প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমেরিকা সফরের মাঝেই দ্বিতীয় দফার বেআইনি অভিবাসী ভারতীয় শ্রমিকদের হাতে পায়ে শিকল বেঁধে ভারতে ফিরিয়েছে মার্কিন সরকার। এই ফেরানোর প্রক্রিয়া চলবে বেশ কয়েক দফায় – এমনটাই জানা গেছে। আমেরিকা সফরে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের এই ঔদ্ধত্যের মুখে চুপ করেই রইলেন ভারতের ৫৬ ইঞ্চি ছাতির হিন্দু হৃদয়সম্রাট প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবাদ তো দূরের কথা, উল্টে আমেরিকার অবস্থানকেই মোদী সমর্থন করে এলেন। বলে এলেন ‘বেআইনিভাবে বসবাস করার অধিকার কারোরই নেই।’
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
কিন্তু হাতে পায়ে শিকল বেঁধে সামরিক বিমানে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া যে একেবারেই বেআইনি, সেকথা কিন্তু ভুলেও বললেন না মোদী সাহেব। এ ব্যাপারে ভারত সরকারেরও যে কিছু ভূমিকা থাকা দরকার ছিল, তাও ভুলে মেরে দিলেন তিনি। অথচ, আমেরিকা একই ব্যবহার যখন দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর নাগরিকদের সঙ্গে করতে গেছে, তখন কিন্তু সেইসব দেশের সরকারগুলোর কাছ থেকে প্রবল বাধা পেয়েছে। আসলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানদের যে আত্মমর্যাদা আছে তা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নেই। এটাই সারসত্য।
বেআইনি অভিবাসনের প্রশ্নটা সারা পৃথিবীতেই অতি দক্ষিণপন্থী রাজনীতির অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছে গত ১০-১৫ বছরে। খেয়াল করলে দেখবেন, এই সময়কালে ভারতেও বিজেপি ভারতীয় নাগরিকত্ব পরীক্ষা করা নিয়ে বিশেষ তোড়জোড় শুরু করে। তারা ঘনঘন এই অভিযোগ তুলতে থাকে যে, বেআইনি অনুপ্রবেশকারীতে (তাদের ভাষায় ‘ঘুসপেটিয়া’) দেশ ছেয়ে গেছে। বিশেষ করে তাদের ইঙ্গিত বাংলাদেশের দিকে এবং মুসলমানদের দিকে। এত মুসলমান নাকি অনুপ্রবেশ করেছেন যে ভারতের জনসংখ্যায় মুসলমানদের শতকরা হার অনেক বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। বিজেপি ক্রমাগত হিন্দুদের উস্কে চলেছে এই বলে যে, এভাবে একদিন ভারতে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। তাদের ভাষায়, ‘হিন্দু খতরে মে হ্যায়’।
যেহেতু বিজেপির রাজনীতিটাই ধর্মনির্ভর, তাই তারা একথা ভুলেও বলে না যে এই অসম উন্নয়নের বিশ্বে পুঁজি যেমন সর্বদাই এক দেশ থেকে অন্য দেশে ধেয়ে যায়, শ্রমও তাই করে। পুঁজি ও শ্রম বিপ্রতীপ হলেও তার আভ্যন্তরীণ গতিতত্ত্ব খানিকটা একই। পুঁজিপতিরা বিশ্বজুড়ে পুঁজির অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার জন্যে হাজার রকমের চেষ্টা চালিয়েছে। তার জন্যে অন্য দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে, অন্য দেশের বিদেশনীতিকে প্রভাবিত করেছে এবং আভ্যন্তরীণ কাঠামোর বিধিনিষেধের দেওয়াল ভেঙে ফেলেছে। আবার সেই একই বিশ্ব পুঁজির মালিকরা শ্রমের অবাধ সীমান্ত-অতিক্রমী চলাচল রোধ করতে চেয়েছে, তাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এর পিছনে বিশ্ব পুঁজির বৈষয়িক স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই নেই। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দুটো ঘটনা দেখা যাচ্ছে। একদিকে আন্তর্জাতিক লগ্নিপুঁজির সব থেকে পচা প্রতিক্রিয়াশীল অংশের প্রতিনিধি হিসাবে অতি দক্ষিণপন্থী তথা ফ্যাসিবাদীরা সর্বত্রই বেআইনি অভিবাসন নিয়ে বাড়াবাড়ি শুরু করেছে। অন্যদিকে পুঁজিবাদবিরোধী রাজনীতির লোকেরা আওয়াজ তুলেছে ‘পৃথিবীতে কেউ বেআইনি নয়। উদ্বাস্তু ও আশ্রয়প্রার্থীরা আমার দেশে স্বাগত।” এই দুই শক্তির সংগ্রাম ইউরোপ ও আমেরিকায় বেড়ে উঠছে। এরই মাঝে আমেরিকার নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় ফিরে এসে ট্রাম্প আমেরিকায় বসবাসকারী ‘বেআইনি’ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ট্রাম্পের মতে এই কাগজহীন অভিবাসীরা সবাই অপরাধী। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অভিযোগ, সেখানকার সরকারগুলোই আমেরিকায় অপরাধমূলক কাজকর্ম করার জন্যে এদের পাঠিয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে একথা বলা হয়নি, কিন্তু কাগজহীন ভারতীয় অভিবাসীদেরও ট্রাম্প প্রশাসন অপরাধী বলেই চিহ্নিত করেছে। ফলে একইভাবে এই অভিবাসীদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বন্দি অবস্থায় তাঁদের সঙ্গে ন্যূনতম মানবিক ব্যবহারও করা হয়নি। আমেরিকার বন্দি শিবিরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে ফিরে আসা ভারতীয় শ্রমিকরা ভেঙে পড়েছেন। একজন শিখ শ্রমিক জানিয়েছেন, বন্দি শিবিরে তাঁদের জামাকাপড় খুলে নিয়ে উলঙ্গ হয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি শিখদের ধর্মীয় পরিচয় যে পাগড়ি, তাও খুলে নেওয়া হয়েছিল।
আমেরিকার ফ্যাসিবাদী প্রশাসনের এই ব্যবহারের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আমেরিকার সরকারগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং ভারত সরকারের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ফারাক খেয়াল করার মত। ২৩ জানুয়ারি মেক্সিকো কাগজবিহীন অভিবাসীদের ফেরত নিয়ে আসা আমেরিকান এয়ারফোর্স সি-১৭ বিমান মেক্সিকোতে নামতেই দেয়নি। দ্রুত এই প্রতিরোধে যোগ দেয় কলম্বিয়াও। তিন দিনের মাথায়, অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি, তারাও দেশের অভিবাসীদের নিয়ে আসা মার্কিন সামরিক বিমান কলম্বিয়ায় নামতে দেয়নি। একই ঘটনা ঘটে ব্রাজিলেও। সেদেশের বামপন্থী রাষ্ট্রপতি লুলা দ্য সিলভা অভিযোগ করেন, আমেরিকা ব্রাজিলিয়দের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছে, যা সমর্থন করা যায় না। তিনি পরিষ্কার বলে দেন, ‘আমার সহনাগরিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করার অধিকার আমেরিকার নেই।’
ট্রাম্প এরপরই প্রত্যাঘাতমূলক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন। কলম্বিয়া থেকে আমেরিকায় ঢোকা সমস্ত পণ্যের উপর ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হয়। কলম্বিয়ার সঙ্গে আমেরিকার প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা বাণিজ্য চলে, যার মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কলম্বিয়ান পণ্য আমেরিকায় ঢোকে। স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকার এই শুল্ক যুদ্ধ কলম্বিয়ার যথেষ্ট আর্থিক ক্ষতি করে। ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন ট্রুথসোশাল সাইটে পোস্ট করেন ‘এই পদক্ষেপ সবে শুরু। আমরা কলম্বিয়ার সরকারকে তারা যে অপরাধীদের আমাদের দেশে ঢুকিয়েছে তাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে তাদের যে আইনি দায়িত্ব রয়েছে তা অগ্রাহ্য করতে দেব না।’ খুব পরিষ্কার যে, ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের রাস্তা নিতে চাইছে। কিন্তু এই চাপের কাছেও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো আত্মসমর্পণ করেননি। তিনি বলেন, আমেরিকা কলম্বিয়ান অভিবাসীদের সঙ্গে অপরাধীদের মত আচরণ করতে পারে না। আগে অভিবাসী ফেরানোর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আইন এবং রীতিনীতি মেনে চলুক, তারপর আমেরিকা থেকে অভিবাসীদের ফেরত নেওয়া হবে। দক্ষিণ আমেরিকার আরেক বামপন্থী রাষ্ট্রপতি মেক্সিকোর ক্লদিয়া শেইনবমও আমেরিকাকে এই প্রশ্নে তীব্র আক্রমণ করেছেন এবং মেক্সিকান অভিবাসীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন মেনে আচরণ করার দাবি তুলেছেন। যদিও আমেরিকার সঙ্গে মেক্সিকোর ব্যবসা বাণিজ্য দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বেশি, ফলে শুল্ক যুদ্ধে তাদের ক্ষতির সম্ভাবনাও বেশি। দক্ষিণ আমেরিকার রাষ্ট্রপতিরা সমবেতভাবে বলেছেন, আমেরিকার এই আচরণ দক্ষিণ আমেরিকার অধিবাসীদের মর্যাদায় ঘা দিয়েছে, যার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। চীন এবং কিউবাও এই ধরণের অভিবাসী প্রত্যর্পণ মেনে নেয়নি, ভেনিজুয়েলার তো কথাই নেই। সেদেশের সরকার আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কও রাখে না।
এই যখন পৃথিবীর আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশগুলোর অবস্থান, সেখানে ভারতের অবস্থা কী? ভারতের প্রধানমন্ত্রী তো ট্রাম্পকে নিয়ে বরাবরই উচ্ছ্বসিত। ব্যাপারটা স্বাভাবিকও বটে। ফ্যাসিবাদী ছোড়দার ফ্যাসিবাদী বড়দাকে নিয়ে আহ্লাদিত হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু নিজের এবং গোটা দেশের মানমর্যাদা তিনি যে এভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে ট্রাম্পের সব কথাতেই ঘাড় নেড়ে চলে আসবেন – এমনটা বোধহয় আমেরিকার প্রশাসন কিংবা সংবাদমাধ্যমও ভেবে উঠতে পারেনি। বাণিজ্য যুদ্ধ এবং শুল্ক যুদ্ধের অস্ত্র ট্রাম্প দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবহার করেছেন কিন্তু চাপের কাছে তাঁরা এত সহজে গুটিয়ে যায় নি। এদিকে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই ভারতে আমেরিকান পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক নিয়ে সরব ছিলেন। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসামাত্রই ভারতের বাজেট ঘোষণায় সমস্ত মার্কিনি পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও ট্রাম্প সন্তুষ্ট হননি। মোদী আমেরিকায় পা দেওয়ার পরের দিনই ট্রাম্প আমেরিকার জয়ধ্বনি দিতে দিতে (MAGA অর্থাৎ ‘আমেরিকাকে আবার মহান করো’) তিনি ভারতীয় পণ্যের উপর গাদা শুল্ক চাপিয়ে দিলেন। মোদী চুপ, একটি কথাও তাঁর গলা দিয়ে বেরলো না। শুধু ট্রাম্পকে টুকলি করে ‘ভারতকে আবার মহান করো” (MIGA) বলে বলিউড সিনেমার ন্যাকা নায়কের মত আমেরিকার ‘মাগা’ আর ভারতের ‘মিগা’ মিলেমিশে একটা মেগা ব্যাপার হবে – এমন একটা বোকা বোকা কথা বলে এলেন। ব্যাপারটা শুনতে ওই ‘এক্সট্রা 2AB’ জাতীয় হল। এই আমাদের ৫৬ ইঞ্চি!
আরো পড়ুন বিপদে পড়ে আদানি-আম্বানি নাম জপেই উদ্ধার খুঁজছেন মোদী
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যের পরিমাণ কেমন? বাণিজ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, গতবছর এপ্রিল থেকে এবছর জানুয়ারি পর্যন্ত ভারত আমেরিকায় রফতানি করেছে ৬৮.৪৭ বিলিয়ন ডলারের সামগ্রী আর আমদানি করেছে ৩৭.৬২ বিলিয়ন ডলারের মালপত্র। সুতরাং ভারতের দিক থেকে ভালরকমের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। গোটা বছরের হিসাব করলে এই ঘাটতি আরও বেশি। মোট বার্ষিক ঘাটতি ৪৫.৬ বিলিয়ন ডলারের মত। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্য ‘আমেরিকার বন্ধুরা শত্রুদের থেকেও খারাপ।’ সত্যিই তো। সবাই এমন করলে আমেরিকা আবার মহান হবে কী করে? কেউ অবশ্য প্রশ্ন করতেই পারেন, আমেরিকা মহান ছিল কবে? আমেরিকা মানে তো আদি বাসিন্দাদের মেরে ধরে একটা দখল করা ভূখণ্ডে মৌরসী পাট্টা গেড়ে বসে সাদা চামড়ার লোকেদের সারা দুনিয়ার উপর মাতব্বরি করা আর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া। এখন সেই দখল করা ভূখণ্ডেই দখলদাররা অন্যদের বলছে বেআইনি। তাই আমেরিকার প্রতিবাদীদের পোস্টারে আমরা দেখেছি স্লোগান ‘Nobody is illegal in a stolen land’। চুরি করা দেশে কেউ বেআইনি নয়।
সে প্রসঙ্গ থাক। আমরা মোদী সাহেবে ফিরে আসি।
মোদী যখনই আমেরিকায় যান, সেদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্যে এবং তাদের পরিবারের লোকেদের জন্যে উপহার নিয়ে যান। ২০২৩ সালেই তিনি আমেরিকার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের স্ত্রীর জিলের জন্যে প্রায় ২০,০০,০০০ টাকার হীরের আংটি নিয়ে গিয়েছিলেন। এবারেও তার ব্যত্যয় হয় নি। ট্রাম্প ও তাঁর পরিবার, এমনকি ট্রাম্পঘনিষ্ঠ শিল্পপতি, কুখ্যাত ফ্যাসিবাদী চরিত্রসম্পন্ন ইলন মাস্কের পরিবারের জন্যেও দামি উপঢৌকন নিয়ে গিয়েছিলেন। আমাদের মনে পড়ে যেতে পারে, ভারতীয় রাজদরবারে একসময় ইউরোপের বণিকরা এভাবেই সম্রাটকে তুষ্ট করার জন্যে বিভিন্ন উপহার নিয়ে আসত। আর আজ উলটপুরাণ। ব্যাপারটা যে কতটা দৃষ্টিকটু তা উপলব্ধি করতে অভাগা ভারতের এই মুৎসুদ্দি রাষ্ট্রপ্রধান অক্ষম। আমেরিকায় গিয়ে এভাবেই মোদী ভারতের মানমর্যাদা বিসর্জন দিলেন। আমেরিকার ভারতের উপর আরও শুল্ক চাপানো নিয়েও রা কাড়লেন না, ভারতের ক্ষতি হল। ক্ষতির পরিমাণ কত তা নিয়ে হিসাবনিকাশ চলছে। এক সূত্র অনুযায়ী, অঙ্কটা বছরে ৬১,০০০ কোটি টাকার মত দাঁড়াবে। গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে ভারতের মোট জাতীয় আয় ০.১%-০.৬% কমে যেতে পারে।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ কমানোর জন্যে ট্রাম্প মোদীকে পাশে বসিয়ে একগাদা বাতিল অস্ত্রশস্ত্র কেনার চুক্তিতে সই করিয়ে নিলেন। মোদী হাসিমুখে তাও করে এলেন। এরপর বেআইনি অভিবাসী প্রসঙ্গেও ট্রাম্পেরই পক্ষে দাঁড়ালেন। মুখ ফুটে এটুকুও বলে আসতে পারলেন না, যে আমাদের দেশের নাগরিকদের সঙ্গে অপরাধীর মত আচরণ করা চলবে না। দক্ষিণ আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে তুলনা করলে মোদীর এই আচরণ আমাদের লজ্জিত করে। ভারতের মত একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী হবার উপযুক্ত যে এই ব্যক্তি নয়, তা আমাদের কাছে এক লহমায় পরিষ্কার হয়ে যায়।
কথায় বলে, জনগণ তার উপযুক্ত শাসকই পায়। এতকিছুর পরেও ভারতবাসীর মধ্যে ক্রোধ নেই, উত্তাপ নেই। ভারতবাসী মজে আছে কুম্ভস্নানে। মলমূত্রে ভরা জলে ডুব দিয়ে রোজ কোটি কোটি মানুষ পুণ্যার্জন করছেন। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা স্লোগান দিচ্ছেন, ‘মহাকুম্ভে পুণ্যস্নান, এক হয়েছে হিন্দুস্তান!’ এভাবেই নাকি ভারত আবার মহান হবে। মোদীর মতে তা হবে আমেরিকার হাত ধরে। তারপর সেটা নাকি একটা ‘মেগা’ ব্যাপার হবে। ভারতবর্ষের রাজনীতির মঞ্চে যেন একটা হাস্যকরুণ যাত্রাপালা চলছে। আমরা দেখছি।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।









এমন মেগালোম্যানিয়াক আত্মমগ্ন মানুষ দেশের প্রধান হলে যা হওয়ার তাই হয়েছে।