ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভিতর কৃতী ছাত্র ফয়জান আহমেদের খুনের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত তদন্তকারী সংস্থা এবং আইআইটি, খড়্গপুর কর্তৃপক্ষ – দুই পক্ষেরই তীব্র নিন্দা করেছে।
বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত ছাত্রছাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদে দেরি হওয়াতেও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। আদালতকে জানানো হয় যে আইআইটি কর্তৃপক্ষ বিশেষ তদন্তকারী দলকে (সিট) বলেছে, ২৫ নভেম্বর পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলে তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। একথা শুনে বিচারপতি সেনগুপ্ত বলেন “পরীক্ষা আসবে যাবে, কিন্তু একটা মানুষকে খুন করা হয়েছে…”। বিচারপতি সিট অফিসারের ভাবলেশহীন মুখ দেখে বলেন “কোনো ফৌজদারি কেসে এভাবে তদন্ত করা হয় না।”
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
একসময় বিচারপতি বলেন, যদি তদন্তে এত বিলম্ব করা হয় তাহলে প্রমাণগুলোর কী হবে? তিনি আরও বলেন, যদি আইআইটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করে তাহলে আদালতকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তাঁর দু পাতার নির্দেশে বিচারপতি সেনগুপ্ত আবেদনকারীর এই দাবির কথা উল্লেখ করেছেন যে ফয়জানের হত্যা সংঘটিত করতে পেশাদার লোকের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে তিনি একথাও উল্লেখ করেছেন যে আইআইটি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তদন্তকারী সংস্থা ছাত্রছাত্রীদের একটা নির্দিষ্ট তারিখের পর জিজ্ঞাসাবাদ করতে রাজি হয়েছে (‘acceded’)।
বিচারপতি সেনগুপ্ত তাঁর নির্দেশের শুরুতেই বলেছেন, অপরাধের তদন্ত যথাযথভাবে করা হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই বোঝা গেছে যে এই অপরাধ সংঘটিত করতে পেশাদার লোকের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা অভিযুক্ত হিসাবে একজনের নামও করে উঠতে পারেনি (“Investigation into the offences is not being done properly. This is despite the fact that it has come to light that professional help was sought to commit the crime. Till now the investigating agency has not even been able to name anyone as an accused.”)।
নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী শুনানিতে তদন্তকারী সংস্থাকে একটি যথাযথ রিপোর্ট ফাইল করতে হবে ১৩.৯.২০২৩ তারিখে বিশেষ তদন্তকারী দল হিসাবে তদন্তভার গ্রহণ করার পরে তারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে। তারা জানাক ১৩.৯.২০২৩ থেকে ১৮.১১.২০২৩ পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে। তদন্ত সম্পর্কে রিপোর্ট নথি হিসাবে দিতেই হবে, যাতে মামলার চূড়ান্ত শুনানির দিকে এগোনো যায়। তদন্তকারী দল আগামী শুনানিতে কেস ডায়রিও জমা দেবে (“Let a proper report be filed by the investigating agency on the next date indicating in detail the steps they had taken after taking over the investigation as a Special Investigating Team from 13.9.2023. Let them indicate what steps they have been taken on and from 13.9.2023 to 18.11.2023. It is an imperative to have the report on investigation made available on record so that one can proceed towards the final hearing of the case. The investigating team shall also produce the case diary on the next date of hearing.”)।
বিচারপতি ১৮ ডিসেম্বর বিকেল তিনটেয় ‘স্পেশালি ফিক্সড ম্যাটার্স’ হিসাবে পরবর্তী শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন।
ফয়জানের কৌঁসুলি রণজিৎ চ্যাটার্জি বারবার বলেছেন যে আইআইটি ইচ্ছাকৃতভাবে তদন্তে বিলম্ব ঘটাচ্ছে যাতে এই অপরাধে জড়িত ছাত্ররা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং মামলাটি অর্থহীন হয়ে পড়ে।
আরো পড়ুন ফয়জান আহমেদের খুন সংক্রান্ত প্রতিবেদন
ফয়জানের মা রেহানা আহমেদ তিনসুকিয়া থেকে ফোনে ইনিউজরুমকে বললেন “তদন্ত না এগোনোয় আমাদের আরও বেশি সন্দেহ হচ্ছে যে আইআইটি তদন্তে দেরি করিয়ে দিচ্ছে। এই অবস্থায় সিটের উচিত কর্তৃপক্ষকে বলা যে সন্দেহভাজন ছাত্ররা তাদের সঙ্গে দেখা করার আগে যেন ক্যাম্পাস ছেড়ে না যায়।” রেহানা চান আদালত হস্তক্ষেপ করুক এবং এই মর্মে সিটকে নির্দেশ দিক।
মূল প্রতিবেদন: ইনিউজরুম
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







