কলকাতা শহর লাল পতাকায় ছয়লাপ। মোড়ে মোড়ে কাস্তে হাতুড়ি তারা খচিত ব্যানার, পোস্টার। তবে সিপিএম বা বামফ্রন্টের নয়, এই লাল পতাকা এসইউসিআই কমিউনিস্ট দলের। আগামী ৫ আগস্ট এসইউসির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শিবদাস ঘোষের জন্মশতবর্ষ। সেই উপলক্ষে ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিয়েছে তারা। রাজ্যে এসইউসির কোনো বিধায়ক বা সাংসদ দূরের কথা, একখানা গ্রাম পঞ্চায়েতও নেই। তা সত্ত্বেও ব্রিগেড সমাবেশের ডাক নিঃসন্দেহে স্পর্ধার, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। তৃণমূল, বামফ্রন্ট, বিজেপির বাইরেও যে কোনো রাজনৈতিক দল ব্রিগেড সমাবেশ ডাকতে পারে, সেটাই প্রায় অকল্পনীয়। এসইউসি সেই সাহস দেখিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে তারিফযোগ্য। বহুবছর পর সিপিএম বাদে কোনো বামপন্থী দল একক শক্তিতে ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিল। ২০০২ সালে বামফ্রন্টের ভরা জোয়ারে সিপিআই ব্রিগেডে মিটিং করেছিল। তারপর আর এমন নজির নেই।
এসইউসি কি ব্রিগেড ভরাতে পারবে? কঠিন কাজ। প্রথমত, বর্ষাকালে গ্রাম থেকে বড় সংখ্যায় মানুষকে কলকাতায় নিয়ে আসা কঠিন। ভরা বর্ষায় ময়দানের হাল কেমন থাকবে তা-ও বলা মুশকিল। দ্বিতীয়ত, এসইউসির পুরনো দুর্গ জয়নগর এবং কুলতলিতে আগের তুলনায় শক্তি কমেছে। হরিহরহরপাড়া, রঘুনাথপুর, রায়দীঘির মতো যে সব পকেট থেকে অনেক মানুষকে নিয়ে আসা সম্ভব ছিল, সেখানেও সাংগঠনিক অবস্থা আগের মত নেই। তৃতীয়ত, সদ্য রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন শেষ হয়েছে। এসইউসি কিছু নতুন পকেটে ভাল ফল করলেও তাদের পুরনো দুর্গে সুবিধা করতে পারেনি। জমায়েতে তার প্রভাব পড়তে পারে।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
এতকিছু সত্ত্বেও কেন ব্রিগেডে সমাবেশ ডাকার স্পর্ধা দেখাল এসইউসি? দলের নেতারা বলছেন, তাঁরা গণআন্দোলনের রাজনীতি করেন। কর্মীরা সুসংগঠিত এবং নিষ্ঠাবান। বর্ষা বা নির্বাচনী ফলাফল তাঁদের আটকে রাখতে পারবে না। দেশের ২৫টি রাজ্য থেকে কর্মীরা আসছেন। বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডের মত রাজ্য বড় জমায়েত করবে। ব্রিগেডের সমাবেশ থেকে তাঁরা বার্তা দিতে চান যে এই রাজ্যে সংগ্রামী বামপন্থার শিকড় অনেক গভীরে। কেবলমাত্র নির্বাচনী পাটিগণিতে তাকে মাপা যাবে না।
শিবদাসের দল বহু দশক ধরে বামপন্থী রাজনীতিতে আলোচিত শক্তি। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের আপসহীন বিপ্লবীদের একটা অংশ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়েছিল। অন্য এক অংশ তৈরি করেছিল বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল – আরএসপি। মূলত অনুশীলন সমিতি, বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স, যুগান্তর এবং হিন্দুস্তান সোশালিস্ট রিপাবলিকান আর্মির বিপ্লবীদের বড় অংশ আরএসপিতে আসেন। অনুশীলনের তরুণ সদস্য শিবদাসও বামপন্থী রাজনীতিতে তাঁর যাত্রা শুরু করেছিলেন আরএসপির পতাকাতলে। কিন্তু দ্রুত তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা আরএসপি থেকে বিচ্ছিন্ন হন। শিবদাস বলেন, আরএসপি যথার্থ লেনিনীয় পদ্ধতি মেনে গড়ে ওঠেনি। তার মধ্যে রয়ে গিয়েছে পূর্বতন অনুশীলন সমিতির রাজনীতির অবশেষ। এছাড়া কমিন্টার্ন এবং জোসেফ স্তালিন প্রশ্নেও শিবদাস, নীহার মুখোপাধ্যায়দের সঙ্গে আরএসপি নেতৃত্বের মতপার্থক্য হয়। প্রথম থেকেই শিবদাস ছিলেন স্তালিনের দৃঢ় সমর্থক। যদিও ১৯৪৮ সালে এসইউসি তৈরির পরেই সাম্যবাদী শিবিরের আত্মসমালোচনা পুস্তিকায় তিনি তৎকালীন সোভিয়েত নেতৃত্বের সমালোচনা করে জানান, বিশ্ব সাম্যবাদী আন্দোলনে এক ধরনের যান্ত্রিকতার প্রচলন হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক। কয়েক বছর পরে নিকিতা ক্রুশ্চেভ নিস্তালিনীকরণ শুরু করার পর অবশ্য শিবদাস স্তালিনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন।
আরো পড়ুন সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর: এক রোম্যান্টিক বিপ্লবী
তাত্ত্বিক আলোচনার বাইরে বাংলার বাম রাজনীতির পরিসরে এসইউসির ঐতিহাসিক ভূমিকার দিকে চট করে তাকানো যাক। প্রথম থেকেই এই দল গণআন্দোলনের রাজনীতির কথা বলে আসছে। পাঁচের দশকের ঐতিহাসিক খাদ্য আন্দোলনের শুরুতে দুটো পৃথক মঞ্চ আন্দোলন করছিল। একটার নেতৃত্বে ছিল অবিভক্ত সিপিআই, অন্যটায় বাকি সব দল। এসইউসির উদ্যোগে এই দুই মঞ্চ এক হয়। ছয়ের দশকে যে দুটো যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়, তাতে অংশ নেয় এসইউসি। এই প্রসঙ্গে ১৯৬৭ সালের প্রথম যুক্তফ্রন্ট সরকারের শ্রমমন্ত্রী সুবোধ ব্যানার্জির কথা না বললেই নয়। এসইউসির নেতা সুবোধবাবু মন্ত্রী হয়েই ঘোষণা করেছিলেন, ন্যায়সঙ্গত (শান্তিপূর্ণ নয়) গণআন্দোলনে পুলিশ হস্তক্ষেপ করবে না। এই ঘোষণার ফলে পশ্চিমবঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের জোয়ার বয়ে গিয়েছিল। সুবোধবাবু ‘ঘেরাও মন্ত্রী’ আখ্যা পান, সংবাদমাধ্যম এবং শিল্পপতি মহল তাঁর তীব্র সমালোচনা শুরু করে। এসইউসির যুক্তি ছিল, কমিউনিস্টরা একটা উদ্দেশ্যেই সরকারে যেতে পারে, তা হল গণআন্দোলনকে শক্তিশালী করা। সেই কারণেই সুবোধবাবুর ওই ঘোষণা। দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকারে পূর্তমন্ত্রী হয়েছিলেন সুবোধবাবু। লেনিন সরণি, বিবাদী বাগসহ বিভিন্ন রাস্তার নামকরণ সেই সময়েই হয়। কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকে অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকদের মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়। অবশ্য এই পদক্ষেপও বিতর্কের ঊর্ধ্বে ওঠেনি। বলা হয়েছিল জোর করে ইতিহাস মোছার চেষ্টা চলছে।
১৯৫২ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বিধানসভায় এসইউসির প্রতিনিধি ছিলেন। একবার সাতজন সদস্যকে বিধানসভায় পাঠাতে পেরেছিল এসইউসি। ছয়ের দশকে একজন সাংসদও ছিলেন তাদের। ১৯৭৭ সালে এককভাবে নির্বাচনে লড়ে চারটে বিধানসভা আসনে জয়ী হয় এসইউসি। ১৯৮২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত জয়নগর এবং কুলতলি আসনে জিতত এই দল। ২০০৯ সালে তৃণমূলের সমর্থনে জয়নগর লোকসভা আসনেও তারা জেতে। ২০১১ সালে কুলতলি এবং ২০১৬ সালে জয়নগর বিধানসভায় পরাজিত হয় এসইউসি। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও একসময় বিহার, আসাম, ওড়িশায় বিধায়ক ছিল এসইউসির।
বামফ্রন্ট আমলের প্রথম থেকেই কট্টর সরকারবিরোধী অবস্থানে থেকেছে শিবদাস, নীহারদের দল। ১৯৭৯ সাল থেকে বাম সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে তারা। ১৯৯০ সালে আইপিএফ (আজকের সিপিআইএমএল লিবারেশন ছিল সেই মঞ্চের প্রধান শক্তি) সমেত একঝাঁক বাম দলকে ঐক্যবদ্ধ করে ভাড়া বৃদ্ধি প্রতিরোধ আন্দোলন করে তারা। পুলিশের গুলিতে মারা যান তরুণ এসইউসি কর্মী মাধাই হালদার। বাম আমলে প্রায় দু দশক স্কুলের প্রাথমিক স্তরে ইংরিজি ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন করে এসইউসি। এই আন্দোলনে নীহাররঞ্জন রায়, সুকুমার সেন, সুশীলকুমার মুখোপাধ্যায়, প্রেমেন্দ্র মিত্ররা অংশ নিয়েছিলেন। এসইউসি শেষমেশ দাবি আদায় করতে সক্ষম হয়।
জয়নগর, কুলতলি, বারুইপাড়া, হরিহরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বছরের পর বছর এসইউসির সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে সিপিএমের। দুদলেরই অসংখ্য কর্মী মারা গিয়েছেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে এসইউসির বহুবারের বিধায়ক প্রবোধ পুরকাইতের। কিন্তু বাম আমলে দীর্ঘদিন পর্যন্ত আনা বিরোধীদের প্রত্যেক অনাস্থা প্রস্তাবেই এসইউসির দুই বিধায়ক বামফ্রন্টের পক্ষে ভোট দিতেন। রাজ্যসভাতেও এসইউসির ভোট যেত বামেদের পক্ষেই। ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সিপিএমের পক্ষ থেকে বামফ্রন্টে আসার আহ্বান জানানো হয় এসইউসিকে। কিন্তু এসইউসি যুক্তি দেয়, বাম সরকার ‘অবাম’ নীতিতে চলছে। তাই তারা একক শক্তিতেই লড়বে।
অবস্থার পরিবর্তন ঘটল ২০০৮ সালে। সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পরে এসইউসি তার সাড়ে তিন দশকের ‘একলা চলো’ নীতি ছেড়ে হাত ধরল তৃণমূলের। বাস্তবে সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রাম আন্দোলন তৃণমূল শুরু করেনি। সিঙ্গুরে এসইউসির শংকর জানা প্রথম কৃষকদের সংগঠিত করতে থাকেন জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে। পরে যোগ দেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, বেচারাম মান্নার মত তৃণমূল নেতারা। নন্দীগ্রামেও তৃণমূল প্রথমে ছিল না। এসইউসির নন্দ পাত্র, ভবানী দাস, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর তৎকালীন দল পিডিসিআইয়ের নেতা সামাদ, কংগ্রেসের নেতা মিলন প্রধান, সবুজ প্রধানরা আন্দোলন শুরু করেন। সিপিআইয়ের স্থানীয় বিধায়ক, আরএসপির জেলা সম্পাদক অমৃত মাইতিও আন্দোলনের পাশে থাকেন। এরপর যোগ দেন শেখ সুফিয়ান, আবু তাহেরের মত তৃণমূল নেতারা। আসেন অধিকারীরা। এতিমখানায় তৈরি হয় জমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি। সে এক অন্য ইতিহাস, বিতর্কিত অধ্যায়।
তৃণমূলের সঙ্গে জোট করার মাধ্যমে এসইউসি দুটো জিনিস করে। প্রথমত, বাংলার রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকের ভূমিকা নেয়। দ্বিতীয়ত, বাংলার সরকারি বাম মহলের তীব্র বীতরাগের মুখে পড়ে। এসইউসির সঙ্গে সিপিএমের সম্পর্ক খাদের কিনারায় গিয়ে দাঁড়ায়। কয়েক দশকের খুনোখুনি যতখানি পারস্পরিক তিক্ততা তৈরি করেছিল, এই জোট তার অনেক গুণ বেশি তিক্ততা তৈরি করে।
তৃণমূলের সঙ্গে জোটে যাওয়ার সময়েই এসইউসি জানিয়েছিল, জমি অধিগ্রহণ আন্দোলনে সিপিএম সরকারের ভূমিকার প্রেক্ষিতে এই সাময়িক জোট, কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের পর তারা মন্ত্রিত্ব নেবে না। বিরোধী আসনেই বসবে। বাস্তবে এসইউসি বিধায়ক তরুণকান্তি নস্করকে শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেয় তৃণমূল, তারা তা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু বিরোধী আসনে বসার এই সিদ্ধান্তও সিপিএম সমেত বামফ্রন্টের সঙ্গে এসইউসির সম্পর্ক মেরামত করতে পারেনি। এতে এসইউসি বা সিপিএমের চেয়েও বড় ক্ষতি হয়েছে বাংলার বাম রাজনীতির।
তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে কি এসইউসি লাভবান হয়েছে? নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখলে বলতে হয়, লাভের বদলে ক্ষতিই হয়েছে। প্রবল পরাক্রমশালী সিপিএমের সঙ্গে লড়ে বছরের পর বছর জয়নগর, কুলতলি তারা ধরে রেখেছিল। তৃণমূলের সঙ্গে জোট করেও ২০১১ সালে সেই কুলতলিতে হারতে হয়। সেই নির্বাচনের পর তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সাবোতাজের অভিযোগও উঠেছিল। ২০১৬ সালে জয়নগরেও এসইউসিকে হারিয়ে দেয় তৃণমূল। এর বাইরেও বাম আমলে বহু জায়গায় পঞ্চায়েত স্তরে ক্ষমতা ছিল এসইউসির, তৃণমূল আমলে প্রায় সবই হারাতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, বহু জেলবন্দি এসইউসি নেতাও মুক্তি পাননি।
বাম আমলে এসইউসি পরিচিত ছিল রাস্তায় মারমুখী আন্দোলনের জন্য। তৃণমূল আমলেও বহুবার আইন অমান্যের মত আন্দোলন করেছে তারা। লাঠিচার্জ হয়েছে, একাধিক এসইউসি কর্মী প্রতিবন্ধী হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু সিপিএমের আমলে যেমন মাঝেমধ্যেই ধর্মতলা অচল করে শিরোনামে উঠে আসত এসইউসি, তা আর এখন হয় না। এসইউসি নেতারা যুক্তি দেন, তাঁরা সংগঠনকে জেলায় জেলায় ছড়িয়ে দিতে সচেষ্ট, কলকাতাকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে জেলা স্তরে আন্দোলন গড়ে তুলছেন। কিন্তু রাজনীতিতে তো দৃশ্যমানতার গুরুত্ব রয়েছে। সাধারণ মানুষ আন্দোলনের পার্টি হিসাবে এসইউসিকে দেখতে না পেলে আদতে সমস্যা দলেরই।
ব্রিগেড সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তিতে প্রচার করছে এসইউসি। আবারও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে আলোচিত হচ্ছে তারা। কিন্তু ‘ক্যাডারভিত্তিক সাংগঠনিক রাজনীতি’-র গণ্ডি টপকে ‘গণ রাজনীতি’ করতে চাইলে এসইউসিকে আবারও কলকাতার রাস্তার রাজনীতিতে ফিরতে হবে আগের মতই। দৃশ্যমান হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, তৃণমূল এবং বিজেপির বিপুল উত্থানের সময়ে কি এককভাবে লড়াই করা সম্ভব? নাকি অতীতের তিক্ততা ভুলে যথাসম্ভব নমনীয় হয়ে সিপিএমসহ অন্য বামেদের সঙ্গে এক মঞ্চে আসা প্রয়োজন? এ নিয়েও ভাবতে হবে এসইউসি নেতৃত্বকে। এসইউসির মত সংগঠিত ক্যাডারভিত্তিক দলকে পাশে পাওয়ার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেরও।
১৯৪৮ সালে যখন এসইউসি তৈরি হয়েছিল, তখন বাম রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে এমন অনেক দল ছিল যার অনেকগুলোই এখন আর নেই। বলশেভিক পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, আরসিপিআইয়ের মত বড় দল কার্যত বিলুপ্ত। বাম শরিকরাও অতি দুর্বল। এসইউসি কিন্তু রয়ে গিয়েছে। ব্রিগেডে সমাবেশ করার স্পর্ধাও দেখাচ্ছে। কিন্তু রাজ্যের বাম রাজনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সেটুকুই কি যথেষ্ট? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








ভালো লেখা। বাংলায় ধারাবাহিক বাম আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ। তবে ধারাবাহিকতায় একটি জিনিস বাদ পড়ল মনে হয়। যে ২০১১ সালকে এসইউসিআই ও সিপিআইএম খাদের কিনারা বলে সাংবাদিক উল্লেখ করলেন, ঠিক তার এক বছর পরেই ২০১৪ থেকে ১৬ – জাতীয় স্তরে ৬ টি বাম দলের জোটে অংশ গ্রহণ করেছিল এস ইউ সি। তৎকালীন সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক কলকাতায় এসেছিলেন প্রভাস ঘোষের সঙ্গে আলোচনা করতে। ছিলেন বিমান বসুও। জাতীয় রাজনীতিতে সেই দুই বছরে কেন্দ্র – রাজ্য সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরোধিতায় সংযুক্ত আন্দোলন বামপন্থী শিবিরে বেশ আশা জুগিয়েছিল। যদিও পরে লোকসভা নির্বাচনের আগে সিপিআইএম এই জোট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে কংগ্রেসের হাত ধরে।