২০ জানুয়ারি, ১৯৪৮।
দিল্লির ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে মহাত্মা গান্ধীর জীবনের শেষ উপবাস পূর্ণ হয়েছে। হিন্দু ও শিখ জনগোষ্ঠী মুসলমানদের প্রতি আক্রমণ বন্ধ করে সম্প্রীতি রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন। শারীরিকভাবে অতি দুর্বল গান্ধীকে বয়ে আনা হল বিড়লা হাউসের প্রার্থনা স্থলে। গলার স্বর ক্ষীণ। তাঁর কথার পরে পরে ডাঃ সুশীলা নায়ার বক্তব্যের মূল বিষয় জনতাকে আবার বলছেন। অস্ফূটে বলছেন গান্ধী, ‘আমি আশাবাদী, যাঁরা শান্তি চুক্তিতে সই করেছেন তাঁরা সত্যরূপী ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখেই করেছেন।’ এই সভাতেই তিনি বলছেন ‘আপনারা মনে রাখবেন মুসলমানের যে শত্রু, সে ভারতের শত্রু।’
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
তখনই শ্রোতৃমন্ডলীর মধ্যে একজন, নারায়ণ আপ্তে, ইশারা করল মদনলাল পাহোয়াকে। পিছনের দেওয়ালে দাঁড়িয়ে সে ফিউজে আগুন ধরাল। ফিউজটি পুড়ছে আর গান্ধী তুলনা টানছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। সেখানে কালো মানুষ ক্রীতদাসের মত ব্যবহার পায়, অথচ আমেরিকা সামাজিক সমতা নিয়ে বড় বড় কথা বলে। ‘আমরা নিজেদের ওদের চেয়ে ভালো মনে করি, অথচ দেখো এখানে কী হচ্ছে।’
তখনই তীব্র বিস্ফোরণে প্রার্থনাসভার মাটি কেঁপে ওঠে। গডসেরা দুই ভাই – নাথুরাম ও গোপাল, নারায়ণ আপ্তে আর বিষ্ণু করকরে অধীর অপেক্ষায়, এইবার দিগম্বর ব্যাজ ও শঙ্কর গান্ধীর উপর আক্রমণ করবে। গান্ধী হাত তুলে জনতাকে শান্ত হওয়ার ইশারা করছেন। জনতা বসে পড়ল। পাহোয়া ধরা পড়ল, বাকিরা ভিড়ে মিশে পালাল। বিড়লা হাউসে প্রাথমিক জেরায় পাহোয়া একটিমাত্র কথা বলে – ‘বোমা ফাটানোর কারণ আমি গান্ধীজির শান্তি ও সম্প্রীতির নীতি পছন্দ করি না।’
গান্ধী বলেছিলেন, ওই ছেলেটিকে যেন কেউ দোষ না দেয়। কারণ সে ভুল বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে এই কাজ করেছে।
এর মাত্র দশ দিনের মাথায় গান্ধী নিহত হন ষড়যন্ত্রের অন্যতম নায়ক নাথুরামের হাতে। সে ধরা পড়ে, ফাঁসিও হয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় – গান্ধী কি নাথুরামের মৃত্যুদণ্ড চাইতেন না? উত্তর সহজ। গান্ধী কখনোই মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে মত দিতেন না। এর আগেও নাথুরাম ও তার সঙ্গীরা গান্ধীর সেবাগ্রাম আশ্রমের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল, পুলিস তাদের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছিল। গান্ধী তখন প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন, তারা যেন গান্ধীর আশ্রমে থেকে তাঁর সাথে মত বিনিময় করে। অবশ্যই কেউ তাতে সম্মতি জানায়নি।
মৃত্যুর সঙ্গে গান্ধীর বহুবার দেখা হয়েছে। প্রতিবারই তিনি উদ্যত হাতটিকে ভালবাসাদ দিয়ে ধরেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় সত্যাগ্রহের দিনে তিনি আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন – এই অভিযোগ তুলে তাঁর উপর হামলা হয়, প্রবল আঘাতে গান্ধী জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফিরতেই তিনি খবর নিয়ে জানেন যে আক্রমণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাকে অভিযুক্ত না করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে আবেদন করেন। আক্রমণকারী মীর আলম ধর্মে মুসলমান হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গে হিন্দুদের কাছে আবেদন করেন, যেন বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক করে তোলা না হয়। ১৯০৮ সালে গান্ধীর উপর আক্রমণকারী এই মীর ১৯১৪ সালে অন্য এক জনসভায় গান্ধীকে জনরোষ থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব নিয়ে সবার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। গান্ধীর জীবনের আদি পর্বের এই পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি হয়েছে বারবার।
গান্ধীর জীবনে সত্য ও অহিংসার শেষ সফল পরীক্ষা নোয়াখালি। তীব্র হিংসার মধ্যে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন গুটিকয়েক সঙ্গীসহ, যাঁরা মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করতে শিখছিলেন। এক এক করে গান্ধী নিজের সঙ্গীদের বিভিন্ন গ্রামে পাঠালেন একদিকে হত্যায় উদ্যত ও অপরদিকে কোনোমতে বেঁচে যাওয়া দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে শান্তি স্থাপন করতে।
১৯৪৭ সালের জানুয়ারিতে ৭৭ বছরের গান্ধী পায়ে হেঁটে নোয়াখালির ৪৭টি গ্রাম ঘুরলেন। দিন শুরু করতেন ‘একলা চলো রে’ গানটি দিয়ে। গান্ধী সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন, তাঁর প্রার্থনাসভা থেকে যেন কাউকে গ্রেফতার না করা হয়। একদিন সভায় হঠাৎ একজন তাঁর গলা টিপে ধরে। গান্ধীর দম বন্ধ হয়ে আসে, কিন্তু তিনি হাসতে থাকেন। প্রতিরোধহীন, বেদনাহীন এই প্রতিক্রিয়া আক্রমণকারীকে বিহ্বল করে, শেষকালে সে গান্ধীর পায়ে পড়ে ক্ষমা চায়।
একটি ভয়াবহ ঘটনা যখন সমাজের বুকের উপর পাথরের মত চেপে বসে, তখন নানাবিধ প্রতিক্রিয়া হয়। যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় চাওয়া হয়। কিন্তু সেই ন্যায় কখনো কখনো ভয়ঙ্করের চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে চায়। সরকারি হাসপাতালে সরকারি চিকিৎসকের মর্মান্তিক ধর্ষণ ও হত্যা আজ ন্যায়ের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আলোড়ন তুলেছে। ন্যায় মানে কী – সেই প্রশ্নও উঠছে। অপরাধীকে কোন দণ্ড দিতে হবে? কখনো কখনো ক্ষুব্ধ জনমন হত্যার বিরুদ্ধে হত্যাই চায়। চোখের বদলে চোখ, দাঁতের বদলে দাঁত। গোটা দুনিয়ার যুদ্ধের রাজনীতি এই সহজ সমীকরণ সামনে রেখে মানুষকে লড়িয়ে যায়। কিন্তু মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী এই মৃত্যুদণ্ড। মৃত্যু কোনো সমাধান নয়, কোনো অন্যায়ের, কোনো দ্বন্দ্বের, কোনো বেদনার। কিন্তু হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী প্রথম সুযোগেই মৃত্যুদণ্ডকে সমাধান হিসাবে তুলে ধরে। আঘাতের বদলে আঘাত, হত্যার বদলে হত্যা। যেন কোনো বধ্যভূমিতে সবাই দাঁড়িয়ে। বর্তমান সময়েও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। যে শাসককুল এই ঘটনার দায় এড়াতে কোনোভাবেই পারে না, তারাই পথে নেমেছেন মৃত্যুদণ্ডের দাবি নিয়ে। রবীন্দ্রনাথের শ্যামা নৃত্যনাট্যের মত ‘চোর চাই যে করেই হোক, হোক না সে যে কোনো লোক।’ আর তারপর ‘দুই দিন কারাগারে রবে, তারপর যা হয় তা হবে।’
গান্ধীকে নিয়ে সম্প্রতি একটি ছায়াছবি তৈরি হয়েছে, যা গভীর বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। সেখানে বুলেটবিদ্ধ গান্ধী বেঁচে উঠছেন এবং তাঁর আলাপ চলছে হত্যাকারী নাথুরামের সঙ্গে। সেই আলাপে উঠে আসছে দুই বিচারধারার সংঘাত। আদতে গান্ধীর অহিংসা ও সম্প্রীতির বিপ্রতীপে দাঁড়ানোর কথা বিনায়ক দামোদর সাভারকরের। নাথুরাম গুরুর নির্দেশ পালন করেছেন মাত্র। যদিও গান্ধী হত্যা মামলার বিচারে আদালতে সাভারকর নাথুরামকে না চেনার ভান করেছিলেন। যা-ই হোক, গান্ধী যে ফাঁসির বিরুদ্ধে ছিলেন – সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। মৃত্যুদণ্ড কখনোই সমস্যার সমাধান নয়। যদিও গান্ধী সশস্ত্র বিপ্লবের বিরোধী ছিলেন, সাভারকর প্রণোদিত হঠকারী ব্যক্তিহত্যার কঠোর সমালোচক, তবু তিনি কারোর জন্যই রাষ্ট্রীয় মৃত্যু চাননি।
‘An eye for an eye will only make the whole world blind.’
গান্ধীর পথ ধরেই মার্টিন লুথার কিং বলেছেন, হিংসা মানুষের মন পরিবর্তন করার বদলে তাকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। কিছুকাল আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইলিনয়ের গর্ভনর জর্জ রায়ান ১৬৭ জন বন্দির মৃত্যুদণ্ড মকুব করার সময়ে গান্ধীর কথা বলেছেন।
আরো পড়ুন লোধা বালককে খুন: সভ্যতার দুরারোগ্য ব্যাধি বেড়েই চলেছে
কিন্তু অদ্ভুতভাবে আমাদের দেশে স্বঘোষিত গান্ধীবাদী আন্না হাজারে ২৬/১১ হামলায় অভিযুক্ত আজমল কাসভের মৃত্যুতে উল্লসিত হয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, একে ফাঁসি দিতে বড় দেরি হল এবং কাসভকে চৌরাস্তায় ফাঁসি দিলে তা শিক্ষণীয় হত। তথাকথিত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রবক্তারা এরকমই বলেন। কাসভের ফাঁসির পরপরই তখন বিরোধী শিবিরে থাকা আজকের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আফজল গুরুর ফাঁসির দাবি তোলেন। কংগ্রেসের দিগ্বিজয় সিং তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়েছিলেন। আফজলের শেষ পর্যন্ত ফাঁসিই হয়। কিন্তু আজ অবধি তার মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি নিয়ে অনেক ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এই ফাঁসি এমন উন্মত্ত জাতীয়তাবোধের জন্ম দিয়েছিল যে আজও এ নিয়ে কোনোরকম ভিন্ন মত পোষণ করলেই তাকে দেশদ্রোহী আখ্যা দেওয়া হয়।
দেখা যাচ্ছে, গান্ধীর দেশে রাজনৈতিক নেতারা ‘খুন কা বদলা খুন’ নীতিতে বিশ্বাস রাখেন। গান্ধীর নাম নিয়ে যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁরা গান্ধীর ভাবনার মূল সূত্র থেকেই দূরে থাকেন – একথা আজ স্বতঃসিদ্ধ। তাঁদের বিশ্বাস ও কাজের মধ্যে, দর্শন ও জনসভায় বক্তব্যের মধ্যে কোনো সঙ্গতি নেই। কিন্তু এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা আসলে কোথায় যেন গণপিটুনির মানসিকতার সঙ্গে মিলে যায়। আজ এ দেশে কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের অন্যতম উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে গণপিটুনি। তাতে ব্যক্তির দোষগুণ বিচার করার প্রশ্ন নেই। তুমি মুসলমান – এটুকুই যথেষ্ট। গত কয়েক মাসে এ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাঙালি মাত্রেই বাংলাদেশী ধরে নিয়েও ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড চলেছে।
খুনের বদলে খুন – এই বিচারবোধের মধ্যে হয়ত বা একধরনের মানসিক সন্তুষ্টি আছে। কিন্তু এই পথ ধরেই পৃথিবীতে যুদ্ধ, দাঙ্গা ও হত্যার চক্র চলতে থাকে। আজ অবধি প্রমাণিত হয়নি যে এর ফলে সমাজে অন্যায় কমে অথবা শান্তি আসে। শান্তির জন্য যুদ্ধের মত সোনার পাথরবাটির কথা এসেছে, কিন্তু তা শেষপর্যন্ত মানুষকে ধ্বংসের দিকেই নিয়ে গেছে। আজ এই দুনিয়ায় চরম প্রতিশোধমূলক বিচারের নামে প্যালেস্তাইনের সদ্যোজাত শিশুও ইজরায়েলের গণহত্যার বলি হচ্ছে।
ভগৎ সিংয়ের ফাঁসির পর গান্ধী বহু মানুষের বিরাগভাজন হন একথা ধরে নেওয়ায়, যে তিনি চাইলে ওই ফাঁসি আটকানো যেত। কিন্তু ইতিহাস বলে, গান্ধী শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছিলেন। ৩১ জানুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে তিনি এলাহাবাদে ভগতের ফাঁসি প্রসঙ্গে বলেছিলেন ‘যারা মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত, তাদের ফাঁসি দেওয়া উচিত নয়। আমার ব্যক্তিগত ধর্ম আমাকে বলে যে তাদের ফাঁসি দেওয়া উচিত নয়। এমনকি তাদের কারাগারেও রাখা ঠিক নয়।’ আবার নেতাজির ভাইজি বেলা মিত্রের স্বামী হরিদাস মিত্রকে গান্ধীই ফাঁসির হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন।
স্বাধীন ভারতের সংবিধানে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সংবিধান রচয়িতাদের সকলেই যে এর পক্ষে ছিলেন তা নয়। বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর নিজেই এর বিরুদ্ধে ছিলেন এবং শেষপর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড বিলোপের আশা করেছিলেন। পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে পাপের পরিণাম মৃত্যু বলেও, শেষপর্যন্ত ক্ষমার কথা বলা হয়েছে, যা মানবসমাজের উত্তরণ বলা যেতে পারে। ওড়িশায় খ্রিস্টান ধর্মযাজক গ্রাহাম স্টেইনস ও তাঁর নাবালক ছেলেদুটিকে পুড়িয়ে মারে হিন্দুত্ববাদীরা। মর্মান্তিক এই ঘটনা গোটা দেশের বিবেককে বিচলিত করে। সেই ঘটনার অন্যতম সমর্থক আজ ওড়িশার ক্ষমতায়। কিন্তু আমরা আরও বিস্মিত হয়েছিলাম গ্রাহামের স্ত্রী গ্ল্যাডিস ওই অপরাধীদের ক্ষমা করায়। অসামান্যা এই সমাজকর্মী অত বড় বেদনার সামনে দাঁড়িয়েও বলতে পেরেছিলেন – প্রকৃত শান্তি তিনি এই ক্ষমার মধ্য দিয়েই অনুভব করবেন। সেই তাঁর মানসিক শুশ্রূষা।
এই পথই গান্ধীর পথ।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








