বিদ্যাভূষণ রাওয়াত
পহলগামে পর্যটক হত্যার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা করা প্রয়োজন, কিন্তু আমাদের প্রতিক্রিয়া স্রেফ রাগ দেখানোয় থেমে গেলে চলবে না। এই আক্রমণের একাধিক সুদূরপ্রসারী ফল হতে পারে – ঠিক যা সন্ত্রাসবাদীরা এবং তাদের সীমান্তপারের পরিচালকরা চায়। এক বৈচিত্র্যময় ও ঐক্যবদ্ধ ভারতের ধারণা তাদের কাছে বরাবরই একটা চ্যালেঞ্জ, যারা নানা অজুহাতে এই দেশকে দ্বিখণ্ডিত করার পক্ষে ছিল। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে জম্মু ও কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় সাহায্য ছাড়া চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। ওই শক্তিগুলোর জন্য পহলগাম গণহত্যার মত ঘটনা গোটা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাঁদা তোলার এক সুবিধাজনক পদ্ধতি।
আমাদের এই সমস্যার মোকাবিলায় কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ব্যবহার করা দরকার, গরম গরম কথা বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বা নিজের দেশে বিভাজনমূলক রাজনীতি করে লাভ হবে না।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
বিজেপির নেতা, কর্মীদের বুঝতে হবে যে ঐক্যবদ্ধ ভারতের ডাক কেবল কথার কথা নয়। জাতীয় শক্তি তৈরি করার জন্যে ওটা একটা মৌলিক প্রয়োজন। এটা কাউকে দায়ী করা বা আদর্শগত অবস্থান জাহির করার সময় নয়। যা ঘটেছে তা হল পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের দ্বারা ভারতের উপর আক্রমণ। আমাদের চ্যালেঞ্জ হল তাদের একঘরে করা এবং নিকাশ করা। ভোটব্যাংকের রাজনীতি করে অথবা নিজেদের উগ্র সমর্থকদের তোষণ করে সেই লক্ষ্যপূরণ সম্ভব নয়।
ভক্তদের ফাঁদে পা না দেওয়াই এখন প্রধান কাজ। তা না করেই আমাদের সীমান্তে এবং গোটা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। জম্মু ও কাশ্মীর ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে আসছিল, পর্যটকরা আবার ওই অঞ্চলে যাওয়া শুরু করেছিলেন। পর্যটন ও ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতি হলে ওই অঞ্চলের বহু সমস্যাই দূর হয়ে যেত, যা সন্ত্রাসবাদীরা আটকাতে মরিয়া। তাদের লক্ষ্য হল কাশ্মীরকে লাগাতার সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা যাতে তারা ‘ইসলাম খতরে মে হ্যায়’ – এই বয়ান লোকের মাথায় ঢুকিয়ে জেহাদের ডাক দেওয়ার যুক্তি খাড়া করতে পারে।
ভারতের শাসক দল এই ট্র্যাজিক ঘটনাকে সারা দেশে মুসলমানবিরোধী আবেগ তৈরি করার চেষ্টা যেন না করে। এটা হিন্দু-মুসলমান সমস্যা নয়। এটা ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে ঘাঁটি গাড়া সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধ। এই সন্ত্রাসবাদীরা পাকিস্তানের সেনাবাহিনি আর ধর্মীয় নেতাদের সাহায্য পেয়ে থাকে, কারণ তারা ধর্মভিত্তিক দ্বিজাতিতত্ত্বের অপূর্ণ স্বপ্নে এখনো বুঁদ।
আরো পড়ুন কাশ্মীর আর মণিপুরের হাল দেখে বাঙালির শিউরে ওঠা উচিত
অন্যান্য প্রশ্ন, যেমন কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসন বেশি ভাল নাকি সেনাবাহিনিকে আরও বেশি অধিকার দিলেই চলে, তা আসলে কৌশলগত প্রশ্ন। আমাদের মনে রাখতেই হবে যে পাকিস্তান চায় কাশ্মীরে ডামাডোল চলতেই থাকুক আর কাশ্মীরিরা সেনাবাহিনির অধীনেই থাকুন, যাতে তারা এই প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যেতে পারে যে ভারতীয়রা কাশ্মীরিদের অধিকার লঙ্ঘন করছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনো সরকার পাকিস্তানে স্থিতিশীলতা এবং স্বাভাবিকত্ব ফিরিয়ে আনুক – এ জিনিস পাকিস্তান কখনোই চায় না। কারণ তাতে তাদের বয়ান মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। সুতরাং পহলগাম গণহত্যা দেখে যে ভারতীয়রা কাশ্মীরে ফের রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবি করছেন, তাঁদের চিন্তাভাবনা বিপথগামী।
যে নিরপরাধ পর্যটকরা পহলগাম গণহত্যায় বর্বরদের হাতে নিহত, আমরা তাঁদের পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে আছি। এই কঠিন মুহূর্তে আমরা যেন দেশ হিসাবে ঐক্যবদ্ধ এবং সতর্ক থাকতে পারি। রক্তপাত ও বিভাজনের মধ্যে দিয়ে সন্ত্রাসবাদীরা যে ঘৃণার কর্মসূচির বাস্তবায়ন করতে চাইছে তাকে যেন ব্যর্থ করে দিতে পারি।
ইনিউজরুমে প্রকাশিত মূল প্রবন্ধ থেকে অনূদিত। নিবন্ধকার একজন সমাজকর্মী। এই মুহূর্তে হিমালয় ও ভারতের সমভূমির উপর গঙ্গা ও তার শাখানদীগুলোর প্রভাব নিয়ে কাজ করছেন।মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







