কমরেড আজিজুল হক প্রয়াত হলেন। প্রায় ঘটনাচক্রে বেঁচে গেলেন এতগুলো বছর। প্রকৃতপক্ষে যে ধরনের জীবনযাপন করেছেন, তাতে এতগুলো বছর তো বাঁচার কথা তাঁর ছিল না। রাষ্ট্রশক্তির সঙ্গে পাঞ্জা কষেছেন জীবনের একটা বড় পর্যায় জুড়ে। এই সময়ে তাঁর বহু সাথি, কমরেড শহিদ হয়েছেন। মৃত্যুমিছিলে ভারী হয়েছে বাতাস। রক্তপিচ্ছিল পথের অভিসারীরা নিকষ অন্ধকার ভেদ করে এগোতে চেষ্টা করেছেন সূর্যের সন্ধানে। শহিদের শবদেহের উপর ওড়াউড়ি করেছে শকুনের দল। কমরেড আজিজুল হকও শহিদ হয়ে যেতে পারতেন তেমনই সব দিনে। ঘটনাচক্রে হননি। মতে মিলুক আর না মিলুক, আমাদের কাছে তিনি ছিলেন প্রিয় আজিজুলদা। সুতরাং, কেতাবি ঢংয়ে কথা না বলে ব্যক্তিগতভাবেই বলা যাক, আজিজুলদা ছিলেন আদ্যন্ত ভুল এক রাজনীতির এক অসাধারণ সন্তান।
যদিও এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, ছাত্রজীবনে যে সমস্ত লেখালিখি আমাদের প্রজন্মের অনেককেই নকশালপন্থী আন্দোলনে নিয়ে এসেছিল তার অনেকটাই আজিজুলদা লিখেছেন। আজকাল কাগজে বেরোত সেসব। তখনো আজিজুলদা জেলে। আমরা জানতাম তাঁর অতীত, তাঁর বর্তমান। তখনো তাঁর ভবিষ্যৎ আন্দাজ করার ক্ষমতা আমাদের হয়নি। আজিজুলদার সে সময়কার লেখা আমাদের কাছে অন্য এক দিগন্ত খুলে দিয়ে যেত। অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির একটা বড় গুণ ছিল। এ পার্টি আকর্ষণ করতে পেরেছিল একদিকে যেমন সমাজের বিপুলসংখ্যক খেটে খাওয়া মানুষকে, তেমনই সমাজের সৃষ্টিশীল প্রতিবাদী বুদ্ধিজীবী প্রতিভাদেরও। তখনো চীনে সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয়নি। বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনে খেটে খাওয়া বনাম বুদ্ধিজীবী – এই জলবিভাজন চালু হয়নি। খেটে খাওয়া লোকেরাও যে বুদ্ধিজীবী, আর বুদ্ধিজীবীও যে খেটে খাওয়া – তা জানা ছিল। সর্বোপরি, খেটে খাওয়া আর বুদ্ধিজীবীর জীবনযাত্রার তফাতও আজকের মত এত বিষম হয়ে দাঁড়ায়নি।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
বহু বহু কমিউনিস্ট নেতা-কর্মীর মত আজিজুলদাও ছিলেন এক প্রজ্জ্বলিত বুদ্ধিজীবী। ছাত্রজীবনে কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে এসেছেন। বিপ্লবের কঠিন পথকে ভয় পাননি, আত্মত্যাগের রাস্তা নিতে কুণ্ঠিত হননি। যদিও, এর মধ্যে আহামরি কিছু ছিল না। সেই সময়টাই এমন ছিল। সারা দুনিয়াজুড়ে আশাবাদের এমন প্রবল প্রতাপ ছিল তার বাস্তব ভিত্তির কারণেই, মনে হত দুনিয়ার বদল অল্প কিছু সময়ের অপেক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়। ফলে বিপ্লব আর আত্মত্যাগের কঠিন রাস্তায় পা বাড়িয়েছিল বহু বহু ছাত্রছাত্রী, যুবক যুবতী। কিন্তু আজিজুলদার বিশেষত্ব ছিল অন্য জায়গায়।
নকশালবাড়িতে গুলি চলার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অভ্যন্তরে গুলিগোলা চলতে শুরু করে দিল। শুরুটা অবশ্য আগেই হয়ে গিয়েছিল। চীন-ভারত যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি আর চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যেকার মহাবিতর্ক – এই দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের কমিউনিস্ট মহল তখন উত্তাল। অবশেষে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ভাগ হল। বিশ্বের অনেক দেশের কমিউনিস্ট পার্টিই ভেঙে গেছে সেইসময়। আজিজুলদা নতুন দলে এলেন। কিন্তু সে দলেও তাঁর অতীতের জন্মচিহ্ন লেগে ছিল। বুর্জোয়াদের সঙ্গে যৌথভাবে সেই পার্টিই তখন রাজ্যের ক্ষমতায়। তার অভিঘাতে কৃষক আন্দোলন দুর্নিবার হয়ে উঠেছে। এমন সময়ে চলল গুলি। শহীদ হলেন কৃষক রমণী, শিশুরা। কিন্তু কী আশ্চর্য! পার্টির নেতৃবৃন্দ সমর্থন করলেন গুলি চালনাকেই। সরকার রক্ষা করাই হল তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আবার নতুন পার্টি। ময়দানে ঘোষণা, হাজার হাজার ছাত্র, যুবর এগিয়ে আসা। বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ! আজিজুলদার মত মানুষ যে যোগ দেবেন সেই দলে, তাতেও তেমন আহামরি ব্যাপার কিছু ছিল না।
আজিজুলদার মত লোকেদের বিশেষত্ব হল, আন্দোলন ধাক্কা খাওয়ার পরেও বিপ্লবের স্বপ্নে তাঁদের অটল থাকা। প্রথম সারির প্রায় সকলেই শহিদ হয়ে গেছেন। বহু প্রশ্নে, সংশয়ে আন্দোলন জেলের মধ্যেই বহুধাবিভক্ত হয়েছে। তার পরেও তাঁরা হাল ছাড়েননি। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুক্তি পেয়েছিলেন জেল থেকে। তার আগে জেল ভেঙে পালানোর ইতিহাসও আছে। সেই অ্যাকশনে শহিদ হয়েছেন তাঁর কমরেডরা। জেল ভেঙে বাইরে এসে কিছুদিনের মধ্যে ধরা পড়ে আবার জেলে। তারও আগে ছাত্রজীবনে চীন-ভারত যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে জেলে ছিলেন অন্যান্য পার্টিনেতাদের সঙ্গে। জেল তাঁর কাছে সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে দেখা দিয়েছিল।
’৭৭ সালে জেল থেকে বেরিয়ে গঠন করলেন সিপিআইএমএল-এর দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় কমিটি। চারু মজুমদারের রাজনীতিকে যেমনভাবে বুঝেছিলেন, সেই বিশ্বাসে অটল ছিলেন। আবার শুরু হল সশস্ত্র রাজনীতি। গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরার রণকৌশল। নদিয়ায় পাল্টা সরকারও ঘোষণা করে দিয়েছিলেন একসময়। আমার সঙ্গে যখন আজিজুলদার মুখোমুখি পরিচয় হয়, তখন তাঁর সেই অতীতের নচিকেতাগ্নি অনেকটাই নিভু নিভু। বামফ্রন্টের জেল থেকে বেরিয়ে এসেছেন। কিন্তু সাতের দশকে কংগ্রেস আমলে জেল খেটে সাতাত্তরে বেরোবার পরে যে বিশ্বাস অটুট ছিল, তখন আর তা নেই। শরীরও ভেঙে পড়েছে অত্যাচারে। আজ সিপিএম যতই গদগদ ভাব দেখাক না কেন, বামফ্রন্টের আমলে জেলে অত্যাচারের হাত থেকে আজিজুলদা রেহাই পাননি একেবারেই। অশক্ত, দুর্বল, পাকস্থলির দুই-তৃতীয়াংশ ছিল না পেটের মধ্যে। জীবিকার ঠিকঠিকানা ছিল না, অর্থকষ্ট সাংঘাতিক। কিন্তু মানুষের মন থেকে তখনো মুছে যাননি। আজিজুলদার সঙ্গে হাঁটাচলা করা মুশকিল ছিল। লোকে এসে অটোগ্রাফ নেবার চেষ্টা করত, পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করার চেষ্টা করত। পার্ক স্ট্রিট মেট্রো স্টেশনে একবার এক ভদ্রলোক তাঁর ছোট ছেলেকে বলেছিলেন ‘এনাকে প্রণাম করো, এনার নাম আজিজুল হক!’ যাঁরা অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ ছিলেন আজিজুলদার, তাঁদের এমন অভিজ্ঞতা আরও অনেক বেশি ছিল বলাই বাহুল্য।
আজিজুলদাকে ভালবাসতাম আমরা। তার একটা কারণ ছিল তাঁর জীবনের একটা বড় অংশ কেটেছে বিপ্লবের স্বপ্নসাধনায়। এর একটা স্বীকৃতি আপনা আপনিই বেরিয়ে আসত আমাদের ভেতর থেকে। সে যতই তাঁর রাজনীতিকে ভুল মনে করি না কেন, তাতে কিছু যেত আসত না। দ্বিতীয়ত, আর একটা ব্যাপার ছিল তাঁর মধুর ব্যবহার। আজিজুলদাদের থেকে অনেক কম ধার ও ভারের নেতাকে (?) দেখেছি, কে জানে কী অজানা কারণে দেমাকে মাটিতে পড়ে না। হয়ত দলে কটা লোক পেয়েছে অন্য লোকের কৃতকর্মে, কটা ছাত্র পেয়েছে, কেউ বা অন্য কোনো ছোটখাট কাজ করেছে। ব্যাস! মাথা ঘুরে লাট্টু হয়ে গেছে। মাঝারি লোকেরা এমনই হয়। আজিজুলদা ছিলেন অনেক বড় মাপের লোক। যদিও রাজনীতির বিচারে নিঃশেষিত, হতভম্ব, এই পরিবর্তনশীল জগতে দ্রুত বেমানান অদ্বান্দ্বিক চিন্তাপদ্ধতির উৎকৃষ্ট সন্তান।
আসলে এই সমস্যাটা শুধু আজিজুলদার একার ছিল, তা তো নয়। নকশালবাড়ি আন্দোলনের প্রায় সব জীবিত নেতার মধ্যেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বৈপ্লবিক আন্দোলনের সর্বোচ্চ অনুশীলনটা তাঁরা ইতিমধ্যেই করে নিয়েছিলেন এবং করেছিলেন ভুলভাবে। চীনের পথেই ভারতের বিপ্লব হবে – এটা তাঁরা ভেবে নিয়েছিলেন একেবারে অন্ধভাবে। খোদ কমরেড চারু মজুমদার ছিলেন এই মতামতের কট্টর প্রবক্তা। তাঁর ঐতিহাসিক ‘আট দলিল’-এ তিনি লিখে দিয়েছিলেন, যারা চীনের পথ মানে না তারাই সংশোধনবাদী৷ সংশোধনবাদ চিহ্নিত করার এক সহজ পথ চিহ্নিত হয়ে গিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে সংশোধনবাদী চিহ্নিত করারও সহজ পথ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। চীনের পথ মানো কিনা? চারু মজুমদারের ঘনিষ্ঠ কমরেডরা আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছিলেন, চারু মজুমদারের ‘বৈপ্লবিক কর্তৃত্ব’ মানো কিনা? যারা মানবে না তারাই সংশোধনবাদী। গোটা ব্যাপারটাই ছিল দ্বান্দ্বিক দর্শনের সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রখর প্রজ্জ্বলিত বৈপ্লবিক মেধা সত্ত্বেও আজিজুলদারা বোঝার চেষ্টাই করেননি যে, রাশিয়ার কমিউনিস্টরা বহু ক্ষেত্রেই মার্কসের নামে প্রচলিত বিপ্লবের রণকৌশল ও রণনীতি মানেননি। নিজেদের মত করে ভেবেছেন, নিজেদের বাস্তব অবস্থা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই রাশিয়ার বিপ্লবের পথ ছিল একান্তই রাশিয়ার পথ। আবার চীনের কমিউনিস্টরাও অন্ধভাবে রাশিয়ার পথ অনুসরণ করেননি, তাঁরা বরং রাশিয়ার পথ তাঁদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। এমনকি কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিকের প্রতিনিধিদের পার্টি কংগ্রেস থেকে বের করে দেওয়ার মত দুঃসাহসও দেখিয়েছেন।
কিন্তু মাও সে তুংকে প্রায় পুজো করার পর্যায়ে উন্নত করেও আজিজুলদারা মাওয়ের কাছ থেকে খুব একটা শিক্ষাগ্রহণ করতে পেরেছিলেন বলে মনে হয় না। ফুলের মালা, দীপের আলো, ধূপের ধোঁয়ার পিছন হতে মাও তাঁদের কাছে অস্পষ্টই থেকে গেছেন। ফলে আজিজুলদাদের অনুশীলন তীব্র ধাক্কার সম্মুখীন হয়ে ভেস্তে গেছে। এদিকে আবার তা বৈপ্লবিক অনুশীলনের সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শও করে ফেলেছে। ফলে তাঁদের আর ফেরার কোনো জায়গা ছিল না, এগোবারও নয়। একপ্রকার দিশাহীন হতভম্ব অবস্থায় তাঁরা প্রায় প্রত্যেকেই হয় সিপিএম, নয় তৃণমূলের ছত্রছায়ায় দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। এ তাঁদের ধান্দাবাজি বা সুবিধাবাদ বা আত্মসমর্পণ ভেবে নিলে তা খুবই সরল ব্যাখ্যা হয়ে যেতে বাধ্য। এ আসলে তাঁদের রাজনীতির এবং চিন্তাপদ্ধতির পরিণাম।
আরো পড়ুন বামপন্থীদের গণতন্ত্রকে আরও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি: অসীম চ্যাটার্জি
তখনো সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রাম হয়নি। ২০০৬ সালের বেশ কয়েক বছর আগেকার কথা। আমি গোটাকতক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে নন্দনে আড্ডা মারছি, যারা আজিজুলদার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। খুব সম্ভবত আমরা একটা বিদেশি ছবি দেখতে গেছিলাম, আজিজুলদাও ছিলেন। একসময় সবাই একসাথে চা খাচ্ছি, বামফ্রন্টের এক নেতা এসে আজিজুলদার হাত ধরে বললেন তাঁর সঙ্গে তাঁর গাড়িতে যেতে। আমরা অন্যদিক থেকে আজিজুলদার অন্য হাত টেনে ধরে রেখেছি। কেউ কেউ ফিসফিস করে আজিজুলদার কানে কানে বলছে ‘তুমি একদম যাবে না।’ প্রায় দড়ি টানাটানি চলছে। আজিজুলদা আমাদের স্নেহের কথায়-ধমকে ‘অমন করতে নেই’ বুঝিয়ে চলে গেলেন সেই নেতার সঙ্গে। আমরা বিমর্ষ হয়ে রইলাম। তখন বুঝতে পারিনি, আজিজুলদা রাজনৈতিকভাবেও আমাদের হাত ছেড়ে দেবেন।
সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ে সরকারের পক্ষ নেওয়ায় আমাদের সঙ্গে দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিল অনেক। আমাদের চক্রে প্রায় ব্রাত্য হয়ে গিয়েছিলেন আজিজুলদা। তাঁর প্রিয় কফি হাউসেও আসতেন না অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে ভেবে। নতুন করে আর অপমান সহ্য করার ক্ষমতা তাঁর ছিল না। বইপাড়ায় আসতেন কিছু রোজগারের সূত্রে, নইলে হয়ত সে আসাও বন্ধ করে দিতেন। মহাবোধি সোসাইটির সামনে এমনই একদিন দেখা হতে যথারীতি একগাল হেসে বলেছিলেন ‘আমাকে তো পেট চালাতে হবে, বুইলেন না!’ এই ‘বুইলেন না’ কথাটা ছিল আজিজুলদার মুদ্রাদোষ। এভাবেই একদিন বলেছিলেন ‘আমি তোদের এই নতুন দলে বিশ্বাস করি না, বুইলেন না, এই সব ‘নতুন’, বুইলেন না, সব গণ্ডগোল তোদের!’ আজিজুলদা তখন কোনো ধরনের নকশালপন্থাতেই আর আস্থা রাখতে পারতেন না।
তবুও কোথাও একটা আশাবাদ বেঁচে ছিল তাঁর মধ্যে, আর রয়ে গিয়েছিল মধুর ব্যবহার। গ্রহণ করলেও মধুরভাবে করতেন, বর্জন করলেও মধুরভাবে করতেন। আমাদের কাছে তিনি নিজেদের লোক ছিলেন তাঁর শত ভুল, শত বিচ্যুতি সত্ত্বেও।
আজিজুলদা যেদিন মারা গেলেন, আমি কলকাতা থেকে অনেক দূরে অন্য শহরে। ফোন করলাম আমার সেই পুরনো বন্ধুদের। তারা সব হাজির ছিল শেষ যাত্রায়, শেষ কর্মে। অনেক রাতে একজনের ফোন পেলাম ‘পুরনো লোকজন অনেকে এসেছিল, কিন্তু দলগুলোর কাউকে দেখলাম না কেন বল তো?’ কী করে বলি, আমাদের রাজনীতি কখন হারিয়ে ফেলেছে চোখের জল, জীবনের স্পর্শ! নিজেদের ক্ষুদ্র বৃত্তে আমরা বামন আজ!
বিদায়ী লাল সেলাম আজিজুলদা।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







