নমস্কার,
কোথায় গেলেন আপনি? হারিয়ে গেলেন নাকি! কতদিন হয়ে গেল আপনার দেখা পাইনি। না, মুখোমুখি দেখার কথা বলছি না। টিভি বা নিদেনপক্ষে এক্স বা ফেসবুকেও আপনাকে দেখিনি অনেকদিন। শুধু দেখার কথাই বলছি না। মানে আপনার কথা শুনতে পাওয়ার কথাই বলছি মূলত।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
রাজ্যজুড়ে (আচ্ছা, আপনি হয়ত বলবেন ভুল বলছেন, বা বলবেন না – তাই ধরলাম কলকাতার রাজপথে) কার্নিভাল আর ‘দ্রোহকাল’ – কী ভয়ানক লড়াই হয়ে গেল! আপনার পিসিকে দেখলাম হাত তুলে অভিবাদন গ্রহণ করছেন। শুনলাম তিনি নাকি গানের ছন্দে পা-ও মিলিয়েছেন। আমি সে দৃশ্য দেখিনি অবশ্য। দেখতে ইচ্ছে করছিল না বলেই দেখিনি। এমনিতেই আন্দোলনের আবহ, সেসব ঝঞ্ঝাট না মিটিয়ে এমন নেত্য দেখতে খুব অশ্লীল লাগছিল। তা সে যাকগে, আপনি দেখেছেন কিনা জানি না। কিন্তু তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তার পাশের রাস্তাতেই হাজারে হাজারে মানুষ জুনিয়র ও সিনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে পথে নেমেছিলেন। খুব কাছাকাছি কয়েকজন জুনিয়র ডাক্তার না খেয়েদেয়ে বসে রয়েছেন। কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তাঁরা আট দফা না দশ দফা দাবি রেখেছেন সরকারের কাছে। তার মধ্যে আর জি কর ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডে বিচারের দাবি যেমন রয়েছে, তেমনই স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যবস্থা, হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো শুধরে দেওয়ার দাবিও রয়েছে। সরকার নাম কা ওয়াস্তে বৈঠকে বসেছে ঠিকই। কিন্তু সেখানে আমলারাই ‘সবটা দেখে নিচ্ছেন’ মনে হচ্ছে। মানুষ যাঁদের ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি করে পাঠাল, তাঁদের সামনে বা পিছনেও দেখতে পাচ্ছি না, জানেন?
আপনিও তো একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। শুধু তাই নয়, আপনি তো পিসির পরেই। এর মাঝে আপনাকেও দেখতে পাচ্ছি না কেন বলুন তো? শুরুর দিকে আপনি তো বলেছিলেন, ডাক্তারদের আন্দোলনে আপনার সমর্থন রয়েছে। সঙ্গে অবশ্য সিবিআইকেও এক হাত নিয়েছিলেন। তারপর কী হল বলুন তো? আপনি এই কার্নিভাল ও দ্রোহকালের মাঝে ঠিক কোন দিকে রয়েছেন? নাকি দুদিকেই রয়েছেন? বুঝতে পারছি না। আপনিও কি মনে করেন, সব দায়িত্ব সিবিআইয়ের? সরকার বা দলের কিছুই করার নেই!
কেউ প্রশ্নও করছে না আপনার নাম করে। আসলে যাঁরা প্রশ্ন করতে পারেন, তাঁরা আপনাকে খুব ভয় পান। আপনার হাতে নাকি অসীম ক্ষমতা। যদি সান্ত্রীরা কেস ঠুকে দেয়! আগে তাও আপনার আর আপনার পিসির মধ্যে ঝগড়াঝাঁটির খবর হত। তা থেকে জানতে পারতাম আপনার অমুক সরকারি সিদ্ধান্তে গোঁসা হয়েছে, তমুক সিদ্ধান্তে আপনি নাক সিঁটকেছেন, অমুকটার জন্য আপনি আর এসবের মধ্যে থাকতে চান না ইত্যাদি। আপনার সাঙ্গোপাঙ্গরাই এ নিয়ে বাজার মাতিয়ে রাখতেন। এখন তাঁরাও আপনার নাম নিচ্ছেন না। কেন বলুন তো?
আর জি কর কাণ্ডের শুরুতে তো মনে হচ্ছিল আপনি সত্যিই পুলিশ ও প্রশাসনের কাজে বিরক্ত। আমার তো এমনও মনে হয়েছিল যে আপনাকে সযত্নে তাকে তুলে রাখা হচ্ছে। মানুষ খুব বিরক্ত হয়ে গেলে আপনাকে এগিয়ে দেওয়া হবে। তাজা হাওয়ার মত আপনি সব মলিনতা দূর করে দেবেন। মনে হচ্ছিল আপনি সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু কোথায় কী! এখন তো আপনার চ্যালাচামুণ্ডারা হুঙ্কার ছাড়তে আরম্ভ করেছেন – এই দ্রোহকালের ক্ষোভ ছাড়িয়ে গিয়ে আপনার দল সামনের উপনির্বাচনে ৬-০ গোল দেবে। ব্যাস, তাহলেই নাকি সবাইকে চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে। আপনিও কি তাই বিশ্বাস করেন? শুধুই ভোটের পাটিগণিতেই আস্থা রাখেন? তাহলে আপনি তাজা হাওয়া হবেন কী করে?
সে মানুষ না হয় বেত্রাঘাত করবে বা নিল ডাউন করাবে – কিছু একটা হবে। কিন্তু আপনি এই গোলযোগে ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে তা তো জানতে বড় ইচ্ছে করে। আপনি যদি সত্যিই ভবিষ্যৎ হয়ে থাকেন, তাহলে তো বর্তমানকে উপেক্ষা করতে পারেন না। শুধু আমি কেন, আপনার লক্ষ লক্ষ অনুগামীও নিশ্চয়ই জানতে উৎসুক যে আপনি কাদের পক্ষে, তাঁদের কী দিশা দেবেন।
আরো পড়ুন পশ্চিমবঙ্গেও গণতন্ত্র গুঁড়িয়ে দিচ্ছে বুলডোজার
শুনেছি – দল এখন আপনার কথাতেই চলে। পিসি পোস্টার। নিন্দুকে বলে যে পুলিশ প্রশাসনেও আপনার বেশ তেজ রয়েছে। তবু আপনি কেন ব্যবস্থা পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন না? নাকি আপনিও জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি এবং তাঁদের পাশে যেসব সাধারণ মানুষ রয়েছেন তাঁদের দাবির চেয়ে বেশি চিন্তিত এই নিয়ে যে তাঁরা রাম না বাম? স্বাস্থ্য প্রশাসনের আমূল পরিবর্তন যে জরুরি তা আপনি মানেন তো? নাকি ‘ওদের আমল-আমাদের আমল’ বলেই পাশ কাটিয়ে চলে যাবেন?
প্রথম দফার আন্দোলনে তো আপনার পিসিকে একা ফেলে দিয়েছিলেন। তিনিই আমলাদের সঙ্গে নিয়ে কোনোরকমে কর্মবিরতি তুললেন। এখনও ওঁকে একা ফেলে রাখবেন? জানেন তো, আপনার পিসির মত ক্যারিশমা আর জেদ রাম, বাম কারোর মধ্যে নেই? কিন্তু একবার যদি মানুষের মনে জেদ চেপে যায়, তাহলে কী হতে পারে, ২০১১ ছেড়ে দিন, হালের ২০১৯ সালের নির্বাচনে তো টের পেয়েছিলেন। ভুলে গেছেন?
জানি, আপনি মাঝে মাঝে অন্তরালে থাকেন। তারপর নিজের ‘পড়াশোনা’ সেরে ‘বার্তা’ দেন। যেমন এবছর ২১ জুলাই দিলেন। কিন্তু সে বার্তা তো বার্তাই রয়ে গেল। এরকম কত কথাই তো বলেন, কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে কোথায় বলুন? এই যে আপনার সাঙ্গোপাঙ্গরা এই আন্দোলনকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করে চলেছেন দিনরাত এক করে, তাতে কি আপনার আপত্তি রয়েছে, নাকি সমর্থন?
একবার আপনি কীসব ‘ডায়মণ্ড হারবার মডেল’ না কী যেন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। তো সেরকম কিছু মডেল-টডেল বের করুন না। জানেন, একদম ভাল লাগছে না এই রাজ্যের এমন অবস্থা দেখে। আপনিও কি সুখে আছেন এসব থেকে দূরে সরে? আপনি শুধু দলের যুবরাজ নন, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি (আরও একবার মনে করালাম আর কি)। আপনার তো অনেক ক্ষমতা। সে ক্ষমতার সদ্ব্যবহার করবেন না?
না করলে যে আপনাকে সুযোগসন্ধানী বলে মনে হবে। ওই যে নিন্দুকেরা বলে, আপনার পিছনেও নাকি টিকিটিকি লেগে রয়েছে; তাই নাকি আপনি চুপটি করে বসে আছেন। সেটাই কেমন সত্যি সত্যি বলে মনে হবে যে?
দেশের রাজধানী দিল্লিতে দুজন লোক আছে, জানেন? একজন পশ্চিমবঙ্গকে বোধহয় দেশের অংশ বলেই মনে করেন না। তিনি এদিকে তাকাচ্ছেনই না। এত কিছু হয়ে গেল রাজ্যে, একটি মাত্র বাক্য খরচ করেছেন আর জি কর নিয়ে। আরেকজন আছেন, তিনি আবার নির্বাচন ছাড়া অন্য সময় নিজেকে মর্ত্যের মানুষ বলে ভাবেন না। আপনি কি ওঁদের মত হয়ে গেলেন?
ফিরে আসুন। আপনার সাঙ্গোপাঙ্গরা যেমন অন্যদের পক্ষ নেওয়ার জন্য উস্কানি দিতে থাকেন, তেমন আপনিও পক্ষ নিন। রাজ্যের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আপনার পক্ষ জানা জরুরি।
ধন্যবাদান্তে
এক সাধারণ সংবাদজীবী
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







