ভোট পর্বের মাঝেই নিজেকে ঈশ্বরপ্রেরিত অবতার বলে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঈশ্বরের দূত হিসাবে নিজেকে জাহির করার চেষ্টা বহুদিন ধরেই চলছিল। ভক্তের দলও পিছিয়ে ছিল না। বিজেপির একাধিক নেতা নানাভাবে মোদীকে ঈশ্বর বলার চেষ্টা করেছেন। সংসদ ভবন বা রামমন্দিরের উদ্বোধনেও মোদী নিজেকে সেই রূপেই জনসমক্ষে হাজির করেছেন। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র তথা পুরীর বিজেপি প্রার্থী সম্বিত পাত্র কয়েক ধাপ এগিয়ে একেবারে জগন্নাথদেবকেই মোদীর ভক্ত বলে বসেছেন। যদিও সেই মন্তব্যে বিতর্কের পর পিছু হটেছেন। ভক্তদের এত নামগানের পরেও চিড়ে যে বিশেষ ভিজছে না তা মোদী ভালই টের পাচ্ছেন। তাই নিজেকেই অবতার রূপে প্রচারের মরিয়া প্রচেষ্টা। নীতিবোধ, সংযম, সাংবিধানিক তথা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি জলাঞ্জলি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে হাস্যাস্পদ করে তুলেছেন। হারার ভয় যে তাঁর মনে ক্রমশ গেড়ে বসছে তা স্পষ্ট।

প্রথম দুই দফার ভোটের পরেই সংযম হারিয়েছিলেন। ইন্ডিয়া জোট তথা কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে বেলাগাম উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়ে চলেছেন। এতদিন ভক্তরা যে কাজ করত, মোদী নিজেই এখন তা শুরু করেছেন। কংগ্রেসের ইশতেহার সম্পর্কে মিথ্যা, উস্কানিমূলক ভাষণ এই ষষ্ঠ দফার পরেও অব্যাহত রয়েছে। মোদী প্রচারে বলছেন, ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় এলে নাকি আদিবাসী, দলিতদের জন্য সংরক্ষণ তুলে দিয়ে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণ চালু হবে। অথচ এই কেন্দ্রীয় সরকারই দলিত শব্দটির ব্যবহার নিয়ে একসময় তীব্র আপত্তি করেছিল। আরএসএস তথা বিজেপি নীতিগতভাবে সংরক্ষণের বিরোধী। মনুবাদী এই দলটি বর্ণভেদ প্রথার চরম সমর্থক। গত দশবছরে দলিত, আদিবাসীদের উপর যেমন নির্যাতন বেড়েছে, তেমন বেড়েছে তাঁদের উচ্ছেদ করে বিকাশের ধ্বংসযজ্ঞ। সেই আদিবাসী, দলিতদের জন্য কুমিরের কান্না কেঁদে মোদী এখন মুসলিম বিদ্বেষ ছড়াতে চাইছেন। সংরক্ষণ প্রথার বিরোধী বিজেপি, মুসলমানদের মধ্যে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়ার প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে আসছে। কংগ্রেসের ইশতেহারের মূল সুরকে বিকৃত করে এখন উগ্র সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিচ্ছে। বিজেপির কাছে অবশ্য এটাই প্রত্যাশিত।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

কিন্তু কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবেই মোদী ইন্ডিয়া জোটের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ আনছেন যা রীতিমত হাস্যকর। যেমন উত্তরপ্রদেশের এক সভায় বলেছেন, ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় এলে নাকি গরিব মানুষের ব্যাঙ্কের খাতা বন্ধ করে টাকা নিয়ে নেবে। কালো টাকা উদ্ধার করে ১৫ লক্ষ টাকা করে প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার মোদী গ্যারান্টি নিয়ে মানুষ যে ক্ষুব্ধ, তা তিনি ভালই বুঝেছেন। তাই ইন্ডিয়া জোটের বিরুদ্ধে এই হাস্যকর অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তিনি বলেছেন, ইন্ডিয়া জোট ক্ষমতায় এলে নাকি গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেবে। আরেক জনসভায় বলেছেন, মোদীকে যাঁরা ভোট দেবেন তাঁরা মোদীর ভাল কাজের পুণ্যের ফল লাভ করবেন। পুণ্যের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চাইতে হচ্ছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে! গ্যারান্টির প্রচার ভুলে এখন ক্রমশ তিনি নিজেকে নিচে নামাচ্ছেন। অবশ্য ধর্মীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে গেলে নিচেই নামতে হয়। যুক্তিবোধ, শিষ্টাচার বিসর্জন দিয়ে বিদ্বেষ আর চরম মিথ্যাচারের আশ্রয় নিতে হয়।

বারাণসীতে তিনি এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর নাকি জৈবিক পদ্ধতিতে জন্ম হয়নি। তাঁকে ঈশ্বরই এই ধরাধামে কাজের জন্য পাঠিয়েছেন। অর্থাৎ তাঁর সব কাজই চলছে ঈশ্বরের নির্দেশে। ভণ্ডামি করতে গিয়ে ধর্ম জলাঞ্জলি দিতেও তিনি দ্বিধাগ্রস্ত নন। মনোনয়ন পত্র জমা দিতে গিয়ে বারাণসীতে গঙ্গাস্নান করে নিজেকে গঙ্গার সন্তান বলেছেন। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসেই মোদী সরকার নমামি গঙ্গে নামে প্রকল্প ঘোষণা করে। এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে ৪০,০০০ কোটি টাকা। কিন্তু গঙ্গা দূষণমুক্ত হয়নি। বরং নদীবাঁধসহ নানা তথাকথিত বিকাশের কাজে গঙ্গা আরও দূষিত হয়েছে। গঙ্গা নদীর ধারাকে অবিরল ও নির্মল রাখতে প্রতিবাদে নেমেছেন সন্ন্যাসী, সন্ন্যাসিনীরা। বেনারসেরই বাবা নাগরাজ গঙ্গা বাঁচানোর জন্য অনশন করেন ২০১৪ সালের জুলাই মাসে। মোদী ততদিনে প্রধানমন্ত্রী হয়ে গিয়েছেন। আইআইটির অধ্যাপক গুরুদাস আগরওয়াল তথা স্বামী জ্ঞানস্বরূপ সানন্দ হরিদ্বারের মাতৃ সদন আশ্রমের সন্ন্যাসী। তিনি গঙ্গাকে বাঁচানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাননি। অনশন করে ২০১৮ সালে তিনি আত্মবলিদান করেন। ওই আশ্রমেরই স্বামী গোপাল দাস অনশন করেন এবং নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তেইশ বছর বয়সী ব্রহ্মচারিণী পদ্মাবতী একই উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে অনশন শুরু করেন।

পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করে। ফলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মাতৃ সদন আশ্রমের সন্ন্যাসী, সন্ন্যাসিনীদের অনশন কিন্তু থেমে যায়নি। গঙ্গা মায়ের স্বঘোষিত সন্তান মোদী তাঁদের কথা শুনে কোনো ব্যবস্থাই নেননি। বরং গঙ্গাকে আরও অবরুদ্ধ করতে একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করে চলেছেন।

মোদীজির ধর্মকথা তাই চূড়ান্ত ভণ্ডামিরই নামান্তর। বিড়ালতপস্বী সেজে তিনি ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করছেন। আসলে ভোট পর্বে তাঁর অবস্থা ক্রমশ সঙ্গীন হচ্ছে। বিজেপি কেবল ভোটের হার কম বলেই চিন্তিত নয়। সাম্প্রতিককালে আদালতের বেশ কিছু রায় এবং পদক্ষেপেও মোদী সরকার আশঙ্কিত। সুর যেন কোথায় কেটে গেছে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের কর্মীদের নামে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, ইউএপিএ সহ নানা মিথ্যা মামলায় জেলে পুরেছে মোদী সরকার। তারজন্য এনআইএকে ব্যবহার করা হয়েছে। ভীমা-কোরেগাঁও মামলায় ‘আরবান নকশাল’ তকমা দিয়ে এনআইএর মাধ্যমে অনেককে কারাবন্দি করা হয়েছিল। এই মামলাতেই কারাবন্দি অবস্থায় শহিদ হন প্রবীণ ফাদার স্ট্যান স্বামী। সম্প্রতি ওই মামলা থেকে অনেকে খালাস পেয়েছেন। এপ্রিলে মুক্তি পেয়েছেন অধ্যাপিকা সোমা সেন। গৃহবন্দি দশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন গৌতম নওলাখা। মার্চ মাসে অধ্যাপক জি এন সাইবাবাকে আদালত বেকসুর খালাস করে দেয়। গত বছর নভেম্বর মাসে নিউজক্লিকের প্রতিষ্ঠাতা, সাংবাদিক প্রবীর পুরকায়স্থকে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিস। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট তাঁর গ্রেফতারকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। একের পর এক রায়ে প্রমাণিত হচ্ছে, যে মোদী দেশে চরম স্বৈরাচার চালাচ্ছেন। এখনো ইউএপিএ, রাষ্ট্রদ্রোহিতা সমেত নানা অগণতান্ত্রিক আইনে অনেকেই কারাবন্দি। বিচারের শ্লথ গতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। তবুও সাম্প্রতিক বিভিন্ন রায়ে মোদী সরকার যথেষ্ট অস্বস্তিতে।

কুস্তিগিরদের শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত বিজেপি সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে দিল্লির আদালত। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন, পদক জয়ী এদেশের একাধিক মহিলা কুস্তিগির তাঁর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছিলেন। তাঁদের প্রতি সুবিচার না করে উলটে নির্যাতন করেছে দিল্লি পুলিস। সংসদ ভবন উদ্বোধনে অভিযুক্ত ব্রিজভূষণ ছিলেন সংসদের ভিতরে, আর দিল্লির রাজপথে দেশের গর্ব কুস্তিগিররা প্রতিবাদে সামিল হয়ে পুলিসি আক্রমণের শিকার হন। এতদিন অভিযুক্ত ব্রিজভূষণকে রক্ষা করেছে বিজেপি। তাঁকে এবার ভোটে টিকিট না দিলেও তাঁর ছেলেকে দিয়েছে – পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিজেপির লড়াইয়ের দারুণ নমুনা। মহিলা কুস্তিগিরদের উপর মোদী সরকারের এই আচরণে হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশসহ উত্তর ভারতের অনেক বাসিন্দাই ক্ষুব্ধ। এরমধ্যে আদালতের চার্জ গঠনে চাপ আরও বেড়েছে। এমনিতেই কৃষক আন্দোলনের ফলে এইসব রাজ্যে গতবারের জেতা বহু আসন হারাতে চলেছে বিজেপি।

দীর্ঘ দেড় মাসের ভোট পর্বের মাঝে প্রকাশিত নানা তথ্য ও রিপোর্টও মোদীজির অস্বস্তি বাড়িয়েছে। সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক মঞ্চ অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড কোরাপশন রিপোর্টিং প্রোজেক্ট জানিয়েছে, যে আদানি গোষ্ঠী ইন্দোনেশিয়া থেকে কম দামে নিম্ন মানের কয়লা এনে তামিলনাড়ুর বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থাকে বেশি দামে বিক্রি করেছে। এতে যেমন তামিলনাড়ুতে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে, তেমন পরিবেশও দূষিত হয়েছে। আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেই মোদীর অস্বস্তি বাড়ে। এর আগে আদানি গোষ্ঠী কীভাবে শেয়ার বাজারে কারচুপি করে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়িয়েছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আদানি, আম্বানি গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের সখ্যের কথা তথ্য সহযোগে সংসদে বলে রাহুল গান্ধীর জনপ্রিয়তা বেড়েছে। নির্বাচনী সমাবেশে আদানির থেকে কংগ্রেস টাকা পাচ্ছে – এমন কথা বলে মোদী নিজেকে হাস্যকর করে তুলেছেন। এমনিতেই ভোটের আগে নির্বাচনী বন্ড নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া পদক্ষেপে বিজেপির দুর্নীতি স্পষ্ট হয়েছে। আওয়াজ উঠছে, নির্বাচনী বন্ড যেহেতু অসাংবিধানিক, তাই এর থেকে প্রাপ্ত অর্থ রাজনৈতিক দলগুলিকে ফেরত দিতে হবে। এই দাবিতে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপিই। এসবের মধ্যেই এসে পড়েছে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আরেক কেলেঙ্কারির অভিযোগ।

আরো পড়ুন গিলি গিলি গে: মোদী ম্যাজিক বলতে যা বোঝায়

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারকে দেওয়ার তথ্যেও বিজেপি অস্বস্তিতে পড়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গতবছরের লভ্যাংশ থেকে এবছর সরকারকে দিচ্ছে ২,১০,০০০ কোটি টাকা। গতবছর দিয়েছিল ৮৭,০০০ কোটি টাকার কিছু বেশি। এবার দিচ্ছে গতবারের থেকে ১৪১% বেশি অর্থ। অনেকের মতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নিজের তহবিলে রাখলে দেশের অর্থনীতির পক্ষে ভাল হত। প্রথম থেকেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তহবিলের উপর মোদী সরকারের নজর। সরকারের দাবিম রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তার লভ্যাংশের অর্থ তহবিলে বেশি না রেখে সরকারকে দিক। ২০১৯-২০ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে লভ্যাংশ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২২,০০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০,০০০ কোটি টাকা করা হয়েছিল। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক লভ্যাংশের কত অংশ তহবিলে রাখবে আর কত অংশ সরকারকে দেবে তা ঠিক করতে সরকার বিমল জালানের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটি সরকারের মতকেই স্বীকৃতি দেয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সংরক্ষিত তহবিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল আপদকালীন তহবিল বা কনটিনজেন্সি ফান্ড। মোটের উপর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তার সম্পদের ৮%-৯% এই ফান্ডে রেখে এসেছে। আর রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সংরক্ষিত তহবিলে সব মিলিয়ে রাখা হত মোট সম্পদের প্রায় ২৬%। বিমল জালান কমিটি সুপারিশ করে, কনটিনজেন্সি ফান্ডে ৫.৫%-৬.৫% অর্থ রাখাই যথেষ্ট। আর সংরক্ষিত তহবিলে মোট সম্পদের ২০%-২৪.৫ % রাখলেই হবে। অর্থাৎ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তহবিলে কম টাকা রেখে আরও টাকা সরকারকে দেওয়ার ছাড়পত্র দেয় এই কমিটি। সেই সুপারিশ অনুসারে মোদী সরকার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তহবিলে কম অর্থ রেখে নিজে বেশি অর্থ নিচ্ছে। এককথায় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ভাণ্ডার লুঠ করে বিকাশের গপ্পো বলছে মোদী সরকার। সাম্প্রতিক তথ্যে ভোটের মাঝেই সেই চিত্র মানুষের সামনে ধরা পড়ল।

জুয়ার বাজার যদি ভোটের ফলাফলের কোনো ইঙ্গিত বহন করে, তাহলে সেটাও মোদীর অস্বস্তি বাড়িয়েছে। মুম্বাইয়ের সাট্টা বাজার নাকি বলছে ইন্ডিয়া জোট ৩৪৮টি আসন জিতবে। অবশ্য রাজস্থানের ফালোদি সাট্টা বাজার একেবারে অন্য কথা বলছে। সব মিলিয়ে ভোটের সময়টা ভালো যাচ্ছে না মোদীর। তাই ভাষণে বারবার উদ্বেগ ধরা পড়ে যাচ্ছে। ছক কষে কথা বলার পরিচিত দৃশ্যের বদলে ভারসাম্যহীনতা ফুটে উঠছে। যাঁরা ভেবেছিলেন নিজেকে অবতার বলে ঘোষণা করে মোদী সব সীমা লঙ্ঘন করে গেছেন, তাঁদেরও অবাক করে দিয়ে মোদী পাঞ্জাবে প্রচারে গিয়ে দাবি করেছেন, গুরু গোবিন্দ সিংয়ের প্রথম পাঁচ ভক্তের একজন নাকি তাঁর কাকা ছিলেন

মোদী জিতবেন না হারবেন তা কিছুদিন পরেই জানা যাবে। কিন্তু নিজেকে অবতার বলে প্রচার করার এই প্রবণতা ভয়ঙ্কর। মোদী ও তাঁর সরকারের বিভিন্ন কাজকর্মে মনে হয় গণতন্ত্রের বদলে রাজতন্ত্রেই তাঁদের ভাল মানায়। শাসকের নিন্দাকে দেশদ্রোহিতা বলে দেগে দেওয়া থেকে সংসদ ভবন উদ্বোধন – সবেতেই এক ব্যক্তির জয়ধ্বনি। বহুদলীয় গণতন্ত্র তো নয়ই, বরং শাসক দল ও সরকারেও এক ব্যক্তিই যেন সব। সেই একনায়কতন্ত্রে কিছুটা ফাটল ধরানোর কৌশল নিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁকে কারাবন্দি করেও সুবিধা হল না। জামিনে বেরিয়ে এসে তাঁর জনপ্রিয়তা গেল বেড়ে। ভোটের সময়ে তাঁকে বন্দি করে রাখার কৌশলেও বাদ সাধল আদালত। আর কেজরিওয়াল ছাড়া পেয়েই বলতে শুরু করলেন, বয়সের কারণেই জিতলেও মোদী পুরো পাঁচ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। জনমানসে সংশয়, বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্বকে উস্কে দিয়ে সবকিছু ঘেঁটে দিলেন তিনি। ভোটের সময়ে এমন এক বিতর্ক তৈরি করলেন তিনি, যা বিজেপির সিলেবাসের বাইরে। একনায়কতন্ত্রের বিপদ এখানেই। নায়কই যদি পদে না থাকেন, বা খলনায়ক হয়ে যান, তাহলে সাম্রাজ্য টেকে না। নাজিদের কাজকে ঈশ্বর নির্দেশিত বলেছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। মোদীজিও সেই পথই অনুসরণ করছেন। নাজিদের পরিণতি নিশ্চয়ই তিনি জানেন।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.