নতুন বছরে দেশের অগণন বিজ্ঞান গবেষকদের আগমনে গমগম করে উঠবে এবারের বিজ্ঞান কংগ্রেস – বিজ্ঞান শিক্ষার্থী, গবেষক, সকলে অন্তত এমনটাই ভেবেছিলেন। কেনই বা ভাববেন না? গতবছর সফল চন্দ্রাভিযানের সাক্ষী থেকেছে গোটা দেশ। চন্দ্রযান ৩ নির্বিঘ্নে অবতরণ করেছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে। এমনকি সদ্য সৌরযান আদিত্যকেও প্রত্যাশামত ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট L1-এ ঠিকঠাক প্রতিস্থাপন করতে পেরেছে আমদের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। তাই শতাব্দীপ্রাচীন বিজ্ঞান কংগ্রেস যে এবার হবে না, তা ভাবতেই পারেননি অনেকে।
সাধারণত ৩ জানুয়ারি থেকে পাঁচদিন ব্যাপী চলে এই সভা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক, শিক্ষার্থী, অধ্যাপকরা তুলে ধরেন তাঁদের কাজ। ভাব বিনিময় হয় বিভিন্ন বিষয়ের দিকপালদের মধ্যে। কিন্তু ভারত সরকার এবং সায়েন্স কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশনের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবারের মহতি সমাবেশের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল। এবছর আর হবে কিনা এখনো সে বিষয়েও কোনো আভাস মেলেনি। যদিও করোনা অতিমারীর দৌলতে ২০২১ আর ২০২২ সালেও এই সমাবেশ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি গতবছরও নাগপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এই সমাবেশ, প্রধানমন্ত্রী দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে উদ্বোধন করেছিলেন তখন।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশন (ISCA) দেশের একটি নামকরা শতাব্দী পার করা সংগঠন, যার সদর দফতর কলকাতায়। ১৯১৪ সালে প্রথম বিজ্ঞান কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে। সেই থেকেই প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বিজ্ঞানের এই মহাসমাবেশ। বর্তমানে এই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সংখ্যা ত্রিশ হাজারেরও বেশি। প্রতিবছর বিজ্ঞান কংগ্রেসের অধিবেশনের জন্য অর্থ সাহায্য করে আসছে ভারত সরকারের বিজ্ঞান প্রযুক্তি দফতর। কিন্তু অ্যাসোসিয়েশন নাকি আর্থিক হিসাবনিকাশ ঠিকমত দিতে পারেনি গতবছর, কোনো আগাম অনুমতিও নেয়নি সরকার বাহাদুরের কাছ থেকে। এই যুক্তি দেখিয়ে এবছর হাত তুলে নিয়েছে বিজ্ঞান প্রযুক্তি দফতর। তার জেরেই এবারে আর অনুষ্ঠিত হল না বিজ্ঞান কংগ্রেস।
অ্যাসোসিয়েশন অবশ্য আর্থিক অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রইল অনুমতির প্রশ্ন। সে তো ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেস অ্যাসোসিয়েশনকে কোনো বছরই নিতে হত না। যে সরকারের আমলে চন্দ্রযান, সৌরযান পাঠানো হচ্ছে মহাকাশে; এমনকি মঙ্গল অভিযানও হয়েছে, সেই সরকারের সস্নেহ প্রশ্রয়ে ‘স্বদেশী বিজ্ঞান ভাবনা’ উদযাপনের এমন মহাসমাবেশ মূল্যবান হবে এটাই তো স্বাভাবিক। তার জন্যে আলাদা করে অনুমতি নিতে হবে? আসলে একদিকে দেশিয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার একের পর এক তাক লাগানো অগ্রগতি, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ইতিহাস ও বিজ্ঞানের পাঠক্রম থেকে মোগল যুগ, স্বাধীনতা পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পৃথিবীতে প্রাণের উৎস, বংশগতি, পর্যায় সারণির মত বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় বাদ যাওয়া – দুটোকে মেলানো মুশকিল।
আরো পড়ুন যুক্তিবোধ সমূলে উৎপাটিত করতেই ডারউইন বিদায়
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে বিজ্ঞান গবেষণার জন্য বেশকিছু অনুদান প্রকল্প বাতিল করেছে সরকার। যাঁরা বিজ্ঞান গবেষণা করেন, তাঁরা স্বীকার করবেন কী হারে কমেছে অনুদানের পরিমাণ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো তহবিলের অভাবে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। কিছু ক্ষেত্রে তহবিল জোগাড় হলেও দিনের পর দিন আটকে থাকছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে। বিশেষত যাঁরা পরীক্ষামূলক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাঁরা জানেন কী পরিমাণ হেনস্থার শিকার হতে হয় যন্ত্রপাতি কেনার সময়ে। সব বিষয়ে এত প্রোটোকলের চোখরাঙানি, যে খোলা মনে চিন্তা করা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনে পড়ে যায় এক অমোঘ উক্তি – “কোনো বিজ্ঞানী নেই, গবেষক নেই, দার্শনিক নেই। যেদিকে তাকাবেন, শুধুই প্রশাসক!”
এবারে সরকারি দফতর ও অ্যাসোসিয়েশনের বিবাদ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দুপক্ষই অপেক্ষা করছে মহামান্য আদালতের রায়ের জন্য। যদিও অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত কুমার ভার্মা আশাবাদী, যে মার্চের মধ্যেই হবে বিজ্ঞান কংগ্রেস। বাকিটা সময় বলবে।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








