দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের গায়ের সিমেন্ট শুকোবার আগেই মমতা ব্যানার্জি জানিয়ে দিলেন, এবার শিলিগুড়িতে হবে মহাকালের মন্দির। ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গ এখন ধর্মমুখী। বিজেপির হিন্দুত্বের আস্ফালন যত বাড়ছে, মমতার প্রতিযোগিতামূলক হিন্দুত্বও ততই বেড়ে চলেছে। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা তৃণমূল কংগ্রেসের নেই। বিজেপির থেকে বড় বিজেপি হয়ে বিজেপির ভোট নিজের ঝুলিতে আনার চেষ্টায় তৃণমূল গোটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ আরও কুৎসিত করে তুলছে। বেকার সমস্যায় জর্জরিত একটা রাজ্য, যেখান থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাইরের রাজ্যে চলে যাচ্ছে কাজের খোঁজে, মোট জাতীয় উৎপাদনে ক্রমশই পিছনের সারিতে চলে যাওয়া একটা রাজ্য, যার ঋণের বোঝা ক্রমশ গগনচুম্বী হয়ে উঠছে, সেখানে শুধু একের পর এক মন্দির তৈরি হচ্ছে। এর থেকে হাস্যকর, নিকৃষ্ট ব্যাপার আর কী হতে পারে?
সবথেকে বড় কথা, বিজেপিকে ঠেকাতে চেয়ে মমতা বিজেপির ঘৃণ্য নীতিগুলোকেই স্বীকৃতি দিচ্ছেন, প্রয়োগ করছেন এবং বিজেপিকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বা তাঁর দল বুঝছে কিনা জানি না যে, এর ফলে বিজেপিই জিতছে এবং এইভাবে বিজেপির নীতিগুলোই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকলে একটা সময় আসবে, যখন লোকে নকল বিজেপির বদলে আসল বিজেপিকেই বেছে নেবে। খুব সম্ভবত এটা বোঝার বুদ্ধি মমতাদের নেই।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
একটা রাজ্য, একটা সরকার কতটা সফল তা বোঝা যায় সে তার নাগরিকদের জন্যে জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, নিরাপত্তা, গণতন্ত্রের মৌলিক বিষয়গুলো কতটা নিশ্চিত করতে পারে তা দিয়ে। একথা সুবিদিত যে, তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর কখনোই এসবের দিকে নজর দেয়নি। রাজ্যে বেকারত্ব একটা জ্বলন্ত সমস্যা। জেলাগুলো থেকে লক্ষ লক্ষ ছেলে আজ বহির্মুখী। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র কেরালাতেই বাঙালি শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষ। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯ লক্ষ শ্রমিক অন্যান্য রাজ্যে প্রবাসী মজুর হিসাবে রয়েছেন, প্রত্যেক বছর লক্ষাধিক লোক তাতে যোগ দিচ্ছেন। সবমিলিয়ে বর্তমানে আনুমানিক ৩৫ লক্ষ শ্রমিক অন্যান্য রাজ্যে কর্মরত। প্রতি দিন, প্রতি ঘন্টায় এই সংখ্যা উর্ধ্বগামী। সম্প্রতি বিজেপিশাসিত ওড়িশায় এবং উত্তর ভারতের বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালি শ্রমিকদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে গ্রেফতার, হেনস্থা, মারধোর, এমনকি জবরদস্তি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা তুমুল আলোড়ন ফেলেছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দিলেন – যাঁরা রাজ্যে ফিরে আসবেন তাঁদের মাসিক ৫,০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। প্রথমে এককালীন ৫,০০০ টাকা দেওয়া হবে। তারপর নতুন কাজ না পাওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। গালভরা নাম দিলেন – শ্রমশ্রী প্রকল্প। কিন্তু কর্মসংস্থান কীভাবে হবে, তাঁরা সসম্মানে জীবিকার সন্ধান পাবেন কী করে – তা নিয়ে তাঁর সরকারের কোনো নীতি নেই। কোনো পরিকল্পনা নেই। দেখতে দেখতে রাজ্যে তৃণমূলের সরকারের বয়স ১৪ বছর পেরিয়ে গেল। এরপরেও এসব না থাকা যে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ, তা বোঝার ক্ষমতা পর্যন্ত ওঁরা হারিয়েছেন।
ইতিমধ্যে দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষা আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত। দুর্নীতির দায়ে নেতা মন্ত্রীরা জেলে দিন কাটাচ্ছেন। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য – সর্বত্র একই ছবি। বেসরকারি ব্যবস্থার রমরমা সর্বত্র। সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ তো দূরের কথা, হাতে যা ছিল তাকেও ক্রমশ নরক করে তুলেছে তৃণমূলের শাসন। হাসপাতালগুলো বাস্তুঘুঘুর আড্ডা। অভিযোগ উঠছে, দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ডাক্তাররা খোদ হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের শিকার হচ্ছেন। মৃতদেহের ব্যবসা, জাল ওষুধের ব্যবসা, তারিখ পেরিয়ে যাওয়া ওষুধের ব্যবসা – আরও কতরকম বেআইনি গর্হিত ব্যবসার কথা যে শোনা যাচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। এর মধ্যে মানুষকে লুটে নিচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল আর নার্সিংহোম। সরকারি ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সারা দেশেই চলছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তা যেন সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। পুলিস থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মী, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে কর্পোরেশনের ঝাড়ুদার – সর্বত্রই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের রমরমা। হাসপাতালগুলোর সমস্ত দুর্নীতি এবং কুকর্মে এই চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের যে ব্যবহার করা হচ্ছে তা বারবার দেখা যাচ্ছে। এক সরকারি হাসপাতালে কর্মরত এক নিরাপত্তাকর্মী অন্য হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারের পোশাক পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সুযোগমত ধর্ষণে যুক্ত হয়ে পড়ছে – এমনও দেখা গেছে সাম্প্রতিককালে।
শিক্ষাক্ষেত্র যেন এক নৈরাজ্যের নাম। সরকারি বা আধা-সরকারি স্কুলগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি অনেকটাই কমে গিয়েছে। সরকারও যেন তাতে বেজায় খুশি। সরকারি শিক্ষার হাল হকিকত উন্নত না করে গুচ্ছ গুচ্ছ শিক্ষালয় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে শিক্ষায় সরকারের বরাদ্দ কমছে। মিড ডে মিল প্রকল্প ধুঁকছে। যে খাদ্য এই প্রকল্পে দেওয়ার কথা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার থেকে নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থায়ী উপাচার্য থাকছেন না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্ষমতা আর আধিপত্য বিস্তারের খেলা বিজেপির মতই তৃণমূলেরও লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। ফলে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ বিজেপি আর তৃণমূলের হাতে আজ অনিশ্চিত।
এসবের মাঝেই রাজ্যে তৈরি হবে আরেকটা মন্দির। দিঘার মতই সরকারি পয়সায়। দিঘার মন্দির গড়তে খরচ হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা, নতুন প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দিরের জন্য সরকারি বরাদ্দ কত হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। অনুমান করা যেতে পারে, জগন্নাথের থেকে কম বরাদ্দ মহাকাল পাবেন না।
প্রথমত, পশ্চিমবঙ্গ এমন একটা রাজ্য যেখানে সরকারের হাতে অর্থ নেই। কাজ চালানোর জন্যে সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রতিবছর ধার করতে হচ্ছে। রাজ্যের মোট জাতীয় উৎপাদন (জিএসডিপি) আর ঋণের অনুপাত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ২০২৩-২৪ সালে ছিল প্রায় ৩৪.২%। বর্তমানে তা বেড়ে ৩৯ শতাংশের কাছাকাছি। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরের বাজেট অনুযায়ী রাজ্যের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫.৮৬ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের শেষে বর্তমান সরকারের পেশ করা বাজেটের অনুমান অনুযায়ী এই ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৬.৫ লক্ষ কোটি টাকা। ভারতের অর্থমন্ত্রকের ১৫তম অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, রাজ্যগুলির জন্য এই অনুপাত ২০% শতাংশের নিচে রাখার লক্ষ্য ছিল। স্পষ্টতই পশ্চিমবঙ্গ এই লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক দূরে রয়েছে। অধিকন্তু, এই ঋণের অধিকাংশই ব্যয় হয় পুরনো ঋণ এবং তার সুদ চোকাতে। রাজ্যের আয়ের বিরাট অংশ (প্রতি বছর প্রায় ৪০,০০০-৫০,০০০ কোটি টাকা) শুধু পুরনো ঋণের সুদ পরিশোধেই চলে যায়। এর ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, জল নিকাশি ইত্যাদি উন্নয়নমূলক কাজে বরাদ্দ করার জন্য টাকা খুবই কম থাকে। যদিও রাজ্য সরকারের তরফে রাজ্যের মোট আভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GSDP at Constant Prices) বৃদ্ধির হার গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় গড়ের (প্রায় ৬-৭%) চেয়ে বেশি, প্রায় ৮-১০ শতাংশের কাছাকাছি থাকার দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু এই দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই দাবি যদি সঠিক হয়, তাহলেও তা যে সরকারের খরচ চালানোর পক্ষে যথেষ্ট নয় তা স্পষ্ট হচ্ছে জিডিএসপি-ঋণ অনুপাতের অঙ্কে। সবমিলিয়ে রাজ্যের অর্থনীতি তলানিতে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে মন্দির বানানোর সিদ্ধান্ত কীভাবে নিতে পারছে তা বিস্ময়কর।
দ্বিতীয়ত, ভারতের মত একটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে মন্দির মসজিদ তৈরি বা অন্যান্য ধর্মীয় কাজ থেকে সরকারকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে। ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্রের কোনো সংস্রব থাকবে না – এটাই ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি। কিন্তু স্বাধীন ভারতবর্ষে কখনোই এই নীতি কঠোরভাবে লাগু করা হয়নি। যেখানে সুযোগ পাওয়া গেছে, সেখানেই কংগ্রেস সরকারি কাজকর্মকে ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছে। সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে নারকেল ফাটানোর মত হিন্দু আচার পালন করে। মুসলমানদের রোজা ভাঙার ইফতার পার্টিতে হামেশাই মন্ত্রীসান্ত্রীদের দেখা গেছে। বিজেপি আমলে একেবারে খুল্লামখুল্লা বুক ফুলিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে। কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির পার্থক্য দুটো। এক, বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা শুধুমাত্র হিন্দু আচার পালন করেন না, হিন্দু ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপকে মদত দেন। তাঁদের ঘোষিত এবং পালিত নীতিই যেহেতু হিন্দুত্ববাদী। ফলে কংগ্রেস যেভাবে ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে এক ধরণের সর্বধর্ম সমন্বয়ের অনুশীলন চালু করেছিল, বিজেপি তার জায়গায় একেবারে সংখ্যাগুরুবাদী হিন্দুত্ববাদ অনুশীলন করছে। দ্বিতীয়ত, বিজেপিই ভারতের একমাত্র রাজনৈতিক শক্তি যারা ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে তাত্ত্বিক অবস্থান নিয়েছে। এই সাহস এখন পর্যন্ত অন্য কোনো দল দেখায়নি। এসবই ফ্যাসিবাদী স্থূলতা ও দুঃসাহসের পর্যায়ে পড়ে, যা বিজেপিকে অন্য দলগুলোর থেকে আলাদা করেছে।
আরো পড়ুন অবশেষে রামনাম লুঠের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস
কিন্তু জগতে শুধু ফ্যাসিবাদী দল থাকে না, ফ্যাসিবাদের কাছে আত্মসমর্পণকারী দলও থাকে। ভারতে বিজেপির নীতির কাছে নিজেদের বিকিয়ে দেওয়া যতগুলো দল আছে, তার অন্যতম হিসাবে নিজেকে ক্রমশ তুলে ধরেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আজ নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে যখন ফ্যাসিবাদী শাসন ক্রমশ ভারতের বুকে সাঁড়াশির মত জেঁকে বসছে, তখন বিজেপির নীতিগুলোকেই স্বীকৃতি দেওয়া, তা লাগু করা এবং বিজেপির থেকেও বড় হিন্দুত্ববাদী হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস যে রাজনৈতিক অপরাধ, তা মমতা ব্যানার্জিরা আজ বুঝতে পারছেন না। যেদিন বুঝবেন সেদিন তাঁদের ফিরে আসার কোনো জায়গা অবশিষ্ট থাকবে না।
অযোধ্যার রামমন্দির বিজেপি তৈরি করেছিল, তাও একটা ট্রাস্ট গঠন করে, সরাসরি নয়। এ রাজ্যে কিন্তু দিঘার জগন্নাথ মন্দির তৈরি হল সরাসরি সরকারি টাকায় এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে। মহাকাল মন্দিরও হবে সেই মডেলে। মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ঘোষণা করলেন ‘আমি একটা মহাকালের মন্দির গড়ে দেব, সব থেকে বড় শিব গড়ব’ ইত্যাদি, তা একেবারেই আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সমস্ত শর্তকে উড়িয়ে দেওয়ার পর্যায়ে পড়ে। অবস্থা এমনই হাস্যকর করে তুললেন যে, রাজ্যে বিজেপির এক নম্বর নেতা শুভেন্দু অধিকারী পর্যন্ত বলার সুযোগ পেয়ে গেলেন – নিজের টাকায় মন্দির বানানো সরকারের কাজ নয়। শুভেন্দুর মুখে কথাটা শুনতে কেমন লাগল তা নিয়ে অবশ্য বিভিন্ন জন বিভিন্ন উত্তর দেবেন। মমতা অবশ্যই হিন্দুত্বের প্রতিযোগিতায় বিজেপিকে কোণঠাসা করে দিলেন ভেবে আত্মশ্লাঘা অনুভব করতে পারেন। কিন্তু গণতান্ত্রিক মানুষ বলবেন – ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্ববাদীদের মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার বাণী যেন বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা সদৃশ ব্যাপার, আর মমতা নিজহাতে সেই মালা পরালেন। শিব গড়ার আগেই বাঁদর গড়া হয়ে গেল। এভাবে রাজ্যে বিজেপিকে ঠেকানো দূরের কথা, অদূর ভবিষ্যতে হনুমানতন্ত্র কায়েম করার রাস্তাই তৈরি করছেন মমতারা।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







