“আমি এবার আমার বইখাতা পুড়িয়ে ফেলব, পুড়িয়ে ফেলব সব ডিগ্রি। কারণ আমাকে লুকিয়ে থাকতে হবে, আমাকে যেন তালিবানরা খুঁজে না পায়। যেদিন ওরা প্রথম কাবুল শহরে ঢুকল, আমি তখন ইউনিভার্সিটিতে। ছুটে আসছে সহপাঠিনীরা, আর এখানে থাকা নিরাপদ নয়! আমরা আবার পালাচ্ছি, আমরা আবার লুকোচ্ছি, আমরা আবার বোরখায় ঢাকছি আমাদের মুখ, শরীর!”

কাবুল তালিবানদের কবজায় এসেছে গত ১৫ই আগস্ট, আর ১৬ই আগস্ট দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় ঠিক এভাবেই লিখেছেন নাম জানাতে না চাওয়া আফগান তরুণী।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

কাবুল এয়ারপোর্টের থিকথিকে ভিড়ের ছবি, ভিড় সামলাতে এয়ারপোর্ট পাহারা দেওয়া মার্কিন সেনার গুলি, ফৌজি বিমানে ‘এভাকুয়েশন’, কাঁটাতারের ওপারে জংলা পোষাকের ন্যাটো ফৌজির হাতে তুলে দেওয়া আফগান শিশু, রাস্তায় বসিয়ে মহিলাদের চাবুক পেটানোর মত দৃশ্যাবলী এখন চোখের সামনে।

মূলধারার সংবাদপত্র, মূলধারার টেলিভিশন চ্যানেল, মূলধারার কাগজের ওপিনিয়ন পেজে পাতার পর পাতা জুড়ে হৃদয় বিদারক কাবুলের ছবি। দুই ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে মার্কিন-ন্যাটো ফৌজ আফগানিস্তানে জাঁকিয়ে বসে থাকার পরেও কাবুল আবার তালিবানদের দখলে, মার্কিন-ন্যাটো বাহিনীর পুতুল রাষ্ট্রপতি আশরাফ গনি পলাতক। এক লক্ষ তিরিশ হাজার মার্কিন বাহিনী গত কুড়ি বছর ধরে ছিল আফগানিস্তানে, আফগান ন্যাশনাল আর্মি গড়তে ৮৮ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে আমেরিকা। তারপরেও তালিবান যোদ্ধাদের কাছে কার্যত একের পর এক প্রদেশে, জেলায় আত্মসমর্পণ আফগানিস্তান বাহিনীর।

আফগানিস্তান সমস্যা নিয়ে পাতার পর পাতা নিউজপ্রিন্ট খরচের আবহে যে প্রশ্ন গুলো উঠে আসছে না, সেই প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা জরুরি। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের তালিবান শাসনের আগের আফগানিস্তান কেমন ছিল? নাজিবুল্লাহকে হত্যা করে পিডিপিএ-র জমানা পরিবর্তন, ‘রেজিম চেঞ্জ’ কোন পথে হল? পিডিপিএ শাসনের আগে আফগানিস্তান-সেভিয়েত সম্পর্ক কেমন ছিল? আজকের তালিবান, কালকের মুজাহিদিন বাহিনীর হাতে কারা অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র তুলে দিল? পিডিপিএ সরকারের বিরুদ্ধে মুজাহিদিনদের সঙ্গে সিআইএ-র সম্পর্ক কেমন ছিল? দশ বছর ধরে আফগানিস্তানে থাকা সোভিয়েত রেড আর্মি নিয়ে তৎকালীন সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টি, প্রশাসন, গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে কি কোন দ্বন্দ্ব ছিল?

উনিশ শতক থেকেই আফগানিস্তান ছিল সাম্রাজ্য বিস্তারের শক্তিগুলোর কাছে একটি ভূ-রাজনৈতিক পুরস্কার, জারের রাশিয়া আর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ উভয় পক্ষের কাছেই। ১৯২১ সালে গড়ে ওঠা আমানুল্লা খানের স্বাধীন আফগান সরকারকে সঙ্গত কারণেই অনেকে তুলনা করেন তুরস্কের কামাল আতাতুর্ক সরকারের সঙ্গে। আমানুল্লা চেয়েছিলেন তাঁর দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আধুনিক দুনিয়ার সঙ্গে সংযুক্তি। আমানুল্লা খানের সরকার সেই সময় মস্কোর নতুন বিপ্লবী সরকারের সাহায্য চেয়েছিল, সেই পর্বেই গড়ে ওঠে প্রথম আফগান-সোভিয়েত বন্ধুতা চুক্তি। আমানুল্লা খানের সময় চেষ্টা হয়েছিল স্কুল ও কলেজ শিক্ষায় ছাত্র, ছাত্রী উভয়েরই অন্তর্ভুক্তি; আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশের মধ্যে শিল্প স্থাপন; ভারসাম্যের কর কাঠামো; জাতীয় ব্যাঙ্ক নির্মাণ।

১৯১৯ থেকে ১৯২৯ — এই দশ বছরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের মদতপুষ্ট প্রতিক্রিয়ার শক্তির চাপে আমানুল্লা খান সরে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আফগানিস্তানে পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎকেন্দ্র, জলসম্পদ, পরিবহন এবং যোগাযোগের কাঠামো গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল সোভিয়েত। ১৯৬০-এর দশকে ফের নতুন করে গড়ে ওঠা আফগান-সোভিয়েত সম্পর্কের সময় গড়ে ওঠে ‘সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড কালচার’, যা পরবর্তী সময়ে মার্কিন মদতপুষ্ট মুজাহিদ বাহিনী ধ্বংস করে।

আফগানিস্তানের বামপন্থী পার্টি ‘পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ আফগানিস্তান’, সংক্ষেপে পিডিপিএ-র মধ্যেও জন্মলগ্ন থেকেই দুই গোষ্ঠীর লড়াই অব্যাহত থেকেছে। ১৯৭৮ সালের এপ্রিল বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে পিডিপিএ-র উত্থান হলেও বিবদমান দুই গোষ্ঠী পর্চম ও খালকদের মধ্যে বিবাদ মেটেনি। পিডিপিএ-র মধ্যে পর্চম গোষ্ঠী ছিল বেশি মাত্রায় সোভিয়েত ঘনিষ্ঠতার লাইনে, উল্টোদিকে খালক গোষ্ঠী আফগানিস্তানের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার পক্ষে হলেও মতাদর্শগতভাবে ধ্রুপদী কমিউনিস্ট বোঝাপড়ার দিক থেকে দুর্বল। খালক গোষ্ঠী থেকে আফগান পার্টির প্রথম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন নূর মহম্মদ তারিকি, আর পর্চম গোষ্ঠী থেকে সহযোগী সম্পাদক নির্বাচিত হন বারবক কামাল। পলিটব্যুরো সদস্য নির্বাচিত হন আরেক খালকি নেতা হাফিজুল্লা আমিন। মূলত শহুরে বুদ্ধিজীবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে পর্চম গোষ্ঠীর প্রভাব থাকলেও, খালকি গোষ্ঠীর দাবি ছিল, আদিবাসীদের মধ্যে তাঁদের প্রভাব বেশি। হাফিজুল্লা আমিন এক ধাপ এগিয়ে রাশিয়াকে বিপ্লবের মানে বোঝাতেও গিয়েছিলেন, “আমাদের মহান বিপ্লবের পর জানা উচিত সামন্ত শ্রেণি থেকে শ্রমিক শ্রেণিতে উত্তরণের শর্টকাট রাস্তাও আছে এবং আমাদের বিপ্লব তা দেখিয়েছে”। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই থাকলেও কাবুল শহরের বাইরেও ভূমি সংস্কারে ইতিবাচক ভূমিকা ছিল পিডিপিএ সরকারের। শহরের মধ্যে নারী পুরুষ উভয়কেই নিয়েই সমবায়, মহিলাদের ‘শ্রমিক’ মর্যাদা দেওয়া, নারী শিক্ষা, সামাজিক সাম্যের আদর্শকে সামনে রেখে চলা ছিল পিডিপিএ জমানার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

আফগানিস্তানের নারীমুক্তি আন্দোলনে যে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী নেত্রীর কথা উল্লেখ করতেই হয় তাঁর নাম আনাহিতা রায়েবজাদ। ১৯৫৭ সালে রায়েবজাদ আফগানিস্তানে প্রথম বোরখা বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। বলাই বাহুল্য সেই সময়েও ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই এগোতে হয়েছিল। ১৯৬৪ সালে আফগান মহিলাদের নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন মহিলাদের প্রথম গণতান্ত্রিক সংগঠন। ১৯৬৫ সালে আফগান সংসদে প্রথম মহিলা সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হন রায়েবজাদ। পিডিপিএ-র সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের সরকারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলেছেন তিনি। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ছিলেন আফগানিস্তানের রেভোলিউশনারি কাউন্সিলের ডেপুটি চিফ। পিডিপিএ সরকারের সময় আফগান নারীদের এগিয়ে থাকা, আফগান নারীদের শিক্ষা, আফগান নারীদের সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত হওয়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বামপন্থী রায়েবজাদ।

ভূমি সংস্কার, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমজীবী মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক কাজের জন্য পিডিপিএ সরকার যেমন প্রথম থেকেই সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছিল, তেমনি এই ধরণের কর্মসূচী গ্রামীণ জমিদার ভূস্বামীদের কাছে চক্ষুশূল করেছিল পিডিপিএ-কে। হিরাট প্রদেশে অসন্তোষ দানা বাঁধলে পিডিপিএ নেতৃত্ব সোভিয়েত রেড আর্মির সাহায্য চান।

ইতিহাস এই প্রশ্ন তুলতে পারে, ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৮ — দীর্ঘ দশ বছর আফগানিস্তানের মাটিতে সোভিয়েত সেনার উপস্থিতি কি জরুরি ছিল? সোভিয়েতের কমিউনিস্ট পার্টি এবং প্রশাসনের মধ্যে এ নিয়ে কি ঐকমত্য ছিল?

সেই সময়ের কেজিবি প্রধান আন্দ্রোপভ সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোকে সতর্কও করেছিলেন, সোভিয়েত যদি সেনা পাঠায় তাহলে আফগান জনগণ তা দেখতে পারে ‘আগ্রাসন’ হিসাবে। আন্দ্রোপভের মতের সঙ্গে সহমত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী আলেক্সেই কোসিগিন। পিডিপিএ-র নূর আল তারিকিকে কোসিগিন পরামর্শ দেন হিরাটের শ্রমিক, পেটি বুর্জোয়াদের সশস্ত্র যোদ্ধায় পরিণত করা উচিত। পিডিপিএ-র কাবুল শহরের বাইরে ব্যাপক গণভিত্তি না থাকার কারণেই কি সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের কর্মসূচি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য,আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ আফগানিস্তান গড়ার জন্যই কি সোভিয়েত বাহিনীর প্রয়োজন পড়ল? সোভিয়েত বাহিনীকে প্রথম দিন থেকেই আমেরিকা, সিআইএ-র মদতপুষ্ট মুজাহিদিন, পাকিস্তান, আইএসআই-এর আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। সোভিয়েত রেড আর্মির ফর্টিয়েথ ট্রুপের বহু প্রাণের বিনিময়ে, রক্তের বিনিময়ে এক দশক ধরে সিআইএ মদতপুষ্ট মুজাহিদিন হামলাকে ঠেকিয়ে টিকে ছিল পিডিপিএ-র সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের সরকার।

১৯৮৮ সালের এপ্রিল থেকে যখন সোভিয়েত রেড আর্মি আফগানিস্তান ছাড়তে শুরু করে, ওয়াশিংটনে সেই সময় হয়েছিল ‘সেলিব্রেশন’। দীর্ঘ দশ বছরের সিআইএ প্রোজেক্টের সাফল্য। সিআইএ-র তৎকালীন ডিরেক্টর উইলিয়াম ওয়েবস্টারের ‘আফগান টিম’ মাল্টি বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কি সাফল্যের সঙ্গেই না কমিউনিস্টবিরোধী, মুজাহিদিনদের সাহায্য করতে পেরেছে ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটাতে। পিডিপিএ-র বিরোধী শক্তিদের মদত দিয়েছিল পাকিস্তানও। রব্বানি, হেকমতয়ার, আব্দুল রাবের বিদ্রোহী আফগান নেতাদের ‘সুন্নি আফগান রেবেল অ্যালায়েন্স’-কে সাহায্য করেছিল সরাসরি পাকিস্তান। আশির দশকের প্রথমে রোনাল্ড রেগান মার্কিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর আরো দ্রুততার সঙ্গে মদত দেওয়া শুরু হয় মুজাহিদদের। পাকিস্তানের জিয়া সরকারকে ছ বছরের ‘এইড প্যাকেজ’ দেওয়া হয় শুধু মাত্র পিডিপিএ সরকার ফেলার লক্ষ্যে। আইএসআই-সিআইএ-র সেদিন নয়নের মণি ছিল হেকমতয়ারের ‘হেজব-ই-ইসলামি’। মুজাহিদিন গ্রুপগুলোকে নিয়মিত মিশরে বানানো অত্যাধুনিক রাইফেল জুগিয়েছে সিআইএ। পাকিস্তানের মাটি থেকে মুজাহিদদের সাহায্যের জন্য আশির দশকের প্রথমেই পাকিস্তানে এসএ-সেভেন নামের অ্যান্টি এয়ারক্র্যাফ্ট মিসাইল পাঠায় আমেরিকা। ১৯৮৪ সালে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব পাশ হয় আরও কার্যকরীভাবে ‘ইউএস এইড মেটেরিয়াল’ আফগান মুজাহিদদের পাঠানোর জন্য।  ১৯৮২ সালে মুজাহিদদের আমেরিকা অর্থ সাহায্য করে তিন বিলিয়ন ডলার, ১৯৮৭ সালে সেই অর্থ সাহায্য পৌঁছয় সাত বিলিয়ন ডলারে। পাকিস্তানের থেকেও বেশি অর্থ সাহায্য পেয়েছিল আফগান মুজাহিদরা!

তাদের কাছে নিয়মিত পৌঁছেছে মার্কিন মুলুকে বানানো স্ট্রিঞ্জার মিসাইল। উল্লাস চেপে রাখতে পারেননি মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা। সিআইএ-র ‘কোভার্ট এইড’ থেকে সরাসরি স্ট্রিঞ্জার মিসাইল, মার্কিন কংগ্রেস শুনছিল যুদ্ধবাজ রাজনীতিকদের চিৎকার “We finally broke the agency’s virginity”!

১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তানের মাটি ছাড়লেও, তার পরে তিন বছর টিকেছিল নাজিবুল্লাহর পিডিপিএ সরকার। “নাজিবুল্লাহর ব্যাপারে আমি সাংঘাতিক ভুল ছিলাম, আমি ভেবেছিলাম সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেই নাজিবুল্লাহ সরকারের পতন হবে!” ১৯৯০ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তৎকালীন মহাসচিব জেভিয়ার পেরেজ দ্য কুয়্যারকে বলেছিলেন সেই সময়ের মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশ সিনিয়র।

তাঁর মতই চমকে উঠেছিল পশ্চিমি দুনিয়া, অবাক হয়ে গিয়েছিল মার্কিন মদতপুষ্ট মুজাহিদ বাহিনীও! ১৯৮৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে আফগানিস্তানের মাটি ছাড়তে শুরু করে সোভিয়েত রেড আর্মি। ১৯৮৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি শেষ বাহিনী কাবুল ছেড়ে চলে যায়। উল্লসিত জর্জ বুশ সিনিয়র ও মুজাহিদরা। ভাবা হয়েছিল নাজিবুল্লাহর ‘ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ আফগানিস্তান’-এর পতন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

নাঃ! তেমনটা হয়নি। কাবুল থেকে শেষ সোভিয়েত বাহিনী চলে যাওয়ার প্রায় তিন বছর পর পতন হয় নাজিবুল্লাহ সরকারের, ১৯৯২-এর এপ্রিলে। মার্কিন-পাক-সৌদি আরব মদতপুষ্ট মুজাহিদদের রুখেই আফগানিস্তানের সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের সরকার টিকে ছিল পাক্কা তিনটি বছর।

১৯৮৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির পর ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট। মার্কিন সেনাবাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে চলে আসা শুরু করতেই মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে আশরফ গনি সরকারের পতন, প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস ছেড়ে টাকা ভর্তি গাড়ি আর চপার নিয়ে তিনি পালালেন।

আশরফ কোথায়? গুগল সার্চ করলে নানা জায়গায় নানা উত্তর। কেউ বলছেন উজবেকিস্তানে, কেউ বলছেন তাজিকিস্তান থেকে ওমানে, কেউ বলছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই পাড়ি দিয়েছেন। ১৯৯২ এপ্রিলে সরকার পতনের পরেও কিন্তু কাবুলেই ছিলেন নাজিবুল্লাহ। রাষ্ট্রসংঘের দপ্তরে ঢুকে তাঁকে হত্যা করে তালিবানরা।

Leave a Reply