যে এমন কেন হয়। রাজনীতিহীন, তত্ত্বহীন, দর্শনহীন, বোধহীন অ্যাক্টিভিজমের এই হল পরিণাম।
আর্য সমাজব্যবস্থা ছিল পিতৃতান্ত্রিক। কৃষিকাজ না জানা পশুপালনভিত্তিক যাযাবর কিন্তু আদিম সাম্যবাদী একটা সমাজ। লিউইস হেনরি মর্গান এবং ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের লেখা থেকে আমরা বুঝেছিলাম, আদিম সাম্যবাদী সমাজ মাত্রেই মাতৃতান্ত্রিক। কিন্তু দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় এবং অন্যান্যরা দেখিয়েছেন যে একথা ঠিক নয়। ভারতের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা দেখি, যে আদি আর্য সমাজব্যবস্থা আদিম সাম্যবাদী হলেও পিতৃতান্ত্রিক। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির নেতারাও তেমনই ইঙ্গিত করেছেন (দ্রষ্টব্য: শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গের ফ্রম প্রিমিটিভ কমিউনিজম টু স্লেভারি)। বেদ এমনই এক সমাজের সৃষ্টি। ফলে বেদে দেবী প্রায় নেই। এক-আধজন থাকলেও তাঁরা গৌণ চরিত্র। অন্যদিকে গোটা বেদই ভারতীয় উপমহাদেশের তৎপূর্ববর্তী অধিবাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কাহিনী। এই অধিবাসীরা কৃষ্ণকায়, কৃষ্ণকেশী, খর্ব নাসা ও পুরু অধরের অধিকারী। আজও ভারতের মেহনতি জনগণের অধিকাংশ তাঁরাই। এঁদেরই কখনো দাস, কখনো দস্যু, কখনও অসুর অভিধায় আখ্যায়িত করে, এঁদের বিরুদ্ধেই শ্বেত আর্যদের লড়াইকে, এঁদের উপর চালানো হত্যালীলাকে গৌরবান্বিত করে তৈরি হয়েছিল আদি ব্রাহ্মণ্যধর্ম। আজকের হিন্দুধর্মের ওটাই শাঁস।
দুর্গা চরিত্রটা দেবতাদের তৈরি। অর্থাৎ ব্রাহ্মণ্যবাদী আবিষ্কার। আর্যদের দেবী প্রায় ছিলই না। দুর্গা যে চরিত্রের রূপান্তর, তার নাম হল গৌরী। এই গৌরী কৃষিজীবী অনার্য মহিলাদের কৃষি উৎসবের এক রূপক চরিত্র। গৌরীর হাতে অস্ত্র ছিল না, ছিল শস্যের গোছা। সেই শস্যের গোছাকেই কাপড়ে বেঁধে সিঁদুর-কুমকুম লাগিয়ে গ্রামের এক কুমারী মেয়ের হাতে দিয়ে উৎসব পরিক্রমা হত। সেই মেয়েকে ডাকা হত ‘গৌরী’ নামে। গ্রামের সমস্ত মহিলা সমবেত হতেন, সামনে গৌরীকে রেখে বাড়ি বাড়ি যেতেন এবং জিজ্ঞাসা করতেন, ‘গৌরী, গৌরী, কী দেখছ?’ গৌরী বলত, ‘সুখ দেখছি, সমৃদ্ধি দেখছি।’ এভাবেই গোটা গ্রামের সব বাড়িতে কৃষি উৎসবের সুখ, সমৃদ্ধি, আকাঙ্ক্ষার আশীর্বাদ আর কাল্পনিক ফল ছড়িয়ে সে ব্রত উদযাপিত হত। এই ছিল আদি গৌরী ব্রত। এ ছিল একান্তভাবেই মেয়েদের উৎসব। দেবীপ্রসাদ দেখিয়েছেন, কৃষিকাজ যেহেতু মেয়েদের আবিষ্কার, তাই এই কৃষি উৎসবের ব্রতগুলোও ছিল মেয়েদের নিজস্ব, একান্ত। সেখান থেকে আজকের মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গাপুজোর রূপান্তর কত হিংসাত্মক!
সুতরাং আজকের নারীমুক্তি আন্দোলনকে অন্য আইকন নিয়ে ভাবতে হবে, নাড়াচাড়া, পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে। কিন্তু তা কোনোভাবেই জনপ্রিয়তাবাদের চলতি হাওয়ার পন্থী হয়ে দুর্গার টানা টানা চোখ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ার ছবি লাগিয়ে, অসুরনিধনের দামামা বাজিয়ে হবে না। এই সোজা কথাটা বুঝতে অসুবিধা হলে বুঝতে হবে, বাম আন্দোলনের আশু বিজয়ের বিশেষ সম্ভাবনা নেই। পরিষ্কার কথা।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।









এত হাস্যকর লেখা কম পড়েছি। চণ্ডীতেই দুর্গার কত রকম রূপের উল্লেখ আছে, লেখক কি জানেন? জানেন, তাঁদের গাত্রবর্ণ কি? সব অসুর যে কৃষ্ণবর্ণ, এই তথ্যই বা লেখক পেলেন কোথায়? দে দেবী নারীরূপে সমস্ত জীবে বিরাজিতা, জগতের সমস্ত জননী যাঁর প্রকাশ, তিনি পুরুষতন্ত্র বা নারীতন্ত্র—কোনো তন্ত্রেরই অধীন নন, বস্তুতন্ত্রের তো নয়ই। কাজেই লেখকের পক্ষে তা বোঝা অসম্ভব।