অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় অবশেষে বিজেপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন। দুদিন আগেই তিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির পদ ত্যাগ করার কথা জানিয়েছিলেন। রাজনীতিতে যোগদানও নিশ্চিত ছিল। অনেকেরই অনুমান ছিল তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন। সেই অনুমানই সত্যি হল।

সন্দেহ নেই, সন্দেশখালির ঘটনা ভুলে সংবাদমাধ্যম থেকে সোশাল মিডিয়া – সবখানেই এই আলোচনা সামনের সারিতে চলে আসবে। ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় তাঁর সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত উঠে আসছে। পক্ষের মত একমাত্রিক এবং অবশ্যই সেই মতের সমর্থকদের  বিজেপির প্রতি দুর্বলতা স্পষ্ট। বিপক্ষের মতের কিন্তু প্রকারভেদ আছে। তাঁর প্রবল সমর্থক, এমনকি যাঁরা তাঁকে পরিত্রাতা মনে করেছিলেন, তাঁদেরও বড় অংশ এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা স্বাভাবিকভাবেই উল্লসিত। তাঁদের অভিমত, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে যে অভিযোগ তাঁরা করে আসছিলেন, সেটাই সত্য বলে প্রমাণিত হল। আরেক দল আবার এর জন্য বামেদের ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতেও ছাড়ছেন না। সব মিলিয়ে নিয়োগ দুর্নীতি গৌণ হয়ে ভোটনির্ভর ক্ষমতার রাজনীতিই আলোচনায় মুখ্য হয়ে উঠছে।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

বিচারপতির রাজনীতিতে যোগদান নতুন কোনো বিষয় নয়। সাম্প্রতিককালে তা বিশেষ মাত্রা পেয়েছে। অবসরের পরে বিচারপতিদের শাসক দলে যোগদান কিংবা বিশেষ পদ পাওয়া এখন রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম বিষয়। অবসরের কিছু আগে বেশ কয়েকজন বিচারপতির বিতর্কিত রায় দান, অবসরের পরেই নানাবিধ প্রাপ্তি এর জন্য দায়ী। অভিজিৎবাবু অবশ্য অবসর পর্যন্তও অপেক্ষা করতে পারলেন না, পদত্যাগই করে বসলেন। তার কারণ অবশ্যই লোকসভা নির্বাচনের দুয়ারে কড়া নাড়া।

দেশের সংবিধানে নানা বিভাগের মধ্যে কাজের ভাগ এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক সমম্বয় ও বোঝাপড়ার কথা স্পষ্টভাবেই বলা আছে। আইনসভা ও বিচারবিভাগের মধ্যে দ্বন্দ্ব তবু বারবার দেখা গেছে। কেবল বিভিন্ন মামলায় সরকারের বিপক্ষে রায় দানেই নয়, ইদানীং বেশকিছু আইন সংশোধনীও আদালত নাকচ করে দিয়েছে। সাম্প্রতিককালে নির্বাচনী বন্ড বা অরণ্য আইন সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত বা অন্তর্বর্তী আদেশ যার উদাহরণ। আবার সন্দেশখালি নিয়ে শাসক দলের দু নম্বর নেতার উক্তিও স্মরণ করা যেতে পারে। বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার-সুপ্রিম কোর্টের দ্বন্দ্বও চলেছে।

বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে সংবিধানের মূল সুরটাকেই পালটে দিতে মরিয়া, তাতে এই দ্বন্দ্ব স্বাভাবিক। সংবিধান রক্ষায় বিচারব্যবস্থার বড় দায়বদ্ধতা রয়েছে। আবার একইভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার এবং শাসক দল বিচারবিভাগের উপর সুযোগ পেলেই খবরদারি করছে। তাদের সুরে সুর মেলাতে না পারলেই বিচারকরা ব্যক্তিগত আক্রমণেরও শিকার হচ্ছেন। অভিজিৎবাবু ব্যতিক্রম নন।

যখন সরকার সঠিক ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একের পর এক অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ নেয়, প্রশাসনও সেই সুরে সুর মেলায়, তখন বিচারবিভাগের গুরুত্ব বেড়ে যায়। বিচারবিভাগও যে সবক্ষেত্রে সঠিক ভূমিকা পালন করে তা নয়। কিন্তু বিচারবিভাগের উপর ভরসা করা ছাড়া মানুষ চটজলদি কোনো পথের কথা ভাবতে পারেন না।

বিচারবিভাগের অতিসক্রিয়তা অবশ্য গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ লক্ষণ নয়। কিন্তু নির্বাচিত সরকার বা প্রশাসন যখন দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, গণতন্ত্রের আরেক স্তম্ভ মিডিয়াও কর্তাভজায় রূপান্তরিত হয়, তখন বিচারবিভাগ অন্ধের যষ্টি হয়ে দাঁড়ায়। আজ দেশ তথা এই রাজ্যের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। কার্যক্ষেত্রে রায় দানে বিচারপতিদের ব্যক্তিগত মতামত যেখানে গুরুত্ব পায়, সেখানে বিচারপতিদের পরিত্রাতা ভাবা ছাড়া সাধারণ মানুষের উপায় থাকে না। আবার সেই ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে কোনো বিচারপতি ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি করতে গেলে বিচারব্যবস্থার প্রতি সেই আস্থাও টলে যায়।

অভিজিৎবাবুর ক্ষেত্রে সেটাই ঘটেছে। নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকারের দুর্নীতি অস্বীকার করার উপায় নেই। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী তার শিকার। তাদের ন্যায্য আন্দোলন দমনেও রাজ্য প্রশাসন চূড়ান্ত স্বৈরাচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী সহ শিক্ষা দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পদাধিকারীদের মধ্যে অনেকেই এখন জেলে। রাজ্যের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা চরম সংকটে। নির্লজ্জ রাজ্য সরকার এবং শাসক দল নিজেদের অপরাধ ঢাকতে বিচারব্যবস্থাকেই আক্রমণ করছে। এই দুর্নীতি ও অরাজকতার বিচার রাজ্যবাসী চাইছেন। অভিজিৎবাবুর কড়া মনোভাব অনেকের মনেই আশার আলো জ্বালিয়েছিল। কিন্তু তিনি মানুষের সেই বিশ্বাস ও আস্থার মর্যাদা রাখতে পারলেন না।

তিনি যদি সত্যিই দুর্নীতির অবসানের সংকল্পে অটল থাকতেন, তাহলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এইভাবে পদত্যাগ করতেন না। বিচারক হিসাবেই তাঁর দায়িত্ব পালন করতেন। ভোটে দাঁড়ানোর ব্যক্তিগত বাসনার জন্য এভাবে কর্তব্য থেকে সরে আসতেন না। এখানে প্রশ্নটা আইন বা রীতির থেকেও নৈতিকতার। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজ্যের অসংখ্য চাকরিপ্রার্থীর এবং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ, বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার ভবিষ্যৎ। পদত্যাগ করা, রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থাকলেও, নৈতিক দিক থেকে এই পদক্ষেপ সমর্থনযোগ্য নয়।

অভিজিৎবাবু জানিয়েছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতেই নাকি তাঁর এই সিদ্ধান্ত। এটা সুবিধাবাদী রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়া কিছুই নয়। বিজেপির মধ্যে থেকে তিনি যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন না, তা ভালই জানেন। যে দল কেন্দ্রের শাসনক্ষমতায় থেকে দেশের সম্পদ বড় বড় কোম্পানির কাছে বেচে দিচ্ছে, নির্বাচনী বন্ড, নানারকম ফান্ডের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করে নিজেদের তহবিল ভরাচ্ছে, বিনিময়ে নানা কর্পোরেটকে সুযোগসুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে, সে আর যা-ই হোক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ে না। ইডি, সিবিআইয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে বিজেপি তাদের একপ্রকার দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। এদের কাজে লাগিয়ে বিরোধীদের হয়রানি, নিজেদের পক্ষে টেনে আনা, বিরোধী দলের রাজ্য সরকারের পতন ঘটানোর অজস্র নজির বিগত দশ বছরে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কর্পোরেট স্বার্থ। ঝাড়খণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে বিরোধী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রয়াস যার সাম্প্রতিক নিদর্শন। সেইসব রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদে কর্পোরেটের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিজেপি চায় প্রতিটি রাজ্যে নিজেদের সরকার। তার সঙ্গে রয়েছে বিরোধী ভোট ভাঙিয়ে রাজ্যসভাতেও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মতলব। স্যাঙাত পুঁজিবাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য সীমাহীন দুর্নীতি। যেখানে রাজনৈতিক নেতা, আমলা ও কর্পোরেটের একাংশের আঁতাত শাসন পরিচালনা, নীতি নির্ধারণ – সবকিছু করে থাকে। নির্বাচনী ফলাফল, সরকার গঠনকেও প্রভাবিত করতে চায়।

স্যাঙাত পুঁজিবাদ গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করে। গণতন্ত্রের সব স্তম্ভকেই নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের আমলে এই স্যাঙাত পুঁজিবাদের নগ্ন রূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি। বিচারব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও তারই অঙ্গ। তাছাড়া তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্তদের নিয়ে এই রাজ্যে দল ভারি করা বিজেপি কীভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়বে? অভিজিৎবাবুর মত বিচক্ষণ ব্যক্তির এসব অজানা নয়। অনেকে তাঁর রাজনৈতিক বিচক্ষণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। যেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইতে তিনি আন্তরিক, না বুঝে বিজেপিতে গেছেন।

নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় তাঁর কড়া পদক্ষেপ যেমন অভিনন্দনযোগ্য, তেমন প্রয়োজনাতিরিক্ত বেশকিছু উক্তি নিয়ে আগে থেকেই নানা প্রশ্ন জেগেছিল। বিশেষ করে বিদ্যালয় চালাতে না পারলে আদানিকে বেচে দেওয়ার কথা বলা, পরোক্ষে উত্তরপ্রদেশের বুলডোজাররাজকে সমর্থন করা আর যা-ই হোক রীতি ও নীতিসম্মত নয়। এই প্রয়োজনাতিরিক্ত উক্তিগুলোতে মামলাগুলোর কিন্তু ক্ষতি হয়েছে। তিনি এসব অবুঝের মত করেননি, হিসাব কষেই করেছিলেন। প্রচারের আলোয় এসে নিজের পরিত্রাতাসুলভ ভাবমূর্তি গড়া ছিল আগামীদিনে বিজেপিতে যাওয়ার প্রস্তুতি পর্ব। তাই তাঁর বিজেপিতে যোগদান খুব অপ্রত্যাশিত নয়। সাধারণ মানুষ এতসব রাজনীতির মারপ্যাঁচ বোঝেন না। কিন্তু অনেক প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদও কেন আগে এসব বুঝলেন না সেটাই বিস্ময়কর।

আশঙ্কা এটাই তাঁর এই সিদ্ধান্তে তৃণমূলের অভিযোগ স্বীকৃতি পেয়ে গেল। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সত্যি হলেও, তারা এবার বলার সুযোগ পাবে যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই মামলায় রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছিল। তৃণমূল ও বিজেপি এখন একে অপরকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে গলা ফাটিয়ে চাকরি প্রার্থীদের বঞ্চনাকেই গৌণ করে দিতে চাইবে।

আরো পড়ুন নিয়োগ দুর্নীতি: বাংলার যুবসমাজের সামনে কোনো আশার আলো নেই

পশ্চিমবঙ্গবাসীর ট্র‍্যাজেডি এটাই যে, তৃণমূলের দুর্নীতির শাস্তি চাইতে ইডি, সিবিআইয়ের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যারা নিজেরাই স্বচ্ছ নয়। তাই চিট ফান্ড কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে নানা কেলেঙ্কারির কুশীলবদের অনেকেই জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গেছেন। আদালতও একাধিকবার দুর্নীতি সংক্রান্ত নানা মামলায় এই সংস্থাগুলোকে ভর্ৎসনা করেছে। আর এই সুযোগে চরম দুর্নীতি করেও তৃণমূল সিবিআই, ইডি প্রতিহিংসাপরায়ণ বলে প্রচার করে বিজেপিবিরোধী মুখ হয়ে উঠেছে। তৃণমূলের দুর্নীতি আর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর পক্ষপাতিত্ব – দুটোই সত্য।

কোনো বিচারপতি ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য যদি বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসে চিড় ধরান, তার পরিণাম গণতন্ত্রের পক্ষে ভাল হয় না। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎবাবুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হল একদিকে তৃণমূলের নিয়োগ দুর্নীতির, অপরদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর রাজার প্রতি আনুগত্যের শাস্তি হবে কিনা। যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা চাকরি পাবেন কিনা। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পঠনপাঠনের উপযোগী পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারবে, নাকি সত্যিই আদানির মত কর্পোরেট গোটা শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করবে। এই প্রশ্নগুলোর সঙ্গে রাজ্য তথা সমাজের ভালমন্দ জড়িত। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে রাস্তার লড়াইয়ে নেমেই এসবের সমাধান এবং অধিকার অর্জন করতে হবে। গণতন্ত্রে কোনো বিচারপতি, মন্ত্রী, আমলা নন; মানুষই ভগবান।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.