কবীর চট্টোপাধ্যায়

সোজা কথাটা সোজাসুজি বলেই শুরু করি৷ আমরা, অর্থাৎ বাঙালিরা, এই অচলায়তনের বাজারেও তুলনামূলকভাবে সংস্কৃতিমনস্ক হতে চেষ্টা করি বলেই হয়তো সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আমাদের মেরুকরণ সহজেই করে দেওয়া যায়। যেমন এ মুহূর্তে বাংলার সুশীল সমাজ ভাগ হয়ে গিয়েছে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের ‘রাজ্য-সঙ্গীত’ হিসেবে রবীন্দ্রনাথের ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গানের নির্বাচন এবং সেই গানের কথা মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছেমতো পাল্টে দেওয়া নিয়ে। এ বিষয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে একটি বিবাদ অধুনা আমরা দেখছি। এক পক্ষ প্রতিবাদী, তাঁদের বক্তব্য, এইভাবে কোনো শিল্পীর লিরিক যখন খুশি পালটে দেওয়া যায় না। অপর পক্ষ এই পালটে দেবার সমর্থক এবং তাঁদের দাবি, যুগের প্রয়োজনে গানের কথা পালটে যদি গানকে আরো সময়োপযোগী করে তোলা যায়, তা নিন্দনীয় নয়, বরং উচিত কাজ।

ঠিক কী ঘটেছে গানটি নিয়ে?

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

রবীন্দ্রনাথের মূল গানটি যদি শোনেন, বুঝতে পারবেন এ গানের মূল ম্যাজিক সৃষ্টি করছে অ্যানাফোরা (anaphora) বা পুনরাবৃত্তির কাব্যিক অলঙ্কার। এই অলঙ্কারে বারবার একই শব্দ বা শব্দবন্ধ ব্যবহার করে গানে বা কাব্যে একটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন চার্লস ডিকেন্সের ‘A Tale of Two Cities’ উপন্যাসটি শুরু হচ্ছে এইভাবে; ‘It was the best of times, it was the worst of times, it was the age of wisdom, it was the age of foolishness.’ এখানে বারবার ‘ইট ওয়াজ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে ইতিহাসের প্রতি; লেখক জোর দিয়ে মনে করাচ্ছেন, ও হে, আমি এখানে একটি ঐতিহাসিক সময়ের কথা বলছি, মন দিয়ে শোনো। একইভাবে রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানটি লিখেছিলেন বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতায়, বাংলার সম্পদ এবং বাংলার পরিচিতির প্রতি শ্রোতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। ফলে প্রথম চার লাইনে ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ ইত্যাদি লাইনে ‘বাংলা’ শব্দের পুনরাবৃত্তি, এবং শেষ চার লাইনে ‘বাঙালির পণ, বাঙালির আশা’ বলে ‘বাঙালি’ শব্দের পুনরাবৃত্তি তিনি ব্যবহার করেছেন অ্যানাফোরা হিসেবে।

এই অ্যানাফোরা নিয়েই গোল পাকিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান প্রশাসনিক কর্তারা। পলিটিকাল কারেক্টনেসের এই ভরা বাজারে তাঁদের মনে হয়েছে, বাংলায় তো আর শুধু বাঙালি মানুষ থাকেন না। অতএব রাজ্যের সঙ্গীতে শুধু ‘বাঙালির পণ, বাঙালির আশা’ গাইলে এ রাজ্যে যে অবাঙালি মানুষ থাকেন, তাঁদের ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে। ফলে তাঁরা ‘বাঙালি’ কথাটি সরিয়ে তার জায়গায় ‘বাংলার’ ঢুকিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ যেখানে আট লাইনে দুটি ভিন্ন অ্যানাফোরার ব্যবহার করেছিলেন, সেখানে নতুন ভার্শনটিতে ব্যবহৃত হয়েছে কেবল একটি অ্যানাফোরা। ‘বাংলার পণ, বাংলার আশা’ ইত্যাদি গেয়ে গানটি শুধু বাঙালির নয়, সমস্ত বঙ্গনিবাসীর হয়ে উঠেছে, এই হচ্ছে দাবী।

এর পক্ষে যাঁরা বক্তব্য রেখেছেন, তাঁরা যে একেবারে ভুল, তা আমি বিশ্বাস করি না। এঁরা কেউ কেউ বলেছেন, রবীন্দ্রনাথের গান পালটানো হয়েছে বলেই বাঙালি সুশীল সমাজের এই প্রতিবাদ, কারণ তাঁরা রবীন্দ্রনাথকে পুজোর বেদীতে বসিয়েছেন। অতএব এই প্রতিবাদ যতটা না রবীন্দ্রনাথের শিল্প রক্ষার্থে, তার চেয়ে অনেক বেশী প্রাণের ‘ঠাকুর’কে বিকৃত করায় ভাবাবেগে আঘাত লাগার প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিবাদ। আবার অনেকে বলছেন, একশো বছরেরও বেশী প্রাচীন একখানা গানকে সামান্য একটু পাল্টালে যদি একটু অন্তর্ভুক্তিকর (inclusive) হওয়া যায়, শুধু বাঙালি ছাড়াও বাংলায় বসবাসকারী অবাঙালিদের এই গানের আখরে আনা যায়, তা তো সাধু উদ্যোগ। এই দুটি মতামতের কোনোটিকেই উড়িয়ে দেওয়া চলে না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এ দুটি মত প্রতিপক্ষকে একটু স্ট্রম্যান (strawman) সাজাচ্ছে, অর্থাৎ আগে থেকেই ধরে নিচ্ছে প্রতিপক্ষ হয় প্রতিক্রিয়াশীল, নয় গোঁড়া এবং প্রাদেশিক, তাই তারা প্রতিবাদ করছে। প্রতিবাদের যেন এর বাইরে আর কোনো কারণ নেই। আমার বিশ্বাস, কারণ আছে। একটি নান্দনিক, একটি রাজনৈতিক। সেই দুটি নিয়ে একটু লেখা এখন দরকার, কারণ আশঙ্কা হয়, ভার্চু সিগন্যালিং আর woke সংলাপের ভিড়ে সেগুলো হারিয়ে যাবে।

নান্দনিক কারণটি দিয়েই শুরু করি। সমস্ত গানেই লিরিকাল বিল্ড আপ (lyrical build up) বলে একটি বিষয় থাকে। গান যেখানে শুরু হচ্ছে, লিরিক সেখানেই গোটা গানে আটকে থাকলে গানটি বড্ড একঘেয়ে হয়। গান এক জায়গা থেকে শুরু করে আর এক জায়গায় পৌঁছোবে, অথবা কোনো একটি জায়গা ছুঁয়ে আবার গোড়ায় ফিরে আসবে, বা দুটি ভিন্ন দিকে শ্রোতাকে নিয়ে যাবে; মূল কথা এই যে, গানের মধ্যে একটা যাত্রা থাকবে। সেটা সমস্যা থেকে সমাধানের দিকে যাত্রা হতে পারে, প্রেম থেকে বিরহের দিকে যাত্রা হতে পারে, এমন কি মৃত্যু বা দুঃখের থেকে শান্তি এবং স্বস্তির দিকে যাত্রাও হতে পারে। এই যাত্রা চমৎকার ফুটিয়ে তোলা যায় কোরাস বা অ্যানাফোরা দিয়ে।

এর খুব ভালো উদাহরণ গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘প্রিয়া ক্যাফে’ গানটি। গানের প্রথম কয়েক স্তবকের কোরাস ফিরে আসে একই লাইনে; ‘তুমি ছাড়া শূন্য লাগে/ কাঁপে, কাঁপে, আমার হিয়া কাঁপে।’ এই কোরাস শুনে যেই না শ্রোতা অনুমান করতে শুরু করেছেন এই গানটি প্রেমিকার বিরহে লেখা, অমনি শেষ স্তবকে গৌতম খেলা ঘুরিয়ে দিয়ে লিখছেন, ‘কফি ছাড়া শূন্য লাগে/ ক্যাফে, ক্যাফে, আমার প্রিয়া ক্যাফে।’ অর্থাৎ গানের বিষয়বস্তু কোনো মানসী নন, একটি কফির দোকান। লিরিকের ব্যবহারে গানের বিষয় বিল্ড আপ করা এবং যাত্রা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেবার মুনশিয়ানা এইভাবেই দেখানো যায়।

রবীন্দ্রনাথের গানেও এমন একটি বিল্ড আপ রয়েছে। প্রথম চার লাইনে ‘বাংলার’ বিবরণ বিল্ড আপ করে যাত্রা ঘুরিয়ে দিচ্ছে শেষ চার লাইনে ‘বাঙালির’ বিবরণের দিকে। অর্থাৎ গানটি একমাত্রিক নয়; এ গানে গীতিকার আগে আমাদের বাংলার গল্প শোনাচ্ছেন, তারপরে আমাদের হাত ধরে দেখাচ্ছেন এই বাংলায় কে থাকে। থাকে বাঙালিরা, এবং তাদের গল্প দিয়েই শেষ হচ্ছে গান। নব্য সংস্করণটি, গীতিকার হিসেবে আমার মতে, এই আশ্চর্য যাত্রাটিকে মাটি করে দিয়েছে এবং গোটা গানটিকে নামিয়ে এনেছে নামতা পড়ার মত ‘বাংলার’ একমাত্রিক বর্ণনায়।

কিন্তু নান্দনিকতা তো আপেক্ষিক বিষয়। আমার মতে এই পরিবর্তনের আরো বড় সমস্যা হচ্ছে এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যটি। গানের লিরিক পাল্টানোর ঘোষিত উদ্দেশ্য এই, যে শুধু ‘বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন’ ইত্যাদি গাইলে বাংলায় যে অবাঙালি মানুষেরা থাকেন, তাঁদের ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে। বাংলা কি শুধুই বাঙালির? নিঃসন্দেহে সাধু চিন্তা, বিশ্বমানবের জয়গান ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই বিশ্বমানবিকতার বন্দুকটি রবীন্দ্রনাথের কাঁধে চাপিয়েই চালাতে হলো? ইতালীর জাতীয় সঙ্গীত শুরুই হচ্ছে ‘হে ইতালিয়ান ভাইয়েরা’ বলে, এবং সে গানের ছত্রে ছত্রে বিভিন্ন ইতালীয় বীরপুরুষদের জয়গান। সে গানে ইতালীতে প্রবাসী এবং কর্মরত একান্ন লাখ বিদেশীদের নিয়ে কোনো ‘ইনক্লুশন’ রাখতে হয়নি। অ্যাঙ্গোলা দেশের জাতীয় সংগীতের নাম ‘এগিয়ে চলো অ্যাঙ্গোলার সন্তানেরা’, মঙ্গোলিয়ার জাতীয় সঙ্গীতের শেষ স্তবক হচ্ছে ‘বীর মঙ্গোল জাতি/জিতে এনেছে স্বাধীনতা এবং আনন্দ।’ এমন কি ভারতের জাতীয় সঙ্গীত কিন্তু ‘পাঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মারাঠা দ্রাবিড় উৎকল বঙ্গ’ অবধি গিয়ে থেমে যায়। এই তালিকায় কেন কোংকন, নাগা, অহমিয়া, বিহারী বা ভোজপুরি মানুষ বাদ পড়লেন, সেই নিয়ে রবীন্দ্রনাথকে কেউ ‘বাতিল’ করতে আসেননি এখনো।

আরো পড়ুন: বাঙালির বাংলাপ্রাপ্তি – নির্বাচনী রাজনীতির বলি রবীন্দ্রনাথ

তেতো সত্যি কথা এটাই যে, জাতীয় সঙ্গীতের ‘ইনক্লুসিভ’ হওয়ার কোনো বাড়তি দায় নেই, প্রয়োজনও নেই। কারণ, জাতি ছাড়া জাতীয় পরিচিতি হয় না এবং ভারতের মত যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় এ কথাটি আরো বেশী করে মনে রাখা দরকার। ‘প্রাদেশিকতা’ কথাটি যে পুরোদস্তুর একটি নেতিবাচক বা খারাপ শব্দ নয়, এই nuanced ভাবনাটি আমাদের পরিমণ্ডল থেকে হারিয়ে গিয়েছে বলেই আমরা সর্বত্র সংকীর্ণতার জুজু দেখে ভয় পাই। বাংলা যে বাঙালির, এই উক্তির একটা বিরাট ঐতিহাসিক শিকড় আছে।

হ্যাঁ, এই উক্তিকে ঘিরে কিছু রাজনৈতিক প্রশ্ন বারবারই মাথা তুলেছে এবং সঙ্গত কারণেই তুলেছে; ‘বাঙালি’ কে? কীভাবে চিহ্নিত এবং নির্মিত হবে একজন মানুষের ‘বাঙালিত্ব’? শুধু কি শহুরে উচ্চবর্গীয় ভদ্রলোকের ‘বাঙালি’ পরিচিতিটিই ন্যায্য, না কি একাধিক ‘বাঙালি’ পরিচিতি আছে? এ প্রশ্নগুলো নিয়ে যে বিরাট রাজনৈতিক স্পেক্ট্রাম নির্মিত হয়েছে, তার একদিকে দাঁড়িয়ে আছেন বাংলা পক্ষের মত সংগঠনেরা, যাঁদের বিরোধীরা তাঁদের নিয়ে জাতিগত ফ্যাসিবাদের (ethnofascism) অভিযোগ তোলেন। আবার অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রকারের ভাসা-ভাসা উদারপন্থী ‘সবাই আমার ভাই’ ধারার বিশ্বমানবতার উক্তি, যা আদতে হিন্দি আগ্রাসন এবং উত্তর ভারতীয় হেজেমনির (hegemony) মত বাস্তব সমস্যাগুলো এড়িয়ে যায়। এই স্পেকট্রামের ভিতরে আমরা অনেকেই নিজেদের প্রশ্ন করছি, নিজেদের ‘বাঙালি’ পরিচিতি ভাঙছি, গড়ছি, এবং ক্রমাগত তলিয়ে দেখছি। প্রশ্নগুলো করে যাওয়াটা দরকার, কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর রবীন্দ্রনাথের গান পালটে দিয়ে ‘বাংলা’ থেকে ‘বাঙালি’কে ডেটল দিয়ে পরিষ্কার করা হতে পারে না।

আমাদের মনে রাখা দরকার, রবীন্দ্রনাথের এই গানে বাঙালি পরিচিতির উপস্থিতি আকস্মিক নয়। বঙ্গভঙ্গের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে বাংলার মানুষকে এক সূত্রে বাঁধার চেষ্টা করছেন, যে সূত্রের নাম বাঙালিত্ব। এবার একে আইডেন্টিটি পলিটিক্স বলি, সামাজিক বাস্তব বলি, বা চন্দ্রবিন্দুই বলি, তাতে এই গানের আদি প্রেক্ষাপট এবং রাজনৈতিক চেতনাকে অস্বীকার করা চলে না। এ গানের থেকে ‘বাঙালি’ পরিচিতিটি সরিয়ে দিয়ে অনেকের মনে হতেই পারে, বিরাট উদারতার পরিচয় দিলাম। কিন্তু ইতিহাসকে অগ্রাহ্য করে উদারতা সমস্যার সমাধান কোনোদিন করতে পারেনি। এ ক্ষেত্রেও পারবে না, বরং হিন্দি আগ্রাসনের ভরা বাজারে ‘বাংলা শুধু বাঙালির নয়’ গোত্রের বার্তা জনমানসে অনিশ্চয়তাই সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা হয়।

পলিটিকাল কারেক্টনেস এবং ‘ইনক্লুসিভিটির’ সুশীল পারফরমেন্স আসলে বর্তমানের সমস্যাগুলোকে একটু সুসজ্জিত কার্পেটের নীচে ঠেলে দেয় মাত্র, আর কিছু নয়। এ কারণেই আজ পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে পলিটিকাল কারেক্টনেস কোনো সমস্যার প্রকৃত সমাধান খুঁজে দিতে পারেনি।

রবীন্দ্রনাথের বাঙলা থেকে বাঙালিকে টুক করে বের করে দেবার এই নান্দনিক এক্সপেরিমেন্টও পারবে না। বরং বাংলার মানুষকে আরো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার সুযোগ দেবে, তাঁদের স্বার্থের বিরোধী ঠিক কারা।

~মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.