এক বছর আগে ধন্নিপুরের মসজিদের কথা লিখেছিলাম। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে অযোধ্যায় যেখানে বাবরি মসজিদ ছিল সেখান থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে, ফৈজাবাদ জেলার মধ্যেই পাঁচ একর জমি দেওয়া হয়েছিল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ট্রাস্টকে। ২০১৯ সালে দেওয়া সেই রায়ের পর পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে। কথা হয়েছিল সম্পূর্ণ ইসলামিক স্থাপত্যে তৈরি মসজিদের সঙ্গে সেখানে থাকবে ৩০০ বেডের ক্যানসার চিকিৎসার হাসপাতাল, স্কুল, কমিউনিটি কিচেন, লাইব্রেরি এবং সিপাহী বিদ্রোহের অন্যতম শহীদ মৌলবী আহমদুল্লাহ শাহ ফৈজাবাদীর নামে গবেষণা কেন্দ্র।

আজ ২০২৫ সালেও সেখানে একটি ইট গাঁথা সম্ভব হয়নি। কাজ একেবারে থেমে আছে বলা উচিত নয়, তবে পাঁচ বছরে যতখানি কাজ এগোতে পারত, তার এক শতাংশও এগোয়নি। শতকরা একশো ভাগ ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে টাকা তোলার যে পরিকল্পনা হয়েছিল তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী পুরো প্রকল্পের আনুমানিক খরচ ছিল প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ কোটি শুধু মসজিদের জন্য, বাকি ২৮০ কোটি অন্যান্য জিনিসগুলো বানাবার জন্য। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী দেখতে পাচ্ছি, কোনোরকমে মাত্র এক কোটি টাকা তোলা গেছে।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

এই প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন, বা IICF এর মধ্যে আরও কয়েকটা কাজ করেছে। এই মসজিদ এবং অন্যান্য জায়গা বানাবার দায়িত্বে তৈরি করা চারটে কমিটি ভেঙে দিয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট অনুযায়ী, টাকা তোলার কাজ আরও ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যেই এই কমিটিগুলোকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন একটাই মূল লক্ষ্য – টাকা তোলা। IICF-এর চিফ ট্রাস্টি এবং চেয়ারম্যান জাফর ফারুকী জানিয়েছেন, আপাতত IICF প্রাণপণ চেষ্টা করছে FCRA অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত অনুমতির ব্যবস্থা করতে, যাতে বিদেশ থেকেও অর্থসাহায্য পাওয়া যায়।

প্রকল্পের জন্য সরকারের দেওয়া পাঁচ একর জমিতে এখনো বাচ্চারা খেলে, গৃহপালিত পশু চরে বেড়ায়। রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলার অন্যতম বিবাদী পক্ষ বা ‘লিটিগ্যান্ট’ ইকবাল আনসারি, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এবং IICF-এর উপর সম্পূর্ণ বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন কাজ শুরু না করতে পারার কারণে। আনসারির বক্তব্য, সকলেই মসজিদ তৈরি করার চেয়ে রাজনীতি করতেই বেশি আগ্রহী। অতএব মসজিদ তৈরি করার আর দরকার নেই। ওখানে বরং চাষযোগ্য জমি তৈরি হোক, ফসল ফলানো হোক। যা ফসল হবে, তা হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে ঘরে তুলতে পারবে।

মসজিদের জমি ঘিরে রাজনীতির অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। গত ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় বিজেপি মুখপাত্র ডঃ রজনীশ সিং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথকে এক চিঠিতে অনুরোধ করেছেন, পাঁচ বছরেও যখন সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড কোনো মসজিদ বানাতে পারেনি, তখন সরকার বরং ওই জমি ফেরত নিয়ে নিক। তিনি আরও লিখেছেন, ওয়াকফ বোর্ডের কোনোদিনই ওখানে মসজিদ বানানো আসল উদ্দেশ্য ছিল না। উদ্দেশ্য ছিল জমিটাকে নিজেদের কব্জায় রেখে ওই এলাকার সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য নষ্ট করা।

গতবছর যখন এই মসজিদ এবং তাকে ঘিরে উদ্যোগের কথা লিখেছিলাম, তখন IICF-এর ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন দেখতে পাচ্ছি সেটা আবার চালু হয়েছে। সেখানে প্রকল্প, তার সম্পূর্ণ বাজেট এবং অনুদানের সমস্ত তথ্য দেওয়া আছে। উৎসাহী পাঠক চাইলে ওই সাইটে গিয়ে অনুদান দিতে পারেন।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.