৯ জুলাই কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও কর্মচারী ফেডারেশনগুলোর ডাকা দেশজোড়া সাধারণ ধর্মঘটে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ অংশ নিলেন। কৃষক, ছাত্র, যুব, মহিলা সংগঠন সহ বিভিন্ন গণসংগঠন এই ধর্মঘটকে সমর্থন করেছিল। ব্যাঙ্ক, বিমা, বিদ্যুৎ, খনি, ইস্পাত সমেত বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে ধর্মঘট যেমন সফল হয়েছে, তেমন অনেক জায়গায় অঙ্গনওয়াড়ি, আশা, মিড ডে মিলের মত প্রকল্পের কর্মীরাও ধর্মঘটে যোগ দেন। দেশের অধিকাংশ মূলধারার সংবাদমাধ্যমে স্থান না পেলেও, সোশাল মিডিয়ায় আমরা বিভিন্ন রাজ্যে শিল্প শ্রমিক, প্রকল্প কর্মীদের বড় বড় মিছিল, অবস্থানের চিত্র দেখতে পেয়েছি। বিহারে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ পরিমার্জন নীতির বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের প্রতিবাদ সে রাজ্যে এই ধর্মঘটকে সর্বাত্মক করে তোলে।
মোট ১৭ দফা দাবিতে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম দাবি ছিল শ্রম কোড বাতিল করা। এছাড়া সব শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক ২৬,০০০ টাকা মজুরি, ৯,০০০ টাকা পেনশন ও সম কাজে সম বেতন, মনরেগা প্রকল্পে একশো দিনের কাজকে ২০০ দিন করা এবং দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকার করার দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক, গিগ কর্মী, প্রকল্প কর্মীদের অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিও স্থান পায়।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
ধর্মঘটে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সর্বজনীন গণবন্টন ব্যবস্থা, বেসরকারিকরণ বন্ধের দাবি যেমন ছিল, তেমনই স্বামীনাথন কমিশনের প্রস্তাবিত সূত্র মেনে খরচের দেড় গুণ ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য, কাজের অধিকারকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সকলের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি দাবিও তোলা হয়েছিল। বনাধিকার আইন প্রয়োগ, ২০২৩ সালের বন সংরক্ষণ আইন ও জৈব বৈচিত্র্য আইন সংশোধন বাতিল করে বনবাসীদের উচ্ছেদ বন্ধ করাও ছিল ধর্মঘটের অন্যতম দাবি।
পশ্চিমবঙ্গেও বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে ধর্মঘট সফল হয়েছে। বিশেষত জুটমিলগুলোতে শ্রমিকরা ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন। এমনকি কলকাতায় ওলা, উবের চালকরাও ধর্মঘটে সামিল হয়েছিলেন। এই রাজ্যে ধর্মঘটের ভিন্ন রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ডাকা বনধও ব্যর্থ করতে গা জোয়ারি করে আসছে। প্রশাসন ও শাসক দলের কর্মীবাহিনী ধর্মঘট সমর্থনকারীদের উপর হামলা চালানোর কৌশল এবারেও নিয়েছিল। পুলিসের দুর্বৃত্তসুলভ আচরণ ইদানীং সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ধর্মঘটের দিনেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তৃণমূলের পাশাপাশি বিজেপিও ধর্মঘট ব্যর্থ করতে রাস্তায় ছিল। কোথাও কোথাও বিজেপি বিধায়ক রাজ্য পুলিসের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধর্মঘটের মোকাবিলায় রাস্তায় নেমেছিলেন।
তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থানের মিল আবার প্রমাণিত হল। বামেরা রাস্তায় নেমে ধর্মঘট সফল করতে অনেক বেশি সক্রিয় ছিল। বহু জায়গায় পুলিস, তৃণমূল, বিজেপির যৌথ বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। ট্রেড ইউনিয়নগুলোও ধারাবাহিক প্রচারের পর ধর্মঘটের দিনেও সক্রিয় ছিল।
শ্রমিক-কর্মচারীদের সমর্থন ছাড়া এমনভাবে ধর্মঘট সফল হতে পারে না। তাঁরা নিত্যদিনের তিক্ত যন্ত্রণাজনিত ক্ষোভে এই ধর্মঘটে অংশ নেন। বেশিরভাগ শ্রমিক-কর্মচারীর নির্দিষ্ট কাজের সময়, কাজের নিশ্চয়তা থাকছে না। মে দিবসের অর্জিত আট ঘন্টা কাজের অধিকার বহুক্ষেত্রেই অতীত হয়ে গেছে। ন্যূনতম মজুরির নিশ্চয়তা যেমন নেই, তেমন মজুরি বকেয়াও থাকছে। অস্থায়ী শ্রমিকদের তো কোনো অধিকারই থাকছে না। অবাধে ছাঁটাই করে দেওয়ার অঘোষিত অধিকার দেওয়া হয়েছে মালিকদের। কারখানায় কারখানায় মালিক, শাসক দল ও প্রশাসনের বোঝাপড়ায় চলছে শ্রমিক শোষণ। সেই শোষণকেই আইনসিদ্ধ করতে নরেন্দ্র মোদীর সরকার এনেছে শ্রম কোড। প্রতিবাদ করা, সংঘবদ্ধ হওয়ার অধিকারও সংকুচিত করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকার মুখে বলছে, শ্রম কোড এই রাজ্যে কার্যকরী হবে না। খাতায় কলমে চালু না হলেও বাস্তবে কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের কোনো অধিকারই থাকছে না। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষাগুলোও সংকুচিত হয়েছে। বিভিন্ন অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ছিল। তৃণমূলের আমলে সেগুলোকে একত্রিত করে সামাজিক সুরক্ষা যোজনা করা হয়। শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র অনুযায়ী আলাদা আলাদা কল্যাণ তহবিল না রেখে সব একত্রিত করে, তহবিলের অর্থ অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষার অনেক সুযোগ খাতায় কলমে থাকলেও, কার্যত শ্রমিকরা পাচ্ছেন না।
অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের অবশ্য ধর্মঘটে সামিল হওয়া কঠিন। যেমন কঠিন ছোট ছোট কারখানার শ্রমিকদের। মালিক-শাসক দলের মেলবন্ধনে আক্রান্ত ও ছাঁটাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। বাসচালক তো বটেই, টোটো এবং অটো চালকদের মত পরিবহন শ্রমিকদেরও ধর্মঘটে সামিল হলে পরদিন থেকে রুজি বন্ধের আশঙ্কা থাকে। গিগ কর্মীদের তো সংগঠিত হওয়াই কঠিন। কোম্পানিগুলো তাঁদের শ্রমিক হিসাবে স্বীকৃতিই দেয় না। তাঁদের যখন তখন ছাঁটাই করা যায়, রেটিং কম হলে কম টাকা দেওয়া যায়। আবার শ্রমিকের স্বীকৃতি না দিয়ে, প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে তাঁদের শ্রমশক্তি কেনা যায়। সময়ের সঙ্গে আক্ষরিক অর্থেই তাঁদের ছুটে বেড়াতে হয়। এক সেকেন্ডও দেরি করার জো নেই। ছুটতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত, এমনকি নিহত, হওয়ার ঘটনাতেও সরকারের হুঁশ হচ্ছে না। এঁদের পক্ষে ধর্মঘটে সামিল হওয়া কঠিন। তবুও ইউনিয়ন গড়ে তুললে দাবি দাওয়া জানানো যায়, ধর্মঘটেও সামিল হওয়া যায়। যেমন হয়েছিলেন ওলা, উবের চালকরা।
প্রকল্প কর্মীদের উপরে থাকে শাসক দলের নজরদারি। তাঁদের সরকারি কর্মচারির স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। প্রকল্পের বাইরেও নানা সরকারি কাজের বোঝা বাড়ানো হচ্ছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থা – সব ধুঁকছে। অথচ প্রকল্প কর্মীদের কাজের বোঝা বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও), আবাস যোজনার সমীক্ষা – এমন হাজারো কাজ তাঁদের দিয়ে করিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু মজুরি বা বেতনের বদলে দেওয়া হয় সামান্য সাম্মানিক। এই রাজ্যে তো সরকারি অনুষ্ঠান ছাড়া শাসক দলের মিটিং, মিছিলেও তাঁদের ভিড় বাড়াতে যেতে হয়। না গেলেই নানাপ্রকার হেনস্থা। কোথাও আবার লোক খেপিয়ে হামলা করা হয়। প্রকল্প কর্মীদের বড় অংশ মহিলা বলে নিরাপত্তাহীনতা বেশি। প্রকল্প কর্মীদের অধিকার না দিয়ে শাসকের অনুগত করে রাখা হচ্ছে। তাঁদের পক্ষেও ধর্মঘটে এই রাজ্যে সামিল হওয়া খুব কঠিন। তৃণমূলের সর্বব্যাপ্ত দলতন্ত্র, দুর্বৃত্তায়ন আজ ধর্মঘট ভাঙার হাতিয়ার। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ডাকা ধর্মঘট ভাঙতে সক্রিয় থাকে তৃণমূল। পুঁজির দালালির এমনই অপার মহিমা।
তাই বহু শ্রমিকের ধর্মঘটে সমর্থন থাকলেও, তাঁরা এতে সামিল হতে পারেন না। ধর্মঘটের প্রাপ্তি তাই কতজন সাড়া দিলেন, কেবল তার উপরেই নির্ভর করে না। একদিনের ধর্মঘটে রাতারাতি সব দাবিও আদায় করা যায় না। কিন্তু দাবিগুলোকে কেন্দ্র করে শ্রমজীবী মানুষের সংঘবদ্ধ হওয়ার, সাধ্যমত লড়াই করার বড় হাতিয়ার ধর্মঘট। সারা বিশ্বেই রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ ধর্মঘট বড় ভূমিকা পালন করে এসেছে। ইউরোপে ফ্যাসিবাদ, নাজিবাদের উত্থানের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের প্রতিরোধ গড়ার লড়াই বড় ভূমিকা পালন করেছিল। বহু শ্রমিক তার জন্য শহিদ হয়েছিলেন। তাঁদের সেই মরণপণ সংগ্রাম মে দিবসের মতই মানবসভ্যতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।
ভারতবর্ষেও ব্রিটিশ আমল থেকেই শ্রমিক ধর্মঘটের উজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে, যা স্বাধীনতা সংগ্রামকে উজ্জীবিত করেছিল। তবে প্রথম সর্বভারতীয় ধর্মঘট সম্ভবত ১৯৪৬ সালের ডাক ও তার বিভাগের ধর্মঘট। সেই ধর্মঘট আর নিছক শ্রমিকদের কাজের ক্ষেত্রের দাবি দাওয়ায় আটকে না থেকে রাজনৈতিক সংগ্রামে উন্নীত হয়েছিল। বাম দলগুলি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ধর্মঘটকে সমর্থন করে। তৎকালীন সুরাট, বম্বে, মাদ্রাজে শিল্প শ্রমিকরা ধর্মঘট করে ডাক ও তার কর্মীদের সমর্থন জানিয়েছিলেন। বঙ্গীয় ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (বিপিটিইউসি) ধর্মঘটের সমর্থনে ২৯ জুলাই বাংলা জুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়। সেদিনের সাধারণ ধর্মঘট ব্রিটিশ বিরোধী গণ অভ্যুত্থানের রূপ নিয়েছিল। আসামেও এর প্রভাব পড়েছিল। বিশ্বের শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে ১৯৪৬ সালের ২৯ জুলাই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বাধীন ভারতেও বহু ধর্মঘট হয়েছে। সাতের দশকের রেল ধর্মঘট তো ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল।
বর্তমানে শ্রমিক ধর্মঘটের প্রাসঙ্গিকতা বা গুরুত্ব কমেনি। পুঁজির আগ্রাসনে আজ সর্বক্ষেত্রের শ্রমজীবী মানুষের অস্তিত্ব সংকটে। কর্পোরেট ও রাষ্ট্রের আঁতাতে দেশে দেশে তাঁদের উপর আক্রমণ যত বাড়ছে, তত প্রতিরোধও গড়ে উঠছে। ভারতে কৃষক ফসলের দাম পাচ্ছেন না, কৃষি ব্যবস্থা চলে যাচ্ছে কর্পোরেট দখলে। কৃষিকাজ থেকে উচ্ছেদ হওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষ ভিড় করছেন শ্রমের বাজারে। অবাধ বেসরকারিকরণের জন্য, জল, জমি, জঙ্গল, খনি, পাহাড়ের মালিকানা কর্পোরেট শক্তির হাতে তুলে দিতে আদিবাসী-মূলবাসীদের জীবিকা, বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ২০০৬ সালের বনাধিকার আইনকে নানা কৌশলে অকেজো করে দেওয়া হচ্ছে। বনভূমির অধিকার পাওয়ার লক্ষ লক্ষ আবেদন নাকচ করে বনবাসীদেরই জবরদখলকারী বলা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘন করে গ্রামসভার সম্মতি না নিয়েই চলছে উচ্ছেদ করে একের পর এক প্রকল্প। ২০২৩ সালে বন সংরক্ষণ আইন, জৈব বৈচিত্র্য আইন সংশোধন করে সেই উচ্ছেদের পথকে আরও মজবুত করা হয়েছে।
আরো পড়ুন জনবিরোধী সর্বনাশা বন সংরক্ষণ বিধি
একইভাবে আসামে মুসলমানদের বিদেশি বলে উচ্ছেদ করে কর্পোরেটদের তাঁদের জমি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দেশের নানা প্রান্তে চলছে বুলডোজারের শাসন। উচ্ছেদ হওয়া মানুষের মজুরির বিনিময়ে শ্রমশক্তি বিক্রি করা ছাড়া পথ থাকছে না। কাজের বাজারে শ্রমিকের ভিড় যত বাড়বে, মজুরি তত সস্তা হবে। সস্তা শ্রমের বাজার কর্পোরেট মুনাফা আরও বাড়াচ্ছে। শ্রমের বাজারকে আরও সস্তা করতে মনরেগা প্রকল্পে প্রয়োজনমাফিক অর্থ বরাদ্দ না করে, জাতীয় গ্রামীণ কর্মনিশ্চয়তা আইনকে গুরুত্বহীন করে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের সম কাজে সম বেতন, ন্যূনতম মজুরি ও কাজের নিশ্চয়তা, সামাজিক সুরক্ষা সরকার আর দিতে চাইছে না।
শিক্ষা নীতি, কৃষি নীতি, শ্রম নীতি, পরিবেশ নীতি – সবই পরিচালিত হচ্ছে কর্পোরেট নির্দেশে। সেই নির্দেশ অনুসারেই শ্রমজীবীদের অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সংবিধানের মূল চরিত্রকে ক্ষুণ্ণ করে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপর আঘাত হানা হচ্ছে।
শ্রমজীবী মানুষের উপর আক্রমণ আসছে সবদিক দিয়ে। তাই সার্বিকভাবে এই নীতির বিরোধিতা প্রয়োজন। শ্রমিক, কৃষক, আদিবাসী-মূলবাসী, ছাত্র, বেকারদের লড়াই, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই বা পরিবেশ-বাস্তুতন্ত্র রক্ষা সমেত সামাজিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলন আজ আর খণ্ড খণ্ডভাবে ফলপ্রসূ হবে না। এই সাধারণ ধর্মঘটের দাবিগুলো তাই নানা ক্ষেত্রের লড়াইয়ের মধ্যে ঐক্য গড়ার বার্তা দিয়েছে। এই দাবিগুলোকে নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন জারি রাখতে হবে। গণসংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আরও জোটবদ্ধ হয়ে এই রাজনৈতিক লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আজকের ধর্মঘটের সাফল্য লড়াইয়ের ভবিষ্যতের মধ্যেই নিহিত আছে।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







