একশো দিনের কাজের বদলে ‘খেলা হবে’ নামে নতুন প্রকল্প ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্র একশো দিনের কাজের অর্থ দিচ্ছে না, তাই নাকি এই প্রকল্প। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠতে পারে, পঞ্চায়েত ভোটের আগে এই ঘোষণা তিনি করলেন না কেন? করলে তো ভোটের আসরে শাসক দল প্রচারের নতুন হাতিয়ার পেত, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়েও প্রচার জমত। নাকি এটা ব্যুমেরাং হওয়ার আশঙ্কা ছিল? একশো দিনের কাজের বেনিয়ম নিয়ে বিরোধীরা আরও প্রচারের সুযোগ পেত। শাসকের কৌশল শাসক জানে। আমজনতা যদি সেসব কলাকৌশল এত সহজে বুঝত, তাহলে তো আর শাসককে করেকম্মে খেতে হত না। সে বোঝে ক্ষমতার দাপট।
অধিকার কেড়ে নিয়ে, মানুষকে রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল করাই তার লক্ষ্য। জনমোহিনী প্রকল্পের নামে দেশজুড়ে সেই কাজই চলছে। কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের এবং রাজ্য সরকারগুলির নিজেদের মধ্যেও চলছে প্রতিযোগিতা। নয়া উদারনীতিতে একদিকে মানুষের অর্জিত অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে নানা প্রকল্পের নামে মানুষকে সরকারের দয়ার পাত্র হয়ে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। রাষ্ট্র, প্রশাসনের উপর গরিব মানুষের নির্ভরতা বেশি। তাই অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের বদলে বিনা প্রতিবাদে সব মেনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও বেশি। গণতন্ত্রের আলখাল্লায় রাজা-প্রজার সম্পর্কটা আরও মজবুত হচ্ছে।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
তথাকথিত এই জনমোহিনী প্রকল্পের আসল লক্ষ্য যা-ই হোক না কেন, সাময়িকভাবে হলেও মানুষের মন জয় করে নেয়। আয় ও জীবিকার নিশ্চয়তা যখন কমতে থাকে, তখন মাসে যৎসামান্য হলেও নির্দিষ্ট আয় গরিবের বড় ভরসা। সেই ভরসার গাজর দেখিয়ে অধিকার কেড়ে নেওয়া অনেক সহজ। শাসক দলের তা থেকে নির্বাচনী লাভও হয়। আবার এসব পেতে গিয়ে বঞ্চনা, হয়রানি মানুষকে অপমানিত করে। অপমান থেকে ক্ষোভ জন্মায়। সেই ক্ষোভকে কীভাবে কাজে লাগাতে পারে – তার উপর নির্ভর করে বিরোধী দলের সাফল্য। কেন্দ্রে, রাজ্যে একই দলের সরকার হলে সুযোগ বেশি, নাকি রাজ্যে ও পঞ্চায়েতে একই দল শাসন ক্ষমতায় থাকলে সুবিধা? এই দ্বন্দ্ব মানুষকে ভাবায়। সে ভাবনা থেকে কখনো কখনো শাসক বদলায়। ভোট রাজনীতির সেটাই নিয়ম। শাসক বদলায়, মানুষের সুদিন আসে না। বদলাতে বদলাতে মানুষের অবস্থা আরও সঙ্গীন হয়।
এই অবস্থায় বামেদের দায়িত্ব কী? তাদের তো নিছক ভোটের সাফল্যে আটকে থাকলে চলে না। আর পাঁচটা দলের মত পথ চললে অস্তিত্ব বিপন্ন হয়। তথাকথিত জনমোহিনী প্রকল্পের সরাসরি বিরোধিতা না করে, এগুলির সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে দেওয়া, নিছক প্রকল্পের সঙ্গে অর্জিত অধিকারের পার্থক্য বুঝিয়ে দেওয়া এবং অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে মানুষকে সামিল করার কাজেই তাদের সাফল্য আসে। কাজটা ধারাবাহিক। প্রান্তিক মানুষের জীবনযন্ত্রণার সঙ্গে একাত্ম না হতে পারলে সেই কাজ করা যায় না।
কথাগুলি নতুন নয়। পঞ্চায়েতের মত তৃণমূল স্তরের নির্বাচনে এসবের গুরুত্ব অপরিসীম। নির্বাচন পর্ব শেষ হয়ে গেলেই এই কাজ শেষ হয় না। এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা থেকে শুরু করে গণনা পর্যন্ত প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে শাসক দল কীভাবে ভোটটাকে তামাশায় পরিণত করেছে তা নতুন করে বলবার দরকার নেই। আবার পালটা প্রতিরোধ যে গড়ে উঠেছে তাও প্রমাণিত। সেই প্রতিরোধে বিভিন্ন জায়গায় মহিলাদের বিশেষ ভূমিকা ছিল। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় প্রতিরোধ, মৃত্যুর ঘটনা বেশি ঘটেছে। জনমোহিনী প্রকল্প দিয়ে যে মহিলাদের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখা যাচ্ছে না, সংখ্যালঘুদেরও আর বিজেপির ভয় দেখিয়ে বশে রাখা যাচ্ছে না – এসবই তার প্রমাণ। প্রতিরোধে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফের তুলনায় বিজেপি অনেকটাই নিষ্প্রভ ছিল। বলা যায় রাজ্যপাল তাদের পালে কিছুটা বাতাস দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মাত্র।
আবাস যোজনার তালিকা নিয়ে বিতর্কের সময়েই মানুষের ক্ষোভ টের পাওয়া যাচ্ছিল। বহু জায়গায় গ্রামসভার বৈঠক পর্যন্ত ভেস্তে গিয়েছিল মানুষের বিক্ষোভে। রাজ্যের দল, কেন্দ্রের দল নিয়ে বাজার গরম হল। তৃণমূল-বিজেপি তরজা হল, কিন্তু গরিবের বাড়ি হল না। মাঝখান থেকে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে রাজায় রাজায় যুদ্ধে ভুগলেন আশা, অঙ্গনওয়াড়ির মতো প্রকল্পের কর্মীরা। আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটল। পঞ্চায়েত ভোটে সেই ক্ষোভটাকে কিন্তু প্রবল বিক্ষোভে উন্নীত করা যায়নি।
একশো দিনের কাজ রাজ্যে অনেকদিন বন্ধ। কেন্দ্র-রাজ্য তরজায় গ্রামের মানুষ কাজের আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত। একশো দিনের কাজ গরিব মানুষের অগতির গতি ছিল। বছরে একশো দিন কাজ পাওয়া যেত না। ছিল দুর্নীতি, তোলাবাজি। তবুও স্বাধীনতার পর আংশিকভাবে হলেও কাজের অধিকার আইনি স্বীকৃতি পায়। এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে এটা কিন্তু বড় ইস্যু হতে পারত। একেবারেই যে হয়নি তা নয়। তৃণমূল বলেছে কেন্দ্রের বঞ্চনার কথা, বিজেপি বলেছে দুর্নীতির কথা। কিন্তু দুই সরকারই যে আইনি অধিকার এভাবে কেড়ে নিতে পারে না, মজুরি বকেয়া রাখতে পারে না বা কাজ না দিলে বেকার ভাতা দিতে বাধ্য – তা ভোটের প্রচারে খুব বেশি উঠে আসেনি।
এসব অধিকার কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের দয়ার দান নয়। আইনটা হয়েছিল ইউপিএ সরকারের আমলে, বামেদের চাপে। বামেরা এসব নিয়ে প্রচার করেছে। বড় বড় সভা হয়েছে, মিছিল হয়েছে। উপচে পড়া ভিড়ও হয়েছে। সেই ভিড়ে বক্তারা হাততালিও পেয়েছেন বিস্তর। কিন্তু নিচুতলায় তার প্রভাব কতটুকু? এলাকায় এলাকায় গিয়ে মানুষের কাছে তার অধিকারের কথা কি বলা হয়েছে? সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, বাম কর্মীদের মধ্যেই বা কতজনকে এই আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে? এই একটি ইস্যু দিয়েই মানুষের মধ্যে অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলে গ্রামবাংলা তোলপাড় করা যায়।
বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার বহুবার একশো দিনের কাজের বিরোধিতা করেছে। এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটেও এই খাতে বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে। রাজ্য সরকার দুর্নীতি, দলবাজি করেছে। এখন মানুষের আইনি অধিকারকে খর্ব করে ‘খেলা হবে’ প্রকল্পের ঘোষণা। যদিও এই প্রকল্প নিয়ে সরকার বিশদে কিছু জানায়নি। কিন্তু কেন্দ্র আইন না মানলে আইনি লড়াইয়ের বদলে পালটা আরেকটি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করে রাজ্য সরকার কী বার্তা দিতে চায়? এই প্রকল্পে কাজ না পাওয়া গেলে মানুষের বেকার ভাতা পাওয়ার আইনি অধিকার থাকবে তো? একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে এই প্রকল্প ঘোষণার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, ১০০ দিন না হলেও বছরে অন্তত ৪০-৫০ দিন কাজ করানো যায়। অর্থাৎ শুরুতেই অধিকার খর্ব করা। মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক মতলব পরিষ্কার। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগও তোলা যাবে, আবার আইনি অধিকারকে নিছক শাসকের ভিক্ষায় পরিণত করে দলবাজিও করা যাবে। অধিকার এভাবেই জনমোহিনী প্রকল্পের নামে ভিক্ষায় পরিণত হচ্ছে। বামেদেরই এই বিষয়গুলি তুলতে হবে। কেন্দ্র-রাজ্য তরজায় কীভাবে দুই সরকারই মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে সেই বার্তা নিয়ে মানুষের কাছে যেতে হবে।
একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ থেকে এগারো লক্ষ বাড়ি তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একশো দিনের কাজের মতই এখানেও দুর্নীতি, দলবাজির আশঙ্কা। তালিকা তৈরির কেন্দ্রীয় নিয়ম মানতে হবে না। পঞ্চায়েত আইনও কি সরকার মানবে? তাহলে তো গ্রাম সংসদ, গ্রামসভার মাধ্যমে এসব ঠিক করার কথা। কোনো মন্ত্রীমশাই, সরকারি কত্তা এসব ঠিক করতে পারেন না। তা যে হবে না, ১২ বছরের তৃণমূলী রাজত্বের অভিজ্ঞতাতেই পরিষ্কার। পঞ্চায়েত ভোট লুট হয়েছে। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। পঞ্চায়েতের আইনি অধিকার, একশো দিনের কাজ, আবাস যোজনার বাড়ি ইত্যাদিই হতে পারে বামেদের ভিত মজবুত করার হাতিয়ার।
হাতিয়ার হতে পারে রেশন ব্যবস্থার অনিয়ম, খাদ্যদ্রব্যের বরাত কমিয়ে দেওয়া। কেন্দ্রের বাজেটে খাবারে অর্থ বরাদ্দ কমেছে। রাজ্য সরকারের কার্ডে গম/আটা দেওয়া বন্ধ। ডিজিটাল রেশন কার্ড নির্ধারণেও রয়েছে ত্রুটি। অনেক গরিব মানুষ, অপেক্ষাকৃত সচ্ছল মানুষের থেকে কম চাল, গম পাচ্ছেন। বামেদের পত্র পত্রিকায় এসব নিয়ে বিস্তর লেখালিখি হয়েছে, ভাষণও কম হয়নি। কিন্তু নিচুতলা থেকে লড়াই গড়ে তোলা হয়নি। রেশনে বিনামূল্যের চাল দেওয়াকে ভিক্ষা বলে বামেদের অনেকেই ব্যঙ্গ করেন। সোশাল মিডিয়া ভরে যায় ‘বিনা পয়সার চাল নয়, চাকরি চাই’ মার্কা স্লোগানে। কিন্তু রেশনের চাল, গম যে কোটি কোটি মানুষের কাছে বেঁচেবর্তে থাকার জন্য অনেকখানি – সেই বোধ তাঁদের নেই। একে ভিক্ষা বলে ব্যঙ্গ করার মধ্যবিত্ত উন্নাসিকতা বাম রাজনীতি নয়। চোদ্দটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য রেশনের মাধ্যমে কম দামে বন্টনের দাবি বামেদের বহু পুরনো দাবি। এখন সেসব আমরা ভুলতে বসেছি। চোদ্দটি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কী কী তাও বলতে পারব না। পুঁজিবাদী শিবিরের প্রচারে বামেদের অনেকেও এসব দাবিকে বস্তাপচা ভাবতে শুরু করেছেন। কতজন ডিজিটাল রেশন কার্ড না পাওয়ায় রেশন পাচ্ছেন না, কতজন গরিব মানুষ আরকেএসওয়াই ২ কার্ড থাকায় কম পরিমাণ চাল পাচ্ছেন সেই তথ্য অনেক বাম নেতার কাছেই নেই। দুঃখের হলেও সত্যি, কত রকমের ডিজিটাল রেশন কার্ড আছে, কোনটা কেন্দ্রের, কোনটা রাজ্যের – সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণাও অনেক বাম রাজনৈতিক কর্মীর নেই।
চাকরি যেমন অধিকার, তেমন গণবন্টন ব্যবস্থাও অধিকার। দুই অধিকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধানোই শাসকের কাজ। সেই কাজটাই যদি বাম শিবির থেকে করা হয়, তাহলে শাসকেরই সুবিধা। যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ইত্যাদি নিয়ে হয়েছে। এই প্রকল্পের বিরোধিতা না করে আয়ের নিশ্চয়তার দাবি তোলা যায়, স্বাস্থ্যের বেসরকারিকরণের কথা তোলা যায়। কিন্তু তা না করে অন্ধ বিরোধিতা করলে উপকৃত মানুষ ক্ষুব্ধ হন। সেই সুযোগে ডিএ প্রাপ্তির সঙ্গে সরকার এইসব প্রকল্পের বিরোধ লাগিয়ে দিতে পারে। মানুষের মনে হতে পারে, শাসককে ভোট না দিলে এসব প্রকল্পের সুযোগ পাওয়া যাবে না। মধ্যবিত্ত দৃষ্টিভঙ্গিতে দাবি উঠলে আর যা-ই হোক মানুষের হৃদয় স্পর্শ করা যায় না।
দেশজোড়া কৃষক আন্দোলনের ছোঁয়াচ এই রাজ্যকে তেমনভাবে স্পর্শ করেনি। অনেকেই বলেন, ক্ষুদ্র আয়তনের চাষের জমি, ভূমি সম্পর্ক এর কারণ। কিন্তু ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ার সমস্যা এ রাজ্যেও রয়েছে। ছোট কৃষক জমি ধরে রাখতে পারছেন না। একজন অতি অল্প পরিমাণ জমির মালিক, তিনিই আবার অন্যের জমিতে ভাগে চাষ করেন বা অন্যের জমিতে মজুরের কাজ করেন – এমন অজস্র উদাহরণ রয়েছে। একই ব্যক্তি একাধারে নিজ জমির চাষি, ভাগ বা চুক্তি চাষি, আবার ক্ষেতমজুর। তিনিই হয়ত চাষের কাজ না থাকলে ভিনরাজ্যে কয়েক মাসের জন্য মজুরি খাটতে যাচ্ছেন। সব পরিচয় মিলেমিশে একাকার। এই অবস্থায় প্রতিটি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের দাবি এখানে জোরদার হয়নি। জমির মালিকানার কাগজ নয়, প্রকৃত কৃষককে সরকারি সুযোগ দিতে হবে – এই দাবিতে জোরদার আন্দোলন হয়নি। চাষ না করেও জমির মালিকানার কাগজ দেখিয়ে যাঁরা কৃষক বন্ধু সহ সরকারের যাবতীয় প্রকল্পের সুযোগ পান, তিনি বামেদের বন্ধু হতে পারেন না। অন্যের জমিতে চাষ করে সরকারি প্রকল্প থেকে বঞ্চিত মানুষই বামেদের বন্ধু। প্রকৃত বন্ধু গ্রামে সংখ্যায় বেড়ে ওঠা অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক। সামাজিক সুরক্ষা যোজনার নামে তাঁদের সুযোগগুলি ক্রমে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এই ইস্যু নিয়েও কিন্তু বাম দলগুলি দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে।
আরো পড়ুন স্বাধীনতার পর গণআন্দোলনের সবচেয়ে বড় জয়: আমরা কিছু শিখব না?
বাম রাজনীতির জমি তৈরি করে দেবে রুটিরুজির লড়াই। তার জন্য সেই ইস্যুগুলিকেই ধরতে হবে যা মানুষের হৃদয় স্পর্শ করবে, ক্ষোভকে সংঘবদ্ধ বিক্ষোভে রূপান্তরিত করবে। কেন্দ্রীয় বড় বড় কর্মসূচি নয়, ছোট ছোট কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আরও নিচুতলায় পৌঁছতে হবে। ক্ষমতা হারানোর পর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির উপর বামেদের নির্ভরতা বেড়েছে। তাও বড় বেশি নিয়মতান্ত্রিক। শহরে নিয়মমাফিক মিছিল, সভা করা। পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট লুঠ নিয়েও রাজ্য তোলপাড় করার কর্মসূচি কিন্তু নেওয়া হয়নি। বড় বড় সভায় নেতৃত্বের বক্তৃতা নিয়ে বুথে বুথে প্রচারের ব্যবস্থায় ঘাটতি থাকছে। যিনি কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন, এলাকায় তিনি কতটা ভূমিকা পালন করছেন তারও মূল্যায়ন প্রয়োজন। জীবিকার টানে একজন হয়ত নিয়মিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে যেতে পারেন না, কিন্তু এলাকায় কাজ করে যান। সেই কর্মীদের সংগঠনে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা দরকার। এক কথায় বামেদের ফিরতে হবে মাটির কাছে। কেন্দ্রে নয় প্রান্তে। সেখান থেকেই উঠে আসবে ইস্যু। অভিজ্ঞতা রচনা করবে আন্দোলনের রূপরেখা।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।




