সাদত হাসন মান্টোর ‘খোল দো’ গল্পটা একবার পড়লে ভোলা যায় না। দেশভাগ, প্রাণ হাতে করে পালিয়ে বাঁচা উদ্বাস্তু মানুষ। রাস্তাঘাটে, হাসপাতালে, উদ্বাস্তু শিবিরে মৃত এবং মৃতপ্রায় মানুষের ভিড়। পালানোর সময়ে ছুটতে ছুটতে মেয়ে সাকিনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল সিরাজুদ্দিন, স্ত্রীকে ছেড়ে আসতে হয়েছে আগেই। দিনরাত পাগলের মত মেয়েকে খুঁজতে থাকে সে, জনে জনে জিজ্ঞেস করে। লাভ হয় না। কয়েকজন ভরসা দেয়, ঠিক খুঁজে দেব তোমার মেয়েকে। কয়েকদিন পর হঠাৎ কোনো হাসপাতালের দরজায় স্ট্রেচারে শোওয়ানো একটা নারীশরীর চোখে পড়ে, মেয়েকে চিনতে পেরে সিরাজুদ্দিন দৌড়ে যায়। ঘর অন্ধকার, ডাক্তার বলেন ‘জানলা খুলে দাও’। ‘খুলে দাও’ শব্দটা উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে সাকিনার মৃতপ্রায় শরীরে সাড়া জাগে। যন্ত্রণায় প্রায় অসাড় হয়ে যাওয়া হাত দুটো অতি কষ্টে ধীরে ধীরে নিজের পাজামার দড়ি খুলে পাজামা নামিয়ে দেয়।
‘ধর্ষণ’ শব্দটা একবারও ব্যবহার না করে, কোনো বর্ণনার মধ্যে না গিয়ে এই অসহনীয় দৃশ্যটি মান্টো রচনা করেছিলেন। আজ মান্টো বেঁচে থাকলে গল্পের শেষটা নিয়ে কিন্তু আইনি বিতর্ক তৈরি হতে পারত। কারণ এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রামমনোহর নারায়ণ মিশ্র এক সাম্প্রতিক রায়ে বলেছেন, কোনো মহিলার স্তনে হাত দেওয়া (grabbing এর ‘সঠিক বাংলা’ করলে বলতে হয় খামচে ধরা) এবং পাজামার দড়ি খুলে ফেলাকে নাকি ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ বলা যায় না। বিচারক বলেছেন, পকসো আইনের যে ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার মামলা রুজু করা হয়েছিল, সেটা ‘লঘু পাপে গুরু দণ্ড’ (too harsh punishment) হয়ে যাবে, কারণ অভিযুক্তরা যে ধর্ষণ করতেই যাচ্ছিল – এ দুটো জিনিস তার যথেষ্ট প্রমাণ নয়। আইনজীবীকে প্রমাণ করতে হবে যে ওই ঘটনা ধর্ষণের দিকেই (penetrative sexual assault) এগোচ্ছিল।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
ঘটনাটা ২০২১ সালের। হাইকোর্ট থেকে তার রায় বেরোতেই যে চার বছর লেগে গেল, তাতে আমরা আজকাল আর তেমন অবাক বা বিরক্ত হই না। হাজারটা অন্যায় আর বঞ্চনার মুখোমুখি হতে হতে সাধারণ মানুষ বুঝেই নিয়েছেন, কোর্ট কেসে এটুকু দেরি হবেই। আমাদেরই উচিত অনন্তকাল ধৈর্য ধরে বসে থাকা। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট বলে দেশে একটা জিনিস থাকলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা খায় না মাথায় দেয় মানুষ জানেন না, জানার প্রয়োজনও হয় না।
কী ঘটেছিল? চার বছর আগে উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জে ১১ বছরের মেয়েটি মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। পথে পরিচিত দুই যুবক মেয়েটির মাকে বলে, তারা বাইকে করে মেয়েটিকে বাড়ি পৌঁছে দেবে। সেই পৌঁছে দেওয়ার পথেই তারা মেয়েটির স্তনে হাত দেয় এবং টেনে হিঁচড়ে একটি কালভার্টের কাছে নিয়ে গিয়ে তার পাজামার দড়ি খুলে দেয়। মেয়েটির চিৎকার শুনে স্থানীয় মানুষ ছুটে আসায় ঘটনা ওই বীরপুঙ্গবরা আর এগোতে পারেনি। এটুকু বিবরণ প্রায় সব কাগজেই বেরিয়েছে, তাও আরেকবার লিখলাম। আসলে খুন-ধর্ষণ-যৌন নির্যাতন প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমের অসংখ্য শিরোনামে দেখতে দেখতে কিছুটা অভ্যস্ত এবং ক্লান্ত হয়ে অনেক খবরই আমরা পড়ি না, তার গুরুত্ব খেয়াল করি না। ‘এই তো হচ্ছে, আর কী পড়ব’ ভেবে নিজের সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলি। এই শ্বাপদসংকুল অরণ্যে তাকে কেমন করে আরও আগলে বাঁচিয়ে বড় করব – সেসব চিন্তাই মাথায় ভিড় করে। আর আমাদের এই প্রতিটি এড়িয়ে যাওয়া, সামাজিক সমস্যার গভীরে ঢুকতে না চাওয়া আরও ভয়ংকর অপরাধের জন্ম দেয়।
জলিএলএলবি ২ (২০১৭) ছবিতে বিচারকের একটি সংলাপ ছিল ‘আজও এই দেশে দুজনের তুমুল ঝগড়া হলে একজন আরেকজনকে বলে – আই উইল সি ইউ ইন দ্য কোর্ট। মানুষ বিশ্বাস করে, পাড়াপ্রতিবেশী, পুলিশ প্রশাসন, অন্য কেউ তাদের কথা না শুনলেও আদালত তাদের কথা শুনবে, তাদের ন্যায়বিচার দেবে।’ সিনেমার জজরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারই করেন। জীবনে না হোক, পর্দায় এসব দেখে আমাদের মনেও খানিক আশা-ভরসা জাগে। কাসগঞ্জের মেয়েটির মা-বাবাও বুকে আঁকড়ে ধরা পুঁটুলির মত সেই আশা-ভরসার সম্বল নিয়েই আদালতের দরজায় গিয়েছিলেন। ঘুম না আসা রাতে মেয়ের পিঠে হাত রেখে নিশ্চয়ই ভরসা দিয়েছেন – চিন্তা করিস না মা। আমরা কোর্টে যাব, কোর্ট ওদের শাস্তি দেবে।
কাসগঞ্জের আদালত পকসোর ১৮ নম্বর ধারায় ধর্ষণের চেষ্টার (attempt of rape) অপরাধে অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করেছে, মামলা গেছে হাইকোর্টে। স্বাভাবিকভাবেই অপরাধীরা শাস্তি কমানোর আবেদন করেছে। নির্যাতিতার বাড়ির লোক হয়ত ভেবেছেন, তাঁদের রাজ্যে এবং দেশে যে সরকার ক্ষমতায় বসে আছে, তাদের যখন ‘বেটি বচাও বেটি পঢ়াও’ বলে একটা প্রকল্প আছে, তার রাস্তাজোড়া বিজ্ঞাপনও আছে, তখন এক বেটির সাথে হওয়া এত বড় অন্যায় উচ্চতর আদালত অন্তত মানবে না, কড়া শাস্তিই দেবে। হল ঠিক উল্টো। ধর্ষণের চেষ্টায় যেখানে শাস্তি ন্যূনতম দশ বছরের জেল, সেখানে এলাহাবাদ হাইকোর্ট ওই শাস্তি খারিজ করে পকসো আইনের অন্যান্য ধারায় (এর মধ্যে একটা হল ৩৫৪বি – বিবস্ত্র করার চেষ্টা, যার ন্যূনতম শাস্তি মাত্র তিন বছরের জেল) মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে, যার শাস্তি কম। বিচারপতির যুক্তি একেবারে ‘অকাট্য’। ঘটনা যে সত্যিই ধর্ষণের দিকে এগোচ্ছিল তার প্রমাণ কই?
কীভাবে প্রমাণ হবে, জজসাহেব? সুস্থ মস্তিষ্ক বলে – বলপূর্বক একটি মেয়ের পাজামার দড়ি খুলে ফেলা যদি ধর্ষণের চেষ্টার প্রমাণ না হয়, তাহলে এর নিশ্চিত প্রমাণ হতে পারত একটিমাত্র পথেই। যাঁরা সেদিন মেয়েটির আর্তনাদ শুনে দৌড়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের উচিত ছিল বাধা না দিয়ে ঘটনাটি আরও কিছুদূর, অন্তত আইনের ভাষায় ওই penetrative sexual assault পর্যন্ত এগোতে দেওয়া। সেক্ষেত্রে মেয়েটি ক্ষতবিক্ষত, জীবিত বা মৃত – যে অবস্থাতেই বাড়ি ফিরুক, ধর্ষণের চেষ্টা নিয়ে অন্তত বিচারপতির সংশয় থাকত না।
বিএড পড়ার সময়ে পকসো আইন সম্পর্কে কিছু কথা পরীক্ষার প্রয়োজনেই মুখস্থ করেছিলাম। জানতাম, নাবালকদের উপর যৌন অত্যাচার ঠেকাতে খুব কড়া রকম একখানা আইন আছে আমাদের দেশে। অথচ এই ঘটনাটি নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করতে গিয়ে নতুন করে টের পেলাম – আইন জিনিসটি নেহাত কাগুজে। তাকে প্রয়োগ করবে যে ব্যবস্থা, এ সমাজের সমস্ত কাঠামোর মতই তাতেও ভয়ানক ঘুণ ধরেছে। নারী নির্যাতনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে স্বয়ং বিচারক শাস্তি কমানোর ফিকির খুঁজছেন। ধর্ষণের প্রস্তুতি আর ধর্ষণ করতে যাওয়ার মধ্যে কতখানি ফারাক, কোনটায় কতটুকু দোষ, নির্যাতিতা কতখানি প্রতিরোধ করতে পেরেছিল – এসবের চুলচেরা বিচার চলছে। আইনে ‘শিশুদের সুরক্ষা’ বা মানুষের সুরক্ষার কথা যা-ই থাক, অন্যায়ের শিকার হওয়ার পর, নিম্ন আদালতে তা প্রমাণিত হয়ে যাওয়ার পরও সেই অন্যায় ফের প্রমাণ করার দায় যে শিকার তার উপরেই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ কোনো সাধারণ মানুষ যদি ভাবেন – আদালতে গিয়ে ভয়ংকর হয়রানি ছাড়া বিশেষ কিছু পাওয়ার নেই, তাহলে তাঁকে দোষ দেওয়া যাবে না।
এ পর্যন্ত পড়ে কারোর যদি মনে হয় যে একটু বেশি বলা হয়ে যাচ্ছে, কয়েকটা ঘটনা মনে করতে বলব। এই রায় কিন্তু হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়েনি। বিলকিস বানো মামলার ধর্ষক-খুনিরা স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ছাড়া পেয়েছিল, ফুলমালা পরিয়ে মিষ্টি খাইয়ে রীতিমত ভিআইপি ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছিল তাদের। পরে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তাদের কারাগারে ফেরত যেতে হয়।
হাথরাসে নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রমাণ লোপাটের জন্য, সেখানে যাওয়ার পথেই গ্রেফতার করা হয় সাংবাদিক সিদ্দিক কাপ্পানকে। কাঠুয়ায় আট বছরের মেয়েটির ধর্ষক-খুনির সমর্থনে মিছিলেও হেঁটেছেন বিজেপি মন্ত্রীরা। পকসো মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের আলোচ্য রায়ের পরে বম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ ২০১৩ সালের একটি ঘটনায় দেড় বছরের শিশুকন্যার ধর্ষকের কারাবাসের মেয়াদ যাবজ্জীবন থেকে কমিয়ে ‘দশ বছরই যথেষ্ট’ বলে দিয়েছে।
আরো পড়ুন বিলকিস বানো: ছাত্রীর সঙ্গে অসমাপ্ত আলোচনা
তালিকা আর বাড়ালাম না। বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক অধিকার আগে সুরক্ষিত ছিল এমন আদৌ নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই অবিচার, বিচারের নামে প্রহসন চলেছে, একের পর এক কালা কানুন জারি হয়েছে কংগ্রেস আমলে। তবে আদালতের পক্ষপাতদুষ্টতা, নারী নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা সহ অজস্র ঘটনায় অপরাধীদের শাস্তি না হওয়া, শাসক দলের মদতে নির্যাতিতের উপর চাপ দেওয়া ইদানিং যেভাবে জলভাত হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার কৃতিত্ব অবশ্যই নরেন্দ্র মোদীর সরকারের। এখন কেউ বলতেই পারেন, মোদীজির পরম বন্ধু আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামেই যেখানে ধর্ষণ এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগ প্রমাণিত, সেখানে বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা তো চুনোপুঁটি। হাজার অপরাধী আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাক, তবু একজন নির্দোষও যেন শাস্তি না পায় – এরকম একটা কথা ভারতীয় আইনে আছে বলে শুনেছি। এখন চারপাশে তাকালে মনে হয়, কথাটার শেষার্ধ উল্টে গেছে। অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে তো বেরোচ্ছেই, অন্যদিকে হাজার হাজার নির্দোষ নিরপরাধ মানুষ শাস্তি পাচ্ছেন।
বিচারব্যবস্থার মান এবং ‘মাননীয়’ বিচারপতি হয়ে যাঁরা চেয়ারে বসছেন, তাঁদের অনেকের মানসিকতা কোথায় নেমেছে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। নিন্দার ঝড় ওঠার পর সুপ্রিম কোর্ট এই রায়কে ‘অসংবেদনশীল’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং স্থগিতাদেশ দিয়েছে। কিন্তু তাতে উল্লসিত হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। এর চেয়েও ভয়ানক অপরাধ এ কোর্ট সে কোর্টে চালান হতে হতে একসময় থিতিয়ে গেছে। অপরাধীরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে অথবা কম মেয়াদের সাজা পেয়েছে, বরং নির্যাতিত বা নির্যাতিতার জীবন নরক হয়ে গেছে – এমন উদাহরণ একাধিক। জেনে রাখা ভাল, হাইকোর্টের এই রায়ের বিরূদ্ধে সওয়াল করার সময়ে যে আইনজীবী ‘বেটি বচাও বেটি পঢ়াও’ প্রসঙ্গ তুলেছিলেন, তাঁকে শুনতে হয়েছে ‘কোর্টে এ সব লেকচার চলবে না।’ আর সুপ্রিম কোর্ট, সিবিআই তদন্ত – এই শব্দগুলো সম্পর্কে মানুষের যে শেষ প্রত্যাশা খড়কুটোর মতো বেঁচে ছিল, পশ্চিমবঙ্গে আর জি কর মামলার তদন্ত দেখে এবং অতি সম্প্রতি শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের রায়ের পর সেটুকুও অবশিষ্ট থাকা মুশকিল। কাজেই সুপ্রিম কোর্টের এই স্থগিতাদেশকে মানুষের জমে ওঠা ক্ষোভের উপর একটু প্রলেপের বেশি কিছু ভাবা যাচ্ছে না।
তাহলে এই জমাট অন্ধকারে শেষ পর্যন্ত আমাদের হাতে রইল কী? আমরা চাইলে থাকতে পারে এই চেতনাটুকু যে, আজকের সমাজে গণতন্ত্রের ঠাটবাট আর খোলস ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই। ন্যায়ের মূর্তি চোখ খোলা বা বন্ধ যা-ই হোক না কেন, শিক্ষা-চাকরি-স্বাস্থ্যের মতই বিচার পাওয়ার অধিকারও মূলত আম্বানি-আদানি আর তাদের ভায়রাভাইদের। এই পুঁজিতন্ত্রে বিচারব্যবস্থা শেষপর্যন্ত পুঁজিবাদী রাষ্ট্রেরই রক্ষক, আমার আপনার নয়।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায় সমাজের ঠিক কতটা ক্ষতি করল? মেয়েদের উপর (এক্ষেত্রে নাবালিকা) যৌন নির্যাতনের মত একটি ভয়ংকর বিষয়ে বিচারব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ঢিলেঢালা পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব প্রকাশ পেল। দুষ্কৃতীরা আরও বেপরোয়া হওয়ার সবুজ সংকেত পেল। এ তো একটা দিক। আরও গভীর ক্ষত কিন্তু তৈরি হল নিগৃহীতা মেয়েটির মনে। তার আশৈশব গড়ে ওঠা ন্যায়-অন্যায় উচিত-অনুচিতের ধারণাগুলি যে প্রচণ্ড ধাক্কা খেল, সমাজের আইনকানুন সম্পর্কে তার আস্থা গড়ে ওঠার আগেই যেভাবে তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ল, তার কি কোনো মেরামতি সম্ভব? কিছু মানুষ মার খেতে খেতে রুখে উঠতে শেখে। আবার প্রতিকারহীন অন্যায় সহ্য করতে করতে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর, নিজে অন্যায় না করার ইচ্ছেটা মরেও যায় অনেকের। বঞ্চনা থেকে অনেক সময় ভবিষ্যতের আরও অনেক অপরাধের বীজ তৈরি হয়। মানুষের সুস্থ মনকে এভাবে তিলে তিলে নষ্ট করে যে সমাজ, তার বিচার করবে কোন আদালত?
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








