কান্নন গোপীনাথন

প্রজাতন্ত্রের প্রাথমিক অর্থই হল জনগণের নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা। অনেকে হয়ত একমত হবেন না, কিন্তু আমার কাছে প্রজাতন্ত্রের এসেন্স হল তার নাগরিকরা। প্রজাতন্ত্র মানে কেবলমাত্র সরকার নয়, আবার প্রজাতন্ত্র মানে শুধুই জনগণও নয়। প্রজাতন্ত্রে জনগণ ও সরকার পিঠোপিঠি অবস্থান করে, যেখানে সরকারের কাজ প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধগুলোকে, অধিকারগুলোকে তার নাগরিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া– নাগরিকের ক্ষমতায়নের জায়গাগুলোকে প্রশস্ত করে তোলা।

দুর্ভাগ্যের বিষয়, বর্তমান শাসনে নাগরিকের মৌলিক অধিকার অথবা ক্ষমতায়নের জায়গাটি বিশেষভাবে রক্ষিত হচ্ছে না। ত্রিমুখী সংসদীয় গণতন্ত্রের আইনসভা ছাড়াও বাকি দুটো স্তম্ভ, অর্থাৎ প্রশাসন ও বিচার বিভাগও তাদের প্রতি উদাসীন। যা প্রজাতন্ত্রে কাঙ্খিত নয়। ফলত হাজারে হাজারে শ্রমিককে তাদের ন্যূনতম অধিকার অথবা দাবির জন্য মাইলের পর মাইল হাঁটতে হচ্ছে৷ প্রজাতন্ত্রের এ নিতান্ত অবক্ষয় ছাড়া কিছুই নয়। বর্তমান সরকার তার শাসনযন্ত্রকে ক্রমে প্রাক-প্রজাতান্ত্রিক অথবা প্রি-রিপাব্লিক যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রজাতন্ত্রের এসেন্স নাগরিকের মধ্যে ছড়িয়ে দেবার কথা ছিল, তারাও তাদের দায়িত্ব পালনে আগ্রহী নয়। ফলত সার্বিকভাবে প্রজাতন্ত্র এ দেশে ভাঙনের মুখে।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

এমতাবস্থায় দিল্লি অথবা হরিয়ানার বর্ডারে বসে থাকা কৃষকরা আমাকে চমৎকৃত করেন। গত বছর এই সময় সারা ভারত জুড়ে যে বিপুল এন আর সি – সি এ এ এর প্রতিবাদ তা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। ঐ আন্দোলন দেখিয়ে দিয়েছে, সমাজের যে অংশের মানুষকে নিয়ে আমরা একেবারেই ওয়াকিবহাল নই, চিন্তাও করি না; নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তারাই আন্দোলনের ব্যাটন হাতে তুলে নেয়। আজ কৃষকরাও সেটা প্রমাণ করে দিচ্ছেন। যখন শাসনতন্ত্র মানুষের নাগরিক অধিকারের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে, তখন সেইসব মানুষই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের ভাষার মধ্যে দিয়ে প্রজাতন্ত্রকে খুঁজে নেন, আগলে রাখেন। আজকের সমাজের এই কৃষকরা, এন আর সি, সি এ এ বিরোধী মানুষই এই ভঙ্গুর প্রজাতন্ত্রে আশার আলো।

অনুলিখন – আকাশ চ্যাটার্জি

চিত্র সৌজন্য : ফেসবুক এবং Wikimedia

Leave a Reply