This slideshow requires JavaScript.

একদম ছোটবেলায় ফিরে গিয়ে নিজেদের জীবনের নীতিপাঠ্যগুলো আরও একবার ঘেঁটে দেখলে দেখা যাবে তার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে ছিল সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা, শরীরচর্চা-খেলাধূলার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখা, সংঘবদ্ধ জীবনযাপন করা ইত্যাদি। শহর মফস্বলে প্রত্যেকেরই বাড়ির কাছে বা একটু দূরে বড়, ছোট মাঠ থাকতই। মাঠ না থাকলেও একটুখানি ঘাস জমি বা মাটি পেলেই ফুটবল, ক্রিকেটের আসর বসে যেত। শরীর ঠিক রাখতে বড়দের হাত ধরে ছোটরাও হাজির হত সকাল সকাল। ‘প্রগতি’র গুঁতোয় কয়েক দশকে হারিয়ে গেছে বহু মাঠ, ঘাস জমি। যতটুকু অবশিষ্ট আছে তাতেই এখনো ভিড় জমাচ্ছেন অনেক মানুষ। কিন্তু সেটুকুও কি আর বেঁচে থাকবে তথাকথিত উন্নয়নের বাজারে?

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

হাওড়া শহরের ফুসফুস নামে পরিচিত ডুমুরজলা মাঠ এই উন্নয়ন যজ্ঞের আহুতিতে নবতম সংযোজন। ডুমুরজলায় হতে চলেছে রাজ্য সরকারের অনুমদিত ‘খেল নগরী’ প্রোজেক্ট।

নবতম বলাটা বোধহয় ভুল। ডুমুরজলা এলাকায় গত তিন দশক ধরেই চেষ্টা চলেছে এই জাতীয় উন্নয়ন যজ্ঞের। একটু ইতিহাসে ফিরে গেলে দেখা যাবে ষাটের দশকে এই এলাকা ছিল চাষের জমিতে পরিপূর্ণ। সেসময় চাষিদের থেকে জমি নেওয়া হয়। শুধুমাত্র খেলাধূলার জন্যই এই জমি ব্যবহার করা হবে, এরকমই কথা ছিল। সময় যত এগিয়েছে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে খেলার জন্য মাঠ। শিল্পনগরী হাওড়ায় এত বড় ফাঁকা এলাকা খুব কমই ছিল। যত সময় এগিয়েছে আরও ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে শহর হাওড়া।

তিন দশক আগে ডুমুরজলায় আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম তৈরি করার পরিকল্পনা করে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই মাঠের একটা অংশে গড়ে ওঠে হাওড়া ইন্ডোর স্টেডিয়াম, উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। কিন্তু কোনো আন্তর্জাতিক খেলার আয়োজন দেখা যায়নি কোনো সময়েই। এর সাথে আন্তর্জাতিক মানের কোনো ক্রিকেট বা ফুটবল স্টেডিয়ামও গড়ে ওঠেনি। একই সঙ্গে ধীরে ধীরে কমে এসেছে এই অঞ্চলের সবুজ।

সরকার পরিবর্তন হলে ২০১৩ সালে হাওড়া উন্নয়ন সংস্থা এইচআইটির থেকে জমি চলে যায় আর্বান ডেভলপমেন্ট করপোরেশনের হাতে। তারপর শেষমেশ এই জমি তুলে দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গ হাউজিং ইনফ্রাসট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশান বা হিডকোর হাতে।

মাঝে ২০১৫ সালে রাজ্যের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র দফায় দফায় ডুমুরজলায় এসে এলাকা পরিদর্শন করেন এবং এখানে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহী হন। সেই অনুযায়ী মাস্টার প্ল্যানও তৈরি হয়। মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ঠিক হয় ওই ৫৫ একর জমিতে পাব্লিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মোডে ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প হবে। সেখানে স্টেডিয়াম তৈরির পাশাপাশি আয়ের জন্য জন্য গড়ে তোলা হবে বহুতল আবাসন ও শপিং মল।

ওই প্ল্যান অনুযায়ী ঠিক হয়েছিল, একটি ৩০ হাজার দর্শকাসনের আর্ন্তজাতিক মানের স্টেডিয়াম হবে। এ ছাড়া হবে তিন হাজার দর্শকাসনবিশিষ্ট একটি টেনিস কোর্ট। এর পাশাপাশি জিমনাসিয়াম, স্পোর্টস সেন্টার ও হাউজিং কমপ্লেক্স।

১৯৮০-৯০ এর দশকে ডুমুরজলা এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা যতটা বাস্তবসম্মত ছিল, ২০০৮ বা ২০১৫ কিংবা ২০২১ সালে তা কি আদৌ ততটা বাস্তবসম্মত?

আশি-নব্বইয়ের দশকে ডুমুরজলার আশেপাশে ফাঁকা জায়গা যতটুকু ছিল আজ নেই। ডুমুরজলায় কংক্রিটের স্টেডিয়াম হলে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে এই এলাকার সবুজ। হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। ২০১৫ সালে সরকারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আওয়াজ ওঠে। সরকারও সেসময় পরিকল্পনা স্থগিত রাখে।

এরপর আবার ডুমুরজলা আলোচনায় আসে ২০১৯ সালে। কোনো আলোচনা ছাড়াই মাঠের উত্তর দিকে তৈরি করা হয় হেলিপ্যাড। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নবান্ন থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেন এই হেলিপ্যাড। এটি তৈরি করার জন্য মাঠের যে অংশ ধ্বংস করা হয়, তাতে ছেলেমেয়েরা অ্যাথলেটিক্স অভ্যাস করত। হেলিপ্যাডটি এখনো আছে। সমস্ত ভিআইপি নবান্ন থেকে এই পথেই যাতায়াত করেন। আর সেইসময় নিরাপত্তার অজুহাতে মাঠের মধ্যে থাকা সমস্ত মানুষকে বার করে দেওয়া হয়।

এ বছরের আগস্ট মাসে আবার নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয় এই মাঠ নিয়ে। সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয় ডুমুরজলায় গড়ে উঠবে ‘খেল নগরী। প্রথমে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দ্বারা ও সরকারি দপ্তরগুলো থেকে খোঁজ করে জানা যায় সেই পিপিপি মডেলেই তৈরি হবে ক্রিকেট, ফুটবল, হকি খেলার স্টেডিয়াম। এর সঙ্গে ৬০ তলা শপিং কমপ্লেক্স, পার্কিং লট, ওয়াটার বডি, সুইমিং পুল ও হাউজিং কমপ্লেক্স। ইতিমধ্যেই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল বা সিএবিকে ১৪ একর জমির বরাত পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এই খেল নগরী প্রোজেক্টের বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ, মাঠের সঙ্গে যুক্ত থাকা ক্রীড়াপ্রেমী, পরিবেশপ্রেমীরা।

খেল নগরী হলে হাফ প্যান্ট, জার্সি গায়ে অবাধ যাতায়াত করা ছেলেমেয়েরা আর এখানে আসতে পারবে না। পারবে না ফুটবল, ক্রিকেট বা বাস্কেটবল খেলতে। কারণ ডুমুরজলা মাঠটাই আর থাকবে না। এর সঙ্গে হারিয়ে যাবে সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা, শরীরচর্চার অভ্যাস। বিভিন্ন বয়সের মানুষের প্রাতঃভ্রমণ, সান্ধ্যভ্রমণ, আড্ডা বন্ধ হয়ে যাবে। একাধিক ছোট ব্যবসায়ী কর্মসংস্থান হারাবেন, স্পোর্টস ক্লাবগুলি বন্ধ হয়ে যাবে।

ডুমুরজলার পরিবেশগত গুরুত্ব আলাদা করে আলোচনার দাবি রাখে। হাওড়া নামের উৎপত্তি ‘হাওর’ (জলাজমি) শব্দটি থেকে। হাওড়া জেলা জলাভূমিতে ভর্তি। ডুমুরজলাতেও জলাভূমি ছিল ঐতিহাসিকভাবেই। প্রাকৃতিক নিয়মেই এখানে অসংখ্য গাছের সৃষ্টি। আর গাছ, জলাভূমি একসাথে থাকার কারণেই প্রাকৃতিক নিয়মে অসংখ্য জীবের আনাগোনা এই অঞ্চলে।

হাওড়া শহরে এক এক করে গাছ কেটে, পুকুর বুজিয়ে, জলাভূমি বুজিয়ে ফ্ল্যাট-রেস্তোরাঁ ইত্যাদি তৈরি হতে হতে গেছে যতটা পরিমাণে; ঠিক ততটা পরিমাণে এই ডুমুরজলা এলাকা, মাঠ টিম টিম করে জ্বলতে থাকা প্রদীপের শিখার মতো আলো হয়ে কংক্রিটের জঙ্গলের বাইরে মানুষ ও হাজার হাজার প্রাণীর বেঁচে থাকার রসদ জুগিয়েছে।

এখানে যেমন আছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ, তেমনই আছে জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বাস্তুতন্ত্র। পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে সাইবেরিয়ান পাখি তাইগা ফ্লাই ক্যাচার বিশেষ উল্লেখ্য। এছাড়াও বেনে বৌ, শিকরা বাজ, কূবো, ঘুঘু, মাছরাঙা, টিয়া, বক, জাকাণা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি; সাপ, বেজি, বিভিন্ন প্রজাতির কীটপতঙ্গ, প্রজাপতি — এদের সবার অবাধ বিচরণক্ষেত্র এই অঞ্চল। এমনকি বিখ্যাত পরিযায়ী পাখি অ্যামর ফ্যালকম অবধি দেখা যাচ্ছে ডুমুরজলায়। এমনটা বলা বাড়াবাড়ি হবে না যে সাঁতরাগাছি ঝিলের পরে ডুমুরজলাই হতে চলেছিল হাওড়ার পরবর্তী পরিযায়ী পাখিদের জায়গা, ইকোলজিকাল হটস্পট।

কিন্তু যত দিন এগিয়েছে, এই এলাকাকেও কংক্রিটে পরিণত করার ছক তৈরি হয়েছে। পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। এই মাঠ যে জনজীবনের অংশ তা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। বাটির ন্যায় মাঠটির চারপাশে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।

অনেকেরই মনে হতে পারে খেলার জন্যই যখন এই জমি নেওয়া হয়েছিল, খেল নগরী হতে অসুবিধা কোথায়? ‘খেলা’ মানে শুধু খেলাই বোঝায়। খেলার নগরীর মধ্যে নগরায়নের কথা থাকায় স্পষ্ট হয়ে যায়, এখানে কংক্রিটের আস্তরণ পড়তে চলেছে। আর নগরায়ন মানে সেখানে বাড়িঘর, দোকানপাট হবে স্বাভাবিক। সেইজন্যই হিডকোর আগমন।

কিন্তু প্রশ্ন হল, শহরের মধ্যে এরকম ফাঁকা জায়গা রাখতে হবে — গ্রীন বেঞ্চের এইরূপ নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন ঘনবসতিপূর্ণ হাওড়ায় এই প্রোজেক্ট আবার গ্রহণ করা হল? ভৌগোলিক অবস্থানগতভাবে এই এলাকাটি দ্বিতীয় হুগলি সেতুর একেবারে কাছে। ডুমুরজলার আশপাশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। উচ্চমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত থেকে একেবারে নিম্নবিত্ত সকল শ্রেণির মানুষের বাস এখানে। ব্যবসায়িক উন্নতিই আসল কারণ তাহলে?

বিশ্বায়নের যুগে উন্নয়নের যে মডেল ভারতবর্ষে গত তিন দশক ধরে অনুসরণ করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে গোটা দেশে আজ প্রশ্ন উঠে গেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কীভাবে গোটা বিশ্বের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে আমরা সকলেই কমবেশি জানি। কিন্তু যতটুকু বেঁচে আছে, সেটাকেও উন্নয়নের নামে ধ্বংস করে দিয়ে আমরা কি আগামীদিনে প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারব? অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ঘোরার সময় উপস্থিত হবে না তো? ডিজিটাইজেশনের যুগে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেখানে সারাক্ষণ অনলাইন ক্লাস, মোবাইলে, ল্যাপটপে ব্যস্ত… সেখানে আরও বেশি করে দরকার খেলাধূলা, শরীরচর্চা, সকাল সকাল ওঠা, প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসা। কিন্তু প্রকৃতিই যদি না থাকে তাহলে এসব হবে কী করে? মাঠই যদি না থাকে, খেলাধূলা হবে কোথায়?

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনিয়মিত, অনিয়ন্ত্রিত বৃষ্টিপাতে নাজেহাল শহর, মফস্বলের সাধারণ মানুষ। হাওড়া শহরের বেশকিছু জায়গায় প্রতি বছর জল জমা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এতদিন সেটাও একটা পরিমাণ অবধিই ছিল। ডুমুরজলা অঞ্চলে নীচু জলাভূমি থাকায়, অনেকটা মাটির এলাকা থাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টি হলেও সেই জল শুষে নেওয়ার ক্ষমতা আছে। তাই হাওড়ার এই অংশে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অবধি তৈরি হতে পারেনি। কিন্তু এই প্রোজেক্ট সম্পন্ন হলে হাওড়া শহর বন্যায় ভেসে যাওয়া সময়ের অপেক্ষামাত্র। আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম বানিয়ে কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করলে সেখানে আন্তর্জাতিক স্তরের খেলোয়াড়রা যাতায়াত করতে পারবেন তো কোমর জল ঠেঙিয়ে?

এলাকার ছেলেমেয়েরা কোথায় যাবে খেলতে? আট থেকে আশির অবাধ যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। আশেপাশের বিভিন্ন স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এখানে, সেগুলো হবে কোথায়? শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে, সকাল সকাল ওঠার অভ্যাস বজায় রাখতে এখানকার মানুষ কী করবেন? এতগুলো গাছ কেটে ফেললে, জলাভূমি বুজিয়ে দিলে হাওড়া শহরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য যতটা নষ্ট হবে, তা কি আর কখনও পূরণ করা সম্ভব হবে? নিয়ম অনুযায়ী কোনো অঞ্চলে পুরনো গাছ কাটলে তার অনেক গুণ বেশি গাছ সেই অঞ্চলের কাছাকাছি কোনো এলাকায় লাগাতে হয়, পরিচর্যা করতে হয়। কিন্তু ডুমুরজলার আশেপাশে তার থেকেও বড় ফাঁকা জায়গা এই মুহূর্তে অবশিষ্ট নেই। সেক্ষেত্রে প্রকৃতির উপর এত বড় আঘাতের বদলা প্রকৃতি কীভাবে নেবে মানুষ তা এখনো জানে না।

ডুমুরজলা বাঁচাতে লড়াই করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। লড়াইয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘সেভ ডুমুরজলা জয়েন্ট ফোরাম’। ফেসবুকে তৈরি হয়েছে ‘সেভ ডুমুরজলা’ নামের একটি গ্রুপ। নিয়মিত প্রচার, পদযাত্রা, কনভেনশনের মাধ্যমে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া নিয়েছেন ফোরামের সদস্যরা। আইনীভাবে এই প্রোজেক্ট বন্ধ করার জন্যও নেওয়া হচ্ছে উদ্যোগ।

ডুমুরজলা এলাকার বিধায়ক অরূপ রায়ের কাছে ফোরামের সদস্যরা আবেদন নিয়ে গেলে তিনি জানান, এই ব্যাপারে তিনি কিছুই করতে পারবেন না। শিবপুরের বিধায়ক তথা নামকরা খেলোয়াড় মনোজ তিওয়ারিও এই ব্যাপারে একেবারে চুপ। জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন দিয়েও মেলেনি কোনো ইতিবাচক উত্তর। তাই বৃহত্তর লড়াইয়ের পথে ডুমুরজলার মানুষ।

ডুমুরজলার মানুষ বোধহয় শুধুমাত্র একটা ডুমুরজলা মাঠ বাঁচাতে লড়ছেন তা নয়, বরং উন্নয়নের এই আলটপকা মডেলকেই প্রশ্ন করছেন। শহরাঞ্চলের পরিবেশ প্রকৃতির উপর গত কয়েক দশকে যে আঘাত নেমে এসেছে, যার ভুক্তভোগী হয়েছেন শহরের মানুষ, তা নিয়ে পুনরায় আলাপ আলোচনার পরিসরকে উন্মুক্ত করছে ডুমুরজলার লড়াই।

পরিবেশের ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে জলাভূমি, গাছের গুরুত্ব কতটা তা ভুলতে বসা সরকার ও মুনাফাখোর অসাধু ব্যবসায়ীদের তাঁদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দিচ্ছে ডুমুরজলা। লড়াই এরপরে কোনদিকে যাবে সেটা সময়ই বলবে। কিন্তু এরপরে পশ্চিমবঙ্গে যেখানে যেখানে জলাভূমি ভরাট করে কিংবা গাছ কেটে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প করা হচ্ছে, সেখানেই যাতে সাধারণ মানুষের কণ্ঠ জোরালো হয়ে উঠতে পারে, তার জন্য জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। ডুমুরজলার প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রেখে খেলাধূলার উন্নতি ঘটানো, হাওড়ার ছেলেমেয়েদের খেলাধূলা, শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা বোধহয় সবদিক থেকে ভাল পদক্ষেপ। “ডুমুরজলা থাক ডুমুরজলাতেই”, এই স্লোগানের গুরুত্ব বুঝুক সরকার। সরকারের উচিত শীঘ্র সেভ ডুমুরজলা জয়েন্ট ফোরামের সাথে আলোচনায় বসা এবং খেল নগরী প্রোজেক্ট বন্ধ করে স্থায়ী পরিবেশবান্ধব ডুমুরজলা প্ল্যানের দিকে যাওয়া। পরিবেশ নৈতিকতা, জীবনের নীতিপাঠ্যগুলো নতুন করে লেখা হোক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.