কোনো নির্বাচন যদি কার্যত প্রহসনে পরিণত হয়, তাহলে ফলাফল বিশ্লেষণের কাজটাও গুরুত্বহীন হয়ে যায়। পঞ্চায়েত নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে লাগামছাড়া হিংসার পথ বেছে নিল, তাতে এই ফলাফলের রাজনৈতিক গুরুত্ব খুব বেশি বলে মনে হয় না। নির্বাচন যদি অন্তত কিছুটা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হত, নির্বাচকমণ্ডলীর মতামত যদি পর্যাপ্ত মর্যাদা পেত, তাহলে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের দুবছর পর রাজ্যের রাজনৈতিক ছবির কিছুটা স্পষ্ট আভাস পাওয়া যেত। কিন্তু কেবল নির্বাচনের দিনেই নয়, গণনাকেন্দ্রেও যে বিপুল জালিয়াতি এবং গা জোয়ারির সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ, তারপর এই ফলাফল থেকে খুব বেশি কিছু বোঝার চেষ্টা করা বৃথা। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের ফলাফল থেকে তাও রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রের খানিকটা আঁচ করা যেতে পারে, কিন্তু পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ স্তরের গণনার সময় যা ঘটেছে, তারপরে ওই দুই স্তরের ফলাফল নিয়ে কোনো বিশ্লেষণের অবকাশ নেই। তবে একথা বলতেই হবে, সন্ত্রাস দক্ষিণবঙ্গে অনেক বেশি ছিল। উত্তরবঙ্গের কিছু নির্দিষ্ট এলাকা বাদে অন্যত্র বুথ দখল বা গণনাকেন্দ্রে ঢুকে জালিয়াতির অভিযোগ তুলনামূলকভাবে কম।

ভোটপর্বের শুরুতেই অভিষেক ব্যানার্জি বলেছিলেন, তাঁরা অবাধ নির্বাচনের পক্ষে। মনে হয়েছিল, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে নিজেদের স্বার্থেই কিছু শিক্ষা নিয়েছেন। তাঁরা জানেন এক বছর পরেই ২০২৪ সালের মহাগুরুত্বপূর্ণ লোকসভা নির্বাচন। কিন্তু বাস্তবে যা দেখা গেল তার তিনটে ব্যাখ্যা হতে পারে। হয় তৃণমূল কংগ্রেস ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের বিপর্যয় থেকে কোনো শিক্ষাই নেয়নি, নয়ত তারা মনে করছে একুশের নির্বাচনের পর ছন্নছাড়া বিরোধীরা তাদের অদূর ভবিষ্যতে কোনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারবে না। অথবা তৃতীয় সম্ভাবনা – কর্মসংস্থানহীন বাংলায় পঞ্চায়েত যেহেতু রোজগারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, এর পিছনে বিপুল বিনিয়োগ কাজ করে, সেই কারণে নিচুতলার উপর শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

সে আলোচনা নাগরিক ডট নেটে করা যাবে। আপাতত চুম্বকে দেখে নেওয়া যাক, আদালতের কাছেও প্রশ্নবিদ্ধ পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে কে কোথায় দাঁড়িয়ে।

খাতায় কলমে অনেক এগিয়ে তৃণমূল

বুধবার রাত আটটা পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ২,০৯,৪২,৩৮০ ভোট; অর্থাৎ ৫১.১৪%। সবকটা জেলা পরিষদ তাদের দখলে। জেলা পরিষদের ৯২৮ আসনের মধ্যে তৃণমূল একাই দখল করেছে ৮৮০। বিজেপি ৩১, কংগ্রেস ১৩, বামফ্রন্ট দুটো এবং অন্যান্যরা (আইএসএফ সমেত) দুটো আসনে জিতেছে।

৩৪১টা পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে তৃণমূল জিতেছে ৩১৩টা। বিজেপি ৭, বামফ্রন্ট ২ এবং অন্যান্যরা ৯টা পঞ্চায়েত সমিতি জিতেছে। কংগ্রেস কোনো পঞ্চায়েত সমিতি জিততে পারেনি, ত্রিশঙ্কু হয়েছে ১১টা।

রাজ্যের মোট ৩৩১৭টা গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে তৃণমূলের দখলে ২৬৪১টা। অনেক পিছিয়ে থেকে বিজেপি পেয়েছে ২৩০টা, বামফ্রন্ট ১৯, কংগ্রেস ১১ এবং অন্যান্যরা (আইএসএফ সমেত) ১৪৯টা গ্রাম পঞ্চায়েতে জয়ী হয়েছে। ত্রিশঙ্কু অবস্থায় রয়েছে ২৬৭টা।

গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় প্রায় ১৫% ভোট কমেছে বিজেপির। তারা পেয়েছে ৯৩,৬৭,৫৪০ ভোট, অর্থাৎ ২২.৮৮%। সিপিএম এককভাবে পেয়েছে ৫১,৪১,৪৪৬ ভোট, অর্থাৎ ১২.৫৬%। এর সঙ্গে তিন বাম শরিকের ভোট জুড়লে শতাংশের বিচারে বামফ্রন্টের ভোট দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৪%। কংগ্রেস ২৬,২৭,৭১৫ ভোট পেয়েছে, অর্থাৎ ৬.৪২%। নির্দল ও অন্যরা পেয়েছে ৪.৮৪% ভোট। অর্থাৎ বাম, কংগ্রেস এবং অন্যান্যদের মধ্যে থাকা আইএসএফের ভোট যোগ করলে হয় প্রায় ২১% ভোট, যা ‘প্রধান বিরোধী’ বিজেপির তুলনায় মাত্র ১% কম। যদিও আসনসংখ্যার বিচারে নিঃসন্দেহে বিজেপি অনেক এগিয়ে।

উত্তরবঙ্গে বিজেপির দুর্গ ভাঙল শাসক দল

পঞ্চায়েত নির্বাচনে খাতায় কলমে, আসনের বিচারে বিজেপি অবশ্যই প্রধান বিরোধী। গ্রাম পঞ্চায়েতে দশ হাজারের বেশি আসন তারা জিতেছে। কিন্তু সার্বিকভাবে ফলাফল বিজেপির জন্য আশাপ্রদ নয়। গত দুবছরে গেরুয়া শিবিরকে শুধু যে ১৫% ভোট খোয়াতে হয়েছে তাই নয়, আরও উদ্বেগের বিষয়, রাজ্যে বিজেপির প্রভাববলয় ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহারে এই নির্বাচনে ভাল ফলের আশা করেছিল বিজেপি। কোচবিহার ছাড়া অন্যত্র তেমন গোলমালের অভিযোগও ওঠেনি। কিন্তু ওই এলাকা থেকে কার্যত সাফ হয়ে গিয়েছে গেরুয়া শিবির, নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে তৃণমূল।

আলিপুরদুয়ারে গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল পেয়েছে ৫৩০ আসন, বিজেপি ২৫১। কোচবিহারে ব্যবধান ৯৪৪-৩৩৩। জলপাইগুড়িতে ব্যবধান ৩৩৬-১৬১। মালদহে ব্যবধান ৭০৬-৩২৩। এখানে বাম-কংগ্রেস জোটের আসন ৩৫৫, তারাই দ্বিতীয় স্থানে। দার্জিলিংয়ে বিমল গুরুং, অজয় এডওয়ার্ড, জিএনএলএফ, সিপিআরএমকে নিয়ে মহাজোট গড়েও ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে বিজেপি। ৫৯৮ আসনের মধ্যে ৩৪৯টি আসন জিতেছে তৃণমূলের সঙ্গী অনীত থাপার গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা।

যে রাজবংশী এলাকা বিজেপির বড় ভরসা ছিল, সেখানে শোচনীয় ফলাফল বিজেপি নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা। আদিবাসী অধ্যুষিত চা বলয়েও বিজেপির ফলাফল অত্যন্ত খারাপ। নিশীথ প্রামাণিক বা জন বার্লার মতো নেতারা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ধাক্কা সামলে উঠতে কী করেন সেদিকে নজর থাকবে। ইতিমধ্যেই অনন্ত মহারাজকে রাজ্যসভার প্রার্থী করেছে বিজেপি। বাংলাভাগের কট্টর সমর্থক এই রাজবংশী নেতা।

প্রত্যাশিত সাফল্য পেল না কুড়মি সমাজ

কুড়মি আন্দোলনের প্রার্থীরা বেশকিছু গ্রাম পঞ্চায়েত আসনে জিতেছেন ঠিকই, কিন্তু ওই এলাকাতেও ভাল ফল করেছে তৃণমূল। কয়েকটি পঞ্চায়েতে কুড়মিরা এককভাবে বোর্ড গড়বেন, কিন্তু সার্বিকভাবে সংখ্যাটি নগণ্য। আড়শা ব্লকের মানকিয়ারি এবং পুরুলিয়া ২ ব্লকের বেলমা পঞ্চায়েত কুড়মিদের দখলে। সবমিলিয়ে পুরুলিয়ায় গ্রাম পঞ্চায়েতে ৭০ আসন, বাঁকুড়ায় ৩৩ আসন জিতেছেন তাঁরা। কিন্তু সার্বিক ফল আশাব্যঞ্জক নয়।

পুরুলিয়ার আগয়া-নড়বা পঞ্চায়েত ছিল আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দুর্গ। সেখানেও কুড়মি সমাজ নিরঙ্কুশ জয় পায়নি। ১৪টা আসনের মধ্যে ছটা করে জিতেছে তৃণমূল ও কুড়মি সমাজ, দুটো বিজেপি।

নন্দীগ্রামে মিশ্র ফল শুভেন্দুর

নন্দীগ্রামে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ১৯৫৬ ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এবার জেলা পরিষদের তিনটে আসন মিলিয়ে শাসক দল জিতল সাড়ে দশ হাজারের বিপুল ব্যবধানে। তবে খানিকটা ভাল ফল হয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েতে। নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের ১৭টা গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে দশটাই বিজেপি জিতেছে। নন্দীগ্রাম ২ পঞ্চায়েত সমিতিও গিয়েছে বিজেপির দখলে। নন্দীগ্রাম ১ ব্লকে গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬৬ আসনে এবং পঞ্চায়েত সমিতির ছটা আসনে প্রার্থীই ছিল না বিজেপির। এখানে দশটা পঞ্চায়েতের মধ্যে পাঁচটা করে জিতেছে বিজেপি এবং তৃণমূল। পঞ্চায়েত সমিততে দুই দলই ১৫টা করে আসন জিতেছে।

নন্দীগ্রামে কিছুটা সেয়ানে সেয়ানে টক্কর হলেও সার্বিকভাবে পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপিকে অনেকখানি পিছনে ফেলে দিয়েছে তৃণমূল।

বাম-কংগ্রেস-আইএসএফের উত্থান

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছিল সংযুক্ত মোর্চা। শিবরাত্রির সলতে হয়ে জ্বলছিলেন ভাঙড়ের নওশাদ সিদ্দিকি। সেই তুলনায় এবারের নির্বাচনে অনেকখানি ভোট বাড়িয়েছে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ শিবির। তার চেয়েও বড় কথা, বিগত দুবছরে রাজ্য রাজনীতিতে এই শিবিরের ধীর, কিন্তু ধারাবাহিক উত্থান ঘটছে। একুশের নির্বাচনে সংযুক্ত মোর্চা পেয়েছিল ১০% ভোট। পঞ্চায়েত নির্বাচনে সেই ভোট বেড়ে হল ২১%। অন্যদিকে বিজেপির ভোট ৩৮% থেকে কমে হল ২২%। এই উত্থান এবং হ্রাস কিন্তু একদিনে হয়নি। একুশের নির্বাচনের পর প্রত্যেক ভোটেই বিজেপির ভোট কমেছে এবং বাম, কংগ্রেস, আইএসএফের ভোট বেড়েছে।

বিধানসভা নির্বাচনের পরেই হওয়া সামশেরগঞ্জ উপনির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিল কংগ্রেস। প্রায় ৩৪% ভোট পেয়েছিল। এরপর শান্তিপুর, বালিগঞ্জ, সাগরদীঘির নির্বাচনে বিপুল ভোট বাড়িয়েছে বাম, কংগ্রেস শিবির। শান্তিপুরে ১৫%, বালিগঞ্জে ২৪%, সাগরদীঘিতে ২৮% ভোট বাড়ে। বালিগঞ্জে জোট হয়নি, হলে ভোট আরও বাড়ত – এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সাগরদীঘির নির্বাচনে কংগ্রেস জয়ী হয়েছিল। আসানসোল লোকসভার উপনির্বাচনে অবশ্য মাত্র এক শতাংশের কাছাকাছি ভোট বেড়েছিল। এরপর কলকাতা পৌরসভা নির্বাচনে ৭.২%, রাজ্যের বাকি পৌরসভাগুলোর ভোটে ৪%, চার কর্পোরেশনের নির্বাচনের সাড়ে ৪.৫% ভোট বাড়ে।

অন্যদিকে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে প্রত্যেক ভোটেই বিজেপি জমি হারিয়েছে। শান্তিপুরে ২৭%, বালিগঞ্জে ৮%, সাগরদীঘিতে ১০%, আসানসোল লোকসভার উপনির্বাচনে ২১%, কলকাতার পৌর নির্বাচনে ২০%, রাজ্যের বাকি পৌরসভাগুলোতে ২২% এবং চার কর্পোরেশনে ২৪% ভোট খুইয়েছে প্রধান বিরোধী শক্তি।

আরো পড়ুন বিজেপির উত্থানে তৃণমূলের কপালে ভাঁজ ফেলেছে উত্তরবঙ্গ

পঞ্চায়েত নির্বাচনে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ভাঙড়ে আইএসএফের নজরকাড়া সাফল্য। বহু আসনে শাসক দল ভোট করতেই দেয়নি। যতগুলো আসনে ভোট হয়েছে, দারুণ ফলাফল করেছে আইএসএফ। খোদ আরাবুল ইসলামের পোলেরহাট ২ পঞ্চায়েত দখল করেছে জমি কমিটি ও আইএসএফের জোট। ভাঙড়ের বাইরেও বেশকিছু আসন পেয়েছে আইএসএফ।

মুর্শিদাবাদ জেলায় গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে তৃণমূলের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও ভাল লড়াই দিয়েছে জোট। তৃণমূল হাজার দেড়েক আসনে জিতেছে, কংগ্রেসের ছশোর কিছু বেশি এবং বামেরা তিনশোর কিছু বেশি আসনে। জেলা পরিষদে অবশ্য বহু যোজন এগিয়ে তৃণমূল। বাম ও কংগ্রেস মিলে জিতেছে সাতটা আসন। মালদহ জেলা পরিষদে কংগ্রেসের চেয়ে একটা আসন বেশি পেয়েছে বিজেপি। তবে গ্রাম পঞ্চায়েতের আসনের বিচারে এগিয়ে বাম, কংগ্রেস জোট। এই দুই জেলাতেই, বিশেষত মুর্শিদাবাদে, খানিকটা ফাটল ধরেছে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটে। লোকসভা নির্বাচনের আগে এই ফাটল আরও চওড়া হয় কিনা সেদিকে নজর থাকবে।

মতুয়া ভোটে ভাগ বসাল তৃণমূল

রানাঘাটে নিজেদের মতুয়া দুর্গ ধরে রাখতে পারলেও কল্যাণী ও বনগাঁয় কিছুটা জমি হারাল বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ মহকুমায় একচেটিয়া দাপট ছিল বিজেপির। এবার খোদ সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের নিজের বুথেই হেরে গিয়েছে।

বাগদা ব্লক সহ গোটা বনগাঁ মহকুমাতেই বিজেপিকে টেক্কা দিয়েছে তৃণমূল। কল্যাণীর মতুয়া অধ্যুষিত চাঁদুড়িয়া ২, সগুনার সুভাষনগর, কাঁচরাপাড়ার বিভিন্ন এলাকাতেও তৃণমূল ভাল ফল করেছে। আবার হরিণঘাটার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিজেপি লড়াই দিয়েছে, রানাঘাট ব্লকেও ভাল ফল করেছে।

অতঃপর?

লোকসভা নির্বাচনের আর বছরখানেকও বাকি নেই৷ তার আগে কয়েকটা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন আছে, রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রার দ্বিতীয় পর্ব বাকি আছে। জাতীয় রাজনীতিতে আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটবে। সে সবের কতখানি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়ে, সেটাই দেখার। সাধারণভাবে বাংলার মানুষ লোকসভা নির্বাচনেও মূলত রাজ্যের রাজনৈতিক ঘটনাবলীর ভিত্তিতেই ভোট দেন। চব্বিশের মহারণের আগে এই পঞ্চায়েত নির্বাচনে দেখে নেওয়া যেত বাংলার নির্বাচনী পরিস্থিতি ঠিক কীরকম। শাসকের সর্বগ্রাসী আচরণে তা সম্ভব হল না। লোকসভা নির্বাচনের আগে কি বিজেপি তার তফসিলি জাতি, উপজাতিদের মধ্যেকার ভোট পুনরুদ্ধার করতে পারবে? বাম-কংগ্রেস কি পারবে মুসলমান সমাজের বড় অংশের ভোট তাদের দিকে আনতে? ২০১৯ সালের পুনরাবৃত্তি রুখতে ঠিক কী পদক্ষেপ নেবে তৃণমূল? প্রশ্ন অনেক। উত্তর সময়ের গর্ভে।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

1 মন্তব্য

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.