প্রিয় সম্পাদক,

গত পয়লা মে আপনাদের সাইটে শম্পা সেনগুপ্তের একটি লেখা (এনজিও কর্মী: নিজের অধিকার ভুলে অন্যের অধিকারের লড়াই) প্রকাশিত হয়েছে। লেখাটির সঙ্গে আমার কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। একজন সমাজকর্মী হিসাবে আমার গত কয়েক দশকের কাজের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে মনে হয়েছে, এই লেখাটি কিছু গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। আমি পত্রাকারে আমার মতামত জানালাম।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

প্রথমত, অধিকারের প্রশ্নটাকে গুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং গোলমালটাকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য, এনজিও ক্ষেত্রকে একটাই সমসত্ত্ব খাপবন্দী বর্গ তৈরি করা হয়েছে। অনুচ্চারিত তুলনাটা যেন বেসরকারি ক্ষেত্রের সঙ্গে।

দ্বিতীয়ত, সমস্ত এনজিও ফান্ড পায় না, নেয় না। নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করে। কোনো কোনো এনজিও ছোট প্রজেক্টের জন্য ছোট ফান্ড নিয়ে খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কাজ করে। এই ধরনের এনজিও সংখ্যায় বেশি। অনেকটাই বেশি এবং লাস্ট মাইল কানেকটিভিটিতে এরা অনেক বেশি কার্যকরী। তাদের নিজেদের মধ্যেকার বন্ধুত্বমূলক বোঝাপড়ার পরিবর্তে তাদের শ্রম কোডের আওতায় নিয়ে আসা মানে, এনজিও মানেই লাভজনক প্রকল্প এই ধারণাটাকে স্বীকৃতি দেওয়া।

তৃতীয়ত, অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এনজিওগুলোর মধ্যে কেউ কেউ নীতি বহির্ভূত কাজ করেন, সেটা অস্বীকার করার উপায় সত্যিই নেই। আলোচ্য লেখাটিতে যেভাবে অধিকারের প্রসঙ্গকে আলোচনায় নিয়ে আসা হয়েছে, তাতে এই অনৈতিক অনুশীলন ব্যতিক্রম না নিয়ম সেটা টের পাওয়া যাচ্ছে না। রিপোর্টিং হিসেবেও কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়া অনির্দিষ্ট কারোর সম্পর্কে একটা অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর বক্তব্য, অভিযুক্তের বক্তব্য কোনোটাই পরিষ্কার নয়।

আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন অধিকার আন্দোলনের এনজিওগুলোর মধ্যে একটা ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারা। সেটা যদি করা যায়, তাহলে অনৈতিকতাগুলোকে এবং সেই সংগঠনগুলোকে চিহ্নিত করা বা তাদের অধিকার আন্দোলনের বাইরে রাখা সম্ভব। সেটা কার্যত অধিকার আন্দোলনকেই শক্তিশালী করবে।

কিন্তু অনির্দিষ্ট অভিযোগ, সন্দেহ ও পারস্পরিক দোষারোপের যে আবহাওয়া তৈরি করবে সেটা অধিকার আন্দোলনকেই দুর্বল করবে।

চতুর্থত, একদিকে ক্রমবর্ধমান ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিকল্পের বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব — এই দুয়ের মধ্যে, সাম্প্রতিক অতীতে, সামাজিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইস্যুতে এনজিওগুলোর (বড় হোক বা ছোট) পক্ষ থেকে একটা প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। বড় বা ছোট এনজিওগুলো, সকলেই যেহেতু সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রে কাজ করেন, তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করাই বাঞ্ছনীয়। না হলে অধিকার আন্দোলন দুর্বল হবে, যার বিরুদ্ধে আন্দোলন, প্রকারান্তরে তার সুবিধে হবে।

আজকেও যেসব নতুন এনজিও তৈরি হচ্ছে, সেগুলো যে প্রথম থেকেই ফান্ড পেয়ে কর্মচারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে সেটা মনে করা দুরাশা। এমতাবস্থায় তাকে যদি কর্মচারীর সংখ্যা, যথেষ্ট পরিকাঠামো ইত্যাদি ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিতে হয়, তাহলে সেই রন্ধ্রপথে দুর্নীতি বাসা বাঁধবে, অধিকার আন্দোলন দুর্বল হবে, সেই ভয় থেকে যায়। আর না হলে কর্মচারীর অধিকার নিশ্চিত করার মত পরিকাঠামো তৈরি করতে না পারলে কোনো কাজই শুরু করা যাবে না। বিনিয়োগের মত করে, প্রাথমিক অর্থ সংগ্রহ করতে গেলে তাকে রাষ্ট্রের অ্যাজেন্ডাকেই কার্যকরী করতে হবে, এই সম্ভাবনা বেশি।

নাগরিকের সম্পাদকমণ্ডলীকে ধন্যবাদ।

রত্নাবলী রায়

সমাজকর্মী

 

রত্নাবলী রায়কে তাঁর মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ। তিনি শম্পা সেনগুপ্তের লেখা নিয়ে যা লিখেছেন সে সম্পর্কে আমাদের কিছু বলার নেই, তার জবাব দেওয়া বা না দেওয়া সম্পূর্ণ শম্পার ইচ্ছাধীন। আমাদের পক্ষ থেকে যেটুকু বলার তা হল, রত্নাবলী তথ্যপ্রমাণবিহীন রিপোর্টিংয়ের অভিযোগ এনেছেন, কিন্তু ওই লেখাটি কোনো প্রতিবেদন নয়। নাগরিক ডট নেট, অন্তত এখন পর্যন্ত, এমন একটা মঞ্চ যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে নিবন্ধকাররা নিজের মতামত লিখে থাকেন। আমাদের যা পরিকাঠামো তাতে দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে রিপোর্টিং করা সম্ভবও নয়। শম্পার লেখাও তাঁর অভিজ্ঞতাপ্রসূত মতামত। নাগরিক ডট নেটকে বিভিন্ন বিষয়ে চর্চা এবং নানারকম মতামত প্রকাশের মঞ্চ করে তোলাই প্রথম দিন থেকে আমাদের লক্ষ্য। সে কারণেই শম্পার লেখা প্রকাশ করা হয়েছিল এবং রত্নাবলীর মতামতও প্রকাশ করা হল। ভবিষ্যতেও আমরা যে কোনো লেখা সম্পর্কে পাঠক, পাঠিকাদের মতামত গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করব।

পাঠকরা ইমেলের মাধ্যমে মতামত জানাতে পারেন। আমাদের আইডি info.nagorikdotnet@gmail.com

— সম্পাদকমণ্ডলী

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.