ডাঃ সায়ন পাল

গত ৯ অগাস্ট আর জি কর হাসপাতালে ঘটা ন্যক্কারজনক ঘটনা যখন সারা দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে এবং সারা দেশ অপরাধীদের বিচারের দাবিতে সরব, সেই চূড়ান্ত দুঃসময়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আমাদের এলাকায় আয়োজিত হচ্ছিল এক সঙ্গীতানুষ্ঠান। আর জি কর হাসপাতালে নির্যাতিতা, নিহত মেয়েটি যে কোনো জায়গায় নয়, খোদ সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ধর্ষিত ও খুন হয়েছেন। অর্থাৎ সরকারি হেফাজতে এই ঘটনা ঘটেছে। সুতরাং এই ঘটনার দায় নিতে প্রশাসন বাধ্য। রাজ্যজুড়ে শোক ও ক্রোধের আবহে সরকার ও প্রশাসনের উদ্যোগে জলপাইগুড়ি সরোজেন্দ্রদেব রায়কত কলাকেন্দ্রে আয়োজন করা হয়েছিল গানের জলসা। এই কি আনন্দানুষ্ঠান আয়োজনের সময়?

জলপাইগুড়ির সংস্কৃতি জগৎ ও শিক্ষা জগতের কিছু মানুষ এর প্রতিবাদের ডাক দেন। নির্ধারিত হয় সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে, শান্তিপূর্ণ মৌন প্রতিবাদ করা হবে কলাকেন্দ্রের সামনের রাস্তায়। সেই অনুযায়ী আমরা একত্রিত হই। আমরা মাত্র আটজন মানুষ পোস্টার নিয়ে রাস্তায় মৌন প্রতিবাদ করার চেষ্টা করি। কিন্তু বিশাল পুলিসবাহিনী ও র‍্যাফ মিনিট দুয়েকের মধ্যেই আমাদের সবাইকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে। আমরা জিজ্ঞেস করি আমরা কোনো বেআইনি কোন কাজ করেছি কিনা। কারণ ওই এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি নেই, রাস্তায় দাঁড়িয়ে মৌন প্রতিবাদ করার নাগরিক অধিকার তো যে কোনো নাগরিকেরই আছে।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

পুলিস অত্যন্ত অসম্মানজনক স্বরে বলে ‘প্রতিবাদ করতে হলে মনসাপুজোর মেলায় করুন, সরকারি অনুষ্ঠান প্রতিবাদ করার জায়গা নয়।’ এরপর আমাদের দুঘন্টা থানায় আটকে রাখা হয়। এর কারণ কী? আমাদের কোনো ব্যাখ্যা দেননি পুলিসকর্মীরা। তারপর সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আরো পড়ুন অরাজনীতির হাত থেকে কবে স্বাধীনতা পাবে পশ্চিমবঙ্গ?

যাঁদের আটক করা হয়েছিল তাঁদের মধ্যে বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সঙ্গীতশিল্পী, নাট্যকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক – এরকম নানা ধরনের মানুষ ছিলেন। এমনকি দুজন মহিলা এবং দুজন বয়স্ক নাগরিকও ছিলেন। আমরা যে দাবি নিয়ে সেদিন ওখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম, সেই একই দাবিতে, অর্থাৎ আর জি কর কাণ্ডের বিচার চেয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ঠিক একদিন আগেই পথে নেমেছিলেন। তাহলে একই দাবিতে আমরা কেন মৌন প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুলিসি হেনস্থার শিকার হলাম? তাহলে কি আমাদের প্রতিবাদ সরকারকে বিব্রত করেছে? যদি করে থাকে তাহলে তার কারণ কী? এই প্রশ্নের উত্তর কার কাছে পাব জানি না। এ কেমন গণতন্ত্র?

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.