২০২৫ সালের ১০ই অগাস্ট পশ্চিমবঙ্গের লোকাল ট্রেনের নিত্যযাত্রীদের কাছে একটি ঐতিহাসিক দিন হয়ে রইল। সেদিন থেকে পাওয়া গেল প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পুঁজিবাদী আধুনিকতার মিশেলে ভূমিষ্ঠ এসি লোকাল নামক এক অনাস্বাদিত ভোগ্যবস্তু। প্রাত্যহিক ভিড়ে অতিষ্ঠ ও ঘর্মাক্ত ট্রেনযাত্রায় ঠান্ডা হাওয়ার আমেজ পেতে সহকর্মীরা মিলে পরিকল্পনা করা হল – একদিন এসি লোকালের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় অবশ্যকর্তব্য। সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে দশ টাকার টিকিটের পরিবর্তে ৮৫ টাকার বহুমূল্য টিকিট কেটে উঠে পড়া গেল সেই ধপধপে সাদা অলীক রেলগাড়িতে। টিকিট কাটার অভিজ্ঞতাও অন্যরকম। সুবিশাল টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে যখন বলা হচ্ছে ‘দাদা, কল্যাণী অবধি এসি লোকালের টিকিট দেবেন একটা’, পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা লাইন অচেনা দৃষ্টিতে দেখছে ক্রেতাকে। ক্রেতাও হয়ত মনে মনে একটু শ্রেণিপুষ্ট কলার তুলছেন।

যাত্রার অভিজ্ঞতাও আপাতদৃষ্টিতে অত্যন্ত মনোরম – সুন্দর, শীতল, আরামদায়ক, শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন এবং বহুলাংশে ফাঁকা। ট্রেনের প্রায় সব যাত্রী ছবি, ভিডিও, রিল, ফেসবুক লাইভ তুলতে মত্ত। শুধু অপেক্ষাকৃত তরুণ-তরুণীরাই নন, বয়োজ্যেষ্ঠরাও মেতেছেন সমানভাবে। আমরাও গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে কিছু সেলফি তোলার ‘সাংবিধানিক’ কর্তব্য সারলাম। লক্ষ্য করলাম, শুধু ট্রেনের যাত্রীরাই ছবি তুলছেন তা নয়, প্রতিটি স্টেশনেই অপেক্ষারত কিছু সাধারণ মানুষ, যাঁরা উঠবেন না এই ট্রেনে, তাঁরাও একই কাজ করছেন। স্বাচ্ছন্দ্যে, আয়েশ করে ছড়িয়ে বসে, পুরোটা পথ গল্প করে সময় কেটে গেল দ্রুত। এত আরামের ট্রেন, তবু নামার পর আজও চিনচিনে অস্বস্তি কাটেনি।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

কল্যাণী স্টেশনে যখন নামলাম, ভয়াবহ গরমের হলকা এসে গায়ে লাগল। নেমেই স্বগতোক্তি করলাম ‘উফ! কী গরম!’ ঠিক তখনই দেখলাম, যে দরজা দিয়ে আমরা নামলাম, সেই দরজার বাইরে হাত ছড়িয়ে দাঁড়িয়েছেন বৃদ্ধ ছোলা বিক্রেতা। খোলা দরজা দিয়ে এসির হাওয়া চেটেপুটে খেয়ে, বললেন আমার ঠিক উলটো কথা ‘উফ! কী আরাম!’ পাশে দাঁড়ানো জোয়ান হকারও হাওয়া খাচ্ছিল। সে ওঁকে ঠেলে দিয়ে মজা করে বলল ‘দাদু, উঠবে নাকি? উঠবে তো বল, তোমায় তুলে দিই। চেকার কাকা যা ফাইন নেবে, তোমার গোটা মাসের রোজগারের চেয়ে বেশি দ্যাখো গে।’ দুজনেই হাসলেন। তা শুনে ওই মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল মরে যাই। এই প্রকাণ্ড অর্থনৈতিক বৈষম্যের দেশে খিদেয় তো মরব না, লজ্জায় অন্তত মরে যাওয়া উচিত।

ভারতবর্ষের লোকাল ট্রেনগুলো নাগরিক জীবনের ভরকেন্দ্র, যা শহুরে কেন্দ্রকে জুড়েছে নিঃস্ব প্রান্তের সঙ্গে। লোকাল ট্রেন যেন এই ভূখণ্ডে গণতন্ত্রের, সাম্যের, অস্পৃশ্যতাবিরোধিতার মূর্ত প্রতীক। লোকাল ট্রেনের ভিড়ে ঘামতে ঘামতে, ঠেলাঠেলি করে, ঝগড়া করে, দরদাম করে, সমস্ত জাত-ধর্ম-লিঙ্গ-আয়ের মানুষ একাকার হয়ে যায়। অসংখ্য ছাত্রছাত্রী আমাদের সঙ্গে রোজ কল্যাণী সীমান্ত লোকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। একবার এক লাজুক, হতদরিদ্র পরিবারের প্রথম প্রজন্মের স্নাতকোত্তর ক্লাসে পড়া ছাত্রী ভীষণ আনন্দ করে বলেছিল ‘ম্যাম, আমি তো মাকে বলি, আমি যে ভিড় ট্রেনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাই, আমাদের ম্যাডামও সেই ভিড় ট্রেনেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যান। কী মজা!’ অসীম সারল্য আর সাম্যের মেলবন্ধন ছিল কথাটায়। ছাত্রীকে হেসে বলি ‘জানো, তোমার মত আমিও মাকে বলেছি বাড়িতে। মা, আমি যে ট্রেনে ভিড়ে, গরমে যাই, আমাদের ভাইস চ্যান্সেলর স্যারও সেই ট্রেনেই যান ওই ভিড়, গরমেই। কী মজা!’ ছাত্রীর চোখে আমার মত ক্ষুদ্র অধ্যাপক, আর আমার চোখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পদাধিকারী – সকলের ঘাম সাম্যের লোকাল ট্রেনে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় চেয়ারের উচ্চতা মুছে। তারই সঙ্গে প্রবলভাবে মিশে থাকে মুসাম্বি-পেয়ারা-কানের দুল-সেফটিপিন-জোয়ান-ছোলা বিক্রেতা দাদা-দিদিদের শ্রমের ঘাম। প্রতিদিন এই ভিড় লোকাল ট্রেনে মিশে যায় ভিক্ষুকের সঙ্গে অধ্যাপকের দেহ, বন্ধ হওয়া জুটমিলের শ্রমিকের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর ঘাম, নৈহাটির বড়মার কাছে ছুটে চলা ধর্মপ্রাণ হিন্দুর সঙ্গে সারাদিন অভুক্ত রোজাদার মুসলমান, হাসপাতালের আয়াদিদির সঙ্গে আইফোনধারী সুবেশী মেয়েটি। জেন জি ছাত্রী উঠে ভিডিও করে অন্ধ গায়কের গান, অথবা মাটিতে বসে সমবেতভাবে গেয়ে চলা শ্রমজীবী দিদিদের লোকসঙ্গীতে উঠে আসা জীবনের গানের, যাতে মিশে থাকে স্বামীর হাতে মার খাওয়ার আখ্যানও।

এই গণপরিবহনের অনন্য পরিসরে যাত্রীরা ছাড়াও রোজগারের তাগিদে থাকেন আরও দুই ধরনের মানুষ – হকার ও বৃহন্নলা। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ সমাজের প্রান্তে যে ‘ঘেটো’-তে থাকেন তার ঠিকানা আমরা ‘নরম্যাটিভ’ জনগণ রাখার চেষ্টা করিনি কোনোদিন। লোকাল ট্রেনে তাঁদের সঙ্গে আমাদের খানিক অস্বস্তিকর অথচ অনিবার্য সাক্ষাৎ ঘটে। সমাজের এই প্রান্তিক গোষ্ঠীকে আমরা এড়িয়ে চলতে (ঘৃণা ও বিদ্রূপ করতেও) অভ্যস্ত, কিন্তু তাঁদের ‘ডিভায়্যান্ট বডি’ লোকাল ট্রেনের কামরায় আমাদের প্রতি-বিদ্রূপ ও খানিক ‘ভয়’ পাইয়ে দিয়ে সাময়িক ‘এজেন্সি’ ও প্রতিরোধের গাথা রচনা করে।

পাশাপাশি, লোকাল ট্রেন যেন এক চলমান বাজার ও চলমান সমাজ। হকারদের হাঁকডাক, নানাবিধ খাবারের গন্ধ, মরশুমি ফলের সতেজতা, বাহারি গয়নার চমক, নিত্যদিনের রকমারি পশরা, বিবিধ ঠোঙা, ক্রমাগত দরদাম এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের সুতীব্র হাততালি, সুউচ্চ আশীর্বাদ, বেসুরো গান থেকে বেহায়া গালাগালি – লোকাল ট্রেনের এই অনন্য ‘সাউন্ডস্কেপ’ যাত্রীসাধারণকে পৌঁছে দেয় এক চলমান সিম্ফনির পরিসরে। তার সঙ্গে মিশে থাকে গাড়ির নিজস্ব যান্ত্রিক ধ্বনি, হাতলের ঠোকাঠুকি, কামরায় ওঠানামার সময়ে হরেক শব্দ, কারোর হেডফোনরহিত মোবাইলে উচ্চস্বরে খবর, কারোর ফিসফিসে রোম্যান্টিক ফোনালাপ, যাত্রীদের আলাপ-গল্প-ঝগড়ার কলতান এবং হাজার হাজার জীবনসংগ্রামের দীর্ঘশ্বাস। ওদিকে উচ্চগ্রামে তুমুল জমে ওঠে রাজনৈতিক বিতর্ক – মোদী থেকে দিদি, ট্রটস্কি থেকে ট্রাম্প, প্যালেস্তাইন থেকে নেপাল, বিশ্বযুদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধ মিশে যায় বাকবিতন্ডার আসরে। উচ্চমধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের গুরুগম্ভীর রাজনৈতিক তরজায় ফোড়ন কেটে চলে যান নিম্নবিত্ত ঝাল লজেন্স বিক্রেতা। বিশ্বকাপ ফুটবলের সময়ে পাশে হেলান দিয়ে, তরুণীর মোবাইলে চোখ রাখেন মেসিপ্রেমী ছড়ার বইয়ের কাকু। আচমকা ‘গোওওওওওল’ বলে চীৎকার করে ওঠেন উভয়ে। মেশে স্বর, হাসে সহাবস্থান। লোকাল ট্রেন হয়ে ওঠে শ্রুতিলিখিত গণতন্ত্রের পীঠস্থান, সামাজিক বহুত্বের শ্রাব্য মহাফেজখানা।

নব্যলব্ধ এসি লোকাল এই সমতার কর্মশালা ও গণতন্ত্রের অনুশীলনক্ষেত্রে বোধহয় আঘাত হেনেছে। মাত্র কদিনেই জিনিসটা হয়ে উঠেছে শ্রেণিবৈষম্য প্রদর্শনের মূর্ত প্রতীক। এসি লোকালের ধনী উপভোক্তা আর শুধুমাত্র গন্তব্যে যাচ্ছে না, বরং ক্রমাগত নিজেকে প্রদর্শন করছে। বহু নিম্ন আয়ের তরুণ-তরুণী একদিনের জন্য টিকিট কাটছে শুধুমাত্র FOMO (ফিয়ার অফ মিসিং আউট) নামক নব্য-অতিমারীর দাপটে। সফরের মুহূর্তগুলো ধরে রাখা হচ্ছে মোবাইল ফোনে, ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ডিজিটাল দুনিয়ায়, এসি লোকাল ভ্লগে ভেসে যাচ্ছেন নেট নাগরিকরা, সামাজিক মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের দাপট ও ‘পারফরম্যান্স’-এর তাগিদে তৈরি হচ্ছে একদিন অন্তত চেপে দেখার কৃত্রিমভাবে নির্মিত প্রবল অভিলাষ।

অন্যদিকে, যখন চকচকে সাদা এসি লোকাল কোনো স্টেশনে এসে দাঁড়াচ্ছে, প্ল্যাটফর্মে সাধারণ ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত যাত্রীরা ক্যামেরাবন্দি করছেন তাকে। সাধারণ লোকাল ট্রেনের কামরায় বসা ও স্টেশনে অপেক্ষমান যাত্রীদের মধ্যে কোনো ‘গেজ’-এর তফাত ছিল না। এক্ষেত্রে গড়ে উঠছে এক নতুন সামাজিক সমীকরণ ও ‘ভিজুয়াল’ অর্থনীতি, যেখানে একদল মানুষ দর্শনীয় বস্তু হয়ে উঠছেন, জানলার বাইরে অন্য দল হয়ে উঠছে দৃষ্টির মালিক। ভোগ্য অভিজ্ঞতার নিরিখে একদিকে ট্রেনের ভিতরে বসে থাকা যাত্রীরা সেলফি, রিল ও ভিডিও করে চাইছে নিজেকে দেখাতে এবং সামাজিক পুঁজি সঞ্চয় করতে, অন্যদিকে বাইরে থাকা কৌতূহলী যাত্রীদের কাছে তারা হয়ে উঠছে দর্শনীয় এবং তাদের ভোগ্যজীবন আকাঙ্ক্ষার বস্তু। পাশাপাশি টিকিট কাউন্টারে দাঁড়িয়ে যখন ক্রেতা উচ্চারণ করছেন ‘আমাকে একটা অমুক স্টেশনের এসি লোকালের টিকিট দিন তো” এবং অনায়াসে বের করছেন অর্থমূল্য, তখন তিনি আসলে ট্রেনে ভ্রমণের অনুমতিপত্র কিনছেন না, বরং দেখাচ্ছেন অর্থনৈতিক ক্ষমতা। এই উচ্চারণে লুকিয়ে আছে এক প্রচ্ছন্ন শ্রেণি-গর্ব। অন্য ক্রেতারা তাকিয়ে আছেন খানিক বিস্ময়, ঈর্ষা, মুগ্ধতা, অভিলাষ নিয়ে। এই এসি লোকালের টিকিট শ্রেণিগত পার্থক্যের বাহক এমন এক পণ্য যা পিয়ের বোর্দিউয়ের ভাষায় ‘সিম্বলিক ক্যাপিটাল’, অর্থাৎ সামাজিক মর্যাদার সূচক।

আরো পড়ুন বিড়ি শ্রমিক: যার কাজ আছে তার ভাত নেই

আগে এই গণপরিবহন ছিল রোজকার জীবনের গণতান্ত্রিক থিয়েটার, যেখানে সমতা ও সহাবস্থান ছিল মূলমন্ত্র। যে পরিসর একসময় সর্বজনীন ছিল, যেখানে প্রবেশাধিকার ছিল অবাধ এবং আয়ের গরিমা বা অন্য সামাজিক বিভাজন ছিল না – তার সামাজিক দর্শনে আজ খানিক ভাঙন ধরল। টিকিটের আকাশছোঁয়া মূল্য তৈরি করেছে শ্রেণিভিত্তিক ফিল্টার, ঘটেছে গণপরিসরের পণ্যায়ন। নিম্নবিত্ত যাত্রী বা হকারদের এই এসি ট্রেনে প্রবেশাধিকার নেই। কার্ল মার্কস আলোচনা করেছেন, কীভাবে পুঁজিবাদ পুনরুৎপাদনের জন্য বিভাজন তৈরি করে। এক্ষেত্রেও দুরকম লোকাল ট্রেনের মধ্যে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে নতুন বিভাজনের দর্শন। একদিকে ভিড়ে ঠাসা, ঘামে ভেজা, শব্দে উত্তাল, সাধারণ লোকাল ট্রেনের কামরা; অন্য লাইনে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত, বহুলাংশে ফাঁকা, প্রায় নিঃশব্দ এসি লোকাল।

এসি লোকাল দেশের লোকাল ট্রেনে যাত্রার গণতান্ত্রিক স্মৃতিকে অনেকাংশে ধাক্কা দিয়ে যায়। এসি লোকালে মঞ্চায়িত হচ্ছে এক ধরনের ‘ক্লাস পারফরম্যান্স’। ধনী যাত্রীকে শুনতে হচ্ছে না হকারের হাঁক, ভিখিরির আর্তি, বৃহন্নলার হাততালি, যাত্রীদের ঝগড়া। কেউ এই ট্রেনে উচ্চস্বরে কথা বলে না; টিকিট পরীক্ষকও বিনীতভাবে, মৃদুস্বরে হেসে টিকিট দেখতে চান। শ্রমজীবী মানুষের ঘামে ভেজা জামা আর ধনীর ব্র্যান্ডেড পোশাকে লাগছে না। গরিবের শরীরের দুর্গন্ধ বড়লোকের সুগন্ধিকে বিব্রত করছে না। যে ঘাম চালায় আমাদের অর্থনীতি, যে ঘাম ধরে রেখেছে ভারতের মহান সংবিধানকে, সেই বাস্তবতাকে এড়িয়ে গিয়ে একটা বুদ্বুদ তৈরি করার পুঁজিবাদী প্রতিশ্রুতি হল এসি লোকাল। উচ্চবিত্তের এই সুগন্ধিত যাত্রা তাঁদের আশেপাশে গড়ে তুলছে এক কৃত্রিম দেওয়াল। এই আরাম আসলে ভয়ঙ্কর সামাজিক বিচ্ছিন্নতার জনক। একদিকে তা দাঁড়িয়ে আছে বঞ্চনা, বহিষ্কার ও বিভাজনের নীতির উপর, অন্যদিকে তা ভুলিয়ে দিতে যায় শ্রেণিবৈষম্য।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

1 মন্তব্য

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.