ফ্যাসিবাদ এক ধরনের সংগঠিত রাজনৈতিক অভিব্যক্তি। এই অভিব্যক্তি তাদের কাছেই প্রদর্শিত হয়, যারা নিজেরাও তেমন প্রবণতা নিজেদের মধ্যে বহন করে। কিছু কিছু সময় ছাড়া বেশিরভাগ সময়েই ভারতীয় রাজনীতি ব্যক্তিনির্ভর থেকেছে এবং একজন জনপ্রিয় নেতা বা নেত্রীর উপরে মানুষের আস্থাও অপরিসীম। সাধারণত মানুষ এখানে কোনো রাজনৈতিক অসুস্থতা নিয়ে প্রশ্নও তোলে না। দুদিক দিয়ে দেখলেই দেখা যাবে, সার্বিকভাবে এক অযৌক্তিক আচরণের উপর উভয় পক্ষই দাঁড়িয়ে আছে। উইলহেম রাইখ (Wilhelm Reich) বলেন, ফ্যসিবাদ কখনোই এক ব্যক্তি বা একটিমাত্র দলের কর্মকাণ্ডের উপর দাঁড়িয়ে থাকে না। একটি জাতি যখন গড় হিসাবে অযুক্তির দ্বারা হাজার হাজার বছর ধরে চালিত হয়, তখন চূড়ান্ত কর্তত্ববাদী একনায়কের খেয়ালকে প্রশ্ন করার দায় থেকে সমাজ মুক্ত থাকে। শাসকের মর্জির স্বীকৃতি সেখানে নানা কৌশলে সমাজ থেকেই উঠে আসে।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
আরও একটা প্রবণতা দেখা যায়, ফ্যাসিবাদী রাজনীতি মানুষকে দৈনন্দিন রাজনীতির বাস্তবতা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে। ম্যাবেল বেরেজিন (Mabel Berezin) তাঁর অসাধারণ প্রবন্ধ ‘The Festival State: Celebration and Commemoration in Fascist Italy’-তে দেখিয়েছেন কীভাবে বেনিতো মুসোলিনি ইতালির মানুষকে উৎসবমুখর করে রেখেছিলেন।
২৮ অক্টোবর ১৯২২ তারিখে ইতালিতে ন্যাশনাল ফ্যাসিস্ট পার্টি ক্ষমতা দখল করে। মুসোলিনির বক্তব্য ছিল খুব সংক্ষিপ্ত – আমরা ইতালি শাসন করতে চাই। এই শাসন করতে চাওয়ার ইচ্ছে যেভাবে পূরণ হয়েছিল তার বিভিন্ন দিক নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে। উৎসব বিষয়টিকে ফ্যাসিবাদীরা তাদের ক্ষমতার সাপেক্ষে কীভাবে ব্যবহার করেছিল তা বুঝলে বোঝা যাবে কেন ভারতের মত দেশে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীদের কোনো একটি দিনকে বিশেষ দিবসের মর্যাদায় উন্নীত করার এত প্রয়োজন হয়। কেনই বা তাঁরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন সেই দিবসকে ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠতে।
মুসোলিনির ক্ষমতা দখলের দিনটিকে সাধারণ মানুষের কাছে স্মরণীয় করে তুলতে এক বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল একেবারে পরের বছর থেকেই। তার নাম ছিলো ‘মার্চ অফ রোম’। এই দিনটিকে ফ্যাসিস্ট পার্টির উৎসবের চেহারা দিয়েছিল। এমনভাবে এই দিনটিকে পালন করার ব্যবস্থা হত যাতে পয়লা মে-র শ্রমিক দিবসের আর কোনো গুরুত্ব না থাকে ইতালিতে। ফ্যাসিস্ট সরকার নতুন করে ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল। সেখানে বিভিন্ন দিনকে ছুটি ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে রবিবারাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল যে কোনো উৎসব পালনের জন্য। উদ্দেশ্য ছিল ক্যাথলিক চার্চের প্রভাব কমানো। সাধারণ মানুষের গির্জায় গিয়ে প্রার্থনা করার দিন রবিবারটাই, আর ঠিক সেই দিনগুলোতেই ফ্যসিবাদী নায়কদের নিয়ে অনুষ্ঠান করা হত। মুসোলিনি ক্ষমতায় এসেই উৎসব পালন, বিভিন্ন দিবস পালনকে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া শুরু করেন। এটি তাঁর রাজনীতির বিশেষ এক কৌশল বলে অনেকেই মনে করেছেন।
এখন প্রশ্ন হল, এমন করার উদ্দেশ্য কী? সেইসময় সাধারণত মানুষের জীবনে দৈনন্দিন রাজনীতি বলতে ছিল কর দেওয়া এবং যুদ্ধের আয়োজন। তেমন বৈচিত্র্য ছিল না। এর বিপরীতে অজস্র উৎসবের আয়োজন করে দৈনন্দিন রাজনীতির কঠোর বাস্তবতার দিক থেকে মন সরিয়ে দিতেই এই উৎসবমুখরতার পথ নিয়েছিল ইতালি সরকার। উৎসব মানুষের মনে এক ধরনের আবিলতা তৈরি করে। তাকে ব্যবহার করে কৌম অভিমান, জাত্যভিমান বা ঐক্যের ধারণাকে জোরালো করা যায়। এসবের মধ্যে দিয়ে সাধারণ মানুষের রাজনীতি, সমাজ ভাবনা, অর্থনৈতিক ভাবনা প্রসঙ্গে গাম্ভীর্য কৌশলে নষ্ট করা হয়। ইতালিকে উৎসবের চাদরে মুড়ে ফেলতে অতীত থেকে দিবস খুঁড়ে খুঁড়ে বার করা হত, তারপর তার উপরে জাত্যভিমানের রং চাপিয়ে পালনের ব্যবস্থা করা হত। যেহেতু দীর্ঘকাল ধরে সেখানকার সাধারণ মানুষ গির্জার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে অভ্যস্ত ছিল, সেহেতু ফ্যসিবাদী অনুশাসন মেনে নিতেও তাদের অসুবিধা হয়নি।
এই দীর্ঘ গৌরচন্দ্রিকার অবতারণা করলাম পশ্চিমবঙ্গ দিবস নিয়ে বিজেপির মাথাব্যথার কারণ বোঝাতে। কেন একটি অতি অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে সর্বদলীয় সভা ডাকতে হয় এবং সেই সভায় হাজির থাকেন তাবৎ বৌদ্ধিক জগৎ, যাঁরা প্রশ্ন করতে অভ্যস্ত নন। তাঁদের যেটুকু মতানৈক্য তা কোনো দ্রোহের, বিরোধের বা বিকল্প বক্তব্যের জন্ম দেয় না। তাঁরাও একপ্রকার মেনেই নেন, একটি নির্দিষ্ট দিবস বা একটি নির্দিষ্ট গানের প্রস্তাব।
হঠাৎ আমরা শুনলাম ২০ জুন দিনটাকে রাজ্যপাল পশ্চিমবঙ্গ দিবস বলে ঘোষণা করেছেন। রাজভবনে তা পালিতও হয়েছে। এর পালটা পদক্ষেপ হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এক সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিলেন ২৯ অগাস্ট। সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যের স্বনামধন্য ব্যক্তিরা এবং কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। যদিও কংগ্রেস, সিপিএম এবং বিজেপি অনুপস্থিত ছিল। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ দিবসের বিরোধী নয়। কিন্তু তাদের নির্ধারিত দিবসটির বিরোধিতা করতেই মুখ্যমন্ত্রী সভা ডেকেছেন। সেই সভায় তারা যায় কী করে? যদিও সেই সর্বদলীয় বৈঠকে কোন দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস বলা যাবে তা নিয়ে ঐক্য হয়নি। তবে লক্ষণীয়, কেউই এই গুরুত্বহীন জিনিসটির বিরোধিতাও করেননি।
এরপর উঠেছে রাজ্য সঙ্গীতের দাবি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছেন রবিঠাকুরের লেখা ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গানটির দুটি শব্দ পরিবর্তন করে রাজ্য সঙ্গীত হিসাবে গ্রহণ করা হোক। এই বিষয়টি নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলা যায়।
প্রথম কথা, হঠাৎ এই রাজ্য দিবস বা রাজ্য সঙ্গীতের প্রয়োজনীয়তা কি? এ কি বাঙালি জাত্যভিমান বা পরিচিতি নির্মাণের চেষ্টা? তাই যদি হয় তবে বলতেই হয়, এভাবে দিন নির্ধারণ করে একটা উৎসব পালনের আয়োজন অবশ্যই এক ফ্যাসিবাদী প্রবণতা।
বাংলির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে এই ধরণের জাত্যভিমান কোনোদিন ছিল না। রামমোহন রায় ফরাসি বিপ্লবের পতাকাকে অভিবাদন জানিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ সহ অনেকেই পশ্চিম তথা তামাম বিশ্বের কাছে ভৌগোলিক ভারতকে নয়, বরং ভারতীয় সংস্কৃতি এবং প্রাচ্যের সংস্কৃতির বিশিষ্ট দিকগুলি তুলে ধরতেন। সেই রবিঠাকুরের গানকে রাজ্য সঙ্গীতের আওতায় এনে তাকে এক ধরনের উপজাতীয়তাবাদ প্রচার করার মাধ্যম হিসাবে বিবেচনা করা অনুচিত।
রবিঠাকুর এই ক্ষুদ্র রাজনৈতিক অভিমানগুলি থেকে সর্বদাই নিজেকে দূরে রাখতে পছন্দ করতেন। একটি চিঠির কথা উল্লেখ করা যাক। “আমার দেশে ফেরবার সময় কাছে এসেচে। একদিকে মন যেমন খুসী হচ্ছে, তেমনি আর একদিকে ভয় লাগছে পাছে দেশের লোকের সঙ্গে আমার সুর না মেলে। ন্যাশনালিজম/জাতীয়তাবাদ হচ্ছে একটা ভৌগলিক অপদেবতা, পৃথিবী সেই ভূতের উপদ্রবে কম্পান্বিত… সেই ভূত ছাড়াবার দিন এসেছে। কিছুদিন থেকে আমি তারি আয়োজন করচি”। একথা লিখেছিলেন জগদানন্দ রায়কে। যিনি জাতীয়তাবাদকে অপদেবতা বলতেন, তাঁকে আমরা সাব-ন্যাশনালিজম বা উপজাতীয়তাবাদের মধ্যে টেনে আনছি। তাই বাংলা দিবস কী, কেন তার প্রয়োজন – সে প্রশ্ন তুলতে হবে। কী-ই বা প্রয়োজন বাংলার নিজস্ব সঙ্গীতের?
বাংলা যেদিন ভাগ হয়ে গেল সেদিনই আমরা বাঙালিত্ব হারিয়েছি। একটি জাতি, যার ইতিহাস, ভূমি, মাটি, জলহাওয়া, চাষবাস, ভাষা, সংস্কৃতি, দুঃখ, সুখ এক – তাকে বিভাজিত করা হল ধর্মকে সামনে রেখে। সেই ক্ষতবিক্ষত বিকৃত বাঙালির বাঙালিত্বের খোঁজে দুটি রাজনৈতিক দল শিবির ভাগ করতে নেমেছে। বিজেপি চাইছে বাংলাভাগের স্মৃতি উস্কে দিয়ে হিন্দু বাঙালি গর্ববোধ প্রচার করতে আর তৃণমূল চাইছে পশ্চিমবাংলার স্বতন্ত্র পরিচিতির ধুয়ো তুলতে। এও এক ধরনের উপজাতীয়তাবাদ।
আরো পড়ুন পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস পালন: হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা
রবিঠাকুর বিশ্বভারতী গড়েছিলেন। সেই ছিল তাঁর মতামত জাতি প্রসঙ্গে, দেশ প্রসঙ্গে। বলেছিলেন “দেশের থেকেও বড় জিনিস আছে। সেই বড় জিনিসকে পেলেই দেশ বড় হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য ভদ্রলোকীয় সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক রাজনীতির কবলে চিরকাল আমরা পড়ে থাকলাম!” সাধে কি রবিঠাকুর লিখেছিলেন, “রেখেছ বাঙালী করে মানুষ কর নি”?
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, দেশে ফিরলেই রাজনীতির কোনো না কোনো পক্ষ তাঁকে দলে ভিড়তে বলবেই। প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের পত্র থেকে জানা যায়, তাঁকে দলে পাওয়ার জন্য একবার মারামারি তাঁরই সামনে এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তিনি নিঃশব্দে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান। সেই রবিঠাকুরকে নিয়ে সঙ্কীর্ণ দলীয় রাজনীতি চলছে। এ তাঁরই অপমান। তাঁর গানের শব্দ পরিবর্তনের প্রস্তাব বসে বসে শুনলেন এই বাংলার ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক, বৈপ্লবিক রাজনীতির কুশীলব তথা তামাম বুদ্ধিজীবীরা! কেউ সেদিন মুখ্যমন্ত্রীকে বুঝিয়ে বলতে পারলেন না কেন, যে “বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন –/ এক হউক এক হউক এক হউক” লেখার প্রেক্ষিত সম্পূর্ণ পৃথক?
১৯০৫ সাল, লর্ড কার্জন বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেলেছেন। প্রশাসনিক প্রয়োজনের কথা বললেও হিন্দু-মুসলমান বিভাজনে উস্কানি দেওয়াই ছিল আসল উদ্দেশ্য। এর প্রতিবাদে স্বদেশি আন্দোলন তথা বিদেশি পণ্য বয়কট শুরু হল। গ্রামেগঞ্জে মুসলমান চাষি এবং ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়লেন। ফল্গুধারার মত বইতে শুরু করল সাম্প্রদায়িকতার চোরাস্রোত। গরিব মুসলমান মানুষ এই বয়কট সমর্থন করতে পারছিলেন না, কারণ তাঁদের পেটে লাথি পড়ছিল। হিন্দু-মুসলমান বিভাজনে ঘৃতাহুতি দিতে নামল কিছু বাঙালি হিন্দু ভদ্রলোক। রবিঠাকুর এই বিভাজন রুখতে রাখীপূর্ণিমার দিন দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে রাখীবন্ধনের আয়োজন করলেন। সেই প্রেক্ষাপটেই ওই গান লেখা। আর মুখ্যমন্ত্রী কিনা বলে দিলেন, আজ রবিঠাকুর থাকলে বাঙালি শব্দটির বদলে বাংলা বসিয়ে দিতেন! আজ বাঙালিকে হিন্দু আর মুসলমানে ভাঙতেই বিজেপির ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের আয়োজন। সেই ফাঁদেই মুখ্যমন্ত্রী পা দিলেন।
এত সমস্যা এ রাজ্যে, তা নিয়ে কোনো সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন না মুখ্যমন্ত্রী। অথচ যা কোনো ইস্যু নয় তাকে ইস্যু করে তুলতে দুই ফুল শিবিরের উৎসাহের শেষ নেই। রাজ্য ও দেশের বিবিধ সমস্যা ও রাজনৈতিক পরিসরের গাম্ভীর্য নষ্ট করতেই এই ধরণের বালখিল্য বিষয় নিয়ে রাষ্ট্র রাজনীতিতে ব্যস্ত রাখে সাধারণ মানুষকে। এ অবশ্যই এক ফ্যাসিবাদী প্রবণতা। এর আসল উদ্দেশ্য, মানুষকে দৈনন্দিন সমস্যাগুলি থেকে দূরে রাখা। একটি দিবস ঘোষণা মানেই তার উদযাপন বা ছুটি ঘোষণা, আমোদপ্রমোদের মাধ্যমে জাত্যভিমানে সুড়সুড়ি দেওয়া। আশ্চর্যের বিষয়, সাধরণ মানুষের মনে এর বিরুদ্ধে কোনো প্রশ্ন ওঠার পরিসর প্রস্তুত হতে দিতেও রাজি নয় রাজ্যের বুদ্ধিজীবী সমাজ। তাই যে কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম সে কথা দিয়েই শেষ করি। আজ বাংলা তথা ভারতের রাজনীতিতে, সমাজে, সংস্কৃতিতে ফ্যসিবাদী অভিব্যক্তি স্পষ্ট।
~ মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।









রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২০ সালের ৮ মার্চ কেন মার্চ মাসের কোন তারিখেই শিকাগোতে ছিলেন না, যে সেখান থেকে জগদানন্দ রায়কে লিখবেন! ১৯২০ সালের ৮ মার্চে তিনি শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়ের কাজে মনঃসংযোগ করছিলেন এবং সেখান থেকেই ২৯ মার্চ গান্ধির আমন্ত্রণে গুররাটি সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতে আহমাদাবাদের উদ্দেশে বোম্বাই যাত্রা করেন। সঙ্গে ছিলেন সি এফ এণ্ড্রুজ, ক্ষিতিমোহন সেন, কিশোর ছাত্র প্রমথনাথ বিশী প্রমুখ।
একটু কষ্ট করে গীতবিতানে চোখ বুলালেও দেখতেপাবেন “মাধবী হঠাৎ কোথা হতে এল ফাগুন-দিনের স্রোতে” গানটি ১৯২০ সালের ৫ মার্চ শান্তিনিকেতনে রচিত। অনুগ্রহ করে এধরনের মনগড়া অসত্য তথ্য [disinformation] প্রচার থেকে বিরত থাকবেন। জাতীতাবাদ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ১৯১৬ সালে তার দীর্ঘ জাপান সফরকালে জাতীয়তাবাদের সমালোচনা করে বেশ কিছু বক্তৃতা করেন। যা পরের বছর Nationalism নামে পুস্তিকা আকারে Macmillan & Co।, প্রকাশ করেছিল।
আপনাকে ধন্যবাদ। এই ভুলের জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। শুধরে নিলাম।