দেবব্রত মণ্ডল
ঘটনা ১
গঙ্গাধর দলুইকে মনে আছে? হাওড়ার যমুনা বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা গঙ্গাধর দলুই অথবা দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিশ্বজিৎ ঘোড়ই? সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ভুলে গেছি তাঁদের। তাঁদের পরিবারের রোজগার বলতে ছিল দিনমজুরি। নুন আনতে পান্তা ফুরোবার অবস্থা। দুটি পরিবারই একটু ভালভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিল বাড়ির ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকরি পাওয়ার পর। গঙ্গাধর মাকে কথা দিয়েছিলেন, আর দিনমজুরি করতে দেবেন না। বিশ্বজিৎ ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে, তাঁর স্বপ্ন ছিল ধুমধাম করে বোনের বিয়ে দেবেন। না, মা অথবা বোনকে দেওয়া কথা রাখা হয়নি গঙ্গাধর কিংবা বিশ্বজিতের। তার আগেই উরিতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ঝরে গিয়েছিল ওই দুই তরতাজা তরুণের প্রাণ।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভোর। আর পাঁচটা দিনের মতই ডিউটি বদল করছিলেন উরিতে কর্মরত ভারতীয় সেনার জওয়ানরা। তাঁরা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলির শব্দ আর বারুদের গন্ধে ভারি হয়ে উঠবে ভূস্বর্গের আকাশ, বরফ ঢাকা রাস্তা পিছল হয়ে যাবে তাজা রক্তে। সেদিন উরিতে চার জৈশ-এ-মহম্মদ জঙ্গির আক্রমণে মৃত্যু হয় ১৯ জন ভারতীয় সেনার। দীর্ঘক্ষণ গুলির লড়াইয়ের পর চার জঙ্গিকেই হত্যা করে ভারতীয় সেনা। কিন্তু সেইসময় কাশ্মীর উপত্যকার বুকে ঘটে যাওয়া অন্যতম বড় জঙ্গি হামলায় প্রশ্ন উঠেছিল, দেশের সেনাবাহিনী যখন নিরাপদ নয়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? কেন হামলার ব্যাপারে কোনো তথ্য ছিল না সেনার কাছে? নাকি তথ্য থাকলেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে ওঠেনি? প্রশ্নগুলোর উত্তর মেলেনি। অথচ এরপর সেনার তদন্তে উঠে এসেছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য।
তদন্তে জানা গিয়েছিল, সালামাবাদ নালার কাছে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়েছিল জঙ্গিরা। এমনকি বিভিন্ন সূত্রে এও দাবি করা হয় যে কাঁটাতার টপকাতে জঙ্গিরা ব্যবহার করেছিল মই। গোটা ঘটনায় ভারতের গোয়েন্দা এজেন্সিগুলোর ভূমিকা নিয়ে যেমন বড়সড় প্রশ্ন ওঠে, তেমনি কাঁটাতার বরাবর টহল চলা সত্ত্বেও কীভাবে জঙ্গিরা ভারতে ঢুকে এত বড় হামলা চালাল, সে প্রশ্নও উঠেছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই অবশ্য পাক অধিকৃত কাশ্মীর উপত্যকায় ঢুকে ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ চালায় ভারতীয় সেনা। তাতে বহু জঙ্গির মৃত্যু হয় বলে আমরা জানি।
ঘটনা ২
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। পুলওয়ামার অবন্তীপোরায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রাণ যায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের, ঘটনার বীভৎসতায় শিউরে ওঠে গোটা দেশ। আরও একবার প্রশ্ন ওঠে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। সেদিন ৭৮টি কনভয়ে ছিলেন ২,৫০০ জওয়ান। হামলার দায় স্বীকার করে সেই জৈশ-এ-মহম্মদ। প্রশ্ন ওঠে, কাশ্মীর উপত্যকার মত স্পর্শকাতর এলাকায় অতজন জওয়ানকে কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সড়কপথে? নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে কীভাবে প্রায় ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক ভর্তি জঙ্গিদের গাড়িটি নাশকতা চালাল? জম্মু ও কাশ্মীরের তৎকালীন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক ২০২৩ সালে একাধিক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, জওয়ানদের নিরাপত্তায় যথেষ্ট ঘাটতি ছিল। তাঁর অভিযোগ, সিআরপিএফ জওয়ানদের বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হোক, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে অনুমতি মেলেনি। আক্রমণকারী জঙ্গি ১০-১২ দিন ধরে বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি নিয়ে অবলীলায় কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছে। সত্যপাল আরও জানান, তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে গোটা ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করেন, তখন মোদী তাঁকে চুপ করে থাকতে বলেন। অজিত দোভালও মুখ বন্ধ রাখতে পরামর্শ দেন।
তাহলে কি কেন্দ্রীয় সরকারে গাফিলতির কারণেই সেদিন জঙ্গিদের চাঁদমারি হয়ে গিয়েছিলেন জওয়ানরা? এই ঘটনাতেও প্রশ্ন ওঠে গোয়েন্দা এজেন্সিগুলির ভূমিকা নিয়ে। এবারও জবাব মেলেনি কোনো প্রশ্নের।
পুলওয়ামার ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই ভারত ফের প্রত্যাঘাত করেছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বিমানবাহিনী জানায়, বালাকোটে হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেয় জৈশ-এ-মহম্মদের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি। পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার ক্ষত শুকোতে না শুকোতেই কিন্তু কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে। তারপরও বারংবার জঙ্গি হানায় রক্তাক্ত হয়েছে কাশ্মীর। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করে এসেছে, ৩৭০ বাতিল করার পরে আগের তুলনায় কাশ্মীর উপত্যকা অনেক শান্ত হয়ে গেছে।
তারপরেও গত ২২ এপ্রিল আরও একবার রক্তাক্ত হয়েছে কাশ্মীর। পহলগামের বায়সারন উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদীদের গুলিতে খুন হলেন ২৬ জন নিরীহ পর্যটক। সমগ্র দেশবাসী হতভম্ব হয়ে গেল ঘটনার বীভৎসতায়। ফের একবার পরিষ্কার হয়ে গেল, কাশ্মীরে নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো। এসবের পহলগাম হামলার তদন্তভার গ্রহণ করে এনআইএ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জমা দেওয়া প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে জানা যায়, কাশ্মীরে পর্যটকদের উপর হামলা হতে পারে, গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি এই আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিল। তার ভিত্তিতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, আক্রান্ত এলাকায় মোতায়েন দুই কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে এক কোম্পানিকে সরিয়ে দেওয়া হয় অন্যত্র।
ঘরে, বাইরে প্রবল চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার কিছু গাফিলতির কথা স্বীকারও করে নেয়। দেশজুড়ে জোরালো হতে থাকে প্রত্যাঘাতের দাবি। হামলার ১৫ দিনের মাথায় ভারতীয় সেনা পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা নটি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। এই অভিযানের পোশাকি নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। পালটা হামলাও শুরু হয়। দিন চারেক আঘাত-প্রত্যাঘাত চলার পর ২০ মে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁরই মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছে।
অপারেশন সিঁদুরের পরও কাশ্মীরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গলদ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে মোদী সরকারকে। তাছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় সেনার সাফল্যকে নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে মোদী সরকার। এ কাজ অবশ্য পদ্ম শিবির আগেও করেছে। ২০১৬ সালের ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’-এর কিছুদিন পরেই আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেছিলেন ‘সেনা অভিযান নিয়ে গোটা দেশ গদগদ। এই সরকারের দৃঢ় সংকল্প রয়েছে।’ অনেকটা একই সুর শোনা গিয়েছিল তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পরিকরের গলাতেও। তিনি ওই আক্রমণের প্রকৃত নায়ক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন মোদীকেই। তাঁর বক্তব্য ছিল ‘এই অভিযানের কৃতিত্ব সেনা এবং দেশের জনগণের হলেও এর পিছনে যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার সিংহভাগ কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর।’ তারপর পারিকর বলে বসেন যে বিজেপি আমলের আগে কোনদিন ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হয়নি। প্রায় একই কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৬ সালে দেশের বেশকিছু মানুষের মধ্যে মোদীর ‘অচ্ছে দিন’ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। সেইসঙ্গে গেরুয়া বাহিনীর চিন্তা বাড়িয়েছিল নোটবন্দি। সেই পরিস্থিতিতে বিজেপি যখন কিছুটা হলেও কোণঠাসা, তখন তাদের অক্সিজেন জুগিয়েছিল ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’। জঙ্গিদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পর জাতীয়তাবাদকে অস্ত্র করেই উত্তরপ্রদেশের হিন্দু ভোটকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিল বিজেপি। ফলে ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি হইহই করে জেতে।
আবার ২০১৯ সালে বালাকোট আক্রমণের পরেও প্রধানমন্ত্রী উত্তরাখণ্ডের এক জনসভায় বলেন, ‘মজবুত মোদী সরকারের আমলে আতঙ্কবাদীদের ঘরে ঢুকে মারা হয়। ভারতীয় তেরঙ্গা যুদ্ধক্ষেত্রে নিরাপত্তার গ্যারান্টি হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস আমলে সেনারা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটও পেতেন না। বিজেপি সরকারই ভারতে তৈরি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ভারতীয় সেনাদের দিয়েছে, তাঁদের প্রাণ বাঁচিয়েছে। আজ আধুনিক রাইফেল থেকে যুদ্ধবিমান সবই ভারতে তৈরি হচ্ছে।’ অন্যান্য জনসভাতেও মোদী ওইসব প্রসঙ্গ তোলেন। বালাকোট যে মোদীর জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষা থেকেই। সিএসডিএস-লোকনীতি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল বালাকোট আক্রমণের পর ৪৩% মানুষ মোদীকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চেয়েছেন, যা ২০১৪ সালের তুলনায় ৭% বেশি। উরি অথবা পুলওয়ামার ঘটনায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন তুলে বিজেপি সরকারকে বিরোধীরা কোণঠাসা করলেও সার্জিকাল স্ট্রাইক মোদী-শাহকে অক্সিজেন জুগিয়েছে।
এখন সামনে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচন। প্রশ্ন হল, অপারেশন সিঁদুরকে হাতিয়ার করে কি বিরোধীদের ধরাশায়ী করতে পারবে বিজেপি? বিহার আর আসাম বাদ দিলে বাকি রাজ্যগুলিতে মসনদে কিন্তু বিরোধীরা। ফলে অপারেশন সিঁদুর যে এবারের নির্বাচনের আগে বিজেপির বড় অস্ত্র হতে চলেছে তা নিঃসন্দেহে বলা চলে। সম্প্রতি রাজস্থানের একটি জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘আমার শিরায় শিরায় রক্ত নয়, সিঁদুর বইছে।’ অপারেশন সিঁদুরের পর ভারতীয় সেনাকে সম্মান জানাতে বিশেষ কর্মসূচিও পালন করেছে বিজেপি। মোদীর সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ছবিওলা পোস্টারও লাগিয়ে ফেলেছে বিজেপি।
আরো পড়ুন গিলি গিলি গে: মোদী ম্যাজিক বলতে যা বোঝায়
কিন্তু ব্যাপারটা একতরফা নয়। পহলগামের ঘটনা নিরাপত্তার ফাঁকফোকর যেমন দেখিয়ে দিয়েছে, তেমনি ট্রাম্প যেভাবে বারবার যুদ্ধবিরতি তিনিই ঘটিয়েছেন বলে ঘোষণা করেছেন এবং মোদী তার প্রতিবাদ করেননি, তা থেকে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে ট্রাম্পের কাছে কি মাথা নত করেছেন মোদী? ভারতের বিদেশনীতিতে তৃতীয় পক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ নিয়ে বিরোধীরা সরকারকে বিঁধেছেন। রাহুল গান্ধী তো মোদীর আত্মসমর্পণ করাই স্বভাব বলেও কটাক্ষ করেছেন।
একথা হলফ করে বলা চলে যে বিজেপি সরকার স্থায়ীভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ। সুতরাং অপারেশন সিঁদুরের পরেও অদূর ভবিষ্যতে পুঞ্চ বা রাজৌরি সেক্টরের মানুষের ঘুম ভাঙতে পারে গুলির শব্দে, আবার কোন সদ্যবিবাহিতা তরুণী কাশ্মীর বেড়াতে গিয়ে বিধবা হয়ে ফিরতে পারেন। আর আমরা? যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার আগুনে নিজেদের হাত-পা সেঁকে নেব, রাজনৈতিক নেতারা বুঝে নেবেন ভোটের হিসাব। গঙ্গাধর অথবা বিশ্বজিৎ? ওরা তো সামান্য লোক।
নিবন্ধকার পেশায় সাংবাদিক
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







