১০টি বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনের নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তাল কলকাতা। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে বিক্ষোভকারীদের৷ পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে লাঠিচার্জ, পাথর ছোড়া এবং জলকামান চালানোর অভিযোগ। আহত হয়েছে জনা পঞ্চাশ বামপন্থী ছাত্র-যুব কর্মী। পুলিশের পাল্টা দাবি, মিছিল থেকে ইটবৃষ্টি করেছেন বাম সমর্থকেরা।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

বৃহস্পতিবারই রাজ্য সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে বিজেপির পরিবর্তন রথযাত্রায় অংশ নেন তিনি৷ সভা করবেন উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরেও৷ সেখানে সিএএ নিয়ে বার্তা দিতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই, শাহের সফরকে কেন্দ্র করে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে তৈরি হয়েছে প্রবল উৎসাহ। রাজ্য রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতির নিরিখে এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণও বটে। কিন্তু বামপন্থী ছাত্র-যুব কর্মীদের বিক্ষোভ এদিন কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে অমিত শাহের সফরকে। ভোটের পাটিগণিতে ক্রমশ গুরুত্ব হারাতে বসা বামপন্থীদের কর্মসূচিকে অনেকখানি জায়গা দখল করেছে সংবাদমাধ্যমে।

এদিন সকাল থেকেই হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বামপন্থী পড়ুয়া ও যুবকর্মীরা। দফায় দফায় মিছিলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে হাওড়া ব্রিজ। প্রবল যানজট হয় এস এন ব্যানার্জি রোড, লেনিন সরণী সহ মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।

কলেজ স্ট্রিট থেকে মিছিল শুরুর আগেই কার্যত রাজ্য প্রশাসনকে ‘গোল’ খাইয়ে দেন বামপন্থী বিধায়ক ইব্রাহিম আলি। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের কড়া নজরদারি এড়িয়ে হাওড়ার বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে নবান্নে উপস্থিত হন একঝাঁক বাম সমর্থক। নবান্নের সামনে ওঠে ‘চাল চোর’ স্লোগান, স্লোগান ওঠে অমিত শাহের বিরুদ্ধে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করে।

 

 

দুপুরে কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হওয়া মিছিলে ছিল নজরকাড়া ভিড়। বামপন্থী ছাত্রযুবদের হাতে ছিল মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি ‘লাল কার্ড’। ছিল প্রতীকী ‘দূরবীন’। মিছিলে নজরদারি করতে পুলিশ ব্যবহার করে ড্রোন। মূলত বামেদের ডাকে মিছিল হলেও কিছু সংখ্যক ছাত্র পরিষদ, যুব কংগ্রেস কর্মীও অংশ নেন মিছিলে।

 

উৎসবের মেজাজে শুরু হওয়া মিছিলের আবহ বদলে যাওয়া ধর্মতলায় এসে। একের পর এক গার্ডরেলের ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভ আছড়ে পড়ে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যারিকেডে। শুরু হয় বেধরক লাঠিচার্জ। মিছিল থেকে পুলিশের দিকে উড়ে আসে ইট, পাথর, বাঁশের টুকরো। পুলিশকেও মিছিলকারীদের দিকে পাথর ছুঁড়তে দেখা গিয়েছে। বিক্ষোভ সামলাতে জলকামান ছুড়তে শুরু করে পুলিশ। লালবাজারের দাবি, বিক্ষোভ থেকে উড়ে আসা পাথরে আহত হয়েছেন একাধিক পুলিশকর্মী। বাম ছাত্রযুব নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের অন্তত ৫০ জন কর্মী আহত।

বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনের নবান্ন অভিযানে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলা বনধ ডাকল বামপন্থী দলগুলি। বামফ্রন্ট নেতৃত্ব জানিয়েছেন, সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ধর্মঘট হবে। সক্রিয়ভাবে ধর্মঘটের সমর্থনে রাস্তায় নামবেন বামপন্থী কর্মীরা৷ সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের উপর যে বর্বর আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে, তার নিন্দার ভাষা নেই। এর প্রতিবাদে আগামীকাল, শুক্রবার রাজ্যজুড়ে ১২ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিচ্ছি আমরা। রাস্তায় নেমে এই ধর্মঘট সফল করা হবে।”

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.