কিছুদিন আগেও টিভি খুললে যে কোনো অনুষ্ঠানের মাঝে বিজ্ঞাপনী বিরতিতে চলে আসতেন বিদ্যা বালন। আপামর ভারতকে বুঝিয়ে দিতেন ‘যেখানে ভাবনা সেখানে শৌচালয়’। তা তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশে শৌচালয় অত্যন্ত জরুরি জিনিস তো বটেই। তা নিয়ে প্রচারাভিযানও জরুরি বইকি। বছরখানেক আগে, আর জি কর আন্দোলনের সেই সাড়া জাগানো রাতদখলের রাত্রিবেলাতেই যে মেয়েটির গলা শরীর থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল, মনে করে দেখুন, তার জন্য অনেকখানি দায়ী ছিল একটি শৌচালয়। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে রাতের আঁধারে তাকে ঘর থেকে বেরিয়ে একটু দূরে যেতে হয়েছিল, আর সেই সুযোগে নিতান্ত সহজেই তাকে নাগালে পেয়ে গিয়েছিল আততায়ী। তবু সেখানে ঘরের লাগোয়া না হলেও একটি শৌচালয় ছিল বলে জানা যায়। কিন্তু পরিসংখ্যান এও জানায় যে, এ দেশে বহু মেয়ে ধর্ষিতা হন ওই শৌচালয় না থাকার কারণেই। আব্রু রাখার দায়ে তাঁদের খুঁজে নিতে হয় গোপন কোনা-খামচি, আঁধারের আড়াল। যে গোপনতা নির্যাতনকারীকেও আবডাল জুগিয়ে দেয় একইসঙ্গে।

প্রতিটি বাড়িতে শৌচালয় বানানো কেন জরুরি, তার যুক্তি হিসাবে বিজ্ঞাপনী প্রচারে একথা বলা যেতেই পারত। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারপোষিত এই প্রচারাভিযান শৌচালয় বানানোর জন্য সবচেয়ে জোরালো যে যুক্তিটি খুঁজে পেয়েছিল, তা হল মেয়েদের আব্রু রক্ষা। বাড়ির মেয়ে-বউকে বাইরে পাঠানো যাতে বন্ধ করা যায়, সেইজন্যই শৌচালয় বানানো প্রয়োজন – এমন কথা বোঝানো হচ্ছিল ভারতীয় পুরুষদের। আরও বলা হচ্ছিল, এই যে মেয়েরা ঘোমটা দেয় বা পর্দা করে, শৌচালয় ছাড়া তাদের প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যাওয়া মানে আসলে সেই আব্রু খুলে যাওয়া। যাঁরা একথা বলছিলেন তাঁরা কি বোঝেননি, একথা বলা মানে প্রকারান্তরে মেয়েদের অবগুণ্ঠন রাখার দায়কেই মান্যতা দেওয়া হচ্ছে? স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য অতীব প্রয়োজনীয় স্যানিটারি প্রিভি যেন হয়ে দাঁড়াচ্ছে পর্দানশিনদের পর্দার আড়ালে রেখে দেওয়ার আরও একটি অমোঘ উপায়!

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

ধান ভানতে এতক্ষণ ধরে শিবের গীত গাওয়ার কারণ – voyeurism-এর সঙ্গে পিতৃতান্ত্রিক শৃঙ্খল কীভাবে গোপনে যোগাযোগ তৈরি করতে পারে তা বোঝার চেষ্টা। এ লেখা লেখার ভিত্তিসূত্র হিসাবে হাজির ছিল দুটি ঘটনা। এক, টিভি চ্যানেলের প্রাইম টাইম শো-তে ধর্ষণের ভিডিও প্রদর্শন; দুই, রাজ্যস্তরের টেনিস খেলোয়াড় তরুণীর নিজের বাবার হাতে খুন হয়ে যাওয়া। স্থান কাল পাত্রের বিচারে সম্পূর্ণ আলাদা দুটি ঘটনাকে কোথাও কি আসলে জুড়ে দিচ্ছে একটি সুতো, যার নাম নারীবিদ্বেষ? এই প্রশ্ন তলিয়ে দেখার ভাবনাতেই এ লেখার শুরু। আর যেখানে ভাবনা, সেখানে শৌচালয়ের প্রসঙ্গ আসা আর নতুন কী! কেন্দ্রীয় সরকারের কথামাফিক ভাবতে গিয়েই এসে পড়ল এত কথা, যা থেকে একটি বিষয় খানিকটা স্পষ্ট। মেয়েদের বাইরে যাওয়া কিংবা সমাজনির্দিষ্ট আব্রুর ধারণা থেকে সরে যাওয়া (অবগুণ্ঠনের সূত্র টেনে পোশাকের ক্ষেত্রেই ধরা যাক আপাতত), তা প্রাকৃতিক প্রয়োজনে হোক কি স্বেচ্ছানির্বাচনে, দেখা যাচ্ছে তার সঙ্গে পিতৃতন্ত্রের অন্তত দুটি দিক জড়িয়ে যাচ্ছে। একদিকে ওই অজুহাতে উন্মুক্ত নারীকে দৃষ্টিলেহনের সুখ খুঁজে নিচ্ছে পুরুষদের একাংশ। অন্যদিকে, সেই প্রবণতাকে প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে টেনে এনে নারীর ওই কাজগুলির সামনে কাঁটার বেড়া তুলে দিতে চাইছে গোটা পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা। ঠিক যেমনটা আমরা দেখলাম ওই শৌচাগারকেন্দ্রিক সরকারি প্রকল্পটির মধ্য দিয়ে। টয়লেট: এক প্রেমকথা-র বলিউডি নির্মাণে হয়ত বাড়ির বউয়ের প্রাথমিক জৈবিক প্রয়োজনের কথা ভাবার জায়গাটুকু আসতেও পারে, কিন্তু বাস্তবের সরকারি প্রকল্পে মেয়েদের সুবিধাকে ছাপিয়ে উঠছে পিতৃতন্ত্রের ধারণায় মেয়েদের আব্রু রক্ষা তথা পারিবারিক পিতৃতন্ত্রের সম্মানরক্ষার ভাবনা। যেমনটা আমাদের দেখিয়েছিলেন সাধনা আর্য।

২০০০ সালে উইমেন, জেন্ডার ইকুয়্যালিটি অ্যান্ড দ্য স্টেট বইতে তিনি বলেছিলেন, আটের দশকে এ দেশে নারী সংক্রান্ত আইনে যা কিছু পরিবর্তন ঘটেছিল, তা ভারতীয় নারীর সামাজিক অবস্থান বদলাতে আদৌ সাহায্য করেনি। বরং আইনই নারীকে সহনাগরিক, সমনাগরিকের মর্যাদা না দিয়ে তাকে একাধিক পিতৃতান্ত্রিক আলঙ্কারিক ভাষায় বন্দি করে ফেলেছে, যেখান থেকে ‘খারাপ মেয়ে’ আর ‘ভাল মেয়ে’-র বাইনারি সমাজে আরও চেপে বসেছে। এই পিতৃতান্ত্রিক ছকে বাঁধা ধারণাগুলির মধ্যে খুব গুরুত্বপূর্ণ দুটি শব্দবন্ধ তুলে আনা যায় – ‘মেয়ে-মা-বোন’ এবং ‘পারিবারিক মর্যাদা’। বাড়ির মেয়েদের কাজে পান থেকে চুন খসলেই পরিবারের মুখে চুনকালি পড়ে, অতএব বাড়ির সম্মানরক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব বর্তাচ্ছে মেয়েদের উপরেই। দেশ চাঁদে পৌঁছে গেলেও এ ভাবনা আমূল পালটানোর কোনো ইঙ্গিত এখনো দেখা যাচ্ছে না। বাড়ির বাইরে যাওয়া, ফিরতে দেরি হওয়া, পোশাক নির্বাচনে পারিবারিক নির্দেশের বদলে নিজের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়া, প্রেমে পড়া, পুরুষ বন্ধু থাকা বা পুরুষের সঙ্গে কথা বলা কি কাজ করা; এমনকি কলেজে যাওয়া, চাকরি করা বা প্রয়োজনে তর্ক করা ইত্যাদি নানারকম কারণেই পরিবারতন্ত্রের রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। উপরন্তু রোগীকে কুপথ্য দেওয়া, অর্থাৎ মেয়েটি পরিবারকে কীভাবে ‘কলঙ্কিত’ করছে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর জন্য সমাজ হামেহাল হাজির। দুয়ের মণিকাঞ্চন যোগে কখনো দেখা যায় ভিন্ন ধর্মে বিয়ের ‘অপরাধে’ মেয়ের শ্রাদ্ধ সারছে বাড়ির লোক, কখনও মেয়ের বুকে রিভলভারের চেম্বার খালি করে দিচ্ছেন খোদ বাবা।

রাধিকা যাদবের ঘটনা বস্তুত বুঝিয়ে দিল যে পিতৃতন্ত্রের এই কাঠামোয় দাঁড়িয়ে ‘অনার কিলিং’-কে স্রেফ একমাত্রিকভাবে আর দেখা চলে না। কেন না পিতৃতন্ত্রের ‘অনার’-এ আঘাত লেগে যেতে পারে মেয়েদের সামান্যতম নড়াচড়াতেও (যেমন রাধিকা হত্যার কারণ হিসাবে তার টেনিস কোচ হওয়া, টেনিস অ্যাকাডেমি চালিয়ে রোজগার করা, রিল বানানো – এমন নানাবিধ আচরণের কথা উঠে আসছে) এবং তার প্রতিক্রিয়া হিসাবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মেয়েদের মুছে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও অনিবার্য হয়ে উঠছে।

এই প্রক্রিয়া যে নানা চেহারায় রমরমিয়ে চলতে পারে, বলাই বাহুল্য তার নেপথ্যে রয়েছে নারীকে দেখার পিতৃতান্ত্রিক চোখ। নিজের মসনদ টিকিয়ে রাখার দায়েই পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থা মেয়েদের দেখতে এমন দূরবিন ব্যবহার করে যা তাদের মানবিক সত্তাকেই স্বীকার করে না। অতএব একক স্বাধীন মানুষ হিসাবে তাদের নিজস্ব মত বা নির্বাচনটাই সেই ভাবনায় অস্তিত্বহীন। গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ র‍্যাঙ্কিং-এ অমৃতকালের ভারত যখন ১৪৮টা দেশের মধ্যে ১৩১-এ নেমে দাঁড়ায়, তখন সেই লিঙ্গবৈষম্যের চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে। বোঝা যায়, বাইরের দুনিয়ায় মেয়েদের কাজের জায়গা অল্পবিস্তর তৈরি হতে পারে, কিন্তু মনের ঘরে মেয়েদের জায়গা বরাদ্দ হচ্ছে কোনো এক অন্ধ চোরাকুঠুরিতেই। কেমন সে কুঠুরি?

‘এদের প্রত্যেকের মনের মধ্যে একটা দো-মহলা ভাগাভাগি আছে… কর্মজীবন ও বহির্জগৎ সম্বন্ধে তাদের ধ্যানধারণার বাইরে, অন্য আর একটা মহল আছে। গোপন, সম্পূর্ণ আলাদা, যেখানে তারা মেয়েদের বিষয়ে নিজেদের ধারণা, ভাবনা, অনুভূতি পুষে রাখে।

ওপরদিকে সবচেয়ে কোমল মনোভাবটা… ‘সংসার’ আর ‘মা’কে ঘিরে। যত নরম, কোমল শ্রদ্ধা আর প্রীতিপূর্ণ বিশেষণ, সেই অংশের জন্যে।…

তলার আধখানাতে— ওরা সম্পূর্ণ অন্য একটা চিন্তাগুচ্ছ পুষে রাখে। এখানে, এমনকি তার এই স্বচ্ছমনা ভালোমানুষ স্বামীটিরও স্মৃতিতে রয়েছে পুরুষমানুষদের আড্ডায় শোনা গল্পগুজব, রাস্তায় কিংবা ট্রেনে শোনা আরও খারাপ কথা, যত রাজ্যের নীচ অভদ্র শব্দ, স্থূল চিন্তা, আর বাজে অভিজ্ঞতার অসভ্য স্মৃতি— যদিও সেসব ওর নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা নয়— তবুও ওর সঞ্চিত জ্ঞানের ভাণ্ডারের অংশ তো? আর এইসব স্থূল চিন্তা, এইসব অসভ্য রসিকতা, অভদ্র শব্দ, সমস্তই ভরা আছে ‘মেয়েমানুষ’ এই বিভাগে।’

আরো পড়ুন স্মৃতি সিংকে আক্রমণ: বোঝা গেল ভারতীয় সমাজ বিশেষ বদলায়নি

কোনো ধর্ষক-নির্যাতক সম্বন্ধে নয়, ভদ্র ভাল সাধারণ মধ্যবিত্ত পুরুষমানুষ, বেশিরভাগই বিবাহিত এবং সুখী, তাদের ‘আঁতের কথা’-কে এইভাবেই খুঁজেপেতে দেখেছিলেন শার্লট পারকিন্স গিলম্যান, তাঁর ‘যদি আমি পুরুষ হতাম’ গল্পে। হলদে ওয়ালপেপার ও অন্যান্য বইয়ে এ গল্পের অনুবাদ করতে করতে নবনীতা দেবসেন মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘এটা হচ্ছে আসলে পুরুষদের পৃথিবী। যেমনটি করে তারা তৈরি করেছে, ঠিক যেমনভাবে তারা গড়েছে পৃথিবীকে।’ শার্লট আমেরিকান পুরুষমানুষদের মধ্যে যে প্রবণতাকে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন, ভারতীয় কিংবা বাঙালি সমাজে পুরুষকে দেখার অভিজ্ঞতায় নবনীতাও কি আর পুরুষমনে ‘মেয়েমানুষ’ বিভাগের সেই দো-মহলা ভাগাভাগি চেনেননি? Voyeurism-এর সঙ্গে পিতৃতন্ত্রের যোগ খুঁজতে গিয়ে এতক্ষণ যা কথা হচ্ছিল, এই গল্পের অংশটুকু থেকে সেই পুরনো নকশাকেই চিনে নিতে পারি আমরাও। সঙ্গে আরও একটু কথা বুঝতে পারি, কেবল ‘ওরা’ নয়, বুঝে না-বুঝে এই voyeurism-এর শরিক ভদ্রলোকি ‘আমরা’-ও। এখানে দেখা যাচ্ছে সেই ‘মা-বোন’-এর চিরচেনা অলঙ্কার, ভদ্র পুরুষমনে যার জন্য বরাদ্দ হচ্ছে ‘যত নরম, কোমল শ্রদ্ধা আর প্রীতিপূর্ণ বিশেষণ’। উপর মহল, কিংবা বাহির মহলের এই ভদ্র পরিশীলিত মনোভাবের তলায় থেকে যাচ্ছে যে বাকি আধখানা মনোজগৎ, সেখানে রসেবশে বেড়ে উঠছে লকার রুমের নারীবিদ্বেষী চুটকি, অফিস আড্ডায় সহকর্মিণীর পদোন্নতি পাওয়ার নেপথ্য কেচ্ছাসন্ধান, চলতি ফিরতি রাস্তায় কোনো মেয়ের ‘মাপ’ বুঝে নেওয়া, হালকা কিংবা ভারি যে কোনো কথার মাত্রা হিসাবে ব্যবহৃত গালাগালি, যা আদতে প্রতিপক্ষের মা-বোন-বউকে ধর্ষণের ইচ্ছার প্রকাশ। যে কোনো ছেলেদের মেস বা হোস্টেলের আশেপাশের বাড়ির মেয়েরা চেনে জিভ-বেরিয়ে-আসা এই হায়নাচোখগুলোকে, যেখানে লুকিয়ে দেখার মধ্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে প্রবল নিয়ন্ত্রণকামিতা— যা ফের, পিতৃতন্ত্রের নারীর প্রতি আচরণের প্রধান চারিত্র্য। যদিও সেসব মেস-হোস্টেলের বাসিন্দাদের অধিকাংশই তো ওই গল্পের ভদ্র ভাল পুরুষ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এ কথাও সবার জানা, যে কোনো ধর্ষণের পর পর্ন সাইটে ট্রেন্ডিং সার্চে উঠে আসে ধর্ষিতার নাম, সে আট বছরের আসিফা হলেও। গল্পকথকের ‘স্বচ্ছমনা ভালোমানুষ’ স্বামীটির মত কেউ সে অভিজ্ঞতায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ না করার যুক্তি দিতেও পারেন। কিন্তু আর জি করের বিচার চাইতে গিয়ে যাঁরা ভাইরাল করে দেন মৃতার দুই পা ফাঁক করে পড়ে থাকা, অর্ধনগ্ন, মাটিতে গড়াগড়ি খাওয়া দেহ; যাঁরা তথ্য খুঁজে ফেরার যুক্তিতে বলতে থাকেন ধর্ষিতার যোনিতে ঠিক কত গ্রাম বীর্য মিলেছে, যাঁরা চ্যানেলে চ্যানেলে পেশ করতে থাকেন ধর্ষণের ভিডিওগ্রাফিক বর্ণনা— তাঁরা প্রত্যেকে ‘ওরা’? ‘আমরা’ কেউ নই?

মেয়েদের অস্তিত্বহীন অপর বলে ভাবতে ভাবতে প্রতিদিন তাদের শরীর চেটেপুটে দৃশ্যসুখ লুটে নেওয়ার পরোয়ানা সই করেছে পিতৃতন্ত্র। আর ভাবের ঘরে চুরি করে আমরা সে দায় এক-একজন ধর্ষক-নির্যাতকের কাঁধে চাপিয়েই নিশ্চিন্ত হয়েছি। আজকে টিভি চ্যানেলে ধর্ষণের ভিডিও সম্প্রচার করা হলে আমাদের সেই বানানো আব্রুটাতেই কেবল টান পড়ে। বাকি কাপড় তো আমরা কবেই খুইয়ে বসেছি।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.