দেবাদিত্য রায়চৌধুরী
ভাষাগত বৈচিত্র্যকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া দেশ আমাদের ভারতবর্ষ। সেখানে যদি কারোর মাতৃভাষা তার নাগরিকত্বের বৈধতা নির্ধারণ করতে শুরু করে, তবে তা দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। অথচ লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাঙালির জন্য, বিশেষত যাঁরা আর্থিকভাবে প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছেন, সেই দুঃস্বপ্নটাই আজ সত্যি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
মে মাস থেকে একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। বলপূর্বক বিতাড়ন, নাগরিক সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত করা এবং কয়েক বছর ধরে ঘটে চলা একাধিক গণপিটুনির ঘটনা, বিশেষ করে যেসব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে বাংলাভাষীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অভিযানের ভয়াবহ বাস্তবতা প্রকাশ করেছে। এই তাণ্ডবে ভারতীয় নাগরিক এবং অন্য দেশ থেকে আসা অনথিভুক্ত মানুষের মধ্যে কোনো তফাত করা হচ্ছে না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক ব্যাপার হল – এসব নির্যাতনের ভিত্তি নাগরিকত্ব নয়, বরং ভাষা ও উচ্চারণ। যেখানে বাংলা ভারতের ২২টি সংবিধানস্বীকৃত ভাষার একটি, সেখানে আজ বাংলাভাষী হওয়াই সন্দেহের পাত্র হওয়া, আটক হওয়া এবং দেশ থেকে বলপূর্বক বিতাড়িত হওয়ার যুক্তি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে বলপূর্বক বিতাড়ন
মে মাসের শুরু থেকে তথাকথিত অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আটঘাট বেঁধে বড়সড় অভিযান চালানো হচ্ছে। দুহাজারের বেশি মানুষকে আটক করে গোপনে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। এই তথাকথিত ‘পুশব্যাক’ বিচারবিভাগীয় অনুমোদন বা আনুষ্ঠানিক বহিষ্কারের আদেশ ছাড়াই ঘটেছে। এ কাজ বেআইনি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন। বহু বাংলাভাষী প্রবাসী শ্রমিককে ভারতের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও বিএসএফ জওয়ানরা সীমান্ত পার করে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কোনো চেষ্টাই করা হয়নি এবং পরিবার, বাংলার রাজনীতিবিদ এবং রাজ্য প্রশাসনের উদ্যোগে তাঁরা বাড়ি ফিরতে পেরেছেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে যে গুজরাট, দিল্লি, হরিয়ানা, আসাম, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, গোয়ার মত রাজ্য থেকে প্রবাসী বাঙালিদের ধরা হচ্ছে। তারপর সরকারি বিমানে ত্রিপুরা, মেঘালয় ও আসামের সীমান্ত অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানকার অস্থায়ী শিবিরে আটক রেখে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কেউ সত্যি সত্যি অনুপ্রবেশকারী হলেও এই পদ্ধতি একেবারেই বেআইনি। ভারতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে দেশ থেকে বের করে দিতে হলে অবশ্যই আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি, আইনি সহায়তা প্রদান এবং ফরেনার্স ট্রাইবুনাল বা অনুরূপ কোনো সংস্থার পর্যালোচনা অপরিহার্য। এসব প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয়নি।
দ্য হিন্দু কাগজের এক প্রতিবেদন বলছে, শুধু পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তের একটি সেক্টর থেকেই বিএসএফ বারোশোর বেশি মানুষকে দেশ থেকে তাড়িয়েছে। দিল্লি পুলিস জানিয়েছে যে জানুয়ারি থেকে অন্তত ১২০ জনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর আছে মহারাষ্ট্র (১১০), হরিয়ানা (৮০), রাজস্থান (৭০), উত্তরপ্রদেশ (৬৫), গুজরাট (৬৫) এবং গোয়া (১০)। এই মানুষগুলির অধিকাংশকে গোপনে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল এবং আইনি পরামর্শ নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
গত ছমাসে প্রায় ৭০০ জন ‘অবৈধ অভিবাসী’-কে দিল্লি থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে। এপ্রিল মাসে পহলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর দিল্লি জুড়ে চালানো তথাকথিত যাচাই অভিযানে এই বহিষ্কারের গতি বেড়ে যায়। দিল্লি পুলিস জানিয়েছে, তারা প্রায় ৪৭০ জন ‘অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিক’ এবং ৫০ জন ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া বিদেশিকে চিহ্নিত করেছে, যাদের বিমানে আগরতলায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে স্থলপথে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। পুলিস সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে অন্তত তিন থেকে চারটি বিশেষ বিমান ব্যবহার করা হয়েছে এই স্থানান্তরের জন্য।
মুর্শিদাবাদের মেহবুব শেখ, মিনারুল শেখ, নাজিমুদ্দীন মন্ডল আর মুস্তাফা কামালের ঘটনা এই ওয়েবসাইটে আগেই লেখা হয়েছে। একইরকম আরেকটি ঘটনায়, দক্ষিণ দিনাজপুরের পাঁচজন বাংলা ভাষাভাষী খেতমজুর, যাঁরা কোচবিহারে কাজ করছিলেন, মে মাসের শেষদিকে বিএসএফের হাতে আটক হন মেখলিগঞ্জ এলাকায়। তাঁদের মারধর করে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ দেগে দেওয়া হয়, যদিও তাঁরা ভারতেরই বাসিন্দা। পরে তাঁদের হিলি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। তবে তাঁদের কাছে ভারতীয় পরিচয়পত্র থাকায় বাংলাদেশ সরকার আপত্তি করে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁরা ফিরে আসতে পারেন।
৩১ মে ৬৭ বছর বয়সী সাইকেল মিস্ত্রি উফা আলি আসামে নিজের বাড়িতে ফেরেন বাংলাদেশের মাটিতে চারদিন আটকে থাকার পর। ২৩ মে আসামের মরিগাঁও জেলার কুয়াদল গ্রামের ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে পুলিস। তাঁকে ‘ঘোষিত বিদেশি’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, এ এমন এক শ্রেণিবিভাগ যা শুধুমাত্র আসামে প্রচলিত। উফা হলেন তিনশোর বেশি মুসলিমের মধ্যে একজন, যাঁদের মে মাস থেকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বিধানসভায় জানিয়েছেন। তিনি হুমকিও দিয়েছেন যে বিতাড়ন আরও বাড়ানো হবে।
উফাকে আটক করে ২০০ কিলোমিটার দূরের ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়, যা দেশের সবচেয়ে বড় অনথিভুক্ত অভিবাসী আটক কেন্দ্র। তিনদিন পরে বিএসএফের জওয়ানরা তাঁকে এবং আরও ১৩ জনকে — যাদের মধ্যে পাঁচজন মহিলা — সীমান্তে নিয়ে যায়। তাঁদের নির্জন ‘নো-ম্যানস ল্যান্ড’-এ ১২ ঘন্টা কোমর জলে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় কোনো খাবার বা আশ্রয় ছাড়াই। গোলাঘাট জেলার ৫০ বছর বয়সী রহিমা বেগম বলেছেন যে তিনি এখনো সেই রাতের স্মৃতি ভুলতে পারেন না। পরে কূটনৈতিক উদ্যোগে এঁরা দেশে ফিরতে পেরেছেন।
এরকম ঘটনার শেষ নেই। যাঁদের বিতাড়িত করা হচ্ছে, তাঁদের অধিকাংশের খোঁজ সরকারি কাগজপত্রে রাখা হয় না। পরিবারগুলি উৎকণ্ঠায় দিন কাটায়, তাঁদের ফিরে আসার জন্যে একমাত্র আশা দেশের কারোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা কূটনৈতিক অনুরোধ। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া। আজ তারা উলটে বাংলাভাষী মানুষের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। কিছু মানুষ ফিরতে পেরেছেন ঠিকই, কিন্তু অনুমান করা হচ্ছে অনেকেই এখনো বাংলাদেশে আটকে আছেন দূতাবাসের সহায়তা ছাড়া, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে। ফেরত আনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল। তার জন্য দুই দেশের বিদেশমন্ত্রকের সমন্বয়, নাগরিকত্ব যাচাই এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয়তা প্রয়োজন। গরিব প্রবাসী বাঙালীদের পরিবারগুলির অনেকের পক্ষেই এতসব ব্যবস্থা করা কঠিন, এমনকি অসাধ্য।
বাংলা বললেই বিদেশি?
গত বৃহস্পতিবার আসামের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, যাঁরা জনগণনার সময়ে বাংলাকে মাতৃভাষা হিসাবে উল্লেখ করেছেন, তাঁদের সংখ্যা থেকেই রাজ্যে বিদেশির হিসাব পাওয়া যাবে। রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ থেকে এমন মন্তব্য নিছক মতামত নয়, এটি একটি নীতিগত ইঙ্গিত। এমন এক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একথা বলছেন, যেখানে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) তৈরি করে ইতিমধ্যেই ১৯ লক্ষেরও বেশি মানুষকে (যার মধ্যে আনুমানিক ১২ লক্ষ হিন্দু এবং সাত লক্ষ মুসলমান) বিদেশি বলে দেগে দেওয়া হয়েছে। ওই রাজ্যে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের আতঙ্ক এক অস্তিত্বের সংকট। গত কয়েক বছরে বহু মানুষ আসামের বহুচর্চিত ডিটেনশন সেন্টারগুলিতেই মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়াও আছেন ৬২ বছর বয়সী লতিফা বিবির মত মানুষ, যিনি তাঁর বাবার নামের বানানে সামান্য ভিন্নতার কারণে ‘ডি-ভোটার’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তেজপুরের এক ডিটেনশন ক্যাম্পে ছয় সপ্তাহের বেশি সময় তাঁকে একলা বন্দি থাকতে হয়েছিল। ফলে হিমন্তের ওই মন্তব্য বাংলাভাষীদের মনে বিভীষিকাময় বঙ্গাল খেদা আন্দোলনের স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে।
দিল্লির বস্তিতে জল, বিদ্যুৎ বন্ধ করে বাংলাভাষী শ্রমিকদের হেনস্থা
দেশের রাজধানী দিল্লিতে বর্তমানে এক নীরব কিন্তু সমান তীব্র নির্যাতন চলছে। সঞ্জয় কলোনি, কালিন্দি কুঞ্জ এবং জয় হিন্দ ক্যাম্পের মত বস্তি, যেখানে মূলত বাংলাভাষী প্রবাসী শ্রমিকরা বাস করেন, সেখানকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কিছু না জানিয়েই তাঁদের জল ও বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে।
জয় হিন্দ ক্যাম্পে থাকেন মূলত মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দুই দিনাজপুর ও মালদা জেলা থেকে যাওয়া গৃহকর্মী, নির্মাণ শ্রমিক এবং রিকশাচালকরা। সেখানে বহু পরিবার তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। পৌর দফতরে অভিযোগ জানাতে গেলে বলা হয়, তাঁরা নাকি বাংলাদেশি। তাই তাঁদের সরকারি পরিষেবা পাওয়ার অধিকার নেই। বৈধ আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং ভোটার পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কোনো সুরাহা হয়নি। কর্তৃপক্ষ মিটার খুলে নিয়ে গেছে এবং জলবাহী ট্যাংকার আসাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই বাংলা ভাষাভাষী শ্রমজীবী পরিবারগুলি, যাঁরা গত দুই, তিন দশক ধরে দিল্লিতে বাস করছেন, আজ হঠাৎ বিদেশি বলে চিহ্নিত এবং নিপীড়নের শিকার।
বাঙালি শ্রমজীবীদের উপর নানারকম আক্রমণের ঘটনা ওড়িশাতেও ঘটেছে। গত কয়েক বছরে বাংলা ভাষাভাষী শ্রমজীবী মানুষকে ঘিরে গোটা দেশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সন্দেহের বাতাবরণ সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে হয়রানি তো বটেই, গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো গুজব, বাঙালিবিদ্বেষ এবং মুসলমানবিদ্বেষ এর জন্যে অনেকখানি দায়ী।
শ্রেণিভিত্তিক বাংলাভাষী নিপীড়ন
একথা বোঝা জরুরি যে এই নিপীড়ন কিন্তু সমস্ত প্রবাসী বাংলাভাষীর উপর সমানভাবে নামিয়ে আনা হচ্ছে না। বেঙ্গালুরু, পুনে কিংবা মুম্বইয়ের মত শহরে বসবাসকারী সচ্ছল, উচ্চশিক্ষিত বাঙালি, যাঁরা তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প বা শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করেন, তাঁরা অন্তত এখন পর্যন্ত এই ধরপাকড় ও হয়রানির আওতায় পড়েননি। তাঁদের আর্থিক সঙ্গতি, হিন্দি বা ইংরেজি ভাষার উপর দখল এবং সমাজের উচ্চকোটিতে পরিচিতি এর কারণ। ফলে যে নিপীড়ন ঘটছে, তা কার্যত শ্রেণিভিত্তিক। এর শিকার মূলত দরিদ্র, শ্রমজীবী বাঙালি। আর্থিক অসহায়তা এবং আইনকানুন না জানা তাঁদের সহজ নিশানায় পরিণত করেছে।
এ নিয়ে মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত বাঙালির নীরবতা বেদনাদায়ক। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দলগুলো অতি সম্প্রতি এ নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। কিন্তু নাগরিক সমাজ বলতে যা বোঝায়, সেখান থেকে এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে তেমন আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা কি গরিব বাংলাভাষী ভাইবোনদের উপর হওয়া নির্যাতনের প্রতিবাদ করতে অনিচ্ছুক? যদি আমরা শুধু রবীন্দ্রনাথ আর দুর্গাপুজো নিয়েই গর্ব করি, অথচ সাবির মল্লিকের মৃত্যু সম্পর্কে নীরব থাকি, তাহলে আমাদের নৈতিকতা নিয়ে আর কিছু বলার নেই।
বাংলাভাষী প্রবাসী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যে অভিযান হচ্ছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এক বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, যার লক্ষ্য ভারতীয় পরিচয়কে এক ধর্ম, এক ভাষার ছাঁচে ফেলা। একটি ভাষাগত পরিচয়কে সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে ছুড়ে ফেলার পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা। রাজনৈতিক বক্তৃতায় বাংলার উচ্চারণ নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে, সোশাল মিডিয়ায় ‘অনুপ্রবেশকারী’, ‘মিয়াঁ, ‘বাংলাদেশি’ ইত্যাদি শব্দ গালিগালাজ হিসাবে ছুড়ে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাভাষীদের নিশানা করা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাও নয়। এতদিন ধরে মুসলমান, দলিত ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি যে আক্রমণ চলছিল, এটি তারই সম্প্রসারণ। এখন ভাষা হয়ে উঠেছে ঘৃণার নতুন অভিমুখ।
নিবন্ধকার সমাজকর্মী এবং সরকারি কলেজের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








