২০২৩ সালের শেষ লগ্নে আমরা দেখলাম, রামের ঘর বানিয়ে দেওয়া নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর আত্মপ্রচার। অধ্যাত্মবাদীরা প্রধানমন্ত্রীর এই দাবিকে দম্ভের আস্ফালন বলতেই পারেন। কিন্তু, এখনো পর্যন্ত কোনো অধ্যাত্মবাদীর থেকে এমন মন্তব্য শোনা যায়নি। করে থাকলেও, আমরা তা জানতে পারিনি। বরং প্রধানমন্ত্রী দর্শনে সাধুসন্তদের বিগলিত হওয়ার ছবিই ভেসে উঠছে নানা মিডিয়ায়। মনে পড়ে যাচ্ছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই বিখ্যাত ‘দীনদান’ কবিতার লাইনগুলো – ‘শূন্য নয়, রাজদম্ভে পূর্ণ’, সাধু কহে,/ ‘আপনায় স্থাপিয়াছ, জগতের দেবতারে নহে।’

রবীন্দ্রনাথের মত এমন স্পষ্ট উচ্চারণের সাহস এখন হাতেগোনা কয়েকজন কবি, সাধুসন্তেরই রয়েছে। আমরা এই প্রশ্ন করতেও ভুলে যাচ্ছি যে, ভগবানের ঘর বানানোর দায়িত্ব দেশের প্রধানমন্ত্রীর নয়। মন্দির বানানোর দায়িত্বও কোনো মুখ্যমন্ত্রীর নয়। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সে কাজ করা চরম অন্যায়, সংবিধানবিরোধী। আর দেশের নাগরিকদের ঘর বানিয়ে দিয়ে কিংবা রেশনে সামান্য কিছু চাল, গম বিনামূল্যে দিয়ে তা নিয়ে ঢাক পেটানো চূড়ান্ত অসভ্যতা। নাগরিকদের খাবারের, বাসস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া সরকারের দয়া নয়, কর্তব্য। গণতন্ত্র, নাগরিকের অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা – এইসব শব্দই ক্রমশ হয়ে উঠছে দেশদ্রোহিতার পরিচায়ক। রাষ্ট্রের প্রতি অন্ধ আনুগত্যই প্রতিটি নাগরিকের পবিত্রতম কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

রাজানুগ্রহে ধর্মমতের বিস্তার বা রাজরোষে ধর্মমত আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস বিশ্বজোড়া। বিদ্যাচর্চাতেও পড়েছিল তার প্রভাব। ভারতবর্ষও তার ব্যতিক্রম নয়। এখন তো গণতন্ত্রের যুগ। অন্তত তেমনটাই রাষ্ট্রনেতাদের দাবি। আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ধারণায় ধর্মনিরপেক্ষতা, মতপ্রকাশের অধিকার, রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার অধিকার স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু, দুনিয়া জুড়েই আজ এইসব ধারণা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। অপরের প্রতি চূড়ান্ত অসহিষ্ণুতা, ঘৃণা এখন রাষ্ট্রের মদত পাচ্ছে। ধর্মীয় বা স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে তো বটেই, সভ্যতার গর্বে মাতাল পশ্চিমি দুনিয়াতেও। চরম দক্ষিণপন্থার সেই পথেই হেঁটে চলেছে আমাদের দেশ।

কোভিড পরবর্তী পর্বে নয়া স্বাভাবিকতা অতি পরিচিত শব্দবন্ধ। যা কিছু দীর্ঘদিন আমাদের কাছে ছিল অস্বাভাবিক, রাষ্ট্র যা রেখে ঢেকে করতে বাধ্য হত, সেসবই এখন করা হচ্ছে প্রকাশ্যে। রাষ্ট্রনেতাদের আস্ফালনকে হাজির করা হচ্ছে বীরত্বের মোড়কে। তাঁরা মন্দির যেখানে করার কথা বলেছিলেন সেখানেই করলে, সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিলের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেই হয়ে যাচ্ছেন বীর। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যম রচনা করছে সেই বীরত্বের কাহিনি। বেকারদের চাকরি দেওয়ার, কাশ্মীরে শান্তি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি না মানলেও চলবে। কোনটা সরকারের কাজ আর কোনটা নয়, কোনটা সংবিধানসম্মত, আর কোনটা সংবিধানবিরোধী – ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নয়া স্বাভাবিকতার এই যুগে স্বাভাবিকের ধারণাটাই গেছে গুলিয়ে।

আমরা নাগরিকরা এখন রাষ্ট্রের বাধ্য হয়েই যেন তৃপ্ত হচ্ছি। কোভিড পর্বে রাষ্ট্রনেতারা এ নিয়ে কম পরীক্ষানিরীক্ষা চালাননি। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী খেয়ালখুশি মত লকডাউন ঘোষণা থেকে শুরু করে নানা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। আমরা বাধ্য সন্তানের মত সেসব অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলাম। বড়জোর ভিতরে ভিতরে কিংবা নিজেদের মধ্যে গুমরোলেও তা বহিঃপ্রকাশের সাহস সিংহভাগই দেখাইনি। বরং প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে কখনো বাজনা বাজিয়ে, কখনো আলো জ্বালিয়ে নিজেদের দায়িত্বশীল প্রমাণের প্রতিযোগিতায় নেমেছিলাম। অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের চরম দুরবস্থায় কিছু মন্তব্য করেই দায়িত্ব সেরেছিলাম।

অতিমারী প্রকট করেছিল জনস্বাস্থ্যের আসল চেহারা, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি, শ্রমিকের অধিকারের অভাব সমেত নানা দিক। নয়া স্বাভাবিকতায় সরকার সেই অসম্পূর্ণতা বা ত্রুটিগুলোকে মেরামত করতে কী কী ব্যবস্থা নিল – সেসব প্রশ্ন করতেও আমরা যেন ভুলে গেছি। উল্টে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির বদলে অবনতিই হয়েছে। অতিমারীর সময়ের অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থাকে স্থায়ী রূপ দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের এবং পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিক্ষানীতি – দুটিতেই এই বিষয়ে মিল চোখে পড়ার মত। শ্রমিকের অধিকার আরও বেশি করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একশো দিনের কাজকে তখন গুরুত্ব দিলেও, পরে সরকারি বরাদ্দ কমেছে। কেন্দ্র-রাজ্য তরজায় পশ্চিমবঙ্গে তো সেসব বন্ধও হয়ে গেছে।

সংসদে বিতর্ক এড়িয়ে একের পর এক বিল পাস করার মহড়া তখন সরকার করেছিল। এখন সেই মহড়াকেই স্বাভাবিকতায় পরিণত করেছে। সংসদের বাদল ও শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধীশূন্য অবস্থাতেই পাস হয়েছে একের পর এক বিল। শীতকালীন অধিবেশনে যেভাবে বিরোধী সাংসদদের বহিষ্কার করা হল, তাতে মনে হচ্ছে নয়া সংসদ ভবন আসলে একটা রাজদরবার। কেবলমাত্র রাজার স্তুতিই সেখানে অনুমোদিত। প্রশ্ন বা সমালোচনা অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করে কেন্দ্রীকরণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এতকিছুর পরেও কিন্তু বিজেপি বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যাপক বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে রামমন্দির, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ ইত্যাদি বিষয়গুলোকে সামনে এনে আসল ইস্যুগুলোকে আড়াল করতে বিজেপি অনেকখানি সফল হয়েছে। ভয়াবহ বেকার সমস্যা, বেশিরভাগ মানুষের চরম আর্থিক সঙ্কট, আমাদের হারাতে বসা অধিকারগুলো আর ভোট রাজনীতির প্রধান ইস্যু থাকছে না। কিছু প্রকল্পের নামে নাগরিকদের সামান্য কিছু সুযোগ দিয়েই রাষ্ট্র তার দায় ঝেড়ে ফেলে দিচ্ছে। ধর্ম নিয়ে মাতামাতি, পরিচয় সত্তার রাজনীতি নিয়ে আস্ফালনই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জীবনযুদ্ধে ক্রমশ কোণঠাসা মানুষের বড় অংশের কাছে ধর্ম, জাতপাতভিত্তিক পরিচয় সত্তার রাজনীতি হয়ে উঠছে আশ্রয়। বিরোধী শিবিরও এর বাইরে বের হওয়ার দৃঢ়তা দেখাতে পারছে না। এই অবস্থায় সংসদে কিছু যুবক চাকরি নিয়ে সোচ্চার হলে দেশদ্রোহী হয়ে যান।

প্রতিষ্ঠানবাদী রাজনৈতিক মহলে ভগৎ সিংকে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের রেওয়াজ আজকাল খুব চালু হয়েছে। অথচ বিরোধীপক্ষ সংসদে ভগৎ সিংয়ের পথ অনুসরণ করে ধোঁয়া বোমের বিস্ফোরণ করা যুবকদের তোলা প্রশ্নগুলো নিয়ে যথেষ্ট সোচ্চার হল না। বরং সংসদ ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘুরিয়ে স্বৈরাচারের পথই মসৃণ করল। একজন সাংসদেরও ক্ষতি না করে যাঁরা প্রতিবাদ করেন, তাঁদের হয়ে দুটো কথা বলার সাহস পর্যন্ত গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার লড়াইয়ের স্বঘোষিত সৈনিক এই বিরোধীদের হয় না। সরকার যখন দেশের সংবিধান, নিয়ম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ – সবকিছুর খোলনলচে বদলাতে নেমেছে, তখন বিরোধীপক্ষ আটকে নিয়মতান্ত্রিকতার বেড়াজালে।

আরো পড়ুন সংসদে আক্রমণ: নিরাপত্তার ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়া কিছু কথা

বিরোধীপক্ষের রাজনীতি থেকে শুরু করে বিচারব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যম – কিছুই শাসকের তৈরি করা বৃত্তের বাইরে যেতে পারছে না। বলা ভাল, চেষ্টা করার সাহস পর্যন্ত পাচ্ছে না। তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল, রামমন্দিরের উদ্বোধনে যাওয়া নিয়ে কংগ্রেসের মধ্যে টানাপোড়েন। বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা ঠিক হয়নি, রামমন্দির নিয়ে সরাসরি সরকারের উদ্যোগ যে সংবিধানবিরোধী – একথা সোচ্চারে বলার সাহস পর্যন্ত ধর্মনিরপেক্ষ শিবিরের বৃহৎ দলটি হারিয়ে ফেলেছে। আর আদালত তো হিন্দুত্ববাদীদের এতদিনের দাবিকেই বৈধতা দিয়েছে। চরম দক্ষিণপন্থা, স্বৈরাচারের এমন স্বর্ণযুগে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী, রামের বাড়ি থেকে চন্দ্রযান – সবকিছুতেই নিজের কৃতিত্ব দাবি করবেন, সেটাই তো স্বাভাবিক।

গীতাপাঠের বদলে চণ্ডীপাঠ, রামমন্দিরের বদলে জগন্নাথ মন্দির, হনুমান চালিশা পাঠের কৌশলে মৌলবাদের ভিতই শক্ত হয়েছে। নরম হিন্দুত্ববাদ কিছুদিন আগে হওয়া কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিরই সুবিধা করে দিয়েছে। সেসব নিয়ে কিছু মূল্যবান নিবন্ধ নাগরিক ডট নেটেই প্রকাশিত হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। ইন্ডিয়া জোট বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনের বদলে ভোট রাজনীতি, তার পাটিগণিতেই ব্যস্ত। নীতি তো গুরুত্ব হারাচ্ছেই, আসন সমঝোতা নিয়ে শরিকদের দর কষাকষি মানুষের মনে আশানুরূপ ভরসাও জাগাতে পারছে না। কংগ্রেস, বিভিন্ন আঞ্চলিক দল – কেউই বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নিজেদের জমি ছাড়তে খুব একটা রাজি নয়। ভোটের সময় ক্রমশ এগিয়ে এলেও এই জোট জড়তা কাটিয়ে এখনো ময়দানে নামতে পারল না বিরোধীরা।

মুখে বিজেপির বিপদের কথা বললেও কাজে কিন্তু বিরোধী শিবির এখনো ঠিকঠাক প্রস্তুতি নিয়ে উঠতে পারেনি। নানা রাজ্যের নানা রাজনৈতিক সমীকরণ এর বড় কারণ। পশ্চিমবঙ্গের মত অনেক রাজ্যেই ইন্ডিয়া জোট হওয়া সম্ভব নয়, হলে বরং বিজেপির লাভ। তৃণমূলবিরোধী ভোটের পুরোটাই তাদের পক্ষে চলে যেতে পারে। ভোট রাজনীতির অঙ্ক বড় জটিল। মতাদর্শ, নীতির থেকেও এখানে অন্য বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়ে যাচ্ছে। বিজেপি কিন্তু ভোটযুদ্ধে নামবে তাদের মতাদর্শকেই সামনে রেখে। এবারের লোকসভা নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি আবার ক্ষমতায় এলে দেশের চরিত্র, সংবিধানে ব্যাপক রদবদলের আশঙ্কা। মানুষের অধিকার আরও বেশি আক্রান্ত হবে। তাকে রুখতে মতাদর্শের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। অথচ ইন্ডিয়া জোটে কিন্তু সেই লড়াই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে না।

হিন্দু, ইসলামিক মৌলবাদের রাজনীতি স্বাধীনতা আন্দোলনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। দ্বিজাতি তত্ত্ব দুই মৌলবাদী শিবিরেরই মতাদর্শের ভিত তৈরি করেছিল। ভারতে বাম রাজনীতির সূচনাও সমসাময়িক। মৌলবাদীরা কিন্তু তাদের মতাদর্শ থেকে এতটুকুও বিচ্যুত হয়নি। সময় অনুসারে কৌশল বদলেছে মাত্র। ভোটে জিতে সরকার গড়লে তাদের কাজ অনেকটা গতি পেয়েছে, হারলেও কাজ থেমে থাকেনি। সামাজিক, সাংস্কৃতিক নানা ক্ষেত্রে ঘৃণার বীজ তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে বপন করে গেছে। কিন্তু বামেদের একাংশ সংসদকে ব্যবহার করার বদলে তার দ্বারা ব্যবহৃত হয়ে গেছে। আবার আরেক অংশ চরমপন্থী হয়ে এখন বিজেপিকে রুখতে যে কোনো মূল্যে বিরোধীদের জোট গড়তে তৎপর হচ্ছে। হিন্দুত্ববাদীরা যখন নানা ক্ষেত্রে তাদের কাজের বিস্তার ঘটাচ্ছে, তখন বামেরা কে সাচ্চা বাম তা নিয়ে তরজাতেই অনেকখানি ব্যস্ত। বিরোধী জোট নিয়ে তাঁরা যতটা সক্রিয়, বাম জোট নিয়ে ততটা নন।

শুধু বিজেপিকে দেখেই সঙ্ঘ পরিবারকে বোঝা যাবে না। তার সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডগুলোও বোঝা দরকার। তাদের রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক বোঝাপড়া। অথচ বামপন্থী রাজনীতি রাজনৈতিক কাজের সঙ্গে সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজের ব্যবধান আজও ঘোচাতে পারেনি। বরং সেই কর্মসূচি একসময়ে গুরুত্ব পেলেও, এখন অনেকটা কমেছে। পরিচয় সত্তার রাজনীতি নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিতে রয়েছে স্পষ্টতার অভাব। পরিবেশ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মত বিষয়গুলো নিয়ে ইদানীং চর্চা হলেও, নিয়মিত কর্মসূচিতে সেগুলো এখনো উপযুক্ত স্থান পায়নি। আবার সংসদীয় রাজনীতির উপর অতিনির্ভরতায় শ্রেণি আন্দোলনও অবহেলিত হচ্ছে।

ভোটের আগে কোনোমতে জোট করে মৌলবাদকে আটকানো যাবে না। পুঁজিবাদ তার পক্ষে। সারা বিশ্বেই পুঁজিবাদের মদতে চরম দক্ষিণপন্থা অতি সক্রিয়। একে রুখতে চাই রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন কর্মসূচি; যার কোনোটাই কোনোটার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে না। বামেরাই সেই মতাদর্শের লড়াই লড়তে পারে। ভোট নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাতেই আটকে থেকে মৌলবাদের মোকাবিলা সম্ভব নয়।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.