শুক্রবার দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী সমিতির বৈঠকে নতুন কমিটি গঠনের মধ্যে দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন, দলের রাশ এখনই তরুণ প্রজন্মের (পড়ুন ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের) হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত নন। অভিষেকের পদোন্নতি বা পদাবনতি কিছুই হয়নি; সেই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক; কিন্তু ক্ষমতার সংকোচন? নিশ্চয়ই হয়েছে, বিশেষত কো-অর্ডিনেটর হিসাবে ফিরহাদ হাকিমের নিযুক্তি সেই ইঙ্গিতই করে। একইসঙ্গে, দলে কোনো প্রজন্মগত বিদ্রোহের সম্ভাবনাও আপাতত নিকেশ করে দিলেন তিনি।

এক দিক থেকে দেখলে, মহাসচিব হিসাবে দল ও সরকারের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম আর নেই, মহাসচিব পদটাই নেই। কিন্তু কার্যনির্বাহী সমিতি ও দলনেত্রীর মধ্যে সমন্বয়রক্ষাকারী হিসাবে ফিরহাদের নিযুক্তি এবং সেইসঙ্গে সহসভাপতি হিসাবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপস্থিতি নিশ্চিতভাবেই দলনেত্রীর পরে দলের দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বকে যৌথ নেতৃত্বের ধাঁচে ফেলে দিল। অভিষেকের উল্কাসম উত্থানের গতি সাময়িকভাবে থমকে গেল।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

অবশ্যই ব্যাটন হস্তান্তরের বিষয়টা এখন ভুলে থাকতেই পারেন ৬৭ বছরের নেত্রী। তাঁর স্বাস্থ্য, কর্মক্ষমতা ও উদ্যম নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠার অবকাশই নেই। বরং তিনি নিজের লক্ষ্য আরও বড় করে চলেছেন। কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া তিনি ২০১৪ সালে শুরু করেছিলেন অভিষেকের ‘যুবা’-কে মূল যুব তৃণমূলের সাথে মিশিয়ে দিয়ে যুব তৃণমূলের দায়িত্ব রাজনীতিতে নবাগত ভাইপোর হাতে তুলে দিয়ে, যে প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছেন পরবর্তী সাত বছরে, আপাতত তাতে তিনি একটু লাগাম টানতে চাইছেন বলেই তৃণমূলের মাঝের সারির নেতারা মনে করছেন।

নিজে একটা দল ভেঙে নিজের দল গড়েছেন, প্রায় সিকি শতক ধরে তাকে বড় করেছেন, এক দশকের ওপর রাজ্য চালাচ্ছেন। দেখেছেন কীভাবে উত্তরপ্রদেশে অমন জাঁদরেল মুলায়ম সিং যাদবের হাত থেকে সমাজবাদী পার্টির কর্তৃত্ব চলে গেল ছেলে অখিলেশের হাতে। মুলায়মের অগোচরেই ছেলের জনপ্রিয়তা তাঁকে ছাপিয়ে গেছিল। যদিও ২০১৬ সালের অখিলেশের সাথে অভিষেকের তুলনা হয় না। বছর বিয়াল্লিশের অখিলেশ তখন প্রায় পাঁচ বছর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাটিয়ে দিয়েছেন। সেই তুলনায় ৩৪ বছরের অভিষেক অনেকটাই হালকা। কিন্তু সম্প্রতি কি নিজের একটা আলাদা পরিচিতি তৈরি করার প্রচেষ্টা অভিষেকও করেননি?

যে দলে এবং সরকারে নেত্রীর অনুপ্রেরণা ছাড়া বিদ্যালয়, নাট্যালয় বা শৌচালয় — কোনোকিছুরই দ্বারোদ্ঘাটন হয় না, রাস্তার নামকরণ ঘোষণা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আগে মেয়র তাকে ‘সত্যজিৎ রায় সরণি’ বলে ফেললে মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ তাকে ‘ধরণি’ করে দেন, সেখানে প্রকাশ্যে নেত্রীর সাথে সাংগঠনিক বিষয়ে মতপার্থক্যের কথা কে বলে? মুখ্যমন্ত্রী যখন বড়দিন, গঙ্গাসাগর মেলা, নির্বাচন সবই করাতে চাইছেন, তখন জমায়েত এড়িয়ে চলা প্রসঙ্গে ব্যাক্তিগত মতামত কে দিতে পারেন? “আমি যতদিন সাধারণ সম্পাদক আছি” গোছের কথা কি একটু কানে বাজে না?

এর আগে একজনই ব্যক্তিগত মতামত জানিয়েছিলেন, ২০১৫ সালে সারদা কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্ত প্রসঙ্গে। মুকুল রায়। তার পরপরই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে মুকুলের সাথে সুব্রত বক্সীকে জুড়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেটা ছিল সতর্কবাণী; পরবর্তী পদক্ষেপ সরিয়ে দেওয়া।

এক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো সাধারণ সম্পাদক আসেননি, কিন্তু সমন্বয়কারী ও সহসভাপতি হিসাবে এসেছেন বক্সী ও চন্দ্রিমা। দলনেত্রীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সাথী প্রথম জনের আনুগত্য কোনোদিনই প্রশ্নের মুখে পড়েনি। আর দ্বিতীয় জন এখন মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে থাকা তিনটে দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী – অর্থ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ আর ভূমি, ভূমি রাজস্ব ও উদ্বাস্তু বিষয়ক। মুখ্যমন্ত্রীর সাথে তাঁর নিত্য যোগাযোগ।

বিদ্রোহ অনেক দেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেখেছেন, দল গড়ার তিন বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠার অন্যতম কান্ডারি অজিত পাঁজা কীভাবে দল ভেঙে সমান্তরাল সংগঠন তৈরি করে নির্বাচন কমিশনের কাছে দলের প্রকৃত কর্তৃত্বের দাবিদার হতে গেছিলেন; পারেননি, কিন্তু চেষ্টা তো করেছিলেন। ২০০১ সালের শেষে পাঁজা তৃণমূলে একটা সমান্তরাল সাংগঠনিক নির্বাচনও করিয়েছিলেন। সেই পাঁজাকে আবার বছর দেড়েকের মাথায় ফিরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। ২০০৩ সালের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের টানে দিদির হাত ছেড়ে প্রায় আদবানীর হাত ধরে ফেলে বাধ্য হয়ে শেষে সস্ত্রীক কংগ্রেসে ফিরতে হয়েছিল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ২০০৫ সালের কলকাতা পুর নির্বাচনের ঠিক আগে দল ছেড়ে শরদ পাওয়ারের এনসিপির প্রতীকে নির্বাচন লড়ে শুধু তৃণমূলের তরীই ডোবাননি সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণও তো করেছিলেন। সুদীপ, সুব্রত – সবাই আবার ফিরে এসে, নেত্রীর আনুগত্য মেনে নিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ফিরে পেয়েছিলেন।

ফিরিয়ে তো নিয়েছিলেন মুকুলকেও। দুবার, একবার ২০১৫ সালের শেষে, আবার সেই ২০২১ সালে। এমনকি সব্যসাচী দত্ত। মুকুল তো তাও মমতাকে কখনোই সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি বিজেপিতে গিয়েও। ভাইপোকে করেছেন, দল ও সরকারকে করেছেন। “পিসি” বলেননি। সব্যসাচী তা-ও বলেছেন। এমনকি কুণাল ঘোষ। সরাসরি সারদায় মুখ্যমন্ত্রীর জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা কুণালও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত।

যেমন ডানা ছাঁটতে পারেন, তেমনই মুকুট ফিরিয়ে দিতে পারেন। এটা মমতার রাজনৈতিক নেতৃত্বের বড় বৈশিষ্ট্য। এভাবেই সিকি শতক দল চালাচ্ছেন তিনি। সব্যসাচীর পুনরুত্থান, প্রায়শ্চিত্ত ছাড়াই, মানতে পারেননি অভিষেক। কিন্তু এটাই দিদির দল চালানোর স্টাইল।

###

ভারতের রাজনীতিতে রাজনৈতিক দলের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সংঘাত একটা প্রায় স্বাভাবিক ঘটনা। ব্যতিক্রম বামপন্থীরা, ব্যতিক্রম বিজেপি। ব্যতিক্রম হওয়ার কথা ছিল কংগ্রেসেরও, সেটা তো ছিল দেশের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক মঞ্চ। কিন্তু লালবাহাদুর শাস্ত্রীর হঠাৎ প্রয়াণ কংগ্রেসে নেতৃত্বের সংকট তৈরি করলে দল প্রথমে জওহরলাল-কন্যা ইন্দিরা এবং তাঁর হঠাৎ প্রয়াণে বিমানচালক রাজীবের হাতে এসে পড়ে। নেহরু-গান্ধী পরিবারের দল হয়ে যায় কংগ্রেস। তারপর নরসিমা রাও, সীতারাম কেশরীরা কিছুদিনের জন্য সামনে এলেও শেষ পর্যন্ত আবার নিতান্ত রাজনীতি-অনিচ্ছুক সোনিয়া গান্ধীকেই এসে দলের হাল ধরতে হয়।

ইতিমধ্যে, ১৯৯৭ সালের শেষে দল ছেড়েছেন মমতা। তিনিও চেয়েছিলেন সীতারামদের সরিয়ে হাল ধরুন সোনিয়া। আবার সোনিয়ার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভে দল ছাড়েন মহারাষ্ট্রের শরদ পাওয়ার, ১৯৯৯ সালে। গড়ে তোলেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি। শরদ-কন্যা সুপ্রিয়া সুলে দলের পরবর্তী প্রজন্মের মুখ। শরদের দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা পূর্ণ সাংমা আবার ২০০৪ সালে তৈরি করেন তাঁর নিজের দল, ন্যাশনালিস্ট পিপলস পার্টি। দলের উত্তরাধিকার গেছে ছেলে কনরাডের হাতে, যিনি এখন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী।

এসব হওয়ার কথা হয়ত ছিল না জনতা পার্টিতেও। ১৯৭৭ সালে ইন্দিরাবিরোধী, বাম ছাড়া সবাইকে একজোট করে জনতা পার্টি বানিয়েছিলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ। দু-তিন বছরের মধ্যে পার্টি ভেঙে যায়, একদিকে প্রাক্তন জনসঙ্ঘীরা তৈরি করলেন বিজেপি, আরেক দিকে তৈরি হল লোক দল। পরে, ভিপি সিংয়ের হাত ধরে লোক দল ও আরও কিছু সংগঠন ১৯৮৮ সালে জনতা দল তৈরি করলেও, নয়ের দশকে একের পর এক ভাঙন ধরে আর তারপর সব দলই পরিবারতান্ত্রিক হয়ে ওঠে। ১৯৯২ সালে মুলায়ম গড়ে তোলেন সমাজবাদী পার্টি। ওড়িশায় বিজু পট্টনায়কের নামে নতুন দল খোলেন ছেলে নবীন, ১৯৯৭ সালে। একই বছরে বিহারে লালুপ্রসাদ তৈরি করলেন রাষ্ট্রীয় জনতা দল। ১৯৯৯ সালে দুভাগ হয়ে গিয়ে একাংশ পরিণত হয় দেবগৌড়ার জেডিএসে, আরেক অংশ শরদ যাদবের জেডিইউ, যা আপাতত নীতীশ কুমারের দখলে। ২০০০ সালে জেডিইউ ভেঙে লোক জনশক্তি পার্টি গঠন করেন রামবিলাস পাসোয়ান। তার পর থেকে পুরো জনতা পরিবারেই পরিবারতন্ত্রের রমরমা, শুধু প্রাক্তন জনসঙ্ঘীদের বাদ দিলে।

লোক দল প্রতিষ্ঠাতা চরণ সিংয়ের ছেলে অজিতের সাথে হরিয়ানায় দলের মুখ্য নেতা দেবী লালের সঙ্ঘাতে ১৯৯৬ সালে দল ভাঙ্গে। দেবী লাল গড়ে তোলেন ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লোক দল, আর অজিত সিং দলের নামকরণ করেন রাষ্ট্রীয় লোক দল। সেই দেবী লালের পরিবার তো চতুর্থ প্রজন্মে পৌঁছে গেছে, কিন্তু ছেলে ওমপ্রকাশ চৌতালার আমলে দল আবার ভেঙেছে। ওমপ্রকাশের দুই ছেলে অজয়, অভয়ের দ্বন্দ্বে ওম, অজয় ও তাঁর ছেলে দুষ্যন্তকে বহিষ্কার করেন। অভয় এখন সেই লোক দলের নেতা। ওদিকে অজয়ের তৈরি জননায়ক জনতা পার্টির দায়িত্ব এসে গেছে ছেলে দুষ্যন্তের হাতে। আর অজিত সিংয়ের রাষ্ট্রীয় লোক দলের নেতৃত্ব তাঁর ছেলে জয়ন্ত চৌধুরীর হাতে।

বিহারে লালুপ্রসাদের আরজেডি টালমাটাল হয়েছে ছেলে তেজস্বী-তেজপ্রতাপের দ্বন্দ্বে। পাসোয়ানের লোক জনশক্তি ভেঙেছে ভাই পরশ আর ছেলে চিরাগের দ্বন্দ্বে। কর্ণাটকে দেবগৌড়াও ছেলে কুমারস্বামীকে অধিষ্ঠিত করে দিয়েছেন।

অকৃতদার নবীনের উত্তরাধিকার এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর ভাইপোকে নিয়ে কিছু জল্পনা হলেও নবীন জানিয়ে দিয়েছেন দলের উত্তরাধিকার তাঁর পরিবারের হাতে যাবে না। বিহারে নীতীশ কুমারের ছেলে অবশ্য রাজনীতিতে আসতে চান না জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু কে বলতে পারে, নীতীশ অসুস্থ হলে উত্তরাধিকারের টানাটানিতে আবার তাঁর ছেলেকে ধরেই টানাটানি করা হবে কিনা? রাজ্যপাট বাঁচানোর মতই, দল বাঁচানোর এটা তো একটা পরীক্ষিত পদ্ধতি।

কাশ্মীরে শেখ আবদুল্লার পার্টি ছেলে ফারুক হয়ে নাতি ওমরের হাতে, আর মুফতি মহম্মদ সইদের পার্টি গেছে মেয়ে মেহবুবার হাতে। অন্ধ্রে রাজশেখর রেড্ডির ছেলে বাবার আসন না পেয়ে কংগ্রেস ভেঙে নিজের দল গড়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে গেছেন। যেমন তামিলনাডুতে করুণানিধির উত্তরাধিকার গেছে ছেলে স্ট্যালিনের হাতে। কিন্তু তার আগে স্ট্যালিন ও তাঁর দাদা আলাগিরির মধ্যে বিবাদে টালমাটাল হয়েছে ডিএমকে। বড় ছেলে আলাগিরিকে বহিষ্কার করেছেন করুণানিধি। পাঞ্জাবের শতবর্ষ প্রাচীন শিরোমণি অকালি দলও বহু বছর হল বাদল পরিবারের কব্জায়। বিশেষ ঝামেলা ছাড়াই ছেলে সুখবীরকে নেতৃত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রকাশ।

এ এক আজব দেশ। “স্যার, হুজুর” বলতে আমরা অভ্যস্ত। জমিদারি, রাজত্ব যাদের চলে গেল স্বাধীনতার পরে, তারাই মন্ত্রী, এমপি, এমএলএ হয়ে চালাতে লাগলো রাজ্যপাট। তারপর তাঁদের ছেলেমেয়েরা। মহারাষ্ট্রে বাল ঠাকরে সিংহাসনে বসতেন। তাঁর শিবসেনা ভাঙে ছেলে আর ভাইপোর দ্বন্দ্বে। দলের রাশ হাতে নিয়ে ছেলে উদ্ধব আপাতত তাঁর ছেলে আদিত্যকে উত্তরসূরী বানিয়ে দিয়েছেন।

অকৃতদার কাঁসিরামের বহুজন সমাজ পার্টির রাশ যায় তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামী মায়াবতীর হাতে। তিনিও অবিবাহিত। তামিলনাডুতে এম জি রামচন্দ্রনের মৃত্যুর পর স্ত্রী জানকী রামচন্দ্রন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী জয়ললিতার মধ্যে চলা উত্তরাধিকারের দ্বন্দ্বে টালমাটাল হয় এআইএডিএমকে। অবিবাহিতা জয়ললিতা আবার বজ্র আঁটুনিতে দল ও সরকার চালানোর পর তাঁর মৃত্যুতে আবার ফিরে আসে উত্তরাধিকারের দ্বন্দ্ব। দল এখনো অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে।

যা বলছিলাম, এ এক আজব দেশ। কাঁকড়াদের দেশ। আমি উঠতে পারব না যখন, কাউকেই উঠতে দেব না। আমি যদি রাজা হতে না পারি, তবে রাজার ছেলেই রাজা হোক। রাম, শ্যাম, মধু, যারা এক বেঞ্চে বসত, তারা তো হবে না। এভাবেই গান্ধী-নেহরু পরিবারের হাতে গেছে কংগ্রেস। তৃণমূল কেন, সব আঞ্চলিক দলেই নেতা/নেত্রীর উত্তরাধিকার খোঁজা হয় রক্তের সম্পর্ক দিয়ে।

এই তো আমাদের দেশ। মনুর দেশ। এখানে পূজারী, ব্যবসায়ী থেকে সাফাইকর্মী — সবই হয় বংশপরাম্পরায়। মানুষ এটা মেনে নিতে অভ্যস্ত। এখানে অভিষেকদের উত্থান স্বাভাবিকভাবেই নেওয়া হয়। দলের ওপর তাঁদের অধিকারবোধকেও কর্মী-সমর্থকরা অনেকেই স্বাভাবিকভাবে সমর্থন করেন। অভিষেক নিশ্চিতভাবেই উত্তরাধিকার আশা করেন, যদিও তাঁর নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব এখনো সর্বজনগ্রাহ্য নয়। এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে যতই চান যে ৬৫-৭০ বছরের মধ্যে রাজনীতিবিদরা অবসর নিক, দলনেত্রীর মনে আগামী পাঁচ বছরেও অবসর সংক্রান্ত কোনো ভাবনা আছে বলে মনে হয় না।

অভিষেককে অপেক্ষা করতে হবে। উত্তরাধিকার পেলেও দল ধরে রাখতে পারবেন কিনা সে কথা তো ভবিষ্যৎ বলবে।

মতামত ব্যক্তিগত

আরও পড়ুন:

পিসীক্রেসির ন্যাশনাল বড়ি, জড়ভরতের পোশাকের একজিবিশন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.