অর্ক মুখার্জি
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ২১৫ আসনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখল করে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১৯ লোকসভা ভোটে বিজেপি ১৯ আসন জিতে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে ক্ষমতা দখলের জন্য জোরদার রাজনৈতিক প্রচার চালালেও ফলাফল হয়েছিল এবারের কুড়ি বিশের বিশ্বকাপ ফাইনালের মত একপেশে। বিজেপির ক্ষমতা দখল করার সম্ভাবনা নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা হলেও, ভোটের ফল বেরোলে দেখা যায়, বিজেপি জিতেছে মাত্র ৭৭ খানা আসন। মোট ভোটের ৪৮.০২% পায় তৃণমূল, আর ৩৭.৯৭% পায় বিজেপি। তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিল ২,৮৭,২৫,৪২০; বিজেপি পেয়েছিল ২,২৮,৫০,৭১০। অর্থাৎ প্রধান দুই দলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৫৮,৮৪,৭১০ এবং শতাংশের হিসাবে ৯.৮%। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের ঝটকা কাটিয়ে উঠতে এবং ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানবিরোধিতার হাওয়ার মোকাবিলা করতে তৃণমূল বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ধারার আমদানি করে ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করার মাধ্যমে। প্রশান্ত আর তাঁর সংস্থা আইপ্যাক কিছু নতুন প্রচার কৌশল তৈরি করে। যেমন ‘দিদিকে বলো’, ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’, ‘দুয়ারে সরকার’ ইত্যাদি। লক্ষ্য ছিল নিবিড় জনসংযোগ।
সেবার ভোটে তৃণমূলকে লড়তে হয়েছিল নিয়োগ দুর্নীতি, বেকারত্ব, রাজ্যে শিল্প নিয়ে আসার ব্যর্থতা— এইসব সমস্যার বিরুদ্ধে। বিজেপি নেতারা সুকৌশলে সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা বলে তীব্র মেরুকরণের ঝাঁজে ভোট বৈতরণী পার হতে চেয়েছিলেন। অতিমারীর সময়ে হওয়া সেই ভোটে দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনের ফলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া বা কাজ হারানো মানুষের কাছে তৃণমূল সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে নগদ হস্তান্তর ছিল কঠিন সময়ে নানা জটিলতায় পূর্ণ অস্তিত্বরক্ষার লড়াইয়ে প্রয়োজনীয় আর্থিক রসদ। ২০২১ সালের ভোটে এই কারণে তৃণমূল প্রায় ৫০% মহিলা ভোটদাতার সমর্থন পেয়েছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী প্রভৃতি নগদ হস্তান্তরভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষার উপর ভিত্তি করে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর করা লোকনীতি-সিএসডিএস সার্ভে অনুযায়ী, ৬০ বা তার বেশি বয়সী ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৫০% ভোটার তৃণমূলে আস্থা রেখেছিলেন। সেইসময় সোশাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় প্রচার ছিল— তৃণমূল ‘লেসার ইভিল’ এবং বিজেপি ‘গ্রেটার ইভিল’। বহু বাম সমর্থকও সেই ভোটে বিজেপির বঙ্গ দখল রুখতে তৃণমূলকে ভোট দেন।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
সুতরাং তৃণমূল দুশোর বেশি আসনে জিতলেও এমন মনে করার কোন কারণ নেই যে, তৃণমূলের দশ বছরের শাসনে রাজ্যের মানুষ দারুণ খুশি ছিলেন। অতিমারীর কারণে তৈরি হওয়া সংকট, লকডাউনের ফলে রোজগার হারানোয় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের উপর ক্ষোভ, দাগী তৃণমূল নেতাদের বিজেপিতে যোগদান এবং তৃণমূল ছাড়া শক্তিশালী বিকল্প না থাকা ইত্যাদি কারনে তৃণমূল অতগুলো আসন পেয়েছিল।
গত পাঁচ বছরে ভারত দুবার কুড়ি বিশের বিশ্বকাপে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, লায়োনেল মেসি কাতারে বিশ্বকাপ জিতেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষতি হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রায় হারতে হারতেও এনডিএ নেতৃত্বাধীন জোট কেন্দ্রে ক্ষমতায় ফিরেছে এবং বাংলায় নিয়ম করে নেতা, মন্ত্রীরা দুর্নীতির অভিযোগে জেলে গেছেন, পরে জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। কেউ কেউ এখনো জেলে আছেন। নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি, বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য, জীবনকৃষ্ণ সাহা, রেশন দুর্নীতির অভিযোগে খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আরেক বিধায়ক অজিত মাইতি বিভিন্ন সময়ে জেল খেটেছেন। জীবনকৃষ্ণ ছাড়া সবাই আপাতত জামিনে মুক্ত।
কিন্তু তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবারেও তীব্র। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের জন্য শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়েছে। কিন্তু সেই পরীক্ষা ঘিরেও বিস্তর ক্ষোভ রয়েছে বিশেষ করে নতুন এবং অভিজ্ঞতাহীন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষাগুলো অনিয়মিত হয়ে পড়েছে আর নিয়োগও প্রয়োজনের তুলনায় অতি অল্প। বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে এবং সেই নিয়োগে বহু জায়গায় গোপনে টাকার লেনদেন হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসে তৃণমূল দুবার বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করেছে। ২০২৩ সালের সপ্তম সংস্করণে, রাজ্য সরকারের দাবি অনুযায়ী, মোট বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল প্রায় ৩.৭৬ লাখ কোটি আর ২০২৫ সালে বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল ৪.৪০ লাখ কোটি। এদের মধ্যে দেউচা পাঁচামি কোল ব্লকে পাথর সরানোর কাজ শুরু হলেও আদিবাসীদের বলপূর্বক উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে, শালবনীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হলেও খুব ধীরগতিতে চলছে, খড়্গপুরে রঙের কারখানা স্থাপন করার কাজ, জেআইএস গ্রুপের সাঁতরাগাছিতে হেলথ সিটি নির্মাণ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে তাজপুরে বন্দর নির্মাণের কাজের বরাত আদানি গ্রুপ ২০২১-২২ সালে পেলেও, ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের বরাত বাতিল করেছে এবং সেই প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি। হীরানন্দানি ডেটা সেন্টার সিটি প্রকল্প এখনো থমকে আছে।
দুবারের বাণিজ্য সম্মেলনে বিভিন্ন সংস্থা পর্যটনে ৫,০০০ কোটি টাকা আর শিক্ষা ক্ষেত্রে ৩,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিলেও বেশিরভাগ এখনো পর্যন্ত প্রস্তাব হয়েই রয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে চাহিদা অনুযায়ী কাজের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় এবং বেতন অপেক্ষাকৃত কম থাকার কারণে প্রায় ২২ লক্ষের মত শ্রমিক পশ্চিমবঙ্গের বাইরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন। বর্তমানে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালি হবার কারণে বা অনেকসময় মুসলমান হওয়ার জন্য তাঁদের অত্যাচারিত হতে হচ্ছে। অনেকে কাজ করছেন নিগৃহীত হওয়ার অজানা আশঙ্কা নিয়েই। নিজের রাজ্যে ভালো বেতনে পর্যাপ্ত কাজ সৃষ্টির ব্যর্থতা টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল এড়াতে পারে না।
গতবারের জয় তৃণমূলকে রাজ্যের মানুষকে সুশাসন দেওয়ার বিপুল সুযোগ দিয়েছিল। অথচ ২০২১ ভোটের পর থেকেই মমতা নরম হিন্দুত্বের রাজনীতি চালু করলেন। দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ, শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গন তৈরি করার ঘোষণা করে বিজেপির ধর্মের রাজনীতিতেই ঢুকে পড়লেন। ২০২৩ সালে ইমাম ভাতা ও পুরোহিত ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুর্গাপুজোর জন্যে ক্লাবগুলোকে যে টাকা দেন তার পরিমাণও বছর বছর বাড়িয়েই চলেছেন। বিজেপির মাঠে খেলে বিজেপিকে হারানো যে অসম্ভব তা আম আদমি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বুঝে গেছেন।
এবারের ভোটের নতুন ব্যাপার হল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় সরাসরি বাদ গেছে ৬৩ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম, আর বিচারাধীন প্রায় ৬১ লক্ষ ভোটারের নাম। বিজেপি ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের সব রাজনৈতিক দলই এসআইআরের বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে সরব এবং একজন বৈধ ভোটারের নামও বাদ দেওয়া যাবে না বলে দাবি করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস মমতার নেতৃত্বে পাঁচ দিনের ধর্না চালিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ— ইচ্ছাকৃতভাবে বহু সংখ্যালঘু, নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষকে বিচারাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে। বিচারাধীন ভোটারদের তথ্য যাচাই করতে ট্রাইব্যুনাল গড়া হয়েছে।
এসআইআর শুরুর আগে থেকেই বিজেপি নেতাদের দাবি ছিল, বহু ভুয়ো ভোটার বাদ যাবে এবং ২০২১ সালে তৃণমূলের সঙ্গে তাদের যা ব্যবধান ছিল তা এই ভুয়ো ভোটারের ব্যবধান। এই বিচারাধীন ভোটাররা ২০২১ সালে কোন দলকে ভোট দিয়েছিলেন, সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য কারও কাছে নেই। থাকা সম্ভবও নয়। স্রেফ অনুমানের ভিত্তিতে কৌশলগত কারণে এসব কথা ছড়ানো হয়েছে। তবে তথ্য যাচাইয়ের পর বিচারাধীন ভোটারদের একটা অংশ যে মূল ভোটার তালিকায় ফিরে আসবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কতজন ফিরবেন আর কতজনকে ঝুলিয়ে রাখা হবে— তার উপর ২০২৬ নির্বাচনের ফলাফল অনেকটা নির্ভর করছে।
তৃণমূল এমতাবস্থায় প্রতিবাদের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে নগদ হস্তান্তর করে ভোটারদের মন জয় করার কৌশলকে আরও পোক্ত করছে। মহিলাদের ভোটকে মাথায় রেখে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তরুণ ভোট টানতে যুব সাথী প্রকল্পে ২১-৪০ বছর বয়সীদের মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আমাদের মাথায় রাখা দরকার, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে উপকৃত অধিকাংশ বিবাহিত মহিলার কাছে মাসিক ভাতা যতটা প্রয়োজনীয় এবং একমাত্র সুযোগ, যুবক যুবতীদের কাছে ততটা নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজন বিবাহিত মহিলার জীবনে সামজিক ও আর্থিক সুরক্ষাগত স্থায়িত্ব বেকার যুবক যুবতীদের থেকে কিছুটা হলেও বেশি। তাঁদের অনেকের কাছে এই আর্থিক সাহায্য একমাত্র সুযোগ। বেকার যুবক, যুবতীদের চোখে আর্থিক প্রতিষ্ঠা পাওয়ার স্বপ্ন থাকে। সেখানে আর্থিক বাধ্যবাধকতায় ভাতার প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু তা দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প হতে পারে না। স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তৃণমূলকে যে বিপুল জনসমর্থন এনে দিয়েছিল, যুব সাথী তা না-ও পারতে পারে।
তৃণমূলের অনেক ছোট বড় নেতা এসআইআরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে চোখের জল ফেলছেন। তাঁদের অনেকে কিন্তু ভোটের আগের দিন বা ভোটের দিন সাধারণ ভোটার, বিশেষ করে বিরোধী ভোটারদের, ভোটার কার্ড কেড়ে নিয়ে ভোট দিতে দিতেন না। এসআইআর করে কোনো বৈধ ভোটারকে ভোট দিতে না দেওয়া যেমন অন্যায়, ভোটার কার্ড কেড়ে নিয়ে ভোট দিতে না দেওয়াও অন্যায়।
এসআইআর হওয়ার আগে পর্যন্ত বহু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের জোরে, শক্তিশালী বিরোধী না থাকার কারণে এবং সরকারি ক্ষমতার সুযোগে তৃণমূল চতুর্থবার সরকার গঠনের পথে অনেকখানি এগিয়ে ছিল। এখনো তারাই এগিয়ে, কিন্তু ফলাফলে ব্যবধান যত কমবে তত বিজেপির ঘোড়া কেনাবেচার খেলা শুরু হবে। বিজেপি সে খেলায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে দক্ষ দল।
আরো পড়ুন শাহেনশাহ ও ফ্যাসিবিরোধী ইশতেহার
মনে রাখতে হবে, সদ্যপ্রয়াত বর্ষীয়ান মুকুল রায়, যিনি কংগ্রেস থেকে তৃণমূল হয়ে বিজেপির বিধায়ক হয়ে তৃণমূলে ফিরেছিলেন এবং মমতার দলে একসময় নেত্রীর ডান হাত ছিলেন, তিনিই পশ্চিমবঙ্গে দলবদল সংস্কৃতি চালু করেছিলেন বামপন্থী ও কংগ্রেস বিধায়কদের টেনে নিয়ে। মমতা নীরব অনুমোদন দিয়েছিলেন। ২০২৬ নির্বাচনের পর সেই বাঘের পিঠ থেকে নামা কিন্তু কঠিন হবে। জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ পঞ্চায়েত-এ বিনোদ বলে এক চরিত্রকে যখন নেমন্তন্ন করে করে খাইয়ে দাইয়ে দল বদলাতে বলা হয়েছিল, সে বলেছিল ‘হম গরীব হ্যাঁয়, গদ্দার নহি।’ তৃণমূল কংগ্রেসে বিনোদদের বড় অভাব। সেটা আমার আপনার চেয়ে মমতা আর অভিষেক ব্যানার্জি বেশি করে জানেন।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








অর্কর লেখার শক্তিটা এখানেই—সে জনপ্রিয় সংস্কৃতির এক আপাত সাধারণ চরিত্রের ভেতর দিয়েও রাজনৈতিক বাস্তবতার গভীর ইঙ্গিত খুঁজে নিতে পারে। -এর বিনোদ আসলে সেই ‘কমন সেন্স’-এর প্রতিনিধি, যে ক্ষমতার জটিল অঙ্ক, কৌশল আর অন্তর্ঘাতের মাঝেও খুব সরল প্রশ্নটা করে বসে। বাংলার বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই উপমাটা তাই শুধু মজার নয়, যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণও।